আত্ম উপলব্ধি

-মো. আশরাফুজ্জামান
ফরিদপুর সদর, ফরিদপুর।

আল্লাহ তা‘আলা এই পৃথিবীকে এবং পৃথিবীতে মানুষকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, যদি জান্নাতী খানা এই দুনিয়াতে মানুষকে খেতে দেওয়া হয়, তবে সেই জান্নাতী খানাও কিছুদিন পরে মানুষের কাছে অরুচিকর লাগবে। আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আ.)-এর আমলে লোকদেরকে জান্নাতী খানা খাইয়েছিলেন। সেই খানাতে তাদের শুধু অরুচিই হয়নি, বরং মূসা (আ.)-এর ক্বওম বা জাতির লোকেরা এমন বিরক্ত হয়েছিল যে, তাদের এবং মূসা (আ.)-এর মধ্যকার কথোপকথনের এক অংশ কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা উল্লেখ করেছেন,

وَإِذْ قُلْتُمْ يَامُوسَى لَنْ نَصْبِرَ عَلَى طَعَامٍ وَاحِدٍ فَادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنْبِتُ الْأَرْضُ مِنْ بَقْلِهَا وَقِثَّائِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا

‘আর তোমরা যখন বললে, হে মূসা! আমরা একই ধরনের খাদ্যদ্রব্যে কখনো ধৈর্যধারণ করব না। কাজেই আপনি আপনার পালনকর্তার নিকট আমাদের পক্ষে প্রার্থনা করুন, তিনি যেন আমাদের জমিতে যা উৎপন্ন হয় তা হতে শাক-সবজি, কাঁকড়, গম, মসুর, পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন’ (বাক্বারাহ, ৬১)।

কিন্তু জান্নাতী খানা কি অরুচিকর বা কম স্বাদযুক্ত? কখনোই না। অথচ সেই একই খাবার জান্নাতীদেরকে বার বার দেওয়া হবে এবং জান্নাতীগণ অত্যন্ত আনন্দের সাথে সেই খাবার খাবেন। জান্নাতেও এই দুনিয়ার মতো অনেক প্রকার খাবার থাকবে এবং সেই সব খাবার জান্নাতীদের বারংবার পরিবেশন করা হবে তথাপি এতে জান্নাতীদের কোনো অতৃপ্তি বা অরুচি আসবে না। অথচ বাস্তবে এই দুনিয়ার প্রতি খেয়াল করলে দেখবেন, কোনো ব্যক্তি তার কোনো এক বা একাধিক প্রিয় খাবার মাত্র কয়েক দিন বারবার খাওয়ার পর প্রথমে সেই খাবারের প্রতি কিছুটা অতৃপ্তি আসে এবং পরে অরুচি চলে আসে। কিন্তু জান্নাতে এমনটি কখনোই হবে না। জান্নাতীদেরকে যখন একই জান্নাতী খানা বারবার পরিবেশন করা হবে, তখন তারা আনন্দের সাথে যে কথা বলবে তা আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে উল্লেখ করে বলেন,

كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِنْ ثَمَرَةٍ رِزْقًا قَالُوا هَذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِنْ قَبْلُ وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا

‘যখনই তারা খাবার হিসাবে কোনো ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এ তো অবিকল সে ফল, যা আমরা ইতোপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুত তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে’ (বাক্বারাহ, ২৫)।

এবার মনোযোগ দিয়ে প্রত্যেকের নিজের দিকে এবং নিজেদের আশেপাশের ঐসব লোকদেরকে খেয়াল করুন, যারা পার্থিব বিষয় নিয়ে এ দুনিয়াতে চিরসুখী হতে চায়, তারা কি আসলেই পরম সুখী বা পরম পরিতৃপ্ত তাদের জীবনে?

এ পৃথিবীতে আদম সন্তান কোনো কিছুতেই পরম তৃপ্ত হতে পারে না এবং সেটা সম্ভবও না। আল্লাহ তা‘আলা এ পৃথিবীকে এবং মানুষকে এভাবেই সৃষ্টি করেছেন। এ পৃথিবী তো ক্ষণিকের জন্য মানুষের প্রতি এক পরীক্ষা ক্ষেত্র। অথচ মানুষ মরীচিকা সদৃশ, সামান্য তৃপ্তি লাভের আশায় ছুটে চলে, চলছে অবিরাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ – حَتَّى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ ‘প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রেখেছে। এমনকি তোমরা কবরস্থানে পৌঁছে যাও’ (তাকাছুর, ১-২)।

এ পৃথিবীতে বাস্তবে সফলতা বলতে কিছুই নেই। এ পৃথিবীতে পার্থিব সফলতা বলতে বুঝায় অসফল ব্যক্তিদের কাছে কতটুকু আপনার গ্রহণযোগ্যতা। অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়। যেমন, কোনো একজন অভিনেতা যত দুর্দান্ত অভিনয় করতে পারবেন, ততো বেশি লোক সে অভিনয়টা পসন্দ করবে, কিন্তু যদি অভিনয় করতে যেয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে থাকেন, তখন তাকে দেখতে যাওয়ার লোক খুব কমই আছে বা নেই বললেই চলে। একজন লেখক চমৎকার সাহিত্য লিখেন। সবাই সেই রকম চমৎকার করে লিখতে পারেন না। সবাই যদি চমৎকার সাহিত্য লিখতো বা লিখতে পারতো, তবে সেটা সাধারণ বিষয় হয়ে যেতো, তখন সেটা আর সাহিত্য হতো না এবং কোনো একজন সাহিত্যিকের পরে বা একই সময়ে অন্য আরো একজন যদি তুলনামূলক আকর্ষণীয় কোনো সাহিত্য রচনা করে পাঠকের কাছে দিতে পারেন, তখন নতুন সাহিত্যিককে নিয়েই লোকে কিছুদিন মাতামাতি করবে। কারণ ইন্টারটেইনমেন্ট বা বিনোদনের ধরনই হচ্ছে তা একবার উপভোগ করার পর আর উপভোগ্য থাকে না।

আর খুবই আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে, এ জগতে পার্থিব সফল ব্যক্তিদেরকে সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা বা মেডেল দেন অসফল ব্যক্তিরা। এর কারণ এ পৃথিবীতে সফল ব্যক্তিরা তাদের জীবনকে শেষ করে দিয়ে কিছু পদক বা মেডেল নিয়ে এ পৃথিবীর ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকেন। আর অন্যদিকে অসফল ব্যক্তিরা তাদের পকেটের কিছু পয়সা খরচ করে বা সফল ব্যক্তিদেরকে কিছু পয়সা দিয়ে তাদের কাছ থেকে সারাজীবন ধরে বিনোদন নিয়ে থাকেন। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, এ পৃথিবীতে সফলতার অর্থ হচ্ছে আপনি আমাকে যতো হাসাতে পারবেন, আমি আপনাকে ততো পদক দিব।

এ বিষয়ে দুনিয়াতে প্রতিপত্তি লাভের আশায় যুবকদের হা-হুতাশ করতে দেখা যায় বেশি। অধিকাংশ যুবক ভাবে, তাদের সুন্দর একটি বাড়ি থাকবে, সুন্দর একটি পরিবার থাকবে আর থাকবে কিছু চমৎকার বন্ধু-বান্ধব ।

হে যুবক! হয়তো অত্যন্ত মনোরম, সুশোভিত, চোখ ধাঁধানো জান্নাত আছে আপনার জন্য, যা কোনো চোখ কোনো দিন দেখেনি।

হে যুবক! হয়তো অত্যন্ত সুদর্শনা, অনিন্দ্য সুন্দরী পরিবার আছে আপনার জন্য, যা কেউ কোনো দিন স্পর্শও করেনি।

হে যুবক! মুহাম্মাদ (ছা.) এবং তার ছাহাবায়ে কেরাম (রা.) হচ্ছেন ইহকাল এবং পরকালে সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু, তারা হয়তো অপেক্ষা করছেন আপনার জন্য।

জীবনের পথে কতো মানুষের সাথে দেখা হয়, কথা হয়; তা আবার অনন্ত কালের পথেই হারিয়ে যায় আর এটাই নিয়ম। আমরা সবাই এ নিয়মে বাঁধা। সবাই যার যার পথে ছুটে চলি অবিরাম আর চলার পথে কিছুটা হাসি, কান্না, একটু সুখ আর হয়তো অনেক বেশি দুঃখ নিয়ে অজান্তেই চলি সেই জীবন চলার পথে। জীবনের শক্ত মাটিতে দাঁড়িয়ে মনের মাঝে কল্পনার আকাশে উড়াই কত স্বপ্ন, রঙীন ঘুড়ি। রঙীন পাখি হয়ে উড়ে যাই দূর দিগন্তে, ছুয়ে আসি যেন এক অনাবিল সুখের মোহনায়। রুক্ষ, কঠিন বদ্ধভূমিতে জীবন চলা আর সেই সাথে কল্পনার আকাশে তেপান্তরে হারিয়ে যাওয়া, এটাই যেন জীবনের অব্যক্ত গন্তব্য ।

আমরা সবাই কোথায় যাই, কী আমাদের গন্তব্য তা যেন কুঁয়াশার চাদরে ঢাকা, পথের বাঁকের মতো। শুধু পথের বাঁকটি দেখা যায় কিন্তু বাঁকের ওপাশে কী আছে তা যেন চিরকালই অজানা থেকে যায়। অনন্ত চলার পথের সেই বাঁক যেন শেষ হয় না। অবশেষে এক সময় পথটি শেষ হয়ে যায় কিন্তু পথিকের পথচলা তো শেষ হয় না। শেষ হওয়া পথের বাঁকে এক অতি ক্ষুদ্র জীবনের অনন্ত আরেক তৃষ্ণা নিয়ে শুরু হয় অন্য কোনো একটি পথচলা। জীবনের মানে খুঁজে পাই না এই জীবনে, জীবনের শেষেও। অধিকাংশ যুবকগণ তাদের জীবনে কী যেন একটা অতৃপ্তি নিয়ে ছুটে চলে সারাটা জীবন, একটা পরিতৃপ্তি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়। যে আকাঙ্ক্ষা জীবনের শেষ বেলাতেও শেষ হয় না, আকাঙ্ক্ষা হয়েই থেকে যায় ।

জীবনের বেলা শেষে এসে দেখতে পায় এই জীবনে কিছুই পাওয়া হলো না, শুধু পাওয়ার জন্য ছুটে চলেছে। এখনো চলছে আর পরকালের জন্য তো কিছুই করা হলো না। ঠিক এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এখন বুঝতে পারবেন যে, আপনি অনেক পিছনে পড়ে গেছেন। এটি একটি রেস বা দৌঁড় প্রতিযোগিতার মতো। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

يُسْقَوْنَ مِنْ رَحِيقٍ مَخْتُومٍ – خِتَامُهُ مِسْكٌ وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ – وَمِزَاجُهُ مِنْ تَسْنِيمٍ – عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا الْمُقَرَّبُونَ

‘তাদেরকে মোহরাঙ্কিত বিশুদ্ধ পানীয় পান করানো হবে। তার মোহর হবে কস্তুরী। এ বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত। তার মিশ্রণ হবে তাসনীমের পানি। এটা একটা ঝর্ণা, যার পানি পান করবে নৈকট্যশীলগণ (মুতাফফিফীন, ২৫-২৮)।

জীবনের বেলা শেষে এসে যখন নিজের শরীরটি নিজের কাছেই বোঝা মনে হবে। বাড়ি থেকে খুব কাছেই মসজিদ তবুও মনে হবে আর কতো দূরে মসজিদ? পথ কেন শেষ হয় না? পথ তো সবে শুরু, যে পথের দূরত্ব কেউ জানে না। যে পথের দূরত্ব শুধুই অনন্তকাল ।

জীবনের এই বেলাতে এসে কিশোর বয়স আর যৌবন বয়সের আনন্দময় স্মৃতিগুলো কেবলই হাতছানি দিয়ে ডেকে যায়। সেই সুখময় স্মৃতিগুলো যেন মরীচিকার মতো চোখের সামনে ভেসে উঠে আবার দূর অজানায় হারিয়ে যায়, বাস্তবে ফিরে আসে না। আর কখনো আসবেও না। যদি আবার ফিরে যাওয়া যেতো সেই কৈশোর বয়সে, তাহলে কতই না মজা হতো। কিন্তু তা আর কখনো হবে না। কৈশোর আর যৌবনের পরিতৃপ্তিতে ভরা আনন্দময় স্মৃতিগুলো জীবনের পড়ন্ত বেলাতে এক বুভুক্ষুর ক্ষুধা তৈরি করল। সবই তো আছে আমার চারপাশে; সম্পদ, পরিবার, বন্ধু আর যথেষ্ট সময়। তবুও কেন আজ সবকিছু অতৃপ্তিময় মনে হয় যেন আমি নেই এদের মাঝে। তবে কোথায় আমি?

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, يَاأَيُّهَا الْإِنْسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ ‘হে মানুষ কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল’ (ইনফিতার, ৬)।

আপনি মনে করবেন না যে, আপনি একা একা এই পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমার, আপনার সাথে শয়তান চিরকালই লেগে আছে, তা প্রায় সবাই অনেক পরে হলেও উপলব্ধি করতে পারে। আল্লাহ বলেন,

وَقُلْنَا اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ

 ‘আর আমি বললাম, তোমরা নেমে যাও, তোমরা পরস্পর একে অপরের শত্রু হবে এবং পৃথিবীতেই তোমাদের জন্য এক নির্দিষ্টকালের অবস্থিতি ও ভোগ-সম্পদ রয়েছে’ (বাক্বারাহ, ৩৬ )। যেখানে আল্লাহ বলছেন, শয়তান আমার, আপনার শত্রু হয়ে আমার, আপনার পিছনে লেগে আছে, সেখানে আপনি এ দুনিয়াতে প্রতিপত্তি না পেয়ে হা-হুতাশ করে সময় নষ্ট করছেন? নিচের আয়াতটির এই অংশটুকু খেয়াল করুন, ‘…তারা যে সুখ-সাচ্ছন্দ্যে ছিল, তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল…’ (বাক্বারাহ, ৩৬)।

আদম (আ.) এবং হাওয়াকে সুখ-সাচ্ছন্দ্য থেকে বের করে দিয়ে এ পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে অথচ আমি, আপনি এ পৃথিবীতে সুখ-সাচ্ছন্দ্য খুঁজছি। কী অদ্ভুত!

এখানে আরও খেয়াল করুন, ইবলীস শয়তান কেন আদম (আ.)-এর শত্রু হয়ে গেল বা তার বিরুদ্ধে গেল? আদম (আ.) কি ইবলীসকে বেহেশতে যে নে‘মত দেওয়া হয়েছিল, তা কেড়ে নিয়েছিলেন? কখনোই না, বরং ইবলীসকে যে মহাসম্মান দেওয়া হয়েছিল, তাতে ইবলীস নিজেকে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত ভাবতো এবং আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে কাউকে কোনো সম্মান দেওয়া মানে তা প্রকৃতপক্ষে বিশাল সম্মান। আল্লাহ তা‘আলা ইবলীসের সম্মান ছিনিয়ে নেননি। আল্লাহ তা‘আলা পুত-পবিত্র, মহাসম্মানিত। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করতে পারেন। আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পূর্ব পর্যন্ত ইবলীস ছিল আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে সম্মানিত। আদম (আ.)-কে আল্লাহ তা‘আলা তার সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলূক হিসাবে সৃষ্টি করলেন এবং শ্রেষ্ঠ হিসাবে ঘোষণা করলেন যা ইবলীস মেনে নেয়নি। অতএব উপলব্ধি করুন, আল্লাহ তা‘আলা কেন জান্নাত পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করতে বলেছেন? কারণ তা শুধুমাত্র একটি জান্নাত বা বাসস্থানই নয়; তা একটি মহাসম্মান।

আপনি মনে করবেন না যে, আপনি এ দুনিয়াতে পার্থিব যা কিছু পাওয়ার ইচ্ছা করবেন, তাই পাবেন। বরং আল্লাহ যা চান তাই আমি, আপনি পাবো। আপনি দেখবেন যে, আপনার চারপাশে কতো মানুষ সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছে। আপনি ভাবছেন যে, আপনি তার মতো কাজ করবেন আর তার মতো ধনী হয়ে যাবেন বা পার্থিব যা আকাক্সক্ষা করছেন তা পেয়ে যাবেন। তবে তো এ জগতে একজনও দরিদ্র বা অসুখী মানুষ থাকতো না। আল্লাহ তা‘আলা একেক জন ব্যক্তিকে একেকভাবে পরীক্ষা করেন।

তাই যাকে আল্লাহ কিছু সম্পদ দিতে চান এবং যেভাবে দিতে চান, তাকে সেভাবেই দেন। আপনাকেও আল্লাহ তা‘আলা সেভাবে সম্পদ দিবেন, তা কে বলল? আপনার পরীক্ষা তো আর তার মতো হবে না। আল্লাহ আমাকে আপনাকে যাকে যেভাবে পরীক্ষা করতে চান, তাকে তাই দান করবেন; সম্পদ, ক্ষমতা বা দরিদ্রতা। আল্লাহ বলেন, وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ ‘তোমরা আল্লাহর অভিপ্রায়ের বাইরে অন্য কিছুই ইচ্ছা করতে পারো না’ (তাকভীর, ২৯)।

অতএব মরীচিকা সদৃশ সামান্য পার্থিব তৃপ্তিলাভের আশায় না ছুটে  আল্লাহর  দিকে নিজেকে ধাবিত করুন। আপনার অন্তরে আল্লাহ প্রশান্তি দিবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ বলেন,

يَاأَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ – ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً – فَادْخُلِي فِي عِبَادِي 

وَادْخُلِي جَنَّتِي

‘হে প্রশান্ত মন! তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও প্রিয়ভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো (ফজর, ২৭-৩০)।

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

 أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ – وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ – الَّذِي أَنْقَضَ ظَهْرَكَ

‘আমি কি আপনার বক্ষকে প্রশস্ত করে দেইনি। আমি লাঘব করেছি আপনার বোঝা, যা ছিল আপনার জন্যে অতিশয় দুঃসহ (ইনশিরাহ, ১-৩)। রাসূল (ছা.) এবং তার অনেক ছাহাবী (রা.)-এর দিনের পর দিন কেটেছে অনাহারে, অর্ধাহারে এবং মানুষের কাছ থেকে পেয়েছেন কত মিথ্যা অপবাদ। কিন্তু তারপরও তাদের অন্তর ছিল জান্নাতের প্রশান্তিতে পরিপূর্ণ।