আক্বীদার ক্ষেত্রে উপমহাদেশীয় আহলেহাদীছ আলেমগণের খিদমত

-আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক*


এই রকম অবস্থা যে দেশের, সে দেশের আহলেহাদীছ আলেমগণ আক্বীদার উপর বই লিখবেন না, তা হতেই পারে না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা আজ মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সঊদী আরবের অনেক উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের নেয়ামত পেয়ে এবং সেগুলো থেকে পড়ে আসা যোগ্য দাঈগণের খিদমত পেয়ে সেই সমস্ত মহান মুজাহিদ ও আলেমগণকে ভুলতে বসেছি। যারা যাবতীয় প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত থেকে, পরাধীন এক দেশে মহান আল্লাহর অশেষ দয়ায় ইলমী, জিহাদী আন্দোলন পরিচালনা করেছেন। এমন সব ইলমের বাগান ও ইলমের ফুল গড়ে তুলেছিলেন, যার নজির বর্তমান সার্বিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাওয়াও অনেকটা দুষ্কর।
উপমহাদেশ এমন এক মাটি, যেখানে ভাষা, জাতি ও ধর্মের বিভিন্নতা প্রচুর। এত ভাষা, জাতি ও ধর্মের বৈচিত্র্য সম্বলিত দেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আমি যখন প্রথম ভারত যাই, তখন আমার চাচা মাওলানা আজাদ সালাফী আমাকে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে আলেম হওয়া সহজ কিন্তু ভারতে আলেম হওয়া কঠিন’। আমি বললাম, কেন? তিনি উত্তরে বললেন, ‘এখানে আলেম হতে হলে তোমাকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, জৈন, শিখ, আরিয়া সমাজ, কাদিয়ানী, ব্রেলভী, দেওবন্দী, শীআ, জামাআতে ইসলামী থেকে শুরু করে এমন কোনো ফেরক্বা নেই, যার সাথে মাঠে-ময়দানে লড়াই করে তোমাকে দাওয়াত দিতে হবে না’। দেশ ভাগের আগে একই অবস্থা ছিল পুরো ভারত উপমহাদেশের। এই রকম বৈচিত্র্যময় দেশে যারা সত্যিকার দ্বীনের দাওয়াত দিবেন, তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা স্বাভাবিকভাবেই অন্য মুসলিম দেশগুলোর আলেমগণের তুলনায় বেশি হবে। আজও শীআ ও ক্বাদিয়ানীদের উপর বেশি গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ পাক-ভারতের আলেমগণের হাতেই লেখা।

আজ ফেলে আসা সেই মহান মনীষীগণের আক্বীদা জগতের একটি অংশ তাওহীদ ও আসমা ওয়াছ ছিফাতের ক্ষেত্রে কী খিদমত শুধু সেই বিষয়টি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করব ইনশা-আল্লাহ। ওমা তাওফীক্বী ইল্লা বিল্লাহ।

ভারতের বর্তমান মারকাযী দারুল উলূম জামিআহ আস-সালাফিয়্যা, বানারাস-এর সাবেক শিক্ষক, ভারত উপমহাদেশে আহলেহাদীছের ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তি মাওলানা মুস্তাক্বীম সালাফী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর লিখিত গ্রন্থ ‘উলামায়ে আহলেহাদীছ হিন্দ আউর উন কী তাছনিফী খিদমাত’ গ্রন্থে প্রায় ২০০টি আক্বীদা সংশ্লিষ্ট গ্রন্থের নাম লিখেছেন, যা শুধু ভারতের আলেমগণ আক্বীদার উপর লিখেছেন।

নিম্নে শুধু তাওহীদ ও মহান আল্লাহর আসমা ওয়াছ ছিফাতের উপর লিখিত মৌলিক কিছু গ্রন্থের নাম পেশ করা হলো :

(১) সাবিকাতুয যাহাব আল-ইবরিয মিন বায়ানি হুকমি আকাসিসিল কিতাব আল-আযীয। লেখক : নওয়াব ছিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী। বিষয় : কুরআন মাজীদে মহান আল্লাহর কালামে বর্ণিত বিভিন্ন নবীর ঘটনাবলিতে তাদের যে উক্তিগুলো মহান আল্লাহ পেশ করেছেন, তা কি হুবহু সেই নবীগণ (আলাইহিস সালাম)-এর উক্তি না সেটার ভাবার্থ? এই বিষয়ের উত্তর এই গ্রন্থে আলোচনা করা হয়েছে।

(২) আল-ইহতিফাল লি বায়ানি মাসআলাতিছ ছিফাত ওয়া খালক্বিল আফআল। লেখক : নওয়াব ছিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী। বিষয় : এই গ্রন্থে মানুষের কর্মের সৃষ্টিকর্তা কে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

(৩) আল-ই‘তিক্বাদ আছ-ছহীহ। লেখক : শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী। বিষয় : মহান আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলির বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই গ্রন্থে তিনি মু‘তাযিলা, ক্বাদারিয়া ও জাহমিয়াদের উত্তর দিয়েছেন।

(৪) আল-ইনতিকাদ আর-রাজিহ ফী শারহিল ই‘তিক্বাদ আছ-ছহীহ। লেখক : নওয়াব ছিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী। বিষয় : শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভির লেখা আল-ই‘তিক্বাদ আছ-ছহীহ -এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ এটি। মহান আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলির বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

(৫) ক্বাছাছুস সাবীল ইলাল কালামি ওয়াত তা‘বীল। লেখক : নওয়াব ছিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী। বিষয় : মহান আল্লাহর কালাম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

(৬) অছিয়ত নামা। লেখক : নওয়াব ছিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী। আক্বীদা ও তাওহীদের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

(৭) আল-জাওয়ায়িয ওয়াছ ছালাত মিন জামেইল আসামি ওয়াছ ছিফাত। লেখক : মাওলানা নূরুল হাসান কান্নৌজী। বিষয় : মহান আল্লাহর সত্তাগত ও কর্মগত গুণাবলি নিয়ে এই গ্রন্থে আলোচনা করা হয়েছে। মু‘তাযিলাসহ বিভিন্ন ফেরক্বার যুক্তিখণ্ডন এখানে স্থান  পেয়েছে।

(৮) আল-ইনতিহা ফিল ইসতিওয়া। লেখক : নওয়াব অহিদুযযামান হায়দারাবাদী। বিষয় : ইসতিওয়া ও আরশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। জাহমিয়া, মু‘তাযিলা, মুতাকাল্লিমীনের যুক্তিখণ্ডন এখানে স্থান পেয়েছে।

(৯) আসমায়ে হুসনা। লেখক : ক্বাযী সুলায়মান মানছুরপুরী। বিষয় : পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত মহান আল্লাহর নামসমূহের ব্যাখ্যা রয়েছে এই গ্রন্থে।

(১০) বাদশাহে মাজাযী ওয়া হাক্বীক্বী। লেখক : মাওলানা ইবরাহীম আরাবী। বিষয় : দুনিয়ার বাদশাহগণের সাথে মহান আল্লাহর বাদশাহীর মুকারানা এবং মহান আল্লাহকে বুঝা, তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার বিভিন্ন পথ ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে এই গ্রন্থে।

(১১) সায়িকুল ইবাদ ইলা সিহহাতিল ই‘তিক্বাদ। লেখক : সাইয়্যিদ আব্দুল বারী সাহসোয়ানী। বিষয় : গ্রন্থটি নওয়াব ছিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর লিখিত আল-ক্বায়িদ ইলাল আক্বায়িদ গ্রন্থের ব্যাখ্যা। আল-ক্বায়িদ ইলাল আক্বায়িদ গ্রন্থটিতে নওয়াব ছিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলির উপর আলোচনা করেছেন। তারই ব্যাখ্যা করেছেন সাহসোয়ানী (রাহিমাহুল্লাহ)।

(১২) ইলমে গায়েব কা ফায়ছালা। লেখক : মাওলানা ছানাউল্লাহ অমৃতসরী। এই গ্রন্থে মহান আল্লাহই যে একমাত্র গায়েব বা অদৃশ্যের খবর রাখেন, সে বিষয়ে দলীলসহ আলোচনা করেছেন।

(১৩) আল-খায়রুল জারী ফী বায়ানিল ইলমিল মুখতাছ বিল বারী। লেখক : মাওলানা ইবরাহীম মির সিয়ালকোটি। বিষয় : এই গ্রন্থে মহান আল্লাহর জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

(১৪) বুনিয়াদী আক্বায়িদ। লেখক : মাওলানা মুহাম্মাদ দাঊদ রায। বিষয় : মহান আল্লাহর সত্তা, নাম ও গুণাবলির উপর আলোচনা করা হয়েছে।

(১৫) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ ফী মাসআলাতিল ইসতিওয়া ওয়াল মুবায়ানা। লেখক : মাওলানা আব্দুল জাব্বার গযনভী। বিষয় : মহান আল্লাহর আরশের উপর হওয়া ও বান্দাদের সাথে থাকার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান সম্পর্কিত গ্রন্থ।

(১৬) তাম্বীহু আহলিল ফারাশ বি ইসতিওয়াইল্লাহ আলাল আরশ। লেখক : মাওলানা আব্দুস সাত্তার সদরী। বিষয় : আরশের উপর মহান আল্লাহর সমুন্নত হওয়াকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

(১৭) দালালায়িল হাসতি বারি তাআলা। লেখক : মাওলানা আব্দুর রঊফ ঝান্ডানগরী। বিষয় : রূহসহ বিভিন্ন কঠিন বিষয়, যা আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই গ্রন্থে ।

(১৮) তরজমাতুল আসমা ওয়াছ ছিফাত লিল বায়হাক্বী। লেখক : মাওলানা উবাইদুল্লাহ হায়দারাবাদী। বিষয় : ইমাম বায়হাক্বীর মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলি বিষয়ক আরবী বইয়ের উর্দূ অনুবাদ এটি।

(১৯) রিসালা ইসতিওয়া আলাল আরশ। লেখক : মাওলানা বদিউযযামান হায়দারাবাদী।

(২০) ইসলাম কি গিয়ারাহবি কিতাব। লেখক : মাওলানা রহীম বখশ। বিষয় : আক্বীদার সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

(২১) শারহুল আক্বীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ। লেখক : প্রফেসর মুহাম্মাদ রফীক খান। বিষয় : শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়্যার লিখিত আল-আক্বীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-এর যে ব্যাখ্যাটি শায়খ মুহাম্মাদ খলীল করেছেন, এটি সেই ব্যাখ্যার অনুবাদ।

(২২) ইসলামী আক্বায়িদ ও আল-ইক্বতিছাদ ফী বায়ানিল ই‘তিক্বাদ গ্রন্থ দুটির লেখক মাওলানা মুহাম্মাদ হুসাইন বাটালভী। বিষয় : আক্বীদার সার্বিক আলোচনা।

(২৩) তরজমাতুল আক্বীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ। লেখক : মাওলানা আব্দুল জলীল হাযারবী। বিষয় : ইবনু তায়মিয়্যার আল-আক্বীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ গ্রন্থটির ব্যাখ্যাসহ উর্দূ অনুবাদ।

(২৪) তরজমাতুল অছিয়্যাহ আল-কুবরা। লেখক : আব্দুল জলীল হাযারবী। বিষয় : ইবনু তায়মিয়্যার অছিয়্যাহ কুবরা বইটির উর্দূ অনুবাদ।

(২৫) আক্বায়িদ মুহাম্মাদী। লেখক : মাওলানা মুহাম্মাদ জুনাগড়ী। বিষয় : ইমাম আহমাদের লেখা আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ বইয়ের উর্দূ অনুবাদ।

(২৬) তাদবীর। লেখক : মাওলানা আলতাফ হুসাইন। বিষয় : তাক্বদীর ক্বাযা ও কাদার নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

(২৭) তাক্ববিয়াতুল ঈমান। লেখক : শাহ ইসমাইল শহীদ। বিষয় : তাওহীদের উপর লেখা বিখ্যাত বই।

(২৮) কাতফুছ ছামার ফী আক্বীদাতি আহলিল আছার। লেখক : নওয়াব ছিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী। বিষয় : সার্বিক আক্বীদার উপর লেখা মৌলিক বই।

এই গেল সামান্য কিছু নমুনা। যারা প্রায় ২০০টি গ্রন্থ সম্পর্কেই জানতে চান, তারা মুস্তাক্বীম সালাফী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর লেখা পড়তে পারেন। যদিও আমার মনে হয়েছে মাওলানা মুস্তাক্বীম সালাফী (রাহিমাহুল্লাহ) সম্ভবত শুধু ভারতের আলেমগণের লিখিত গ্রন্থের হিসাব দিয়েছেন তার গ্রন্থে। কেননা পাকিস্তানের বহু আলেমও আক্বীদার উপর বই লিখেছেন, যেমন-

(১) আসমায়ে হুসনার ব্যাখ্যা করে ‘তাশরীহুল আসমা ওয়াল হুসনা’ নামে গ্রন্থ লিখেছেন, বদীউদ্দীন শাহ রাশেদী।

(২) আহলেহাদীছগণের সার্বিক আক্বীদা উল্লেখ করে ‘আক্বীদায়ে আহলেহাদীছ’ নামে গ্রন্থ লিখেছেন মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া গোন্দলবী।

(৩) হানাফী ও আহলেহাদীছগণের মধ্যে আক্বীদাগত মতভেদ নিয়ে ‘রিসালায়ে হানাফী ওয়া আহলেহাদীছ’ নামে গ্রন্থ লিখেছেন মাওলানা মুহাম্মাদ গোন্দলবী।

(৪) তাওহীদে খালেছ। আক্বীদার উপর লিখিত বিস্তারিত গ্রন্থ। লিখেছেন বদীউদ্দীন শাহ রাশেদী।

(৫) কিতাবুত তাওহীদ। বইটি ইমাম ইবনু খুযায়মার লিখিত তাওহীদ বইয়ের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা। উক্ত বইয়ের ব্যাখ্যা ও তাহক্বীক্ব লিখেছেন বদীউদ্দীন শাহ রাশেদী।

এছাড়া ভারত ও পাকিস্তানে এমন কিছু আহলেহাদীছ আলেমের জন্ম হয়েছিল, যারা তাদের নিজেদের পুরো জীবনটাই আক্বীদার সংস্কারে ব্যয় করেছেন। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন-

(১) নওয়াব ছিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী। যার আরবী, উর্দূ ও ফার্সী ভাষায় প্রায় ২০টির কাছাকাছি গ্রন্থে রয়েছে শুধু আক্বীদা বিষয়ক।

(২) শায়খুল কুল ফিল কুল মিয়া নাযীর হুসাইন দেহলভী। ভারত উপমহাদেশে আক্বীদার বিপ্লবের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনকারী ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন তিনি। অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে তিনি সঠিক আক্বীদার দাওয়াত আরব-অনারব লাখো ছাত্রের মাঝে পৌঁছে দিয়েছেন।

(৩) মাওলানা ছানাউল্লাহ অমৃতসরী। তাকে যদি ইমামু আক্বীদাতিল ইসলাম বলা হয়, ভুল হবে না। এমন কোনো ভ্রান্ত আক্বীদা ভারতের মাটিতে ছিল না, যার বিরুদ্ধে তিনি মুনাযারা, বাহাছ করেননি। তিনি যেমন বাতিল আক্বীদাধারীদের বিরুদ্ধে ইমামুল মুনাযিরীন ছিলেন, ঠিক তেমনি তার লেখনী ও আখবারে আহলেহাদীছ পত্রিকার মাধ্যমেও তিনি আক্বীদার মহাযুদ্ধে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়েছেন।

(৪) হাফেয আব্দুল্লাহ রোপড়ী। তার প্রায় ১০টির কাছাকাছি গ্রন্থ রয়েছে শুধু আক্বীদা সংক্রান্ত।

(৫) খত্বীবুল হিন্দ মাওলানা মুহাম্মাদ জুনাগড়ী। তারও প্রায় ১০টির কাছাকাছি গ্রন্থ রয়েছে শুধু আক্বীদা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর।

(৬) আল্লামা ইহসান ইলাহী যহীর। শীআ ও কাদিয়ানীদের ভ্রান্ত আক্বীদার বিরুদ্ধে তার কলম ও মুখ ছিল দুধারী তলোয়ারের মতো। তার ইলমী রাদ্দ যে ঘা তৈরি করেছে, বাতিলপন্থিদের হৃদয়ে তা কোনো দিন শুকানোর নয়।

উপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনা প্রমাণ করে সঊদী আরবের বর্তমান ইলমী বিপ্লবের পূর্বেও এ দেশের একদল মানুষ সঠিক আক্বীদা ও ইলম লালন করতেন। তারা কুরআন, হাদীছ ও আক্বীদায় বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত অগণিত ইলমী কারনামা আঞ্জাম দিয়েছেন, যা অস্বীকার করা অবিচার হবে। নিকট অতীতে পাক-ভারত ছিল ইলমের মারকায। আরবের অধিকাংশ হাদীছের সিলসিলায়ে সানাদ এখনো ভারতের ওলামা হয়ে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছে। এখনো অনেকে উঁচু হাদীছের সনদ শুধুমাত্র পাক-ভারতেই পাওয়া যায়। এমনকি আরব আলেমগণ বর্তমানে যে তাক্বলীদমুক্ত ফিক্বহী উদারতা দেখিয়েছেন, তা অধিকাংশই তারা পাক-ভারতের আহলেহাদীছ আলেমগণের বই থেকে শিখেছেন। আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এরও ফিক্বহী স্বাধীনচেতা মনোভাবের পিছনে পাক-ভারতের আহলেহাদীছ আলেমগণের হাত রয়েছে, যা তার বই পড়লেই বুঝা যায়।

অতএব হক্ব, ইলম ও কিবার উলামা নির্দিষ্ট দেশের আলেমের সাথে নির্দিষ্ট নয়। কুরআন, হাদীছ ও আক্বীদার জ্ঞান সারা পৃথিবীর যে কোনো যোগ্য আলেমের নিকট থেকে গ্রহণ করা দরকার। মৌরতানিয়ার মতো দেশের মরুভূমিগুলো যে এখনো ইলমের মারকায, তা আমি মদীনায় আফ্রিকান বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ না হলে বুঝতাম না। শানকিতী নামে যত বড় আলেম আছেন, তারা এই দেশগুলো থেকেই উঠে আসা। মরুভূমির মুহাযারায় তারা এখনো আদি হিফযভিত্তিক ইলমের বিরল চর্চা ধরে রেখেছেন। সুতরাং শুধুমাত্র একটি দেশ ভ্রমণ করে বা একটি দেশের আলেমগণের সম্পর্কে জেনে সারা দুনিয়ার উপর হুকুম আরোপ করা বে-ইনসাফী বৈ কিছুই নয়। ওয়াল্লাহু আ‘লামু বিছ ছাওয়াব।


* ফাযেল, দারুল উলূম দেওবান্দ, ভারত; এম. এ. (অধ্যয়নরত), উলূমুল হাদীছ বিভাগ, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।