আন্তর্জাতিক বিশ্ব

এবার আসামে মাদরাসা বন্ধ করছে বিজেপি

আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) ধাক্কা শেষ না হতেই এবার সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদরাসাগুলো বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যটির শাসক দল বিজেপি। জনগণের অর্থে কোনো ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই সব সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদরাসা বন্ধ করে দিয়ে সেগুলোকে হাইস্কুলে পরিণত করা হবে। কেউ যদি ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে চান, তাহলে বলার কিছু নেই। কিন্তু সরকারি অর্থে সেটা চলতে পারে না। যদি আরবী শিক্ষা দিতে হয়, তাহলে গীতা বা বাইবেল শিক্ষারও ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। আসামে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল ১৭৮০ সালে। সেখানে এখন ৬১৪টি স্বীকৃত মাদরাসা রয়েছে, যেগুলো পরিচালনা করে রাজ্য মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। অন্যদিকে, সংস্কৃত টোল বা বিদ্যালয় রয়েছে এক হাজারেরও বেশি, কিন্তু সরকারি সাহায্য পায় মাত্র ৯৭টি টোল। সেগুলোতেও ছাত্র সংখ্যা হাতে গোনা, কারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সংস্কৃত পড়ার আগ্রহ খুবই কম। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মাদরাসা শিক্ষার উচ্চ মানের কারণে অমুসলিম ছাত্রছাত্রীরা বড় সংখ্যায় মাদরাসায় পড়তে আসছে।

খাদ্যাভাবে আফ্রিকার সাড়ে ৪ কোটি মানুষ

দক্ষিণ আফ্রিকা উন্নয়ন গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ১৬টি দেশের সাড়ে চার কোটি মানুষকে খাদ্যাভাবে বেঁচে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে। টানা খরা, বিস্তৃত বন্যা ও অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে তাদেরকে এ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল কয়েক বছর ধরেই খরার কবলে পড়েছে। এছাড়া গত বছর এই অঞ্চলের দেশ মোজাম্বিক, জিম্বাবুয়ে ও মালাউইর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঘূর্ণিঝড় ইদাইর মতো বিপর্যয়। দক্ষিণ আফ্রিকার রুটির ঝুড়ি হিসাবে খ্যাত জিম্বাবুয়ে গত এক দশক ধরে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে যাচ্ছে। দেশটিকে এখন চরম মুদ্রাস্ফীতি এবং খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও বিদ্যুৎসংকটের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা বলেছে, ‘এক দশকের মধ্যে জিম্বাবুয়ে সবচেয়ে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছে, যেখানে অর্ধেক অর্থাৎ ৭৭ লাখ মানুষ ভয়াবহ খাদ্য অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে’। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা শুস্ক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, মাদাগাস্কার, নামিবিয়া, লেসোথো, ইসওয়াতিনি ও মালাউইর ক্ষুধা সংকটে থাকা ৮৩ লাখ লোককে সহযোগিতার পরিকল্পনা করছে। এর জন্য ৪৮ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হলেও নিশ্চিত হয়েছে মাত্র ২০ কোটি ৫০ লাখ।