আহলেহাদীছদের উপর মিথ্যা অপবাদ ও তার জবাব
মূল (উর্দূ) : আবু যায়েদ যামীর
অনুবাদ : আখতারুজ্জামান বিন মতিউর রহমান*


(পর্ব-৫)

ভুল ধারণা-৫ : আহলেহাদীছগণ চার ইমামকে মান্য করেন না এবং তাদের পথভ্রষ্ট আখ্যায়িত করে থাকেন :

আহলেহাদীছদের সম্পর্কে আরো একটি ভুল ধারণা হলো, আহলেহাদীছগণ চার ইমামকে মান্য করেন না; বরং উল্টো তাদের মানহানি করেন এবং তাদের পথভ্রষ্ট আখ্যা দেন।

আসুন! এই বিষয়ে আহলেহাদীছদের অবস্থান কী, তা পর্যালোচনা করি :

১. ইমামগণের ব্যাপারে আহলেহাদীছদের অবস্থান : এই বিষয়ে বর্তমান যুগের একজন বিখ্যাত আহলেহাদীছ আলেম শায়খ ছালেহ আল-ফাওযান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

وَهَذَا هُوَ الْقَوْلُ الْحَقُّ الْوَسَطُ : نَأْخُذُ مِنْ أَقْوَالِ الْعُلَمَاءِ وَالْفُقَهَاءِ مَا وَافَقَ الدَّلِيْلَ مِنْ كِتَابٍ وَسُنَّةٍ، وَنَتْرُكُ مَا خَالَفَ الدَّلِيْلَ وَنَعْتَذِرُ لِلْعُلَمَاءِ فِيْ خَطَئِهِمْ وَنَعْرِفُ قَدْرَهُمْ وَلَا نَنْتَقِصُهُمُ.

‘সঠিক ও ইনছাফপূর্ণ কথা হলো- আলেম এবং ফক্বীহগণের যে সকল কথা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে মিলে যাবে, তা আমরা গ্রহণ করব। আর যে সকল কথা কুরআন-সুন্নাহর বিপরীত হবে, তা আমরা বর্জন করব[1] এবং তাদের ভুলের কারণে তাদের অপারগ মনে করব ও তাদের সম্মান প্রদর্শন করব। কখনোই তাদের মর্যাদার হানি করব না’।[2]

আহলেহাদীছদের মতে চারজন ইমাম অবশ্যই সম্মানের অধিকারী, তবে তাদের কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নন। এই সম্মানিত ইমামগণের ইলমী খেদমতকে অস্বীকার করা আল্লাহ তাআলার অকৃতজ্ঞতা প্রকাশের নামান্তর। কেননা এই ইমামগণ উম্মাতে মুহাম্মাদীর জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক বিরাট অনুগ্রহ। তারাই হলেন আকাবির, যারা কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষার প্রচার ও প্রসার করেছেন এবং তৎকালীন সময়ে সংঘটিত সকল জটিল ও কঠিন সমস্যার সমাধান কুরআন ও হাদীছের দলীলভিত্তিক প্রদান করেছেন। এই সকল মহান ইমামদের গবেষণা এবং জ্ঞানের জগতে তাঁদের খেদমতের ফল শুধু তৎকালীন সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পরবর্তী যুগের গবেষক ও ফাতওয়াবিদদের জন্য পথনির্দেশিকা এবং আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে। এই সকল ইমামের খেদমত অস্বীকার করা, তাদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার না করা এবং তাদের সম্মান প্রদর্শন না করা মূলত আল্লাহর অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করারই শামিল। কেননা যে মানুষের প্রতি অকৃতজ্ঞ, সে আল্লাহর প্রতিও অকৃতজ্ঞ।

চার ইমাম সম্পর্কে আহলেহাদীছগণের বক্তব্য হলো- তাদের জ্ঞান হতে উপকৃত হওয়া যাবে। কিন্তু তাদের কোনো এক জনের আনুগত্য করে অন্যদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া যাবে না। আবার একজনের সকল কথা মানতে গিয়ে বাকি তিন জনের কোনোও ফাতওয়া মানা হবে না, এটাও করা যাবে না। আহলেহাদীছগণের মতে এই ধরনের কর্ম চরম বেইনছাফী। কেননা এমন গোঁড়ামির কারণে মানুষ অবশিষ্ট তিন ইমামের অমূল্য জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। আবার এটা কেমন মূলনীতি যে, একজন ইমামের মতকে মানতে গিয়ে বাকি তিনজন ইমামের মতকে দলীল ব্যতীত বর্জন করা হবে? আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথার বিপরীতে কোনো ইমামের কথার অনুসরণ না করায় আহলেহাদীছগণকে ইমাম বিরোধী বা ইমামের অস্বীকারকারী এমনকি ইমামের দুশমন বা অপমানকারী হিসেবেও আখ্যায়িত করতে তারা সঙ্কোচবোধ করে না। কিন্তু একজন মাযহাবী নিজ ইমামের অনুসরণ করতে গিয়ে তিন তিন জন ইমামের মতামতকে নির্দ্বিধায় বর্জন করেন, কিন্তু তাঁকে কখনোই ইমামের অস্বীকারকারী বা অপমানকারী বলা হয় না। বরং নিজ ইমামের মাযহাব পালন করতে গিয়ে যদি তিনি নবী a-এর বাণীকেও পাত্তা না দেন, তারপরও তার দ্বীন বা ইমানের কোনো সমস্যা হয় না!

আহলেহাদীছগণ ইমামদের ঐ সকল বক্তব্য নির্দ্বিধায় মেনে নেন, যে সকল বক্তব্য কুরআন-সুন্নাহর দলীল দ্বারা প্রমাণিত। আর যে সকল বক্তব্য কুরআন-সুন্নাহর দলীলের সাথে সাংঘর্ষিক, তা বর্জন করেন। তাঁরা কোনো একজন ইমামের সকল বক্তব্য গ্রহণ করে বাকি সকল ইমামের বক্তব্যের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন না, এমনটি নয়; বরং তারা প্রত্যেক ইমামের দলীলসম্মত সকল মতামত মেনে নেন। জ্ঞানের অপ্রতুলতা বা অন্য কোন কারণে কোন ভুল হলে সতর্ক করার পাশাপাশি তাঁদের মানহানি করা হতে বিরত থাকেন। এমনকি কোনো মাসআলায় তাদের বক্তব্য দলীলের বিপরীত কিংবা প্রাধান্যপ্রাপ্ত না হলেও তাদের ক্ষেত্রে উন্নত ধারণা পোষণ করত সে ক্ষেত্রে তাদের অপারগ মনে করেন। তাঁরা বলে থাকেন, হতে পারে তার নিকট এই হাদীছ পৌঁছেনি; কিংবা তিনি এর দ্বারা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য নিয়েছেন; অথবা তিনি এটাকে মানসূখ বা রহিত ধারণা করেছেন; অথবা দলীলটির গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে তিনি দ্বিধায় ছিলেন ইত্যদি।

২. মুজতাহিদের ইজতিহাদে ভুল-শুদ্ধ উভয়ের সম্ভাবনা থাকে : এখানে একটি প্রশ্নের সৃষ্টি হয়- দ্বীনী বিষয়ে সমাধান দেওয়ার ক্ষেত্রে একজন বড় আলেমের ভুল হতে পারে কি?

এর উত্তর সরাসরি নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীছের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেছেন,

إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ  

‘যখন কোনো ফয়সালাকারী ইজতিহাদ করে কোনো বিষয়ে সমাধান দেন এবং তাঁর সমাধানটি সঠিক হয়, তাহলে তিনি দুটি ছওয়াব পান। আর যদি তাঁর ইজতিহাদ করে প্রদত্ত সমাধান ভুল হয়, তাহলে তিনি একটি ছওয়াব পান’।[3] এখান থেকে দুটি বিষয় জানা গেল :

(ক) মুজতাহিদগণের গবেষণায় ভুল হতে পারে।

(খ) ভুল হওয়া সত্ত্বেও চেষ্টার কারণে মুজতাহিদ একটি ছওয়াব পাবেন।

নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বর্ণনার পর কোনো মুমিনের জন্য এ কথা বলা উচিত হবে না যে, মুজতাহিদদের ভুল হতে পারে না।

৩. আহলেহাদীছগণ মুজতাহিদদের ভুল ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তার অনুসরণ করেন না : এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, কেউ যেন ভুলবশত এই ধারণা পোষণ না করে যে, যেই মাসআলার ক্ষেত্রে মুজতাহিদ ভুল করেছেন, সেই মাসআলায় আমরা আমল করে ছওয়াব অর্জন করব। সুতরাং সঠিক হোক আর ভুল সর্বাবস্থায় আমরা ছওয়াব পাব। মুজতাহিদদের কোনো মাসআলায় আমাদের বিরোধ করার কোনো প্রয়োজন নেই। যদি কোনো ব্যক্তি এই ধারণাকে মূলনীতি বানিয়ে নেয়, তাহলে অবশ্যই তা ভুল হবে। কেননা উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর চমৎকার ফয়ছালাই তাদের এই ভুল ধারণার দূর্গকে ছিন্নভিন্ন করার জন্য যথেষ্ট।

উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, السُّنَّةُ مَا سَنَّهُ اللهُ وَرَسُوْلُهُ، لَا تَجْعَلُوْا خَطَأَ الرَّأْيِ سُنَّةً لِلْأُمَّةِ ‘সুন্নাহ তো সেটাই, যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল a সাব্যস্ত করেছেন। তোমরা কারো ইজতিহাদী (গবেষণামূলক) ভুলকে সুন্নাহ বানিয়ে দিয়ো না’।[4] একথার স্বপক্ষে কুরআনুল কারীমের বর্ণনা রয়েছে,

وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا

‘যে বিষয়ে তোমরা ভুল করো, সে বিষয়ে তোমাদের কোনো অপরাধ নেই। কিন্তু তোমাদের মন থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে করে থাকলে (তাতে অপরাধ আছে)। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (আল-আহযাব, ৩৩/৫)

বুঝা গেল, জেনে-বুঝে ভুল করা মুজতাহিদ বা সাধারণ মানুষ কারো জন্য বৈধ নয়। সুতরাং কারও নিকট দলীলভিত্তিক সত্য স্পষ্ট হলে তার জন্য নিজে যেমন ভুলের উপর অটল থাকা বৈধ নয়। তদ্রূপ অন্যকেও ভুলের উপর পরিচালিত করা বৈধ নয়। এমনকি স্বয়ং মুজতাহিদগণের নিজেদের ভুল হতে সঠিক পথে ফিরে আসার অনেক দৃষ্টান্ত আছে। সুতরাং এই সকল মুজতাহিদের পদাঙ্ক অনুসারীদের ভুল হতে হক্বের পথে ফিরে আসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা একান্ত কর্তব্য।

দৃষ্টান্তস্বরূপ ইমাম আবূ হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য তুলে ধরা হলো,

وَيْحَكَ يَا يَعْقُوْبُ، لَا تَكْتُبْ كُلَّ مَا تَسْمَعْ مِنِّي ، فَإِنِّيْ قَدْ أَرَى الرَّأْيَ الْيَوْمَ وَأَتْرُكُهُ غَدًا، وَأَرَى الرَّأْىَ غَدًا وَأَتْرُكُهُ غَدًا

‘হে ইয়াকুব! তুমি আমার থেকে শোনা সকল কথা লিখো না। কেননা আজ আমি একটি মতামত পেশ করি, কাল আবার আমি তা হতে প্রত্যাবর্তন করি। আবার কাল একটি মতামত পেশ করি, পরের দিন তা বর্জন করি’।[5]

৪. কোনো একজন ইমামের তাক্বলীদের উপর কখনোও ইজমা সাব্যস্ত হয়নি :[6] এখানে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যে, আমরা মুজতাহিদের মতামতকে এ কারণে বর্জন করি না যে, ইমামদের তাক্বলীদের উপর সমগ্র উম্মতের ইজমা (ঐক্যমত) রয়েছে। এই সকল ব্যক্তিদের উত্তরে এইভাবে বলা যেতে পারে যে, তাদের এই দাবি তাদের বক্তব্যের বিরোধী ও সাংঘর্ষিক।

আব্দুল হাই লাখনৌবী লিখেছেন, ‘নির্দিষ্ট মাযহাবের তাক্বলীদ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে প্রত্যেক যুগের আলেমদের মাঝে মতানৈক্য হয়েছে’।[7]

দেখুন! প্রত্যেক যুগের ‍উলামায়ে কেরাম কোনো এক মাযহাবের অনুসরণ ওয়াজিব হওয়ার উপর একমত ছিলেন না। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই ইজমা কোন যুগে হয়েছিল? বাস্তব কথা হচ্ছে, নবী a ব্যতীত উম্মতের কোনো ব্যক্তির সকল কথা বা বক্তব্য মানতে হবে এমন কোনো দলীল পাওয়া যায় না। মুসলিমগণ এই কথার উপর না কখনো একমত হয়েছেন, না হবেন। ইজমার দাবি নিছক দাবি মাত্র। এর পিছনের উদ্দেশ্য হলো গোঁড়ামি অথবা নিজ মাযহাব টিকানো। বরং ইজমার মাধ্যমে তো তার উল্টোটা সাব্যস্ত হয়েছে।

আশরাফ আলী থানবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘যদিও এই ব্যাপারে ইজমা পেশ করা হয়েছে যে, চার মাযহাব ব্যতীত নতুন মাযহাব বানানো জায়েয নয়। অর্থাৎ যে সকল মাসআলা চার মাযহাবের আওতাভুক্ত হবে না, তার উপর আমল করা জায়েয নয়। সঠিক ও সত্য এই চার মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু এর পিছনে কোনো দলীল নেই। কেননা আহলে যাহের (প্রকাশ্য দলীলের উপর আমলকারীগণ) প্রত্যেক যুগে ছিল। আর একথাও সঠিক নয় যে, সকল আহলে যাহের প্রবৃত্তির অনুসারী। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, যদিও ইজমা সাব্যস্ত হয়ে থাকে, তথাপি তাক্বলীদে শাখছী বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির তাক্বলীদের উপর কখনো ইজমা সাব্যস্ত হয়নি’।[8]  

উক্ত বক্তব্যে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যণীয় :

(ক) কোনো কোনো বিষয়ে ইজমার দাবি রয়েছে। তবে তার কোনো দলীল নেই।

(খ) হক চার মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়ার দাবির পক্ষে কোনো দলীল নেই।

(গ) তাক্বলীদে শাখছীর উপর কখনো ইজমা হয়নি।

এ সকল বক্তব্য সামনে রেখে বলা যায়, কোনো মানুষকে নির্দিষ্ট এক ইমামের কিংবা চার ইমামের কোনো একজনের অনুসারী বানানো একটি দলীলবিহীন কাজ, যার ব্যাপারে প্রত্যেক যুগের আলেমদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে।

(চলবে)


* শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।

[1]. ‘দলীলের বিপরীত আরেকটি বিষয় হলো, নিষ্পাপ ব্যক্তি অর্থাৎ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাড়া অন্য কারো তাক্বলীদ করা। সঠিক কথা হলো, কোনো একজন আলেম কোনো মাসআলার ক্ষেত্রে গবেষণা করলেন। তখন তার অনুসারীরা মনে করে, অবশ্যই তিনি সঠিকতার উপর রয়েছেন। এই ধারণার ভিত্তিতে তারা ছহীহ হাদীছকেও প্রত্যাখ্যান করে। এমন তাক্বলীদের উপর রহমতপ্রাপ্ত উম্মাহগণ ঐকমত্য পোষণ করেননি। কেননা তারা মুজতাহিদগণের তাক্বলীদের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করতেন, কিন্তু তারা এটাও মনে করতেন যে, মুজতাহিদগণ কখনো ভুল করেন আবার কখনো সঠিক করেন। সেইসাথে মাসআলার ক্ষেত্রে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীছের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেছেন এবং এই সংকল্প রেখেছেন যে, যখন তার অনুসৃত তাক্বলীদের বিপরীতে কোনো ছহীহ হাদীছ পাওয়া যাবে, সাথে সাথে তাক্বলীদ বর্জন করে হাদীছের অনুসরণ করবে’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা, ১/২১২-২১৩)

ইবনু তায়মিয়্যা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘কারো কথার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে দলীল থাকা ব্যতীত তার সকল কথার অনুসরণ করাকে আবশ্যক মনে করা সঠিক নয়। বরং এই মর্যাদা একমাত্র রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর। অন্য কারো জন্য তা প্রযোজ্য নয়’ (মা‘জমুল ফাতাওয়া, ৩৫/১২১)

[2]. আল-আজবিবাতুল মুফীদা আন-আসইলাতিল মানাহিজিল জাদীদা, ২৫ নং প্রশ্ন।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৭৩৫২; ছহীহ মুসলিম, হা/৩২৪০।

[4]. জামেউল বায়ান, পৃ. ২০১৪; ই‘লামুল মুওয়াক্বিঈন, ১/৫৭।

[5].  ইবনু আবিদীন ফী হাশিয়াতিহি ‘আলাল বাহরির রায়েক্ব, ৬/২৯৩।

[6]. শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলবী p বলেছেন, ‘পূর্ববর্তী-পরবর্তী সকল ছাহাবী, পূর্ববর্তী-পরবর্তী সকল তাবেঈ, পূর্ববর্তী-পরবর্তী সকল তাবে‘ তাবেঈর ঐকমত্যে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তাদের পূর্ববর্তীদের বা তাদের মধ্য হতে নির্দিষ্ট ব্যক্তির সকল বক্তব্য গ্রহণ করা নিষিদ্ধ’।

[7]. আব্দুল হাই, মাজমূঊল ফাতাওয়া, পৃ. ১৪৯, ১২৯ প্রশ্নের উত্তর দ্রষ্টব্য।

[8]. তাযকেরাতুর রাশীদ, ১/১৩১।