দিল্লি সহিংসতা : মুসলিম নিধনের মোচ্ছব

গত ২৩ ফেব্রুয়ারী থেকে টানা পাঁচ দিন ধরে দিল্লিতে চলা হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডবে নিহতের সংখ্যা ৫০ জন ছাড়িয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পোড়া ও ধ্বংসস্তুপের ভেতরে আরও লাশের অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাসপাতালে কাতরাচ্ছে অনেকে। পুলিশের ভয়ে হাসপাতালে যেতে না পেরে গোপনে চিকিৎসা করাচ্ছেন অনেকে। বিভীষিকাময় দিল্লি যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। যোগীর রাজ্য থেকে এসেছিল সন্ত্রাসী ও সহিংসতার অস্ত্র,  ট্রাকে আনা হয় পাথর। গুলির সাথে এসিড হামলাও হয়েছে। মুসলিমদের রক্ষায় পুলিশ-প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা বিশ্বকে হতবাক করেছে। বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ঘিরে বিক্ষোভ নিয়ে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিমবিদ্বেষী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন বিজেপি নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথসহ বহু নেতা ঘৃণাবাদী বক্তব্য দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সহিংসতায় উসকানি ছড়ান দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। এরপরই দিল্লির পূর্ব অংশে শুরু হয় নযিরবিহীন সহিংসতা। কয়েক দিনের সহিংসতায় হাসপাতালেই নিহত হয়েছে ৩০ জন। কোথায় কতজনের লাশ পড়ে আছে কেউ জানে না। সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা দেশীয় পিস্তল, তলোয়ার, হাতুড়ি, লাঠি ও বড় বড় পাথর নিয়ে হামলা চালায়। উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগর ও শামলির মতো এলাকা থেকে দিল্লিতে এসে হামলায় অংশ নিয়েছে অনেকে।

 

তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক চুক্তি

যুদ্ধাবসান ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল আলোচিত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুুযায়ী, আগামী ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান ছাড়তে হবে মার্কিন ও ন্যাটো সেনাদের। এখন সেখানে প্রায় ১২ হাজার বিদেশী সৈন্য রয়েছে। চুক্তি মতে, এখন থেকে আফগানিস্তানে আর কোনো হামলা চালাবে না তালেবান। এছাড়া তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আল-কায়েদার কোনো তৎপরতা চালাতে দেবে না। স্বাক্ষরিত চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব উভয়পক্ষেই সমান। উভয়পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা ও সমঝোতার পর কাতারের রাজধানী দোহায় এই ঐতিহাসিক চুক্তি সই হয়। তালেবানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মোল্লা আব্দুল গনী বরদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আফগানবিষয়ক বিশেষ দূত জালমী খলীলজাদ। চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তালেবান প্রতিনিধি দল ছাড়াও সেখানে হাযির ছিলেন পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, উজবেকিস্তান ও তাজাকিস্তানের প্রতিনিধিবর্গ। দু’বছর ব্যাপী এই আলোচনা নানা টানাপোড়েন এবং কখনো কখনো অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেও কেউ ছেড়ে যায়নি। আলোচনা সচল থাকে শেষ পর্যন্ত এবং তারই সুফল হিসাবে স্বাক্ষরিত হলো চুক্তি।