আহলেহাদীছদের উপর মিথ্যা অপবাদ তার জবাব
মূল (উর্দূ) : আবু যায়েদ যামীর
অনুবাদ : আখতারুজ্জামান বিন মতিউর রহমান *



(এপ্রিল’২১ সংখ্যায় প্রকাশিতের পর)
(পর্ব-৬)

ভুল ধারণা-৬ : আহলেহাদীছগণ আলেমদের মান্য করেন না :

আহলেহাদীছগণ তাক্বলীদে শাখছী (ব্যক্তির অন্ধানুসরণ) করা থেকে বিরত থাকে। এটাকে অনেকেই তাদের আলেমবিখুতা হিসাবে অ্যাখ্যা দিয়ে থাকে। তারা মনে করে থাকে যে, আহলেহাদীছরা যখন চার ইমামকে অমান্য করে তাহলে তারা অন্য আলেমদের মানবে কোন দুঃখে? তাদের এই ধারণা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবতাবিবর্জিত। আহলেহাদীছগণ কোনো আলেমের ব্যক্তিগত মতামতকে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মতো মান্য করা আবশ্যক মনে করেন না। তথাপি তারা আলেমদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন। দ্বীনের কোনো বিষয় বুঝার জন্য আলেমদের নিকট হতে সমাধান খোঁজেন এবং তাদের থেকে সুপরামর্শ নেওয়াকে আবশ্যক মনে করেন।

১. আহলেহাদীছগণ অজানা বিষয়সমূহ আহলে ইলমদের থেকে জেনে থাকেন : মহান আল্লাহ নিজেই অজানা বিষয় আলেমদের থেকে জেনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ﴾ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ﴿ ‘যদি তোমার জানা না থাকে তাহলে জ্ঞানীদের (আহলে ইলমদের)-কে জিজ্ঞেস করে জেনে নাও’ (আন-নাহল, ১৬/৪৩; আল-আম্বিয়া, ২১/৭)

উক্ত আয়াত দ্বারা আলেমগণ দলীল পেশ করে থাকেন যে, যার জ্ঞান নেই সে জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞেস করে নিজের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে।

২. আলেমদের বিদায় মানুষের পথভ্রষ্টতার বড় একটি কারণ : আলেমগণ বেঁচে থাকা উম্মাহর ভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা পাওয়ার বড় একটি মাধ্যম। আর আলেমদের মৃত্যু ভ্রষ্টতা এবং ধ্বংসের মাঝে নিপতিত হওয়ার একটি বড় কারণ। আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

إِنَّ اللهَ لاَ يَنْزِعُ الْعِلْمَ بَعْدَ أَنْ أَعْطَاهُمُوهُ انْتِزَاعًا وَلَكِنْ يَنْتَزِعُهُ مِنْهُمْ مَعَ قَبْضِ الْعُلَمَاءِ بِعِلْمِهِمْ فَيَبْقَى نَاسٌ جُهَّالٌ يُسْتَفْتَوْنَ فَيُفْتُونَ بِرَأْيِهِمْ فَيُضِلُّونَ وَيَضِلُّونَ.

‘আল্লাহ তোমাদের যে ইলম দান করেছেন, তা হঠাৎ ছিনিয়ে নেবেন না বরং আলেমদের তাদের ইলমসহ ক্রমশ তুলে নেওয়ার মাধ্যমে তা ছিনিয়ে নেবেন। তখন কেবল মূর্খ লোকেরা অবশিষ্ট থাকবে। তাদের কাছে ফতওয়া চাওয়া হবে, তখন তারা মনগড়া ফতওয়া দেবে। ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে’।[1]

উল্লিখিত হাদীছের উপর ভিত্তি করে আহলেহাদীছগণ এই বিশ্বাস রাখেন যে, আলেমদের উপস্থিতি উম্মতের জন্য কল্যাণ ও হেদায়াতের মাধ্যম। যোগ্য আলেমের অনুপস্থিতির কারণে ফতওয়াদানে অযোগ্য ব্যক্তি ফতওয়া দেওয়ার সুযোগ পায়। যার ফলে সে নিজে পথভ্রষ্ট হয় এবং অন্যদের পথভ্রষ্ট হওয়ার মাধ্যম হয়। এজন্যই সর্বদা আলেমদের সাথে সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন।

৩. আহলেহাদীছগণ নিজেরাই কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করার নিন্দা করে থাকেন:[2] অনেক মানুষের ভুল ধারণা রয়েছে যে, আহলেহাদীছদের দাওয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং আলেমদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করা এবং প্রবৃত্তিপূজারী বানানো। সম্ভবত এই সংশয় পোষণকারীদের মাঝে এমন কেউ রয়েছে যে জানে না যে, আহলেহাদীছদের মাঝে যেমন আলেম রয়েছে তেমন সাধারণ মানুষও রয়েছে, যারা আলেমদের থেকে দ্বীনের বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েল জিজ্ঞাসা করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে থাকেন। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আহলেহাদীছদের বড় বড় দ্বীনী মাদরাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার ছাত্র সনদ (সার্টিফিকেট) গ্রহণ করে দ্বীনের খেদমতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

আহলেহাদীছদের দাওয়াতের উদ্দেশ্যে এটা নয় যে, সাধারণ মানুষকে আলেমদের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে তাদের মুজতাহিদের আসনে বসিয়ে দেওয়া। বরং আহলেহাদীছদের দাওয়াতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, সাধারণ মানুষকে ওই জ্ঞানের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা, যে জ্ঞান রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ হতে নিয়ে এসেছিলেন অর্থাৎ অহীর জ্ঞান। আহলেহাদীছদের দাওয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, সাধারণ মানুষদের মাযহাবী গোঁড়ামি থেকে বের করে চূড়ান্ত সত্যকে গ্রহণ করার ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া। তাতে সত্য উপস্থাপনকারী বিরোধী পক্ষ হোক না কেন! আহলেহাদীছদের দাওয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, উম্মাতে মুসলিমা যেন বাপ-দাদা, আত্মীয়-স্বজন, সমাজ এবং কুপ্রবৃত্তির বেড়াজাল ছিন্ন করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বক্তব্যকে গ্রহণ করে। বরং ভালোভাবে লক্ষ করলে বুঝা যায়, কুপ্রবৃত্তির পূজা তো হচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কথাকে সাদরে গ্রহণ করার পরিবর্তে বাপ-দাদা, সমাজ এবং মাযহাবী গোঁড়ামির উপর গোঁ ধরে বসে থাকা। মহান আল্লাহ বলেন,

﴾فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ﴿

‘অতঃপর (হে নবী) তারা যদি আপনার কথায় সাড়া না দেয়, তবে জানবেন, তারা শুধু নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, আল্লাহর হেদায়াতের পরিবর্তে যে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে?’ (আল-ক্বছাছ, ২৮/৫০)

অর্থাৎ মানুষ যদি রাসূলের ডাকে সাড়া না দেয়, তাঁর কথাকে মান্য না করে, এমনকি শুনতেও না চায় তাহলে তারা যে কুপ্রবৃত্তির পূজারী হওয়ার জন্য উল্লিখিত আয়াতই প্রমাণ হিসাবে যথেষ্ট। আল্লাহর পক্ষ হতে আগত হেদায়াত এবং পথের দিশা প্রত্যাখ্যান করে শুধু ধারণা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করাই সবচেয়ে বড় ভ্রষ্টতা। যে ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ হতে আগত হেদায়াতের বিরোধিতা করবে, তার সত্যের পথ হতে বিচ্যুত হওয়া এবং অভীষ্ট লক্ষ্য হতে বঞ্চিত হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ আছে কি?

আহলেহাদীছদের মতে যেমন আলেমদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ভ্রষ্টতার কারণ, ঠিক তেমন আলেমদের ফতওয়াসমূহের মধ্য থেকে নিজ প্রবৃত্তির চাহিদা অনুযায়ী ফতওয়া খোঁজা এবং সে অনুযায়ী আমল করাও ভ্রষ্টতা। এমন ব্যক্তি বাহ্যিকভাবে আলেমদের কথার প্রতি গুরুত্ব প্রদানকারী মনে হলেও মূলত তারা নিজের নফসের গোলাম।

সুলায়মান আত-তায়মী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,إِنْ أَخَذْتَ بِرُخْصَةِ كُلِّ عَالِمٍ اجْتَمَعَ فِيْكَ الشَّرُ كُلُّهُ ‘যদি তুমি প্রত্যেক আলেমের সহজ ফতওয়াগুলো গ্রহণ কর, তাহলে তোমার ভেতরে সকল মন্দ একত্রিত হয়ে যাবে’।[3]

ইবনু আব্দিল বার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, هَذَا إِجْمَاعٌ لَا أَعْلَمُ فِيْهِ خِلَافًا  ‘উক্ত কথার উপর ঐকমত্য সাব্যস্ত হয়েছে। উক্ত কথায় কেউ মতানৈক্য করেছে আমি জানি না’।[4] নিজের ইচ্ছা পূরণের জন্য আলেমদের বক্তব্যের সহযোগিতা নেওয়া জ্ঞানের বিপরীতে মূর্খতা ও কল্যাণের বিপরীতে অকল্যাণ গ্রহণের সদৃশ। সুতরাং আহলেহাদীছদের দাওয়াত হচ্ছে, সকল প্রকারের প্রবৃত্তির পূজা থেকে বাঁচার দাওয়াত। কুরআন-সুন্নাহর অনুসারী হওয়ার দাওয়াত।

৪. মতপার্থক্যের সমাধান কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকেই হওয়া উচিত : এখানে গভীর চিন্তার বিষয় হচ্ছে, যারা আলেমদের কথা মান্য করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে থাকে এবং আহলেহাদীছদেরকে আলেমদের দুশমন প্রমাণিত করার চেষ্টায় নিয়োজিত থাকে, তারা কি সকল আলেমদের বক্তব্য মেনে থাকেন? এক মাসলাক বা মতের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও কোনো কোনো সময় তাদের মাঝেই দুইটি দলের মাঝে এমন মারাত্মক মতবিরোধ হয়ে থাকে যে, তাদের এক দল আরেক দলকে পথভ্রষ্ট এমনকি কাফের পর্যন্ত বলে থাকে। এমতাবস্থায় এক দলের আলেমগণ তাদের অনুসারীদের অন্য দলের আলেমদের থেকে দূরে রাখে। (আফসোস!) কিন্তু তারা তাদের এই কর্মকে আলেমদের অসম্মান বা বিরোধিতা মনে করে না। তাদের মতে আলেমদের বক্তব্যকে গ্রহণ করার অর্থ হচ্ছে, শুধু নিজ দলের আলেমদের মান্য করার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

পক্ষান্তরে আহলেহাদীছগণ কোনো আলেমের বক্তব্য শুধু দলীয় গোঁড়ামির উপর ভিত্তি করে প্রত্যাখ্যান করেন না, বরং কুরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক হলে বা দলীল না থাকলে প্রত্যাখ্যান করেন এবং এমনটি করা সরাসরি ঈমানের দাবি। আল্লাহ তাআলা বলেন,

‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য করো, নির্দেশ মান্য করো রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যকার নেতৃবর্গের (আলেমদের) আনুগত্য করো। আর যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতানৈক্য হয়, তাহলে সে বিষয়কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। এটিই হলো উত্তম এবং পরিণামের দিক থেকে প্রকৃষ্টতর’ (আন-নিসা, ৪/৫৯)

উল্লিখিত আয়াত দ্বারা দলীল পেশ করে অনেক আলেম এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, আলেমদের বক্তব্য মান্য করা আবশ্যক। কেননা স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এটার আদেশ করেছেন। কিন্তু তারা মানুষকে একথা বলে না যে, এই আয়াতে আল্লাহ উলূল আমর (আলেমদের) কথা মান্য করার পূর্বে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের হুকুম মান্য করার আদেশ স্বতন্ত্রভাবে প্রদান করছেন। আলেমদের কথা কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কথার উপর প্রাধান্য পাবে? আলেমগণ কি কুরআন-সুন্নাহর চেয়েও বড়? উক্ত আয়াতে আলেমদের সত্তাগতভাবে দলীল হিসাবে স্বীকৃত দেওয়া হয়নি, বরং মতবিরোধের সময় কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকে সমাধান দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। যদি আলেমদের বক্তব্য মৌলিক দলীল হতো, তাহলে আলেমদের বক্তব্যকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরানোর প্রয়োজন হতো না। সুতরাং প্রমাণিত হয় যে, আলেমদের বক্তব্য কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী হলে তা মানতে হবে; স্বতন্ত্রভাবে নয়। আলেমদের কথা সরাসরি কখনো দলীল নয়, বরং তা দলীলের মুখাপেক্ষী।

৫. আহলেহাদীছগণ শরীআতের বিপরীতে কোনো আলেমের বক্তব্যের অনুসরণ করেন না : যদি কোনো ব্যক্তি আলেমদের বক্তব্যকে অহীর জ্ঞানের বিপরীতে মান্য করে অথবা আলেমদের কোনো বিষয়ের হালাল-হারামকারী হিসাবে বিশ্বাস করে তাহলে এটা তাদেরকে রব ও মা‘বূদের স্থানে বসানোর নামান্তর। আদী ইবনু হাতেম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ ‌وَفِي ‌عُنُقِي ‌صَلِيبٌ فَقَالَ لِي يَا عَدِيَّ بْنَ حَاتِمٍ أَلْقِ هَذَا الْوَثَنَ مِنْ عُنُقِكَ وَانْتَهَيْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ يَقْرَأُ سُورَةَ بَرَاءَةٍ حَتَّى أَتَى عَلَى هَذِهِ الْآيَةِ {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللهِ} [التوبة: ٣١] قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّا لَمْ نَتَّخِذْهُمْ أَرْبَابًا قَالَ بَلَى أَلَيْسَ يُحِلُّونَ لَكُمْ مَا حُرِّمَ عَلَيْكُمْ فَتُحِلُّونَهُ وَيُحَرِّمُونَ عَلَيْكُمْ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكُمْ فَتُحَرِّمُونَهُ فَقُلْتُ بَلَى قَالَ تِلْكَ عِبَادَتُهُمْ.

‘আমি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ক্রুশ ঝুলানো অবস্থায় উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, হে আদী! তোমার গলা হতে এই মূর্তিকে নিক্ষেপ করো। আমি তাঁর নিকটবর্তী হলে শুনতে পেলাম তিনি সূরা বারাআত (আত-তওবা) পাঠ করছেন। তেলাওয়াত করতে করতে তিনি এই আয়াতে গিয়ে থামলেন,

 ﴾اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللهِ﴿

‘(ইয়াহূদী-নাছারাগণ) তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত এবং সংসার-বিরাগী পুরোহিতদেরকে প্রভু হিসাবে গ্রহণ করেছে’ (আত তাওবা, ৯/৩১) আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো তাদেরকে আমাদের প্রভু হিসাবে গ্রহণ করিনি। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তবে তারা যখন আল্লাহর হারামকৃত কোনো জিনিসকে তোমাদের জন্য হালাল করত, তখন কি তোমরা তা হালাল হিসাবে গ্রহণ করতে না? আবার যখন তারা আল্লাহর হালালকৃত কোনো জিনিসকে হারাম করত, তখন কি তোমরা তা হারাম হিসাবে গ্রহণ করতে না? আমি বললাম হ্যাঁ, (আমরা এরূপই করতাম)। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটাই তো তাদের ইবাদত’।[5]

অর্থাৎ আল্লাহর শরীআতের বিপরীতে আলেমদের বক্তব্যের অনুসরণ করা শিরক। মানুষ তাদেরকে প্রভুর মর্যাদা প্রদান করুক বা না করুক, শরীআতের বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তাদের বক্তব্যকে মেনে নেওয়া তাদেরকে শরীআত প্রণয়নকারী হিসাবে মেনে নেওয়ার সমতুল্য। আর এটাই তাদের প্রভু হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার শামিল।

(চলবে)


* শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৭৩০৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৮২৮, ৪৮২৯ ‘বুখারীর শব্দ।

[2]. বিচারক তিন প্রকার : দুই প্রকারের বিচারক জাহান্নামী এবং এক প্রকারের বিচারক জান্নাতী। (১) যে বিচারক প্রবৃত্তি অনুযায়ী বিচার করবে সে জাহান্নামী (২) যে বিচারক তদন্ত ছাড়া বিচার করবে সে জাহান্নামী (৩) যে বিচারক সত্য তথ্য জেনে বিচার করবে সে জান্নাতী (ত্ববারানী, ইবনু উমার বর্ণনা করেন; ছহীহুল জামে‘, হা/৪৪৪৭, হাদীছ ছহীহ)

[3]. জামেউ বায়ানিল ইলম, পৃ. ১০৮৯।

[4]. প্রাগুক্ত।

[5]. জামেউ বায়ানিল ইলম, ‘তাক্বলীদের ভ্রান্তি এবং তা প্রত্যাখ্যান করা, তাক্বলীদ এবং ইত্তিবার মাঝে পার্থক্য’ অধ্যায়, হা/১৮৬২; তিরমিযী, বায়হাক্বী, হাদীছ হাসান।