আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞান : মর্যাদা, ফযীলত ও ফলাফল
-অনুবাদ  :শায়খ মাহবূবুর রহমান মাদানী


 

[১১ যুলক্বাদাহ, ১৪৪৩ হি. মোতাবেক ১০ জুন, ২০২২। মদীনা মুনাওয়ারার আলমাসজিদুল হারামে (মসজিদে নববী) জুমআর খুৎবা প্রদান করেন শায়খ আব্দুল মুহসিন ইবনু মুহাম্মাদ আলক্বাসেম t উক্ত খুৎবা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, রাজশাহীর সম্মানিত সিনিয়র শিক্ষক শায়খ মাহবূবুর রহমান মাদানী। খুৎবাটি ‘মাসিক আল-ইতিছাম’-এর সুধী পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো।]

প্রথম খুৎবা

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্যই। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য ও ক্ষমা চাই। আর তাঁর কাছে আমাদের আত্মার অনিষ্ট হতে এবং খারাপ আমল থেকে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দেন, কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, কেউ তাকে হেদায়াত দান করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, মুহাম্মাদ a তাঁর বান্দা ও রাসূল। দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও ছাহাবীদর উপর।

অতঃপর, হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথ ভয় করো। আর একান্ত সংলাপ ও গোপন বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো।

হে মুসলিম সম্প্রদায়! আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানের মহান মর্যাদা রয়েছে। ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর হলো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও দ্বীন সর্ম্পকে ইয়াক্বীন তৈরি হওয়া; যা অর্জিত হয় মর্মমূলে গভীর ইলমের মাধ্যমে, যাকে কোনো সন্দেহ-সংশয় দুর্বল করতে পারে না এবং কোনো ফিতনা তাতে কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না।

ঈমানে ইয়াক্বীনের স্থান হলো দেহে প্রাণের ন্যায়। ইবনু মাসঊদ c বলেন, সম্পূর্ণ ঈমানই হচেছ ইয়াক্বীন। আর প্রথম ইয়াক্বীন হলো প্রভু সম্পর্কে নিশ্চিত বিশ্বাস। যেমন আল্লাহর সকল রাসূল তাঁদের স্ব স্ব জাতিকে বলেছিলেন,﴿أَفِي اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ﴾ ‘আল্লাহ সম্পর্কে কি কোনো সন্দেহ আছে, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা?’ (ইবরাহীম, ১৪/১০)। অর্থাৎ তোমরা জানো ও স্বীকার করে থাকো যে, আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্বে কোনো সন্দেহ নেই।

মর্যাদার দিক দিয়ে সবচেয়ে উন্নত মানুষ হলো, দৃঢ় বিশ্বাস পোষণকারীগণ। মহান আল্লাহ যখন তাঁর বন্ধু ইবরাহীম e-এর শক্তিশালী ঈমান থাকা সত্ত্বেও তাঁর ঈমান আরো বাড়িয়ে দিতে চাইলেন, তখন তিনি তাঁকে আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব দেখান, যাতে তিনি সেই সর্বোচ্চ মর্যাদায় পৌঁছতে পারেন। মহান আল্লাহ বলেন,﴿وَكَذَلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلِيَكُونَ مِنَ الْمُوقِنِينَ﴾ ‘এভাবে আমি ইবরাহীমকে আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব দেখিয়েছি যাতে তিনি নিশ্চিত বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন’ (আল-আনআম, ৬/৭৫)। ইবনু কাসীর p বলেন, ‘অর্থাৎ এসব সৃষ্টিতে তাঁর দৃষ্টিদানের মাধ্যমে তাঁর কাছে এই প্রমাণ স্পষ্ট করে দিয়েছি যে, রাজত্ব ও সৃষ্টির ক্ষেত্রে তিনি একক এবং তিনি ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ ও প্রতিপালক নেই’।

দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে ইবাদত করা বান্দার মর্যাদা উঁচু করে দেয়, যদিও ইবাদত কম হয়। বকর ইবনু আব্দুল্লাহ আল-মুযানী p বলেন, ‘আবূ বকর c তাঁর সাথীদর থেকে অগ্রগামী হয়েছেন বেশি ছালাত ও ছিয়ামের দ্বারা নয় বরং অগ্রগামী হয়েছিলেন এক গুরুগম্ভীর  জিনিসের মাধ্যমে; যা তাঁর অন্তরে সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল হয়েছিল’।

পৃথিবীর মাঝে দৃঢ় বিশ্বাসীদেরকে মহান আল্লাহ হেদায়াত ও সফলতার দ্বারা নির্দিষ্ট করেছেন। তিনি বলেন,﴿وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ – أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ﴾ ‘আর তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তাতে তারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং পরকালের প্রতিও তারা নিশ্চিত বিশ্বাসী। তারাই তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম’ (আল-বাক্বারা, ২/৪-৫)। তারা আল্লাহর নিদর্শনাবলি ও প্রমাণাদীর মাঝে চিন্তা ও দৃষ্টি দিয়ে উপকৃত হন। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿وَفِي الْأَرْضِ آيَاتٌ لِلْمُوقِنِينَ﴾ ‘নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য পৃথিবীতে আছে নিদর্শন’ (আয-যারিয়াত, ৫১/২০)। ইবনুল ক্বাইয়িম p বলেন, ঈমান হলো ইসলামের হৃদয় ও সারাংশ। আর ইয়াক্বীন বা দৃঢ় বিশ্বাস হলো ঈমানের হৃদয় ও তার সারাংশ।

আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সৃষ্টি করেছেন তাঁকে চেনা ও তাঁকে স্বীকারোক্তির ‍উপর। তাঁর প্রতিপালনই তাঁর উপাস্য হওয়াকে আবশ্যিক করে দেয়। প্রত্যেক সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর তাওহীদকে চেনার ও তাঁর অস্তিত্বকে স্বীকার করা ও তাঁকে মা‘বূদ বলে মেনে নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করে। মহান আল্লাহ বলেন,﴿فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ﴾ ‘কাজেই দ্বীনের প্রতি তোমার মুখমণ্ডল নিবদ্ধ করো একনিষ্ঠভাবে। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যার ‍উপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহর সৃষ্টি কার্যে কোনো পরিবর্তন নেই, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না’ (আর-রূম, ৩০/৩০)

তাঁর একত্বের উপর প্রমাণ করে এমন সব নিদর্শনের প্রতি দৃষ্টিপাত করার জন্য তিনি উৎসাহ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿قُلِ انْظُرُوا مَاذَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ﴾ ‘বলো, তোমরা দেখো, কী কী রয়েছে, আসমানসমূহ ও যমীনে’ (ইউনুস, ১০/১০১)

আল্লাহ তাআলাকে চেনার পথসমূহ : আল্লাহকে চেনা, তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ এবং তিনি ইবাদত পাওয়ার হক্বদার হওয়া প্রভৃতি জানার অসংখ্য পথ রয়েছে। প্রত্যেক বস্তুর মধ্যে তাঁর নিদর্শন রয়েছে। পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, প্রতিটি বস্তু তার অস্তিত্ব ও একত্বের উপর প্রমাণ বহন করে। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ﴾ ‘তিনি নিদর্শনাবলীকে বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তোমাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে সুনিশ্চিত হতে পার’ (আর-রা‘দ, ১৩/০২)। তাঁর অস্তিত্বের ওপর সবচেয়ে বড় দলীল হলো, তাঁর সৃষ্টিজীব। পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে তার একমাত্র সৃষ্টিকর্তা হলেন তিনি। কারণ মানব জ্ঞান ও প্রকৃতিতে এটি স্থিরিকৃত বিষয় যে, কোনো সৃষ্টিজীব নিজে নিজেকে সৃষ্টি করতে পারে না এবং এখানে স্রষ্টা ছাড়া কোনো সৃষ্টি নেই। আল্লাহ বলেন,﴿أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ – أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بَل لَا يُوقِنُونَ﴾ ‘তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, না-কি তারা নিজেরাই সৃষ্টিকর্তা? না-কি তারা আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছে? আসলে তারা নিশ্চিত বিশ্বাসী নয়’ (আত-তূর, ৫২/৩৫-৩৬)

চতুষ্পদ প্রাণীগুলো দুর্লভ ও বিস্ময়কর প্রকার ও প্রজাতীর হয়ে থাকে, এসবের গোশত খেয়ে মানুষ পরিতৃপ্ত হয়, এদের পিঠে আরোহন করে এবং এর মাধ্যমে মানুষ অভাবমুক্ত হয়। আল্লাহ বলেন,﴿اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَنْعَامَ لِتَرْكَبُوا مِنْهَا وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ﴾ ‘আল্লাহ যিনি তোমাদের জন্য গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কতকের ওপর আরোহন করতে পার, আর কতকগুলো থেকে আহার করতে পার’ (আল-মুমিন, ৪০/৭৯)। এগুলো দৃষ্টিপাতকারীকে আনন্দিত ও প্রফুল্ল করে। আল্লাহ বলেন,﴿وَلَكُمْ فِيهَا جَمَالٌ حِينَ تُرِيحُونَ وَحِينَ تَسْرَحُونَ﴾ ‘আর এসবে রয়েছে তোমাদের জন্য সৌন্দর্য; যখন তোমরা সন্ধ্যাবেলা সেগুলোকে বাড়ির পানে নিয়ে আসো আর সকালবেলা চারণভূমিতে নিয়ে যাও’ (আন-নাহল, ১৬/৬)

সমুদ্রের মধ্যে অনেক বিস্ময়কর জিনিস রয়েছে। এটি বিভিন্ন জীবনোপকরণ, ধন-ভাণ্ডার, মণি ও মতি-মুক্তায় ভরপুর। সমুদ্রের উপর দিয়ে বিভিন্ন প্রকার প্রয়োজনীয় পণ্য বোঝাই নৌযান চলাচল করে। সবদিক থেকে ঢেউ তাকে আঘাত করে। মনে হয় উহা সুউচ্চ পহাড়ের ন্যায়। উহা দেখে দর্শক আল্লাহর একত্বের ঘোষণা করে। আল্লাহ বলেন,﴿وَتَرَى الْفُلْكَ فِيهِ مَوَاخِرَ لِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾ ‘তোমরা দেখতে পাও নৌযানগুলো ঢেউয়ের বুক চিরে চলাচল করে যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ খোঁজ করতে পার, আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর’ (আল-ফাত্বির, ৩৫/১২)

আল্লাহ সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো তাঁর শারীআত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা, যা তিনি যথাযথ বিধি-বিদ্ধ করেছেন, নাবীদের জীবন-চরিত আল্লাহর অস্তিত্বের বিষয়ে ইয়াক্বীন বৃদ্ধি করবে।

আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসে অটল থাকার উপায়সমূহ : আল্লাহর আনুগত্যে লেগে থাকা, ইবাদত বেশি বেশি করা, নেক ব্যক্তিদের সাহচর্য লাভ করা, পাপকাজ বর্জন করা, গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা, উপকারী জ্ঞান শিক্ষা করা, আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণাবলিতে চিন্তা-ভাবনা করা এবং নিজের ও সৃষ্টিজগতের মাঝে উহার প্রভাব লক্ষ করা। আর এসব কিছুর সমষ্টি হলো, অধিকহারে কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করা ও তদনুযায়ী আমল করা এবং সর্বদা মহান আল্লাহর দিকে মুখাপেক্ষী হওয়া। যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্বে দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে যাবে। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, রাসূল a তাকে বলেন, اذْهَبْ بِنَعْلَيَّ هَاتَيْنِ، فَمَنْ لَقِيتَ مِنْ وَرَاءِ هَذَا الْحَائِطَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مُسْتَيْقِنًا بِهَا قَلْبُهُ، فَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ ‘আমার এ পাদুকা জোড়া নিয়ে যাও এবং বাগানের বাইরে যার সাথেই তোমার সাক্ষাৎ হবে, যে আন্তরিকভাবে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো মা‘বূদ নেই, তাকে তুমি  জান্নাতের সুসংবাদ দিবে’।[1]

হে মুসলিম জাতি! রব সত্য, এ ব্যাপরে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর নাম হক্ব বা সত্য, আর হক্ব হলো তাঁর গুণ। প্রামাণিকতার দিকদিয়ে তাঁর অস্তিত্বই সবচেয়ে বড় বাস্তব সত্য বিষয়। আল্লাহ বলেন,﴿ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ﴾  ‘এটি এজন্য যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিই সত্য আর তাঁকে বাদ দিয়ে তারা অন্য যাকে ডাকে তা বাতিল আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সুউচ্চ, বড়’ (আল-হজ্জ, ২২/৬২)

মূল ঈমানসহ ইয়াক্বীন হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর অন্যতম একটি শর্ত। সন্দেহ-দ্বিধার সাথে ঈমান থাকে না। ইয়াক্বীনের ক্ষেত্রে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ের হয়ে থাকে। ইয়াক্বীন বৃদ্ধি ও সুদৃঢ়করণের প্রয়োজনীয়তায় সবসময় জোর দেওয়া হয়েছে। যখন মুমিন ব্যক্তি ইয়াক্বীনে দুর্বলতা অনুভব করবে, তখনই সে শঙ্কিত হয়ে দ্রুত ধাবিত হবে সেসব জিনিসের দিকে; যা তার ইয়াক্বীনকে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করবে। এভাবে সে ঈমানের সর্বোচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে যায়। এরপর খত্বীব সাহেব নিন্মোক্ত আয়াত তেলাওয়াত করে খুৎবা শেষ করেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন,﴿إِنَّ هَذَا لَهُوَ حَقُّ الْيَقِينِ- فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ﴾ ‘নিশ্চয় এটা সুনিশ্চত সত্য। কাজেই তুমি তোমার মহান রবের গৌরব ও মহিমা ঘোষণা করো’ (আল-ওয়াক্বিআ, ৫৬/৯৫-৯৬)

দ্বিতীয় খুৎবা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর নিমিত্তে, তাঁর দেওয়া অনুগ্রহের জন্য, তাঁর দান ও তাওফীক্বের জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা। আর তাঁর মর্যাদার বড়ত্ব প্রকাশের জন্য আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মা‘বূদ নেই, তিনি একক তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, মুহাম্মাদ a তাঁর বান্দা ও রাসূল। অসংখ্য দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর  ছাহাবীদর প্রতি।

হে মুসলিমগণ! মূল ঈমান স্থির থাকবে না এবং ফল দেবে না, যদি ঈমানদার ব্যক্তি তার পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমে যত্ন না নেয়। আর সে প্রকৃত ঈমানে পৌঁছতে পারবে না, যতক্ষণ না তার থেকে সন্দেহ-সংশয় দূর না হবে।

এরপর সম্মানিত খত্বীব রাসূলুল্লাহ a, তাঁর পরিবার, চার খালীফা ও ছাহাবীদের উপর দরূদ এবং সালাম পাঠের পর নিজেদের ও সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য দু‘আ করে খুৎবা শেষ করেন।


[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/৩১।