আল্লাহর দিকে দাওয়াত :
দলীয় মোড়কে নাকি পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে?
মূল : আলী ইবনে হাসান আল-হালাবী আল-আছারী*

অনুবাদ : আব্দুল আলীম ইবনে কাওছার মাদানী**
(পর্ব-২)

[শায়খ মুহাম্মাদ ইবরাহীম শাক্বরার অভিমতের শেষাংশ]


বিভিন্ন দাওয়াতী প্লাটফর্মের উদ্দেশ্যে নিবেদিত এসব অলা বা আন্তরিকতা ও সুসম্পর্ক যে কত মন্দ ও নেতিবাচক পরিণামের জন্ম দিয়েছে, তা গণনা করে আমি এখানে কলেবর লম্বা করতে চাইছি না। আমি এখানে শুধু ৪টি কুফলের কথা উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করছি—

(১) দলীয় কোন্দল দেখতে দেখতে সাধারণ জনগণের হৃদয়মাঝে সন্দেহ-সংশয়ের চোরাগলি তৈরি হয়। এই সন্দেহ-সংশয়ে ময়দান ভারী হয়ে যায়, লেখালেখির ছড়াছড়ি হয় আর চারিদিক হট্টগোল-গণ্ডগোল ও ঝগড়া-বিবাদে ভরে যায়। নির্দোষ হৃদয়গুলোকে হিংসা-বিদ্বেষ আন্দোলিত করে তোলে। নিরপরাধ মানুষগুলোকে হিংসা ও অহংকারের বিষাক্ত ছোবলের মুখে ঠেলে দেয়। এই সন্দেহ-সংশয় আমিত্ব ও স্বার্থপরতার ধ্বংসাত্মক অভিপ্রায়ের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেয়।

দলীয় কোন্দল গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে, এর আগুনে মান-সম্মান ভস্মীভূত হয় এবং এর বিদ্বেষের তীক্ষ্ন ধার বহু নিষ্কলুষ মানুষকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলে।

(২) দলীয় অন্ধভক্তির কারণে অন্যায়ভাবে দলের পক্ষ অবলম্বন করা হয় এবং দলের সাহায্যে কাজ করা হয়।

অনুরূপভাবে নির্দিষ্ট দাওয়াতী বলয়ের সাথেই কেবল সম্পর্ক রক্ষা করা হয়। অথবা শুধু ঐ ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা হয়, যে সেই দলের সাথে যুক্ত আছে। কারণ ভুলের উপর থাকলেও সে তো তার দলেরই লোক।

সব সমস্যা তো সেই ব্যক্তির জন্য, যে তার দলের নয়। কারণ কঠিন সময়েও সে তার কাছ থেকে কোনো সাহায্য পাবে না।

দাওয়াতী ময়দানের সব দল ও জামাআতের মধ্যেই এটা আমরা ঘটতে দেখেছি। কারণ প্রত্যেকটা দলের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন কর্মপদ্ধতি, অঙ্গীকারনামা ও বায়আত, যা প্রত্যেক সদস্যকে দলের স্বার্থে কাজ করতে বাধ্য করে। এরপর সেই জামাআতের বা দলের গণ্ডির বাইরের কারো উপর অজ্ঞতার ট্যাগ লাগাতে তার বুক মোটেও কাপে না। এমনকি সে যালেম হোক বা মাযলূম হোক, তাকে সাহায্যের কোনো পথও সে খুঁজে পায় না; অথচ এ ব্যাপারে তার নবী a-এর নির্দেশনা মেনে নেওয়ার কথা ছিলো।

(৩) এর মাধ্যমে ইসলামের শত্রুদের জন্য আক্বীদা ও আমল উভয় ক্ষেত্রে ইসলামের সমালোচনা করার পথ সহজ করে দেওয়া হয়। কারণ একই আক্বীদা বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারে না; বরং সঙ্গবদ্ধ করে। আর সেই আক্বীদা থেকে নিঃসৃত বিধিবিধানের উপর আমলের ক্ষেত্রেও কোনো দ্বিধা-বিভক্তি হওয়ার কথা নয়। তাহলে একই আক্বীদা ও মানহাজের অনুসারীরা কীভাবে পরস্পর বিভক্ত, শত্রু ও বিদ্বেষী হতে পারে! অথচ আমরা অন্যান্য আক্বীদা ও ধর্মের মানুষগুলোকে একতাবদ্ধ ও সঙ্গতিপূর্ণ পাই!

তাহলে এসব ইসলামী দল ও জামা‘আতকে উপস্থাপন করে ইসলামবিদ্বেষীরা কি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এ দলীল গ্রহণ করতে পারে না যে, ইসলামের আক্বীদা ও বিধিবিধান মানবতার ঐক্যের জন্য যথেষ্ট নয়?! তাছাড়া এই ব্যাপারটা কিন্তু অধিকাংশ মুসলিমকে প্রকৃত ইসলাম আঁকড়ে ধরা থেকেও দূরে রাখে। যে প্রকৃত ইসলাম আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে স্বয়ং নবী a আমাদেরকে বলে গেছেন,تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ ‘আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি। যে দু’টি আঁকড়ে ধরে থাকলে তোমরা কস্মিনকালেও পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও তার নবীর সুন্নাত’।[1] মানুষের প্রকৃত ইসলাম থেকে দূরে থাকার আরেকটি কারণ হচ্ছে— প্রত্যেকটি জামাআত বা দল দাবি করছে যে, সে একাই কেবল হকের উপর রয়েছে। কেননা সে-ই কিতাব ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে আছে। আসলে তাদের সকলের বেলায় কবির এ কথাটাই খাটে— :

وَكُلُّ يَدَّعِي وَصْلاً بِلَيْلَى                وَلَيْلَى لَا تُقِرُّ لَهُمْ بِذَاكَا

[গদ্যানুবাদ] ‘প্রত্যেকেই লায়লার সাথে সম্পর্কের দাবি করছে; কিন্তু লায়লা তাদের কারো সম্পর্কেরই স্বীকৃতি দিচ্ছে না’।

একটি মানহাজের উপর, একটি কিবলার উপর, একটি হেদায়াতের উপর এবং একটি মতের উপর এই উম্মত একটিমাত্র উম্মত হিসেবে থাকবে— এটাই মহান আল্লাহর ঐকান্তিক চাওয়া। যাতে করে এই উম্মত আল্লাহনির্ধারিত হক্বের পথে সকল উম্মতের জন্য দুনিয়াতে মডেল হতে পারে এবং কিয়ামতের দিন হতে পারে সকল উম্মতের ব্যাপারে সাক্ষী। কারণ এই উম্মতকে এমন সব বৈশিষ্ট্য আল্লাহ দান করেছেন, যা আর কাউকে তিনি দান করেননি।

সেকারণে যা কিছু এই উম্মতকে বিভক্তিতে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের পরস্পরের দূরত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং মহান আল্লাহর এ অমীয় বাণীর মর্মার্থ থেকে বিরত রাখছে— ﴿إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ﴾ ‘মুমিনরা তো কেবল পরস্পর ভাই ভাই’,[2] তার সবটাই কিন্তু দ্বীনী কাজের নামে, দাওয়াতী কর্মসূচির নামে, ইসলামী চিন্তা-চেতনার নামে, বরং ইসলামী ভ্রাতৃত্বের নামে আমদানি হচ্ছে। মানুষের প্রাত্যহিক ও স্বাভাবিক ব্যাপারেই যে শুধু বিভক্তির উপকরণগুলো আমদানি করা হচ্ছে তা কিন্তু নয়; বরং পরকাল সংশ্লিষ্ট বিষয়েও সেগুলো আমদানি হচ্ছে।… আফগানিস্তান ও ফিলিস্তীনের ব্যাপারগুলো কিন্তু আমাদের থেকে খুব বেশি দূরে নয়।

দাওয়াতী ময়দানের কর্মীরা কখন অনুধাবন করতে শিখবেন যে, তারা গোনাহগার হচ্ছেন এবং দলীয় চাদর থেকে নিজেদেরকে মুক্ত না করা পর্যন্ত সেই গোনাহ থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই?!

(৪) এর মাধ্যমে কিছু মানুষ সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে। দাওয়াতী ময়দানের দাঈ ও কর্মীদের যবান তাদেরকে এমনভাবে আক্রমণ করছে যে, মাটিতে মাথা না রাখা পর্যন্ত সেই আক্রমণ তাদের প্রতি রহমও করছে না, তাদেরকে নিষ্কৃতিও দিচ্ছে না।

তারাই সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে, যারা ঐসব জামাআতসমূহের কোনো জামাআতে কাজ করা থেকে বিরত থাকছে। আর তাদের বিরত থাকার কারণ হচ্ছে, তারা সেই জামাআতের ভুলগুলো সংশোধন করতে পারছে না। ফলে তারা এই জামাআতের অধীনে থাকতেও পারছে না। বিশেষ করে ঐসব যবানের খুব চমৎকার ও লোভনীয় শিকারে পরিণত হচ্ছে তারা, যারা দাওয়াতী নতুন নতুন পরিভাষা অনুযায়ী নেতা বা প্রধান হিসেবে বিবেচিত।

আমরা অনেক মানুষকে দেখেছি, যাদের চরিত্র বা দ্বীনের ব্যাপারে কোনো ধরনের কালিমা লেপনের সুযোগ নেই, তারাও দলীয় গণ্ডি ছেড়ে দেওয়ার কারণে বলির পাঠা হচ্ছে। অথচ এই লোকগুলোই দলে থাকাকালীন সাদা মেঘের চেয়েও পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ছিলে। আর দল ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথেই তারা হয়ে গেছে নিকৃষ্ট।

এটাই কিন্তু আমাদের সামনে তৃষ্ণার্ত দলগুলোর গোঁমর ফাঁস করে দেয়; হিংসা-বিদ্বেষ ছাড়া অন্য কিছু সেগুলোর তৃষ্ণা মেটাতে পারে না। অথচ এগুলো এমন চরিত্র, যা ব্যক্তিকে ধ্বংস ও মন্দ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।

উল্লিখিত ৪টি কুফল হচ্ছে মূল, যেগুলো থেকে আরো বহু মন্দ শাখা-প্রশাখা বের হতে পারে। মুসলিম যুবকরা বিশেষ করে তাদের মধ্যে যারা সৎ, যারা নিজেদেরকে ইসলামের সৈনিক মনে করে, তারা যদি এই কুফলগুলো বুঝত, তাহলে শুরুতেই থেমে যেত। ৭৩ দলের একজন হওয়া থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখত, যে ব্যাপারে রাসূল a আমাদেরকে সতর্ক করেছেন। কারণ মুসলিম উম্মাহ একটিই উম্মত এবং তাদের চলার পথও একটিই।

এখন কোনো দলের অধীনে সঙ্গবদ্ধ হওয়া যেন ইসলামের নিদর্শন ও নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার মাধ্যমে মুসলিমরা তাদের রবের সান্নিধ্য পেতে পারে। প্রতিদিনই দল আকারে বা সংগঠন আকারে বা ফাউন্ডেশন আকারে বা ক্লাব আকারে আমাদের নিকট নতুন নতুন দল বের হচ্ছে। প্রত্যেকটি দলই শুরুতে হাতে রেশমি মোজা পরে ও মুখে মিষ্টি বুলি নিয়ে কার্যক্রম শুরু করছে; কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই অন্যদের উপর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ছাড়া আর কিছুই দেখছে না। মনে করছে, তাদের হাতে ছাড়া আল্লাহ কল্যাণ দিবেন না। তাদের দায়িত্বশীলরাই সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার উপযুক্ত। অবশেষে সকল দলের সাথে এ বাণীই মিলে যাচ্ছে— ﴿كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ﴾ ‘প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে, তা নিয়েই আনন্দিত’।[3] (দুঃখের বিষয় হচ্ছে) এগুলো কমার পরিবর্তে বাড়ছে এবং মানুষকে দিকভ্রান্ত করে ছাড়ছে।

কোনো বিবেকবান মুসলিম কখনই মনে করতে পারে না যে, জামাআত, সংগঠন ও ফাউন্ডেশন বাড়লে মুসলিমদের ঐক্য হয়। কত যে ঐক্য হয় তার পক্ষে দলীল তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি।

যে ব্যক্তি ইসলামের ইতিহাস পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করবে, সে নিশ্চিতভাবে জানবে যে, প্রসিদ্ধ ফিরক্বাগুলো একটাও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং সবগুলোই পথভ্রষ্ট ফিরক্বা। আর রাষ্ট্রনেতা ও খলীফার অনুপস্থিতে কোনো সুস্থ ফেত্বরাত এসব ফিরক্বার দিকে ধাবিত হতে পারে না। যে ব্যক্তি শাসকের অনুপস্থিতিকে দল গঠনের কারণ মনে করে, তার জন্য এখানে আসলে কোনো কৈফিয়তই নেই। দল গঠন তো দূরের কথা, একথা ভাবারই সুযোগ নেই।

খুব স্বাভাবিক কথা হচ্ছে, এসব দল তাদের কর্মতৎপরতায় হয় দেশের আইন-কানুন মেনে চলে, না হয় চলে না। অবস্থা যদি দ্বিতীয়টা হয়, তাহলে সে লম্বা সময় তার গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারবে না। বরং তার ভেতরের বিষয় রাষ্ট্রের কাছে প্রকাশ করে দেবে। ফলে তার মাঝে ও রাষ্ট্রের মাঝে দ্বন্দ্ব তৈরি হবে। আর যদি সে তার গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারে, তাহলে সে বাতেনীদের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। আর তা তো বিরাট মুছীবত এবং শিরকের গোনাহে ভারী।

আল্লাহর কসম! দাওয়াতীকাজে আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, দলাদলি থেকে মুক্ত হয়ে সহজ ও স্বাভাবিকভাবে দাওয়াতীকাজের ফল অনেক ভালো এবং এপথের অনুসারীরাই প্রকৃত নির্মাতা ও সংগঠক। আল্লাহর ইচ্ছায় এপথই তার অনুসারীকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে। অতি উৎসাহীরা তাদের দলীয় কার্যক্রম বৈধ প্রমাণের ইচ্ছায় কুরআন-হাদীছের ‘আম কিছু বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে থাকে, যা কখনই হক্বের পথে পরিচালিত করতে পারে না। তাছাড়া এতে ব্যাপক কৃত্রিমতা তো রয়েছেই, যা আমরা কেবল দর্শনশাস্ত্রেই দেখে থাকি।

আসলে আমি আমার কথা এমন লম্বা করে ফেলেছি যে, এই মূল্যবান পুস্তিকাটির চমৎকার দিকগুলো এখনও বলতেই পারিনি। আমার কথা যতটুকু বলেছি, তা আপাতত যথেষ্ট মনে করছি। বইটির ১৪টি অনুচ্ছেদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার পর সম্মানিত পাঠকের কাছেই ভালো বা মন্দ মন্তব্য করার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চাই। বইটির ব্যাপারে আমার অনুভূতি হচ্ছে, বইটি পড়ে আমার খুব ভালো লেগেছে। আমার মনে হয়, যে কেউ বইটি ইনছাফ ও খালি ব্রেইনে বইটি পড়লে এর ব্যাপারে আমার মতো মন্তব্য না করে তার উপায় থাকবে না।

মহান আল্লাহ আমাদের স্নেহধন্য আলীকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। তিনি চমৎকার কাজ করেছেন। আল্লাহ তাকে ও তার কলমে বরকত দান করুন। আল্লাহ তাকে তার পক্ষ থেকে বিশেষ সাহায্য দান করুন। তাকে আরো বেশি উপকারী ইলমের খিদমত করার তাওফীক্ব দান করুন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, আহ্বানে সাড়া দানকারী।

মহান আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তার পরিবার-পরিজন, ছাহাবীগণ, তাবেঈগণ এবং সৎভাবে তাদের অনুসারীগণের উপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।

জুমআ ১১ রামাযান ১৪১০ হিজরী

(চলবে)


* বইটির লেখক আলী ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আব্দুল হামীদ আল-হালাবী আল-আছারী (জন্ম : ১৩৮০ হিজরী) একজন ফিলিস্তীনী সালাফী আলেম। তিনি আল্লামা মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানীর অত্যন্ত ঘনিষ্ট ও প্রিয় ছাত্র ছিলেন। শায়খ আলবানী, শায়খ ইবনে বায, শায়খ বাকর আবূ যায়েদ, শায়খ মুক্ববিল ইবনে হাদী, শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ প্রমুখ জগদ্বিখ্যাত উলামায়ে কেরাম শায়খ আলী আল-হালাবীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি একাধারে প্রসিদ্ধ আলোচক এবং বহু গ্রন্থপ্রণেতা।

** বি. এ. (অনার্স), উচ্চতর ডিপ্লোমা, এম. এ. এবং এম.ফিল., মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব; অধ্যক্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

[1]. মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/১৮৭৪।

[2]. আল-হুজুরাত, ৪৯/১০।

[3]. আল-মুমিনূন, ২৩/৫৩।