আসামে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে সরকারি মাদরাসাগুলো

ভারতের আসাম রাজ্যের রাজ্য সরকার সকল মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি বরাত দিয়ে জানানো হয়, রাজ্য সরকার আসামের সমস্ত সরকারি মাদরাসা বন্ধ করে দেবে। কারণ জনসাধারণের অর্থ দিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। আগামী মাসে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারী করা হবে। মাদরাসা বন্ধ করা হলেও সরকারি টোলগুলো (হিন্দু ধর্মশিক্ষা দেয়ার প্রতিষ্ঠান) বন্ধ করার বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। প্রসঙ্গত, আসামে ৬১৪ টি সরকারি ও প্রায় ৯০০ টি বেসরকারি মাদরাসা রয়েছে। যার প্রায় সবই জমিয়ত উলামা দ্বারা পরিচালিত হয়, অথচ প্রায় ১০০টি সরকারি সংস্কৃত টোল এবং ৫০০ এর বেশি বেসরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। রাজ্য মাদরাসাগুলোতে সরকার বার্ষিক প্রায় তিন কোটি থেকে চার কোটি রুপি এবং সংস্কৃত টোলগুলোতে বছরে প্রায় এক কোটি রুপি ব্যয় করে। দুই বছর আগে রাজ্য সরকার দুটি নিয়ন্ত্রণকারী বোর্ড (রাজ্য মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং আসাম সংস্কৃত বোর্ড)-কে বাতিল করে দেয়। এরপরে, মাদরাসাগুলোকে আসামের মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড (শেবা) এবং সংস্কৃত টোলগুলোকে কুমার ভাস্কর ভার্মা সংস্কৃত ও প্রাচীন বিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনা হয়েছিল।

 

নাটকীয়ভাবে বেড়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ

গত ২০ বছরে চরম আবহাওয়ার কারণে সংঘটিত বিপর্যয়ের ঘটনা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত দুই দশকে বিশ্বব্যাপী চরম আবহাওয়ার কারণে সংঘটিত দুর্যোগে মানুষের জীবন ও অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের একদিন আগে জাতিসংঘ থেকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দশকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা দেবে তাপপ্রবাহ ও খরা। আবহাওয়াকে উত্তপ্ত করে তোলে এমন গ্যাসের ব্যবহার বাড়ার কারণেই তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। জাতিসংঘ জানায়, ২০০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার ১০টি দেশের মধ্যে আটটির অবস্থান এশিয়াতে। সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেছে চীনে ৫৭৭টি, যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬৭টি, ভারতে ৩২১টি, ফিলিপাইনে ৩০৪টি ও ইন্দোনেশিয়ায় ২৭৮টি। ২০০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পৃথিবীতে মোট ৭৩৪৮টি বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৪২০ কোটি মানুষ। বিগত দুই দশকে এসব দুর্যোগে প্রায় দুই লাখ ৯৭ হাজার কোটি ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। বড় আকারের ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী দুর্যোগের মধ্যে খরা, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, দাবানল ও তাপমাত্রার চরম বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ থেকে জানানো হয়েছে, ভালো খবর হলো, এসব দুর্যোগে অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো গেছে। কিন্তু, খারাপ খবর হচ্ছে, জলবাছু পরিস্থিতি দিন দিন আরও মারাত্মক হচ্ছে। ফলে আরও বেশি মানুষ ক্ষতির মুখে পড়ছে। আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও দুর্যোগের ঝুঁকি প্রশমনের জন্য কৌশল প্রণয়নে বিনিয়োগ করতে সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।