অন্ধভাবে মাযহাব মানার ভয়াবহ পরিণাম

-ড. রেজাউল করীম মাদানী

পিএইচডি, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।

(শেষ পর্ব)

৩য় উদাহরণ : ছাহাবী আবু হুরায়রা (ছাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন,

لاَ تُصَرُّوا الإِبِلَ وَالغَنَمَ، فَمَنِ ابْتَاعَهَا بَعْدُ فَإِنَّهُ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ بَعْدَ أَنْ يَحْتَلِبَهَا : إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ، وَإِنْ شَاءَ رَدَّهَا وَصَاعَ تَمْرٍ ”

‘কোনো ব্যক্তি যদি তার বকরী বা গাভীর বাটে বা ওলানে দুধ জমা করে বিক্রি করে আর ক্রেতা যদি ঐ জমাট দুধ দেখে কেনার পর বাড়ী গিয়ে বুঝতে পারে, আসলে বকরী বা গাভীর বাটে দুধ জমা করা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে বকরী বা গাভীটি দুধাল না, তাহলে ক্রেতার উক্ত বকরী বা গাভী ফিরিয়ে দেওয়ার অধিকার আছে’।[1]

দ্বিমুখী আচরণ : উপরে উল্লেখিত হাদীছ হানাফীরা মানে না অর্থাৎ এ মাসআলা অনুযায়ী তারা ফৎওয়া মানে না। অথচ এই হাদীছ থেকে তারা ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যকার বেঁচা বকরী বা গাভী ফিরিয়ে দেওয়ার সর্বোচ্চ সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অর্থাৎ এ হাদীছ থেকে তারা এ ফৎওয়া গ্রহণ করেছেন যে, বিক্রীত বকরী বা গাভী ফিরিয়ে দেওয়ার সর্বোচ্চ সময়সীমা তিন দিন। অথচ হাদীছটি আরও একটা বিষয় প্রমাণ করে যে, উক্ত ক্রেতা যখন উক্ত বকরী বা গাভী ফেরত দেবে, তখন সাথে এক ছা‘ পরিমাণ গম, খেজুর ইত্যাদিসহ ফিরিয়ে দিতে হবে। তারা এ ফৎওয়া বা হুকুম মানেন না। বরং এ হাদীছের বর্ণনাকারী মহান ছাহাবী আবু হুরায়রা প-কে অপবাদ দিয়ে বলেছেন, তিনি নাকি ফক্বীহ নন। (নাউজুবিল্লাহ) এটা দ্বিমুখী আচরণ নয় কি? [2]

৪র্থ উদাহরণ : হানাফী মাযহাবে জামা‘আতে ছালাতে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে না বা সূরা ফাতিহা ছালাতের রুকন না বলে যে হাদীছ প্রমাণ হিসাবে পেশ করে, তা হলো- একদা রাসূল (ছাঃ) মসজিদে বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় একজন বেদুঈন বা গ্রাম্য সাধারণ মুসলিম এসে মসজিদে ছালাত শুরু করলেন এবং ছালাত শেষ করে রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে আসলে, রাসূল (ছাঃ) তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তুমি আবার ছালাত পড়ো, তোমার ছালাত হয়নি।…..অতঃপর নবী করীম (ছাঃ) উক্ত ব্যক্তিকে শিখাতে গিয়ে বললেন, কুরআন হতে যা সহজ তাই পড়ো, অতঃপর রুকূ করো এবং রুকূতে ধীরস্থিরতা, শান্তশিষ্টতা বজায় রাখো, অতঃপর রুকূ হতে ধীরস্থিরতার সাথে সম্পূর্ণভাবে দাঁড়াও, অতঃপর সিজদা করো এবং সিজদাতেও ধীরস্থিরতা ও শান্তশিষ্টতা বজায় রাখো।[3]

দ্বিমুখী আচরণ : উল্লেখিত হাদীছ থেকে হানাফী মাযহাবী ভাইয়েরা প্রমাণ পেশ করেন, ছালাতে সূরা ফাতিহা পড়া রুকন নয়। কারণ নবী করীম (ছাঃ) এখানে  সূরা ফাতিহার কথা উল্লেখ করেননি, বরং যেকোনো স্থান থেকে কুরআন পড়া ওয়াজিব। পক্ষান্তরে হানাফী ভাইয়েরা একই হাদীছের অন্যান্য অংশ ধীরস্থিরভাবে রুকূ করা, সিজদা করা, দুই সিজদার মাঝে বসা ওয়াজিব হয়। কিন্তু হানাফী মাযহাবে ছালাতের রুকূতে, সিজদাতে ধীরস্থিরতা, শান্তশিষ্টতা ওয়াজিব নয়, বরং কোনো রকম রুকূ ও সিজদা করলেই ছালাত হয়ে যাবে। ধীরস্থিরতা ও শান্তশিষ্টতা তাদের কাছে ছালাতের শর্ত; ওয়াজিবও না। দেখুন হাদীছের প্রথমাংশ তাদের মাযহাবের মুয়াফেক তাই ওয়াজিব হলো, আর পরের অংশগুলো তাদের মাযহাব ও ইমামের মতো না, তাই সেগুলো ওয়াজিব হলো না। এ রকম আচরণ ধর্মের বিধি-বিধানের সাথে দ্বিমুখী আচরণ নয় কি?

৫ম উদাহরণ : জুম‘আর দিন খুৎবারত অবস্থায় যদি কেউ আসে, তাহলে তাকে মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দু’রাক‘আত ছালাত পড়তে হবে। রাসূল (ছাঃ) খুৎবারত অবস্থায় একজন ব্যক্তি এসে বসে গেলে রাসূল (ছাঃ)  তাকে বললেন,

«أَصَلَّيْتَ يَا فُلاَنُ؟» قَالَ : لاَ، قَالَ : «قُمْ فَارْكَعْ رَكْعَتَيْنِ»

‘হে অমুক! তুমি বসার পূর্বে কি দু’রাক‘আত ছালাত পড়েছো? উত্তরে তিনি বললেন, না। রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, দাঁড়াও, দু’রাক‘আত ছালাত পড়ে তারপর বসো’।[4]

দ্বিমুখী আচরণ : উল্লেখিত হাদীছ দ্বারা হানাফী মাযহাব দলীল পেশ করে যে, খুৎবারত অবস্থায় খত্বীবের জন্য প্রয়োজনে অন্য কথা বলা জায়েয। অথচ একই হাদীছে বলা হয়েছে যে, খুৎবারত অবস্থায় কোনো ব্যক্তি আসলে বসার পূর্বে তার দু’রাক‘আত ছালাত পড়তে হবে। কিন্তু হানাফী মাযহাব বলে, না, খুৎবারত অবস্থায় আসলে ছালাত পড়ার প্রয়োজন নেই। তাহলে একই হাদীছের একাংশ মানা আর অপরাংশ প্রত্যাখান করাকে আপনারা কী বলবেন।[5]

৬ষ্ঠ উদাহরণ : ছালাতে তাকবীরে তাহরীমার সময়, রুকূতে যাওয়ার সময় ও রুকূ হতে উঠার সময় কাঁধ বরাবর হাত উঠাতে হবে। কিন্তু হানাফী মাযহাবপন্থী ভাইয়েরা তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত অন্য কোথাও হাত না উঠানোর দলীল হিসাবে যে সকল অযৌক্তিক অসার প্রমাণ পেশ করেন, তন্মধ্যে নিন্মোক্ত হাদীছটি। এখানে বলে রাখা ভালো, প্রকৃতপক্ষে হাদীছটি সালাম ফিরানোর সময় হাত উঠাতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু হানাফী ভাইয়েরা এ হাদীছের অপব্যবহার করে তাকে ছালাতে রুকূর আগে ও রুকূ থেকে উঠার সময় হাত উঠানো যাবে না হিসাবে পেশ করেন। হাদীছটি এই: ছাহাবী জাবের ইবনে সামুরা (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে ছালাত পড়া অবস্থায় সালাম ফিরানোর সময় হাত উঠিয়ে ইশারা করে সালাম ফিরাতাম। রাসূল (ছাঃ) এ দৃশ্য দেখে আমাদেরকে বললেন,

مَا لِي أَرَاكُمْ رَافِعِي أَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ؟ اسْكُنُوا فِي الصَّلَاةِ

‘তোমাদের এ দশা কেন? তোমাদেরকে এভাবে হাত উঠাতে দেখছি কেন? মনে হচ্ছে, এগুলো দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। ধীরস্থিরভাবে ছালাত আদায় করো, নড়াচড়া করো না’।[6]

দ্বিমুখী আচরণ : হাদীছটি থেকে হানাফী ভাইয়েরা প্রমাণ পেশ করেন যে, ছালাতে তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত অন্য জায়াগায় হাত উঠানো যাবে না। হাদীছটি রুকূতে যাওয়ার সময় ও রুকূ থেকে উঠার পর হাত উঠানো সম্পৃক্ত নয়। কিন্তু আমাদের হানাফী ভাইয়েরা এ হাদীছের অপব্যবহার করেন। আর শুধু তাই না; অপব্যবহারের সাথে সাথে হাদীছটির সাথে দ্বিমুখী আচরণও করেন। আর তা হলো হাদীছে এসেছে, ছালাতে সালাম ফিরাতে হবে এবং বলতে হবে আস-সালামু আলাইকুম, কিন্তু হানাফী ভাইয়েরা বলেন, সালাম না ফিরিয়ে যদি হেসে খেলে বা অন্যভাবে ছালাত শেষ করে তাহলে জায়েয, কোনো সমস্যা নেই, দেখুন একই হাদীছের সাথে দু’রকম আচরণ নয় কি? [7]

৭ম উদাহরণ : ইসলামী শরী‘আতের বিধান হচ্ছে, কোনো মুসলিম যদি কোনো কাফেরকে হত্যা করে, তাহলে কাফেরকে হত্যার বদলে মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না, বরং দিয়াত বা পণ দিতে হবে। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন,

لاَ يَرِثُ قَاتِلٌ وَلَا يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ

‘কোনো কাফেরকে হত্যার পরিবর্তে কোনো মুসলিমকে হত্যার করা যাবে না’।[8]

কিন্তু মাযহাবপন্থী মুকাল্লিদ ভাইয়েরা উল্লেখিত হাদীছের সাথে দ্বিমুখী আচরণ করেছেন, তা হলো হাদীছের প্রথমাংশ তথা কোনো হত্যাকারী তার ওয়ারিসের মাল পাবে না, এ পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু হাদীছের দ্বিতীয়াংশ তথা কোনো মুসলিম কাফেরের হত্যার কারণে হত্যা হবে না- এ অংশের সাথে দ্বিমুখী আচরণ করে বলেছেন যে, কোনো কাফেরকে হত্যার কারণে মুসলিমকে হত্যা করা যাবে।[9]

সুধী পাঠক! আপনাদের সামনে গুটি কয়েক প্রমাণ পেশ করা হলো মাত্র। আপনারা যদি তাদের ফিক্বহের কিতাব, মাযহাবী কিতাবগুলো পড়েন, তাহলে অসংখ্য হাদীছের অপব্যাখ্যা, অপব্যবহার, অযৌক্তিক প্রয়োগ ও দ্বিমুখী আচরণ দেখতে পাবেন। পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আল্লাহ আমাদের আমলকে সংশোধন করুন ও কবুল করুন- আমীন!

৮ম উদাহরণ : মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল ধ বলেন, قَدْ سَنَّ لَكُمْ مُعَاذٌ فَاقْتَدُوا بِهِ ‘মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ) তোমাদের জন্য একটা সুন্নাত চালু করেছেন, তোমরা তাকে অনুসরণ করো’।[10]  হানাফী ভাইয়েরা এ হাদীছ দ্বারা তাকলীদ ওয়াজিব সাব্যস্ত করেন।

এ হাদীছের উত্তর সংক্ষেপে দেওয়া হলো, মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)-এর কাজ সুন্নাত হওয়ার কারণ হচ্ছে, রাসূল (ছাঃ)-এর স্বীকৃতি প্রদান, যেমনিভাবে আযানের বিধান হয়েছে রাসূল (ছাঃ)-এর স্বীকৃতির কারণে, ছাহাবীর স্বপ্নে দেখার জন্য নয়। আর যদি তাকলীদ জায়েয সাব্যস্ত হয়, তাহলে ছাহাবী মু‘আয (রাঃ)-এর তাকলীদ সাব্যস্ত হয়; চার ইমামের নয়।

অপর হাদীছে মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ) বলেন, أَمَّا الْعَالِمُ فَإِنِ اهْتَدَى فَلَا تُقَلِّدُوهُ دِينَكُمْ، আলেম যদি হেদায়াতপ্রাপ্ত ও সঠিক পথের উপর থাকে তারপরও দ্বীনের ব্যাপারে তাকে তাকলীদ করো না’।[11]

তাহলে মু‘আয (রাঃ)-এর হাদীছ দ্বারা কোনো ইমাম, আলেমের তাকলীদ করা যাবে না। কারণ তারা কখনো সঠিক আবার বেঠিক ফৎওয়া দেন। আর এ ব্যাপারে কোনো গ্যারান্টি নেই যে, তারা সকলে সবসময় হক্বের উপর থাকবেন। মাযহাবপন্থী ভাইদেরকে উদ্দেশ্য করে বলি, মু‘আয (রাঃ)-এর হাদীছ……. أَمَّا الْعَالِمُ فَإِنِ اهْتَدَى فَلَا تُقَلِّدُوهُ دِينَكُمْ، সম্বদ্ধে আপনারা কী বলবেন? তিনি তাকে তো দূরের কথা কোনো ইমাম, আলেমের দ্বীনের মাসআলা মাসায়েলের ব্যাপারে তাকলীদ করতে নিষেধ করেছেন। এ হাদীছ তো আপনারা মানছেন না। আর তার বর্ণিত অন্য যে হাদীছ মানছেন তাও তাকলীদ সাব্যস্ত করে না। তাহলে হাদীছের সাথে আপনাদের এ ধরনের ব্যবহার দ্বিমুখিতা নয় কি?

৯ম উদাহরণ : ইসলামে ওযূর বিধান হচ্ছে পুরা মাথা মাসাহ করা। প্রমাণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ ‘তোমাদের মাথাকে মাসাহ করো’ (মায়েদাহ, ৫)। আর আমরা সাধারণত মাথা বলতে পুরো মাথাটাকে বুঝি। তাছাড়াও বুখারী-মুসলিমের হাদীছে পাই, নবী করীম (ছাঃ) ওযূর সময় তাঁর সম্পূর্ণ মাথা সামনে থেকে নিয়ে পিছন পর্যন্ত মাসাহ করতেন।[12]

তারপর আমাদের যে ভাইয়েরা মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসাহ করা জায়েয বলেন, ভালো। প্রয়োজন ও শর্ত সাপেক্ষে তা জায়েয। কিন্তু যে হাদীছ দ্বারা এক-চতুথাংশ মাথা মাসাহ জায়েয বলছেন, হাদীছের সাথে তারা আবার দ্বিমুখী  আচরণ করেছেন। তা হচ্ছে, মুগীরা ইবনে শু‘বা  (রাঃ) থেকে বর্ণিত,

….ثُمَّ مَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ، وَمَسَحَ عَلَى الْعِمَامَةِ ،

‘নবী করীম (ছাঃ) তাঁর মাথার সামনের অংশ ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করলেন’।[13]

আমাদের হানাফী ভাইয়েরা এ হাদীছের সাথে আবার দ্বিমুখী আচরণ করেছেন। আর তা হলো, তারা বলেন পাগড়ীর উপর মাসাহ করা জায়েয না। কারণ মাথার একটু অংশ মাসাহ করার কারণে ফরয আদায় হয়ে গেছে। অতএব পাগড়ীর উপর মাসাহ করা ওয়াজিবও না, মুস্তাহাবও না। দেখুন একই হাদীছের এক অংশ মাযহাবের মুয়াফেক হওয়ায় মানছেন, অপর অংশ মাযহাবের মুয়াফেক না হওয়ায় মানছেন না।[14]

১০ম উদাহরণ : ছালাত আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সবচেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। সুতরাং ছালাতকে আদায় করতে হবে ধীরস্থির ও রাসূল (ছাঃ)-এর দেখিয়ে যাওয়া পদ্ধতি অনুযায়ী। কিন্তু মাযহাবপন্থী মুকাল্লিদ ভাইদের ছালাতের দিকে দেখলে দেখবেন গড়মিল ও হাদীছ বিরোধী ছালাত। নিচের ফৎওয়ার দিকে খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন, জলসাতুল ইসতেরাহ বা এক রাক‘আত শেষে দ্বিতীয় রাক‘আতে উঠার পূর্বে সামান্য বসা বা আরাম করা হচ্ছে রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত, কিন্তু হানাফী মাযহাবের ফৎওয়া সামান্য বসা নিষেধ, জালসাতুল ইসতেরাহা তাদের নিকট মাকরূহ।[15]  কারণ তাদের দলীল হচ্ছে, আবু হুমাঈদ আল-সাঈদীর হাদীছ, তিনি বলেন,

أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالُوا : فَاعْرِضْ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حَتَّى يَقِرَّ كُلُّ عَظْمٍ فِي مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا، ثُمَّ يَقْرَأُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، …. ثُمَّ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ مُعْتَدِلًا،….. ثُمَّ إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ كَمَا كَبَّرَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ

‘রাসূল (ছাঃ)-এর ছালাত সম্বন্ধে সবচেয়ে বেশি আমি জানি অতঃপর তিনি রাসূল (ছাঃ) ছালাতের বর্ণনায় বলেন, …অতঃপর রুকূর জন্য তাকবীর বললেন এবং দুই হাত কাঁধে উঠালেন এবং রুকূ করলেন। অতঃপর রুকূ  হতে উঠার পর আবার তাকবীর বললেন এবং সামিআল্লাহ বলে দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠালেন …’। [16]   এ হাদীছ দ্বারা হানাফীরা প্রমাণ পেশ করে যে, এ হাদীছে জালসাতুল ইসতেরাহ উল্লেখ হয়নি। অতএব তা আমাদের নিকট মাকরূহ।

দ্বিমুখী আচরণ : উল্লেখিত হাদীছে জালসাতুল ইসতেরাহা উল্লেখ হয়নি। অতএব, করা যাবে না বা দরকার নেই। কিন্তু এ হাদীছ যে রুকূতে যাওয়ার সময় ও রুকূ হতে উঠার সময় হাত উত্তোলন করতে হবে বলা হয়েছে, তা কিন্তু তারা মানে না। বরং হাদীছে যে অংশ মাযহাবের মুয়াফেক সে অংশই মানে। আর যে অংশ মাযহাবের মুয়াফেক না বা মাযহাবের ফৎওয়া বিরোধী সে অংশ মানে না। এ রকম নীতি কাদের নীতি, বলবেন কি?

মহান আল্লাহ আমাদেরকে নিঃস্বার্থভাবে সালাফে ছালেহীনের মাসলাক অনুযায়ী কুরআন ও হাদীছ মেনে চলার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/২১৪৮।

[2]. ইবনুল ক্বাইয়িম, লামুল মুওয়াক্কিঈন, ২/২১৬-২১৭

[3]. বুখারী, হা/৭৫৭; মুসলিম, হা/৩৯৭।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৭৮।

[5]. ইলামুল মুওয়াক্কিঈন, ২/২২০।

[6]. ছহীহ মুসলিম, হা/৪৩০।

[7].  ইলামুল মুওয়াক্কিঈন, ২/২২০।

[8].  প্রাগুক্ত, ২/১৫৫।

[9]. প্রাগুক্ত, ২/২২২।

[10]. মুসনাদে অহমাদ, সুনানে কুবরা বায়হাক্বী ও মু‘জামুল কাবীর তাবরাণী, হা/১৬৬৯২।

[11]. সুনানে কুবরা বায়হাক্বী, হা/৮৩২-৮৩৩; জামে‘ ইবনে বার, ২০১৩।

[12]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮৫, ‘ওযূ’ অধ্যায়; মুসলিম, হা/২৩৫, ‘ওযূ’ অধ্যায়।

[13].  প্রাগুপ্ত।

[14]. বিস্তারিত দেখুন: ইবনে ক্বাইয়ূম, ই‘লামুল মুওয়াক্কি‘ঈন; ফুল্লানী, ইকাজু হিমামু উলিল আবছার, পৃঃ ১৩৫।|

[15]. সকল হানাফী মাযহাবের ফিক্বহের কিতাব দ্রষ্টব্য।

[16]. শরহে আবুদাঊদ (আওনুল মা‘বূদ) ‘ছালাত শুরু’ অধ্যায়, ৪/২৯৪-২৯৪, হা/৭৩০।