ভারতে কুরআনের আয়াত পরিবর্তনে রিট সুপ্রিম কোর্টে খারিজ



পবিত্র কুরআনের ২৬টি আয়াত নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে করা একটি জনস্বার্থ পিটিশন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে (আল-হামদুলিল্লাহ)। শুধু তাই নয়, এরকম একটি ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ পিটিশন দাখিল করার জন্য আবেদনকারী সৈয়দ ওয়াসিম রিজভীর ৫০,০০০ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ অবশ্য এরপরও পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে তারা এই বিষয় নিয়ে কোনো তর্কবিতর্ক শুনতেও আগ্রহী নয়। উল্লেখ্য, ভারতের শীআ ওয়াকফ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ ওয়াসিম রিজভী পবিত্র কুরআনের ২৬টি আয়াতের ওপর আপত্তি তুলে পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন। ওয়াসিম রিজভী তার আবেদনে উল্লেখ করেন, ‘২৬টি আয়াত বিদ্বেষ, সন্ত্রাসবাদ ও জিহাদকে উসকে দিচ্ছে এবং কাফেরদের হত্যায় প্রলুব্ধ করছে। তার ভাষায়- আর্জিতে উল্লিখিত ২৬টি আয়াত আল্লাহর কালাম নয়। আবূ বকর, উমার ও উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পরদেশ গ্রাস করার মানসে এ আয়াতগুলো কুরআনে সন্নিবেশিত করেছেন’। এর প্রতিবাদে উপমহাদেশের মুসলিম জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। কুরআনবিদ্বেষী সৈয়দ ওয়াসিম রিজভীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের সর্বস্তরের সুন্নী মুসলিমরা। তারা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। লক্ষ্ণৌর ইমামবাড়াকেন্দ্রিক শীআ জনগোষ্ঠীও ওয়াসিম রিজভীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং শান্তি মিছিল বের করেছে। ইমামবাড়ায় ওয়াসিম রিজভীর জন্য নির্ধারিত কবরের জায়গার বরাদ্দ বাতিল করা হয়। সৈয়দ ওয়াসিম রিজভী এর আগে বাবরী মসজিদ নিয়ে মুসলিমদের স্বার্থবিরোধী মন্তব্য করেছিলেন। উল্লেখ্য, ভারতের ইতিহাসে কুরআন নিষিদ্ধ করার আবেদন জানিয়ে রিট করার নজির আছে। জনৈক চাঁদমল চোপড়া ১৯৮৫ সালের ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত দাখিল করেন যাতে কুরআন প্রচার, চর্চা ও মুদ্রণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ২৯ মার্চ তিনি ভারতে কুরআন বন্ধের আবেদন জানিয়ে ভারতীয় পেনাল কোডের ১৫৩এ এবং ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোডের ৯৫ সেকশনের অধীনে কলকাতা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালত শুনানির প্রথম দিনেই মামলা খারিজ করে দেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, ‘কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ বন্ধের এখতিয়ার আদালতের নেই’।