বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন পাস

ভারতে নাগরিকত্ব আইনের একটি বিতর্কিত সংশোধনী সম্প্রতি পাস হয়েছে, যা সারা দেশে মারাত্মক বিক্ষোভের সূত্রপাত করেছে এবং যার ফলে দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। গত ১১ ডিসেম্বর ভারতের সংসদে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের একটি সংশোধনী পাস হয়, যা দেশটির নাগরিক হওয়ার জন্য নির্দেশিকা নির্ধারণ করে। ২০১৯ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিলে ধর্মীয় পরিচয়কে নাগরিকত্বের ভিত্তি হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, যেসব হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সী এবং খ্রীস্টান ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রতিবেশী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে এসেছে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। সংশোধিত আইনটিকে সমালোচকরা ইসলামবিরোধী বলে অভিহিত করেছেন এবং তারা বলেছেন যে, এটি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদেরকে আরও কোনঠাসা করে তুলেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় সারা দেশে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে ইতিমধ্যে অনেক হতাহতও হয়েছে। বিশেষত, এই বিল ১৩০ কোটি মানুষের দেশ ভারতের ১৪ শতাংশ মুসলিম জনগণকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। ভারতের নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫ সালে প্রথম গৃহীত হয়েছিল, যাতে দেশটির নাগরিকত্ব সম্পর্কিত বিস্তারিত দিক-নির্দেশাবলী উল্লেখ করা হয়েছিল। এটি বেশ কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০০৩ সালে সংশোধনীর মাধ্যমে সরকারকে তার সমস্ত নাগরিকের জাতীয় নিবন্ধকরণ (এনআরসি) রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছে। যদিও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম ছাড়া এটি অন্য কোথাও এখনও কার্যকর করা হয়নি। নাগরিকত্ব আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনী (স্থানীয়ভাবে ‘সিএবি’ বা ‘সিএএ’ হিসাবে পরিচিত) ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় গত ১০ ডিসেম্বর ও পরেরদিন উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পাস হয়। প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের সাক্ষরের মাধ্যমে এই বিল আইনে পরিণত হয়।