আহলেহাদীছদের উপর মিথ্যা অপবাদ ও তার জবাব
মূল (উর্দূ) : আবু যায়েদ যামীর
অনুবাদ : আখতারুজ্জামান বিন মতিউর রহমান*


(পর্ব -২)

ভুল ধারণা-২ : আহলেহাদীছরা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শানে বেয়াদবী করে :

আহলেহাদীছদের ব্যাপারে দ্বিতীয় মিথ্যা অভিযোগ হচ্ছে, তারা আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে না। অনেকেই প্রকৃত বাস্তবতা না জানার কারণে আহলেহাদীছদেরকে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অপমানকারী বলে মনে করে থাকে। বরং অনেকে আহলেহাদীছদের আক্বীদাকে এতটাই ঘৃণা করে যে, তারা সরাসরি বলে বসে ‘আহলেহাদীছগণ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মান্য করে না’। বাস্তবতা হচ্ছে, আহলেহাদীছগণের নিকটে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সমস্ত সৃষ্টিকুল হতে অধিক সম্মানিত। মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মর্যাদা সকল নবী এবং রাসূলগণ হতে অধিক সমুন্নত। আমাদের এই আক্বীদার মূলভিত্তি সরাসরি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী,

أَنَا سَيِّدُ وُلْدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ فَخْرَ وَبِيَدِى لِوَاءُ الْحَمْدِ وَلاَ فَخْرَ وَمَا مِنْ نَبِىٍّ يَوْمَئِذٍ آدَمُ فَمَنْ سِوَاهُ إِلاَّ تَحْتَ لِوَائِى…

‘ক্বিয়ামত দিবসে আমিই হব সকল আদম সন্তানের নেতা। এতে অহংকারের কিছুই নেই। আমার হাতেই প্রশংসার পতাকা থাকবে। এতেও অহংকারের কিছুই নেই। সেই দিন আদম (আলাইহিস সালাম)-সহ সকল নবী আমার পতাকাতলে একত্রিত হবেন’।[1] ক্বিয়ামতের দিন সকল নবীর নেতা হওয়াটাই প্রমাণ করে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্য সকল নবী হতে অধিক সম্মানিত। আহলেহাদীছদের নিকট এই বিশ্বাস চিরস্বীকৃত।

১. আহলেহাদীছগণ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর মর্যাদার প্রকৃত স্থান থেকে উপরে উঠায় না :

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার মর্যাদার কথা সুস্পষ্টভাবে নিজেই বর্ণনা করে গেছেন। পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে এটাও বলে গেছেন যে, তাঁকে সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আমরা যেন বাড়াবাড়ি করা হতে বেঁচে থাকি। তাঁর সম্মানের ক্ষেত্রে খ্রিস্টানদের মতো যেন অতিরঞ্জন না করি। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

لاَ تُطْرُونِى ([2]) كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ ، فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ، فَقُولُوا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ.

‘তোমরা আমার মাত্রাতিরিক্ত প্রশংসা করো না, যেভাবে খ্রিস্টানরা মারইয়ামের পুত্রের (ঈসা (আলাইহিস সালাম))-এর প্রশংসা করার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করেছে। আমি শুধু আল্লাহর একজন বান্দা। সুতরাং তোমরা আমাকে আল্লাহর বান্দা এবং রাসূলই বলবে’।[3]  

খ্রিস্টানরা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে মানতো। কিন্তু তারা তার প্রতি ঈমান আনা সত্ত্বেও পথভ্রষ্ট হয়েছে। খ্রিস্টানদের ভ্রষ্টতার কারণ কী ছিল? একটিমাত্র কারণ, তা হচ্ছে, তারা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে বান্দার স্থান থেকে উপরে উঠিয়ে রব এবং মা‘বুদের আসনে বসিয়েছে। তারা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রশংসা করার ক্ষেত্রে এতটাই বাড়াবাড়ি করেছে যে, আল্লাহর সত্তা এবং গুণাবলির মধ্যে অংশীদার বানিয়ে দিয়েছেন। কেউ তাঁকে আল্লাহর সন্তান বানিয়েছে।[4] কেউ আবার তাঁকে সরাসরি আল্লাহ বলে ঘোষণা দিয়েছে। ফলে তারা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে মানার পরও কাফের হয়ে গেছে।[5] 

আল্লাহর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিম উম্মাহকে খ্রিস্টানদের এই ধরনের আক্বীদা ও আমল হতে বিরত থাকতে বলেছেন। সুতরাং নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ পালন করার ক্ষেত্রে আহলেহাদীছদের আক্বীদা হলো, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মান-মর্যাদা বর্ণনা করুন। তবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে ‘আল্লাহর বান্দা’ এই কথা যেন মস্তিষ্ক থেকে সরে না যায়। আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেই বলেছেন,

يَا أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيْكُمْ بِتَقْوَاكُمْ وَلَا يَسْتَهْوِيَنَّكُمْ الشَّيْطَانُ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ وَاللَّهِ مَا أُحِبُّ أَنْ تَرْفَعُونِي فَوْقَ مَنْزِلَتِي ([6]) الَّتِي أَنْزَلَنِي اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ.

‘হে লোক সকল! তোমরা নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, শয়তান যেন তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে না পারে। আমি হলাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল্লাহ, আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহর কসম! আমি চাই না যে, তোমরা আমাকে আল্লাহ প্রদত্ত মর্যাদার চেয়ে অধিক মর্যাদার স্থানে অধিষ্ঠিত করো।[7]

এখানে দুইটি বিষয় জানা যায় :

১. নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেই পছন্দ করেন না যে, তাঁকে তাঁর মর্যাদার প্রকৃত স্থান হতে উপরে উঠানো হোক।

২. শয়তান মানুষকে বাড়াবাড়ির মধ্যে লিপ্ত করে পথভ্রষ্ট করতে খুব ভালোবাসে।

সুতরাং আহলেহাদীছগণ সর্বদা এই চোরাপথের পাহারাদার হিসাবে সজাগ দৃষ্টি রাখেন, যে পথ দিয়ে শয়তান প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে এবং সবসময় সেই আশঙ্কা থাকবে। যেন উম্মাতে মুসলিমাকে বাড়াবাড়ির রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়, যেই রোগে খ্রিস্টানরা আক্রান্ত হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে তারা ওহীর ধারক-বাহক হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুশমন হিসাবে বিবেচিত হয়েছে।[8]

আহলেহাদীছদেরকে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুশমন সাব্যস্ত করার জন্য আলেম সমাজের একটি অংশ উদাহরণস্বরূপ কিছু কথা সমাজে বলে থাকে। যেমন:

১. আহলেহাদীছগণ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মাটির তৈরি হিসাবে বিশ্বাস করেন, নূরের তৈরি হিসাবে বিশ্বাস করেন না। ২. আহলেহাদীছগণ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আলেমুল গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী হিসাবে বিশ্বাস করেন না। ৩. আহলেহাদীছগণ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অসীলা হিসাবে বিশ্বাস করেন না। আসুন দেখা যাক, এ সকল কথার বাস্তবতা কতটুকু?

২. রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নূরের তৈরি না মাটির তৈরি? একটি পর্যালোচনা :

অনেক মানুষের বিশ্বাস যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নূর দ্বারা সৃষ্টি। তাদের দলীল হচ্ছে কুরআনের এই আয়াত- মহান আল্লাহ বলেন, قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ ‘অবশ্যই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ হতে নূর ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে।[9]

ইবনুল জাওযী উক্ত আয়াতের তাফসীরে نُوْرٌ শব্দটির ব্যাখ্যায় দু’টি মত পেশ করেছেন। এক. নূর দ্বারা আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উদ্দেশ্য। দুই. নূর দ্বারা ইসলাম ধর্ম উদ্দেশ্য। কিন্তু তিনি কি সৃষ্টিগতভাবে নূর না তিনি অন্ধকারে লুক্কায়িত সত্যকে উন্মোচন করার দৃষ্টিকোণ থেকে নূর? মুফাসসিরগণ এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। ইবনে জারীর ত্ববারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

يَعْنِي بِالنُّورِ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ الَّذِي أَنَارَ اللهُ بِهِ الْحَقَّ وَأَظْهَرَ بِهِ الْإِسْلَامَ وَمَحَقَ بِهِ الشِّرْكَ فَهُوَ نُورٌ لِمَنِ اسْتَنَارَ بِهِ يُبَيِّنُ الْحَقَّ وَمِنْ إِنَارَتِهِ الْحَقَّ تَبْيِينُهُ لِلْيَهُودِ كَثِيرًا مِمَّا كَانُوا يُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ.

‘এখানে নূর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সত্য দ্বীনকে প্রকাশ করেছেন, ইসলামকে বিজয়ী করেছেন এবং শিরককে মিটিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং তিনি ঐ ব্যক্তির জন্য জ্যোতিস্বরূপ, যে ব্যক্তি তার আনীত দ্বীনের আলোয় আলোকিত হয়। তিনি সত্যকে প্রকাশ করেছেন। তার সত্য প্রকাশের মধ্যে অন্যতম হলো, ইয়াহূদীরা যে সকল বিষয় গোপন রাখত, তিনি তা প্রকাশ করে দিয়েছেন’।[10]

নিম্নোক্ত আয়াতটিতে বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় পরিস্কার হয়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেন,

يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ – قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ.

‘হে আহলে কিতাবরা! আমার রাসূল তোমাদের নিকট এসেছে, কিতাবের যেসব বিষয় তোমরা গোপন করতে, তিনি তার মধ্য হতে অনেক বিষয় প্রকাশ করেন এবং অনেক বিষয় মার্জনা করেন। তোমাদের কাছে আল্লাহর নিকট থেকে এক আলোকময় জ্যোতি এবং একটি সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর দ্বারা যারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে, তাদেরকে নিরাপত্তার পথ প্রর্দশন করেন এবং তাদেরকে স্বীয় নির্দেশ দ্বারা অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।[11]

এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো যে, আহলেহাদীছগণ নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সাধারণ মানুষ হিসাবে বিশ্বাস করেন না, বরং তাঁরা তাঁকে খায়রুল বাশার তথা সর্বোত্তম মানব হিসাবে বিশ্বাস করেন। যদি মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মানুষ হিসাবে বিশ্বাস করা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মর্যাদার হানি হয়ে থাকে, তাহলে আসুন দেখা যাক, এই ব্যাপারে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রিয়তমা স্ত্রী এবং মুসলিমদের সম্মানিতা মা আয়েশা ছিদ্দীক্বা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর আক্বীদা বিশ্বাস কী ছিল। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, كَانَ بَشَراً مِنَ الْبَشَرِ ‘আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষ ছিলেন’।[12] এখন কি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কেও রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মর্যাদাহানিকারী বলা হবে! না, বরং নিজেই নিজের আক্বীদার সংশোধন করা উচিত।

৩. অদৃশ্যের জ্ঞানবিষয়ক আলোচনা :

আহলেহাদীছগণ বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মাঝেমধ্যে এমন সংবাদ জানিয়েছেন, যা প্রকৃতপক্ষে ইলমে গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞান ছিল। যেমন : জান্নাত, জাহান্নাম, জমিন, আসমান, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনেক সংবাদ তাকে জানিয়েছেন, যা তিনি জানতেন না। কিন্তু ইলমে গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ তাআলা। সুতরাং ইলমে গায়েবের ক্ষেত্রে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা যাবে না। এই ব্যাপারে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর আক্বীদা এবং তাঁর মতামত শুনে নিন। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন,

مَنْ زَعَمَ أَنَّهُ يُخْبِرُ بِمَا يَكُونُ فِى غَدٍ فَقَدْ أَعْظَمَ عَلَى اللهِ الْفِرْيَةَ ([13]) وَاللَّهُ يَقُولُ (قُلْ لاَ يَعْلَمُ مَنْ فِى السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ الْغَيْبَ إِلاَّ اللهُ ). [14]

‘যে ব্যক্তি দাবী করে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগামীকাল কী ঘটবে তা বলে দিতে পারেন, সে ব্যক্তি আল্লাহর ব্যাপারে চরম মিথ্যাচার করল। কেননা মহান আল্লাহ বলেন, বলো! আল্লাহ ব্যতীত আসমান ও জমিনের কেউই অদৃশ্যের সংবাদ জানে না’।[15] 

যে আক্বীদা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ছিল, সেই আক্বীদা বর্তমানে আহলেহাদীছদেরও আছে। এই আক্বীদা-বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে কেউ কি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সত্যতার উপর প্রশ্ন তুলতে পারে? যদি না পারে, তাহলে একই আক্বীদা-বিশ্বাসের কারণে আহলেহাদীছগণকে কেন অপরাধী বা ভ্রান্ত বলা হয়? আরও ভাববার বিষয় এই যে, এই আক্বীদা সাব্যস্ত করার জন্য মা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কুরআনের আয়াত দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। সুতরাং এই বিশ্বাসকে  আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলা অযৌক্তিক হিসাবে বিবেচিত হবে।

৪. অসীলা বা মাধ্যম বানানো :

আহলেহাদীছগণের উপর আরোপিত আরেকটি প্রশ্ন হলো, আহলেহাদীছগণ রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অসীলা বা মাধ্যম হিসাবে গণ্য করেন না।

এই ব্যাপারে আহলেহাদীছগণের আক্বীদা-বিশ্বাস হলো, আল্লাহর নৈকট্য লাভের একমাত্র মাধ্যম হলো, আক্বীদা ও আমলের ক্ষেত্রে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ করা। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভের একমাত্র ও সুনিশ্চিত মাধ্যম। যে ব্যক্তি নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহকে এড়িয়ে গিয়ে ইচ্ছানুযায়ী পথ ও পদ্ধতির আবিষ্কার করবে এবং সেটাকে অসীলা করে আল্লাহর নিকট চাইবে, তার এই আমল শুধু মূল্যহীনই হবে না, বরং তা বিদআত বলে গণ্য হবে এবং আখেরাতে আল্লাহর শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

অসীলা গ্রহণের ক্ষেত্রে ছহাবীগণের পদ্ধতি কী ছিল? দ্বিতীয় খলীফা উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর আদর্শ, বিশ্বাসের প্রতি লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর পর ছহাবীগণ তাঁর সত্তার দোহাই দিয়ে প্রার্থনা করতেন কি-না। আনাস ইবনু মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ كَانَ إِذَا قَحَطُوا اسْتَسْقَى بِالْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالَ اللَّهُمَّ إِنَّا كُنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّنَا فَتَسْقِينَا وَإِنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِعَمِّ نَبِيِّنَا فَاسْقِنَا . قَالَ فَيُسْقَوْنَ .

‘অনাবৃষ্টির সময়ে উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য দু‘আ করতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ! (নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায়) আমরা আমাদের নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসীলায় দু‘আ করতাম এবং আপনি বৃষ্টি দান করতেন। এখন আমরা আমাদের নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাচার অসীলা দিয়ে দু‘আ করছি, আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন। রাবী বলেন, দু‘আর সাথে সাথে বৃষ্টি বর্ষিত হতো।[16]

সম্মানিত পাঠক! উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাক্যের দিকে লক্ষ্য করুন। তিনি বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আগে আমরা আমাদের নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসীলায় দু‘আ করতাম’ অর্থাৎ ছহাবীগণ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ‘দু‘আর অসীলা’ দিয়ে দু‘আ করতেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ‘সত্তার’ অসীলা গ্রহণ করতেন না। কেননা যদি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর পরও তাঁর সত্তার অসীলা দিয়ে দু‘আ করা ছহীহ হতো, তাহলে উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্তা ছেড়ে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে অসীলা হিসাবে গ্রহণ করতেন না। অথচ তিনি তখনো নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের পাশে যেতে পারতেন এবং তাঁর সত্তার অসীলায় দু‘আও করতে পারতেন (কিন্তু তিনি তা করেননি)। সুতরাং বুঝা গেল যে, উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্ত অসীলা গ্রহণ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ‘সত্তার অসীলা’ ছিল না বরং তাঁর দু‘আর অসীলা ছিল, যা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর পর বাতিল হয়ে গেছে। বাস্তবতা হলো, ছাহাবীগণের মধ্যে কারও নাম বা সত্তার দোহাই দিয়ে দু‘আ করার কোনো পদ্ধতিই ছিল না, বরং তারা কোনো নেককার ব্যক্তির মাধ্যমে দু‘আ করাতেন। আর এজন্যই উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর পর তাঁর চাচা আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দ্বারা দু‘আ করাতেন।

এখানে আরও একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের পাশে গিয়ে তাঁর নিকট দু‘আর জন্য আবেদন পেশ করাও ছহাবীগণের নীতি ছিল না। যদি থাকত, তাহলে উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরে গিয়ে দু‘আ করার জন্য আবেদন করতেন। তাই আহলেহাদীছগণ ওই পদ্ধতির উপর আমল করেন, যা উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে প্রমাণিত। আর তা এই যে, জীবিত উপস্থিত নেককার ব্যক্তিকে দিয়ে দু‘আ করানো। কিন্তু তার বিপরীত তাদের নাম উল্লেখ করে তাদের ব্যক্তিত্বের দোহাই দিয়ে দু‘আ করা বা করানো না কুরআন-হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত, না ছাহাবীগণের আমল দ্বারা প্রমাণিত।

(চলবে)


* শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, রাজশাহী।

[1]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৪৬; তিরমিযী, হা/৩১৪৮; ইবনু মাজাহ, হা/৪৩০৮; ছহীহুল জামে‘, হা/১৪৬৮।

[2]. ইবনে ত্বীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,مَعْنَى قَوْلِهِ “لَا تَطْرُوْنِيْ” لَا تَمْدَحُوْنِيْ كَمَدْحِ النَّصَارَى حَتّى غَلَاْ بَعْضُهُمْ فِيْ عِيْسَى فَجَعَلَهُ إِلهًا مَعَ اللهِ وَبَعْضُهُمْ اِدَّعَى أَنَّهُ هُوَ اللهُ وَبَعْضُهُمْ بْنُ اللهِ. ‘হাদীছে বর্ণিত, ‘আমার প্রশংসার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করো না’ এই কথার অর্থ হচ্ছে, তোমরা নাছারাদের প্রশংসার মতো আমার প্রশংসা করো না। কারণ তাদের অনেকে তার প্রশংসার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে তাঁকে আল্লাহর অংশীদার বানিয়ে ফেলেছে। অনেকে আবার তাঁকে সরাসরি আল্লাহর স্থান দান করেছে। অনেকে তাকে আল্লাহর সন্তান বানিয়েছে (ফাতহুল বারী, ‘হুদূদ অধ্যায়’)

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৪৫।

[4].وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا – لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِدًّا – تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنْشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا – أَنْ دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا – وَمَا يَنْبَغِي لِلرَّحْمَنِ أَنْ يَتَّخِذَ وَلَدًا – إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا.

‘তারা বলে, দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন! নিশ্চয় তোমরা এক বীভৎস কথার অবতারণা করেছ। এতে যেন আকাশসমূহ বিদীর্ণ হয়ে যাবে, পৃথিবী খণ্ড-বিখণ্ড হবে এবং পর্বতসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। এ কারণে যে, তারা দয়াময় আল্লাহর সন্তান সাব্যস্ত করে। অথচ সন্তান গ্রহণ করা পরম দয়াময়ের জন্য শোভনীয় নয়। নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলের কেউ নেই, যে দয়াময় আল্লাহর নিকট দাসরূপে উপস্থিত হবে না’ (মারইয়াম, ১৯/৮৮-৯৩)

[5]. মহান আল্লাহ বলেন, لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ ‘নিশ্চয় তারা কাফের হয়ে গিয়েছে, যারা বলে, মারইয়াম পুত্র মসীহই আল্লাহ’।

[6]. রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِيَّاكُمْ وَالْغُلُوَّ فِى الدِّينِ فَإِنَّمَا أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ الْغُلُوُّ فِى الدِّينِ ‘হে মানুষ সকল! তোমরা দ্বীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা হতে সাবধান থাকো। কেননা তোমাদের পূর্বেকার লোকদেরকে দ্বীনের ব্যাপারে তাদের বাড়াবাড়ি ধ্বংস করেছে।

[7]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১২০৯৩; জামেউল আহাদীছ, হা/২৫৭৮০; আছ-ছহীহা, হা/১০৯৭।

[8].وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ذَلِكَ قَوْلُهُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ أَنَّى يُؤْفَكُونَ – اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ.

‘ইয়াহূদীরা বলে, ‘উযাইর আল্লাহর পুত্র’ এবং খ্রিস্টানরা বলে, ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’ এটা তাদের মুখের কথা মাত্র (বাস্তবে তা কিছুই নয়)। তারা তো তাদের মতোই কথা বলছে, যারা তাদের পূর্বে অবিশ্বাস করেছে। আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন, তারা কোন্ উল্টা পথে চলে যাচ্ছে। আল্লাহকে ছেড়ে দিয়ে তারা তাদের পণ্ডিত ও সংসার বিরাগীদেরকে পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়ামের পুত্র মসীহকেও। অথচ তাদেরকে শুধু এই আদেশ করা হয়েছিল যে, তারা শুধু একক উপাস্যের উপাসনা করবে, যিনি ব্যতীত সত্য উপাস্য আর কেউ নেই, তিনি তাদের অংশীদার স্থির করা হতে পবিত্র’ (আত-তাওবা, ৯/৩০-৩১)

وَإِذْ قَالَ اللهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَهَيْنِ مِنْ دُونِ اللَّهِ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ إِنْ كُنْتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ إِنَّكَ أَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ – مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ – إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ.

‘যখন আল্লাহ বলবেন, হে ঈসা ইবনে মারইয়াম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়েছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাস্য সাব্যস্ত করো? ঈসা বলবেন, আপনি পবিত্র! আমার জন্য শোভা পায় না যে, আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোনো অধিকার আমার নেই। যদি আমি বলে থাকি, তাহলে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত; আপনি তো আমার মনের কথাও জানেন এবং আমি জানি না, যা আপনার মনে আছে। নিশ্চয় আপনি অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত। আপনি আমাকে যে আদেশ করেছন, তা ব্যতীত তাদেরকে আমি কিছুই বলিনি। তা এই যে, তোমরা আমার ও তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহর উপাসনা করো। আর যতদিন আমি তাদের মাঝে ছিলাম, ততদিন আমি ছিলাম তাদের ক্রিয়াকলাপের সাক্ষী। কিন্তু যখন আপনি আমাকে তুলে নিলেন, তখন আপনিই তো ছিলেন তাদের ক্রিয়াকলাপের পর্যবেক্ষক। আর আপনি সর্ববিষয়ের উপর সাক্ষী। যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন, তবে তারা আপনারই বান্দা। আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তবে আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’ (আল-মায়েদা, ৫/১১৬-১১৮)

[9]. আল-মায়েদা, ৫/১৫

[10]. জামেঊল বায়ান, ১০/১৪৩, ‘তাহক্বীক্ব : আহমাদ শাকের; তাফসীরে ত্বাবারী, ১০/১৪৩।

[11]. আল-মায়েদা, ৫/১৫-১৬।

[12]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬২৩৭, ‘শুআইব আল-আরনাউত্ব হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন’; মিশকাত, হা/৫৮২২।

[13]. مَنْ زَعَمَ أَنَّهُ يَعْلَمُ مَا فَيْ غَدٍ فَقَدْ أَعْظَمَ الْفِرْيَةِ ‘যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, (মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগামীকাল কী হবে তা জানে, সে নির্জলা মিথ্যাচার করল।

[14].أَعْظَمُ الْفِرْيَةِ عَلى اللهِ مَنْ قَالَ إِنَّ مُحَمَّداً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ رَأَى رَبَّهُ وَإِنَّ مُحَمَّداً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ كَتَمَ شَيْئاً مِنَ الْوَحْيِ وَإِنَّ مُحَمَّداً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يَعْلَمُ مَا فِيْ غَدٍ. ‘আল্লাহর উপর নির্জলা মিথ্যা হলো, যে ব্যক্তি বলে, মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সরাসরি তাঁর রবকে দেখেছেন, মুহাম্মাদ ওহীর কিছু অংশ গোপন রেখেছেন, মুহাম্মাদ আগামীকাল কী হবে তা জানেন।

[15]. ছহীহ মুসলিম, হা/৪৫৭।

[16]. ছহীহ বুখারী, হা/১০১০।