বাবরি মসজিদে হামলাকারীর ৯০ মসজিদ নির্মাণ

অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদে হামলাকারী কর সেবক থেকে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হয়েছেন। ইসলাম গ্রহণ করা মোহাম্মদ আমির ৯০টি মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন। মসজিদ ভাঙ্গার তীব্র অনুশোচনা থেকেই এ কাজ করেছেন বলে তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। ডিসেম্বরের ৬ তারিখে বাবরি মসজিদের গম্বুজে প্রথম ব্যক্তি হিসাবে উঠেছিলেন তিনি। তার সঙ্গে যোগ দেয়া আরেক হামলাকারী যোগেন্দ্র পালও পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মুসলিম হিসাবে তার নাম হয় মোহাম্মদ ওমর। সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ আমির জানান, শিব সেনার দলে যোগ দেয়ার পর তিনি উগ্রবাদী হয়ে উঠেন। তখন তার নাম ছিল বলবীর সিং। দিল্লির কাছে হরিয়ানায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রশিক্ষণ শিবিরে ও পানিপথে কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। মোহাম্মদ আমির বলেন, ‘বাবরি মসজিদে হামলার দিন কার্যত কোন সেখানে নিরাপত্তা ছিল না যা আমাদের সেখানে আক্রমণে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। মসজিদ ভেঙ্গে ফেরার পথে সবাই আমাদের নায়কের চোখে দেখছিল, কিন্তু আমার পরিবারের প্রতিক্রিয়া ছিল পুরোপুরি ভিন্ন যা আমাকে মর্মাহত করে। আমার পরিবারের লোকজনের হতাশায় মসজিদ ভাঙ্গার উল্লাস নিমিষেই দূর হয়ে যায়। আমি বুঝতে পারলাম অনেক খারাপ কিছু করে ফেলেছি। এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম এর মাশুল আমায় দিতে হবে। এরপর তিনি মাওলানা কালেম সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং এক পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। সে সময় মোহাম্মদ আমির পণ করেন ১০০টি মসজিদ নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কার করবেন। তারই প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত ৯০টি মসজিদ নির্মাণ করেছেন।

পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত দেনমোহর

নগদ অর্থ-কড়ি নয়, সোনার গয়নাও নয়, না কোনো ব্যাংক ব্যাল্যান্স। নব-বিবাহিত স্বামী যেন পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত নিয়মিত আদায় করেন তার প্রতিশ্রুতি দিলে আর কিছু চাই না তার। এমনই এক অভিনব দেনমোহরের বিনিময়ে বিবাহ সম্পন্ন হলো পাকিস্তানে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগেও এমন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে একটি সূরা মুখস্থ করাকে বিয়ের দেনমোহর হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল কন্যার পক্ষ থেকে। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানের টিভি সিরিয়ালের অভিনেত্রী ইয়াসরা (৩৪) তার বিপরীতে গিয়ে তার চেয়ে ১০ বছর কম বয়সী হাদিকে বিয়ে করতে সম্মতি জানিয়ে এই দেনমোহর দাবি করেন। হাদি বর্তমানে এমবিবিএস-এর থিসিস নিয়ে ব্যস্ত। তাই স্বামীকে অহেতুক অর্থের জন্য চাপ না দিতে ইয়াসরার এমন সিদ্ধান্ত। ইসলামী শরী‘আতে বিয়ের সময় পাত্রীর পক্ষ থেকে পাত্রের কাছে তার সামর্থ্য অনুসারে দেনমোহর দাবি করা হয় যা বাসর রাতের আগে পরিশোধ করে দেয়া বাধ্যতামূলক। ইয়াসরা বলেন, ছালাত শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। ছালাত আমাদের পাপ কাজ থেকে বাঁচায়। এ জন্য আমি আমার স্বামীর কাছ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের প্রতিশ্রুতি চেয়েছি।

দ্য মুসলিম হিরো

কুরআন পোড়ানো ঠেকাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ল যুবক। মুহূর্তের তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে উগ্রবাদীরা। পরে নরওয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। নরওয়ের ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড শহরে উগ্রবাদী সংগঠন ‘স্টপ ইসলামাইজেশন অব নরওয়ে’ একটি কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচির এক পর্যায়ে সংগঠনটির প্রধান লার্স থারসেন কুরআন পোড়ানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনা দেখতে পেয়ে ছুটে গিয়ে তাকে বাধা দেয় এক মুসলিম যুবক। কুরআন পোড়ানোর চেষ্টায় বাধা দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন এক মুসলিম যুবক। সেদিন বেরিকেড টপকে ওই যুবক লাফ দিয়ে থারসেনের কাছে চলে যায় এবং তার হাত থেকে পবিত্র কুরআনটি কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এরপর থারসেন ও তার লোকেরা যুবককে মারতে শুরু করে। পুলিশ এসে থারসেনসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। ওই মুসলিম যুবকের নাম ইলিয়াস বলে জানা যায়। অনেকেই তাকে ‘হিরো অব দ্য মুসলিম’ উপাধি দিয়েছেন। শত শত মানুষ এ বিষয়ে পোস্ট দিয়েছেন। কেউ ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই কর্মসূচির বিষয়ে থারসেনকে আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা অম্যান্য করে কুরআন পোড়ানোর পদক্ষেপ নেন।