আমাদের রোল মডেল কে?
-জাবির হোসেন*


শনিবারের দিন, বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যাবেলায় শাকিলদের ঘরের আড্ডাটা জমে উঠেছে। কাল রবিবার, কলেজ বন্ধ। তাই, পড়াশোনার চাপ কম। এরকম আড্ডা হোস্টেল-মেসে নিত্যদিনই হয়। বিনোদন, খেলা, রাজনীতিসহ আরও অন্যান্য বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক অনেক সময় নিয়ন্ত্রণে আনা মুশকিল হয়ে পড়ে।

আজকের তর্ক সিনেমা নিয়ে। শাকিলদের এই ঘরে মোট চারজন থাকে। চারজনই জন্মগত মুসলিম। তর্কের বিষয়- ‘কে বড় অভিনেতা? শাহরুখ খান নাকি  সালমান খান?’ এই নিয়ে তারা দুটি দলে বিভক্ত হয়েছে। শাকিল ও সিরাজ এস.আর.কে ভক্ত; অপরদিকে হাবিব ও নবাব সাল্লু’র একনিষ্ঠ ফ্যান।

তর্কের এই ময়দানে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। শাহরুখ ভক্তবৃন্দের দাবি, ‘শাহরুখ খান হলো বলিউডের শ্রেষ্ঠ অভিনেতা। সে হলো বলিউডের বাদশা। কিং খান নামেও সে পরিচিত’।

কোন ফিল্ম বক্স অফিসে কত টাকা ইনকাম করেছে, IMDb-তে শাহরুখের ছবির রেটিং কত, সে ক’টি ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে, তার ক’টি ছবি অস্কারের জন্য নোমিনেটেড হয়েছিল- এই সব পরিসংখ্যান তুলে ধরছে।

অপরপক্ষের ভক্তবৃন্দও কিন্তু কোনো অংশে কম যায় না। তারা সালমানের বক্স অফিস হিট করা ছবি তুলে ধরে প্রতিপক্ষকে মাথানত করাতে সিদ্ধহস্ত।

এমন সময় আমি ও আহমাদ ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলাম। আহমাদ সকলকে উদ্দেশ্য করে সালাম দিল, ‘আস-সালামু আলাইকুম!’
তাদের মধ্যে গুনগুন করে কেউ উত্তর দিল, আবার কেউবা দিল না।

আমাকে দেখে দলে টানার জন্য সিরাজ বলল, ‘ভাই বলতো, বলিউডের কোন অভিনেতা শাহরুখ খানের সঙ্গে টেক্কা দিতে পারবে? ওরা আবার সালমান খানের গল্প শোনাচ্ছে। শাহরুখের ধারেকাছে কি ঘেঁষতে পারবে সালমান?’

শাকিল বলে উঠল, ‘তোরা ওই মাসেল নিয়েই পড়ে থাক। অভিনয় করতে ট্যালেন্ট লাগে রে- ট্যালেন্ট। শাহরুখ খানের তা আছে। নামি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি হাছিল করেছে। নিজে জিরো ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে এসেছে। বংশ পরম্পরায় বাপের নাম ভাঙিয়ে নয়’।
অপরদিকে সাল্লু ভক্ত নবাব বলে উঠল, ‘তবে রে!  সালমানের বডির ধারে কাছে যেতে পারবে না শাহরুখ। সালমানের মাসেল দেখেছিস। মাসেলের কথা এলে সর্বাগ্রে নাম আসবে সাল্লু ভাইয়ের’।

আমি কিছু বলতে যাবো- এমন সময়, আহমাদ আমাকে থামিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে শুরু করল, ‘তোরা শাহরুখ আর সালমানকে নিয়ে মেতে আছিস। ‘কে বড় অভিনেতা’ তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে তর্ক করছিস। তোরা তাদের অন্ধ ভক্ত। এমন ভক্ত যে, তোদের কাউকেই তারা চিনে না। সারাদিন তর্ক-বিতর্ক করে নিজেদের মডেলকে যতই জেতাতে চাস না কেন, সেটা তোদের তুষে পাহাড় দেওয়া বৈ কিছুই হবে না।

একটু সময় বের করে যদি নিজেদের দ্বীন-ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করতিস, পরকাল নিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা-ভাবনা করতিস, তাহলে অনেক লাভবান হতে পারতিস। কম সে কম জাহান্নামের আগুন থেকে তো বাঁচতে পারতিস’।

আহমাদের কথা শুনে নবাব বলে উঠল, ‘ওই দেখ, মোল্লা সাহেব ধর্মের কাহিনী শোনাতে এসেছে। -তা বাবা! নিজেদের দ্বীন-ধর্ম নিয়ে কী ভাববো শুনি? দ্বীন-ধর্ম কি আমায় খেতে দেবে?’

আহমাদ বলল, ‘কী ভাববি তাই তো? তবে, তোদের প্রথমে একটা কথা জিজ্ঞেস করি, তোরা সবাই মুসলিম তো?’

শাকিল, হাবিব, সিরাজ ও নবাব সমস্বরে বলে উঠল, ‘আরে বলিস কী? আমরা মুসলিম না হলে আব্বা এমনি এমনি আমাদের মুসলমানী দিয়েছে। এতে আবার তোর সন্দেহ আছে! অবশ্যই আমরা মুসলিম’।

আহমাদ বলল, ‘তবে, আরও একটা প্রশ্ন করি। তোরা কুরআনে বিশ্বাস করিস তো?’

‘অফ কোর্স! হোয়াই নট, আফটার অল কুরআন আমাদের ধর্মগ্রন্থ’ শাকিল বলল।

শাকিলের কথায় অপর তিনজনে মাথা হেলিয়ে সমর্থন দিল।

আহমাদ বলল, ‘তবে যে তোরা এস.আর.কে ভক্ত বা সালমান ভক্ত দাবি করছিস, তা কুরআনের দৃষ্টিতে কার ফ্যান হওয়া উচিত?’

নবাব বলল, ‘আমরা তো জাস্ট এন্টারটেইনমেন্টের জন্য এগুলো করি। এগুলোর সঙ্গে ধর্মের আবার কী সম্পর্ক!’

‘শুধুই কি এন্টারটেইনমেন্ট? নাকি অন্য কিছু’ আহমাদ বলল।

শাকিল বলল, ‘তবে?’

আহমাদ বলল, ‘মানুষ যে যাকে সত্যিকারার্থে ভালোবাসে, সে তার অনুসরণ-অনুকরণ করে থাকে, এটা তো জানিস।

এই দেখ, তুই শাহরুখের ভক্ত, তাই তোর চুলের স্টাইল তার মতো। আবার হাত ঘড়ি, চশমা সবকিছু তার আদলে করার চেষ্টা করছিস। আবার দেখ, যে মেসির ভক্ত, সে তার অনুকরণে ১০ নম্বর জার্সি পরে। আবার কিছু মহিলাদের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে, তারা সেসব পোশাক ক্রয় করছে, যেগুলো কোনো মডেল বা অভিনেত্রী পরিধান করে ফিল্ম অথবা সিরিয়ালে অভিনয় করেছে। এখন, মার্কেটে এই সব পোশাক দেদারসে বিক্রি হচ্ছে।

আচ্ছা! বলতো এটা কেন?’

নবাব বলল, ‘এটা আমাদের ও তাদেরকে ভালো লাগে তাই’। ‘এক্জ্যাক্টলি তাই! তবে, একজন মুসলিমের এই ভালোলাগাটা লাগামহীন নয়। এটা জানিস কি?’ আহমাদ বলল।

সিরাজ বলল, ‘তা কেমন?’

আহমাদ বলল, ‘একজন মুসলিমকে অবশ্যই আল্লাহর প্রতি, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ও কুরআনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। একেবারে দৃঢ় বিশ্বাস। যখন কেউ আল্লাহ, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও কুরআনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে, তখন তার কাছে রোল মডেল হিসাবে শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান, রোনাল্ডো, মেসি, শচীন, সৌরভ, বিদ্যাসাগর বা রবীন্দ্রনাথ, কার্ল মার্কস, লেলিন, এঞ্জেলো প্রমুখ কেউই উঠে আসবে না।

মুসলিমের রোল মডেল বা আদর্শ কে হবে, তা নির্বাচন করার অধিকার একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত অন্য কারুর নেই। সৃষ্টিকর্তা সঠিকভাবে অবগত কাকে অনুকরণ বা অনুসরণ করে চললে তার ব্যক্তি জীবন এবং সমাজ-সোসাইটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেই মানুষটি কে? দুনিয়ার কোনো দার্শনিক, রাজনীতিবিদ, সমাজবিদ, অভিনেতা, সাহিত্যিক বা অন্য কিছু?  রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, শাহরুখ খান, সালমান খান, মেসি, রোনাল্ডো? তবে কে?’

হাবিব বলল, ‘তবে কে? কে আমাদের রোল মডেল?’

আহমাদ বলল, ‘কুরআনে বিশ্বাসী বন্ধু আমার! একবার তো কুরআন পড়ে দেখ। কুরআন কী বলছে!

‘তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (আল-আহযাব, ৩৩/২১)। এই আয়াত থেকে পরিষ্কার যে, সৃষ্টিকর্তা আমাদের জন্য মডেল বা আদর্শ হিসাবে দাঁড় করিয়েছেন আমাদের শেষ নবী মুহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে।

এখন কেউ যখন কাউকে রোল মডেল হিসাবে গ্রহণ করে, তখন তার অন্ধানুকরণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই সেলিব্রেটির ছাপ নিজেদের পার্সোনাল লাইফে অঙ্কিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করতে কোনরূপ ত্রুটি করে না। তারা যে স্টাইলে চুল-দাড়ি কাটাবে, এরাও তার অন্ধ অনুসরণ করবে। তারা যে ফ্যাশনের পোশাক পরিধান করবে, সেই একই ফ্যাশন ক্রয় করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে। তাদের কথা-বার্তা, চাল-চলন, পোশাক-আশাক হুবহু তাদেরই মতো করার চেষ্টা করবে।

তবে তোরা বলতো, এটা কি আমাদের অর্থাৎ মুসলিমদের জন্য কখনো করা উচিত?’

আমি বললাম, ‘অবশ্যই না। এটা কুরআনের পরিপন্থী’।

আহমাদ বলল, ‘একদম ঠিক। আমরা মুসলিমরা এমন এক জাতি, যাদের একটি নিজস্ব আদর্শ আছে। নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্য আছে। তবে, কেন আমরা বিজাতিদের আদর্শ গ্রহণ করব?

আমরা কি নদীতে ভাসা খড়কুটোর মতো ভ্যালুলেস? আমরা কি আত্মবিশ্বাসহীন? আমরা কি হীনমন্য? না। আমরা নদীতে ভাসা খড়কুটোর মতো ভ্যালুলেস নই; আমরা আত্মবিশ্বাসহীন নই; আমরা হীনমন্য নই। আমরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পোশাক-আশাক, মন-মানসিকতা চেইঞ্জ করব- এইরকম জাতি নই।

আমরা সেই জাতি, যে জাতির ইতিহাসে ছত্রে ছত্রে লুকিয়ে আছে শিক্ষণীয় ঘটনা। আছে মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌভ্রাতৃত্ব, অন্যায়ের বিরুদ্ধাচরণ, সদাচরণ প্রভৃতির শিক্ষা’।

একটু থেমে আহমাদ পুনরায় বলতে শুরু করল, ‘আমাদের লিডার মাত্র ২৩ বছরের আন্দোলনে এক অন্ধকারে নিমজ্জিত অসভ্য, বর্বর জাতিকে পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠত্বের জায়গা করে দিয়েছিলেন; তারই উত্তরসূরীরা অল্প সময়ের ব্যবধানে অর্ধেক পৃথিবী জয় করে নিয়ে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আসনগুলো দখল করেছিল। এই লিডার সম্পর্কে বলতে গিয়ে ‘এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা’ বলতে বাধ্য হয়েছে, ‘Muhammad was the most successful of all religious personalities’. অর্থাৎ ‘মুহাম্মাদই হলেন সবচেয়ে সফলকাম ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব’।[1]

আমাদের সৃষ্টিকর্তা এই রোল মডেলকে ভালোবাসতে এবং তাঁরই অনুসরণ ও অনুকরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ ‘বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো। আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেবেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাশীল দয়ালু’ (আলে ইমরান, ৩/৩১ )

আমাদেরকে রসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইত্তিবা করতে হবে। ইত্তিবা-এর শাব্দিক অর্থ পদাঙ্ক অনুসরণ করা। মনে করো বৃষ্টিভেজা অন্ধকার রাতে কোনো কর্দমাক্ত জমির মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। সামনের জনের হাতে হারিকেন আছে। পিছনের সবাই তার অনুসরণ করছে। এখানে অনুসরণ মানে কী? ২য় জন ঠিক ওই জায়গায় পা ফেলছে, যেখানে প্রথমজন পা ফেলেছে। একটু এদিক-সেদিক হলে আশঙ্কা আছে পিছলে পড়ার। ভয় আছে কোনো বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের উপর পা পড়ে যাওয়ার। কিন্তু যে সামনে আছে, তার হাতে হারিকেন থাকায় সে সবকিছু দেখতে পাচ্ছে। আমরা অন্ধের মতো শুধু তার পা ফেলা জায়গায় পা ফেলছি। এর নাম পদাঙ্ক অনুসরণ। একে বলে ইত্তিবা। ঠিক এই কাজটিই আমাদেরকে করতে বলেছেন মহান আল্লাহ। যতক্ষণ না আমরা হুবহু রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অনুসরণ করব, ততক্ষণ ইত্তিবার অর্থ বাস্তবায়ন হবে না।[2]

কিন্তু আমরা এমন কাউকে ভালোবাসছি, যে নিজেই জানে না তাকে আমরা ভালোবাসি বা তাঁর ফ্যান। এ কেমন ভালোবাসা? এ কেমন ভক্ত?

অথচ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ভালোবাসলে আমরা দুনিয়াতেও উপকৃত হব; পাশাপাশি পরকালেও। হায় আফসোস! মুসলিম সমাজ যদি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করত, তাহলে পুরো সমাজ বদলে যেত। আজকে অমুসলিমরা আমাদের আদর্শ, আচার-ব্যবহার দেখে ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। একদিন যারা উন্নত চরিত্র, আদর্শ, ব্যবহার দেখে দলে দলে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে। কোথায় সেই ত্যাগ? কোথায় সেই শিক্ষা। বর্তমানে আমাদের মধ্যে নেই দয়া, মায়া, ক্ষমা, রাগ নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি মানবীয় গুণ। আছে শুধু হিংসা, বিদ্বেষ ও অহংকার আর আছে পরশ্রীকাতরতা ও প্রাচুর্যতা অর্জনের প্রতিযোগিতা।

আহমাদ সকলের দিকে তাকিয়ে পুনরায় বলতে শুরু করল, ‘ভাই সকল! নিজেদের হিরোকে জানার চেষ্টা করো, যদি সফল হতে চাও। তর্ক পরিহার করো, যদি পরকালে আফসোস না করতে চাও। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শে আদর্শিত হও, নইলে একদিন পস্তাতে হবে’।

‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যদি আমরা না মেনে চলি, তাহলে আমাদের কী শাস্তি হবে জানিস?’ আহমাদ বলল।

আমি বললাম, ‘তুই বল?’

আহমাদ বলতে লাগল, যদি আমরা আমাদের রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ভালোবাসতে না পারি, যদি আমরা আমাদের রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যথাযথ অনুসরণ না করি, তবে পরকালীন জীবনে আমাদের জন্য চরম যন্ত্রণাদায়ক ও অপমানজনক শাস্তি অপেক্ষা করছে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ‘আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করবে, অবশ্যই তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, তাতে তারা চিরকাল থাকবে’ (আল-জিন, ৭২/২৩)

‘আর সেদিন অপরাধী নিজের দু’হাত কামড়িয়ে বলবে, হায় আফসোস! যদি আমি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথ অনুসরণ করতাম। হায়! আমার দুর্ভোগ! আমার আফসোস! যদি আমি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম। অবশ্যই সে আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল আমার নিকট উপদেশবাণী কুরআন পৌঁছার পর; আর শয়তান হলো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক’ (আল-ফুরক্বান, ২৫/২৭-৩০)

লম্বা বক্তব্য পেশ করে আহমাদ থামল। আমরা সবাই একে অপরের দিকে তাকাচ্ছি। সবাই চুপ, পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে ঘরে। কেউ কিছু বলছে না। আমার মনে হলো, হয়তো বা সবাই আহমাদের কথাগুলো মনে মনে ভাবছে। সালাম জানিয়ে আহমাদ ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। আমিও পিছু পিছু বের হলাম।


[1]. আহমেদ দীদাত, মহাত্তম মানব হজরত মুহাম্মদ (সাঃ), (প্রকাশনী : কলকাতা, জানুয়ারি-২০১০), পৃ. ২৪।

[2]. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক, আমরা হাদীছ মানতে বাধ্য (নিবরাস প্রকাশনী, ডিসেম্বর-২০১৬), পৃ. ১১৮।