বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত বৈরূত, নিহত দেড় শতাধিক

গত ৪ আগস্ট লেবাননের রাজধানী বৈরূতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী এতে নিহত হন অন্তত ১৫৮ জন যার মধ্যে ৪ বাংলাদেশী নাগরিকও রয়েছেন, আহত ৬ হাজারের বেশি আর গৃহহীন হয়েছেন প্রায় ৩ লাখ মানুষ। তবে এটি কোনো হামলা নয় বলে জানিয়েছেন লেবানিজ কর্তৃপক্ষ। এই বিশাল বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে লেবাননের রাজধানী বৈরূত। আহতদের হাসপাতালে ভর্তির জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। আহতদের মধ্যে বাংলাদেশের নৌসেনার ১৯ জন কর্মীও আছেন। বাংলাদেশের নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস বিজয় বৈরূত বন্দরে নোঙর করা ছিল। গত ছয় বছর ধরে ঐ গুদামে ২৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত করে রাখা হয়েছিল। ২০১৪ সালে একটি মালবাহী জাহাজে করে ঐ রাসায়নিক এসেছিল। কাগজপত্রে গণ্ডগোল থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজের জিনিস বাজেয়াপ্ত করে। তারপরই ঐ রাসায়নিক গুদামে মজুত করা হয়। ঠিক করা হয়েছিল পরে নিলামের মাধ্যমে ঐ রাসায়নিক বাজারে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু গত ছয় বছরে সে কাজ করা যায়নি। শুধু তাই নয়, এই পরিমাণ রাসায়নিক যেখানে মজুত ছিল, সেখানে যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না। বৈরূতের এই বিস্ফোরণকে লেবাননের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিস্ফোরণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিস্ফোরণে প্রায় গোটা রাজধানী কেঁপে ওঠে। বহু দূর পর্যন্ত ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কার্যত ধ্বসে গেছে গোটা শহর। বৈরূত থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাইপ্রাস, সেখান থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

 

গ্রিসে ১০ হাজার মসজিদকে বানানো হয়েছে নাইট ক্লাব,
থিয়েটার ও বিনোদনকেন্দ্র

গ্রিসে এক সময় ছিল মুসলিমদের ঐতিহ্য আর অহংকারের সব স্থাপনা। কিন্তু ওছমানী শাসনামলের পতনের পর থেকে সেখানে অনেক মসজিদ হয়েছে নাইট ক্লাব, থিয়েটার ও বিনোদনকেন্দ্র। নবায়নের নামে কিছু মসজিদ পরিণত করা হয়েছে চার্চে। গ্রিসে ওছমানী শাসনামলের ১০ হাজারের বেশি ইসলামী স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে। আয়া সোফিয়াকে ছালাতের জন্য খুলে দেওয়ায় গ্রিসের সমালোচনার জেরে অনেকেই দেশটিতে অবস্থিত ওছমানী স্থাপনাগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ১৪৬৮ সালে গ্রিসের থেসেলোনোকিতে হামজা বে মসজিদটি শুধু ছালাতের জন্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের কয়েক বছর পর মসজিদের মিনার ভেঙে ফেলা হয়। মিনারের কারুকাজ এবং মূল্যবান পদার্থগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। ধ্বংস করে দেওয়া হয় কাঠের মিম্বার। ১৯২৭ সালে গ্রিসের ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানায় আসার পর মসজিদটি বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে বানানো হয় দোকান ও সিনেমা। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত মসজিদটি হল হিসাবে ব্যবহার হয়। লোননিনা প্রদেশের নাদরা অঞ্চলের ফায়েক পাশা মসজিদও গির্জায় পরিণত করা হয়। ১৯৭০ সালে মসজিদটিকে বানানো হয় বিনোদনকেন্দ্র। বর্তমানে মসজিদটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একইভাবে গ্রিসের রাজধানী এথেন্সসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মসজিদগুলো পরিত্যক্ত। ওছমানী শাসনের পরে রাজধানী এথেন্সের সবচেয়ে পুরনো মসজিদটি বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো। যার মধ্যে সেনাবাহিনীর কারাগার এবং স্টোররুম হিসাবে ব্যবহার করার মতো ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।