করোনায় তেলের দাম ১৮ বছরে সর্বনিম্ন

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে সারাবিশ্বেই কমে গেছে তেলের চাহিদা। এর প্রভাব পড়েছে দামের ক্ষেত্রেও। ইতোমধ্যেই গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সাম্প্রতিক তেলের দাম দাঁড়ায় ২২ দশমিক ৫৮ মার্কিন ডলার প্রতি ব্যারেল। ২০০২ সালের নভেম্বরের পর থেকে এত বড় দরপতন আর দেখা যায়নি। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও নেমে এসেছিল ২০ ডলারের নিচে, যা ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। দাম কমেছে মার্স ইউএস, ওপেক বাসকেট, ইউরালসসহ সবধরনের অপরিশোধিত তেলেরই। গত একমাসে তেলের দাম কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমে যাওয়াকে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বেশিরভাগ দেশই যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ফলে সবখানেই জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে গেছে ব্যাপকভাবে। এছাড়াও মূল্যহ্রাসের পেছনে রয়েছে সঊদী আরব-রাশিয়ার মধ্যে চলমান মূল্যযুদ্ধের প্রভাবও। এ মাসের শুরুর দিকে তেলের উৎপাদন কমানোর বিষয়ে সঊদী নেতৃত্বাধীন ওপেকভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয় বিশ্বের অন্যতম তেল উৎপাদক রাশিয়ার। ফলশ্রুতিতে তাদের শিক্ষা দিতে তেলের দাম অনেক কমিয়ে দেয় সঊদী আরব। এতে বিশ্বব্যাপী চাহিদা ২০ শতাংশ কমে যেতে পারে। ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে, করোনাভাইরাস মহামারির ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।

করোনায় বিশ্বে ক্ষতি হবে ৯ লাখ কোটি ডলার :

 এডিবি

করোনা ভারাইসের কারণে মন্দায় পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। এ কথা এখন সর্বজনবিদিত। তবে করোনায় বিশ্ব অর্থনীতির কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে, এবার সেটার একটা পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তারা বলছে, করোনার কারণে সারাবিশ্বে ৫ লাখ ৮০ হাজার কোটি (৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার) থেকে ৮ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার (৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার) ক্ষতি হতে পারে। যা বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যাওয়ার সমান। ‘আপডেট অ্যাসেসমেন্ট অব দ্য পটেনশিয়াল ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয় এডিবি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে করোনায় ৩ মাসে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে। ৬ মাসে এ ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। যা মোট ক্ষতির প্রায় ৩০ শতাংশ। এই সময়ে শুধু চীনেরই ক্ষতি হতে পারে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। তাতে বলা হয়, সরকারপ্রধানরা যরূরী পদক্ষেপ নিলেও সারা বিশ্বে করোনায় ৩ মাসে ক্ষতি হবে ৪ হাজার ৯৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর ৬ মাসে এ ক্ষতির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৫ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে। আর এশিয়ায় ৩ মাসে ১ হাজার ৩২৮ বিলিয়ন এবং ৬ মাসে ১ হাজার ৮৫৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হতে পারে। সরকারপ্রধানরা যরূরী পদক্ষেপ না নিলে সারা বিশ্বে ৩ মাসে ৫ হাজার ৭৯৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার এবং ৬ মাসে ৮ হাজার ৭৮৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হবে। আর এশিয়ায় ৩ মাসে ১ হাজার ৬৬৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার এবং ৬ মাসে ২ হাজার ৫২৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হবে।