আন্তর্জাতিক বিশ্ব


মহামারিতে হতদরিদ্র বেড়েছে ৪০ শতাংশ : জাতিসংঘ

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিশ্ব জুড়ে হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়েছে, যাদের মানবিক সাহায্য প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আগামী বছর (২০২১) থেকেই এ সাহায্যের প্রয়োজন পড়বে এবং এজন্য জাতিসংঘ ৩ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার চেয়েছে। ১ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার জাতিসংঘের ত্রাণবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা মার্ক লোকক বলেন, আগামী বছর (২০২১) যাদের মানবিক সাহায্যের প্রয়োজন পড়বে, তারা সবাই যদি একটি দেশে বাস করতেন তাহলে সেটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর দেশ হতো। এই মহামারি বিশ্বের সবচেয়ে ভঙ্গুর ও ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতির দেশগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। জাতিসংঘ ২০২১ সালে ৫৬টি দেশে মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দিতে ৩৪টি পরিকল্পনা করেছে। সংস্থাটি এর মাধ্যমে ১৬ কোটি মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে চায়। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি মানুষকে ক্ষুধা, যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং করোনা ভাইরাস মহামারির প্রভাব ভোগ করতে হচ্ছে। লোকক বলেন, এ বছর (২০২০) দাতা দেশগুলো রেকর্ড ১ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার দান করেছে। যা দিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের জন্য আমাদের ৩ হাজার ৫০০ কোটি (৩৫ বিলিয়ন) ডলার প্রয়োজন; এটি বিশাল অঙ্কের অর্থ। কিন্তু ধনী দেশগুলো তাদের জনগণকে সুরক্ষা দিতে যে পরিমাণ ব্যয় করছে, তার তুলনায় এই অর্থ খুবই সামান্য।

 

কাশ্মীর নিয়ে ওআইসি শক্ত অবস্থানে : ক্ষুব্ধ ভারত, খুশি পাকিস্তান

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুদিনের এক বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যাতে ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলকে বেশ শক্ত ভাষায় নিন্দা করা হয়েছে। এমনকি গত বছর ৫ আগস্টের ঐ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্যও ভারতকে আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ভারত যেভাবে কাশ্মীরে আন্তর্জাতিক এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে এবং আন্তর্জাতিক প্রস্তাব অগ্রাহ্য করছে, তার বিবেচনায় ভারতের সাথে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে ওআইসির প্রস্তাবে। ওআইসি আবারও বলেছে কাশ্মীর একটি অমীমাংসিত ইস্যু এবং নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে কাশ্মীরিদের অধিকারের বিষয়টি জাতিসংঘের এজেন্ডাতে থাকলেও গত ৭০ বছর ধরে অমীমাংসিত রয়ে গেছে। পাকিস্তান গত দেড় বছর ধরে ওআইসিকে কাশ্মীর নিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়ার কথা বলেছিল আর তার ভিত্তিতেই এই প্রস্তাবে দেওয়া হয়। কিন্তু ভারত সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ওআইসির প্রস্তাব নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খুব শক্ত ভাষায় এই প্রস্তাবনার বিরোধিতা করা হয়েছে।