আয়াতুল কুরসীর ফযীলত

-মুহাম্মাদ গিয়াসুদ্দীন

আয়াতুল কুরসী আল-কুরআনুল কারীমের একটি অতীব মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ আয়াত। তা পাঠকারীর জন্য রয়েছে মহা উপকার ও অনেক ছওয়াব। এমনকি বিছানায় শয়নকালে পাঠকারীর জন্য আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে তার জন্য সংরক্ষক নিযুক্ত হয় এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার নিকটবর্তী হয় না। সে যদি ফরয ছালাতান্তে পাঠ করে, তবে অন্য ফরয ছালাত পর্যন্ত সে আল্লাহর যিম্মায় থাকে এবং জান্নাত ও তার মাঝে মৃত্যুই শুধু বাঁধা থেকে যায়। আয়াতুল কুরসী হল-

اَللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِيْ السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُوْنَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ.

অনুবাদ : ‘আল্লাহ তিনি, যিনি ব্যতীত কোন (প্রকৃত) উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক। তন্দ্রা এবং নিদ্রা কিছুই তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতীত এমন কে আছে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে, সবকিছুই তিনি জানেন। তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন, ততটুকু ছাড়া তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না। তার কুরসী আসমান ও যমীনকে বেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে মোটেই ক্লান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও সর্বাপেক্ষা মহান’ (বাক্বারাহ, ২৫৫)।

 

(১) সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত :

আয়াতুল কুরসী কুরআন মাজীদের সমস্ত আয়াতের চেয়ে বেশী ফযীলতপূর্ণ। হাদীছে এসেছে-

عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَبَا الْمُنْذِرِ أَتَدْرِىْ أَىُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللهِ مَعَكَ أَعْظَمُ قَالَ قُلْتُ اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَعْلَمُ قَالَ يَا أَبَا الْمُنْذِرِ أَتَدْرِىْ أَىُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللهِ مَعَكَ أَعْظَمُ قَالَ قُلْتُ اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ قَالَ فَضَرَبَ فِىْ صَدْرِىْ وَقَالَ وَاللهِ لِيَهْنِكَ الْعِلْمُ أَبَا الْمُنْذِرِ.

উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছঅঃ) বলেছেন, ‘হে আবুল মুনযের! তুমি কি জানো আল্লাহর কিতাব কুরআনের মধ্যে থেকে তোমার নিকট কোন আয়াতটি অধিক ফযীলতপূর্ণ? বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সর্বাধিক জ্ঞাত। তিনি আবার বললেন, ‘হে আবুল মুনযের! তুমি জানো আল্লাহর কিতাব কুরআনের মধ্যে থেকে তোমার নিকট কোন আয়াতটি অধিক ফযীলতপূর্ণ? বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আয়াতুল কুরসী, তিনি আমাকে শাবাশ জানিয়ে আমার বুকে হাত রাখলেন এবং বললেন, ‘হে আবুল মুনযের! তোমার জ্ঞানে বরকত হোক’।[1]

শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহিঃ) আয়াতটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার ব্যাপারে বলেন, এ আয়াতে যে বিষয়বস্তু সন্নিবেশিত হয়েছে, কুরআনের অন্য কোন আয়াতে তা অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে এ আয়াতের সম্মিলিত বিষয়বস্তুর কিছু আল্লাহ তা‘আলা সূরা হাদীদের প্রথম দিকে ও সূরা হাশরের শেষের কয়েক আয়াতে উল্লেখ করেছেন, শুধুমাত্র এক আয়াতে নয়।[2]

عَنِ ابْنِ الأَسْقَعِ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُوْلُ إِنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَهُمْ فِىْ صُفَّةِ الْمُهَاجِرِيْنَ فَسَأَلَهُ إِنْسَانٌ أَىُّ آيَةٍ فِى الْقُرْآنِ أَعْظَمُ قَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللهُ لاَ إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ.

ইবনে আসক্বা‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি নবী করীম (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, ‘তিনি মুহাজিরগণের মধ্যে ছুফফাবাসীদের অবস্থান স্থলে আসলে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ছাঃ)! কুরআন মাজীদের মধ্যে সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ আয়াত কোনটি? তিনি বললেন, ‘আয়াতুল কুরসী’।[3]

 

(২) আয়াতুল কুরসী পাঠকারী হতে শয়তান দূরে থাকে :

আয়াতুল কুরসী পাঠকারী হতে শয়তান দূরে থাকে; এমনকি রাতে শোয়ার জন্য বিছানায় যাওয়ার পর কেউ যদি  আয়াতুল কুরসী পাঠ করে, তাহলে তখন একজন ফেরেশতা রাতব্যাপী ঐ ব্যক্তিকে সংরক্ষণ করে, সকাল পর্যন্ত শয়তান তার নিকট আসে না। হাদীছে এসেছে-

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে রামাযানের ফিতরা সংরক্ষণের জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন। একদা এক ব্যক্তি এসে মুষ্টি ভরে ভরে ফিতরার মাল নিয়ে চলে যাচ্ছে। আমি তাকে আটকিয়ে বললাম, আমি যে কোনভাবে তোমাকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট নিয়ে যাব। সে বলল, আমি গরীব মানুষ, স্ত্রী-সন্তান আছে আর আমি অভাবের মধ্যে আছি; তাই আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম, সকালে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আবু হুরায়রা! গত রাতে তোমার বন্দীর কী হল? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! সে তার অভাবের কথা এবং স্ত্রী-সন্তানের কথা বলেছিল তাই আমি তাকে দয়া করে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘সতর্ক থাকো, সে মিথ্যা বলেছে, সে আবার আসবে’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলাতে আমি নিশ্চিত হলাম যে, সে আবার আসবে। তাই আমি তার অপেক্ষায় বসে থাকলাম, সে আসল এবং ফিতরার মাল থেকে মুষ্টি ভরে ভরে নিতে লাগল। আমি আবার তাকে আটক করলাম এবং বললাম, এখন আমি তোমাকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট নিয়ে যাব। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি অভাবী, আমার পরিবার-পরিজন আছে, ভবিষ্যতে আর আসব না। আমি দয়া করে তাকে আবার ছেড়ে দিলাম। সকালে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে জিজ্ঞস করলেন, ‘হে আবু হুরায়রা! তোমার বন্দীর কী হল? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! সে তার মারাত্মক অভাবের কথা বলল, তার পরিবার-পরিজনের চাহিদার কথা বলল, আমি দয়ার বশবর্তী হয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘সতর্ক থাকো, সে তোমার সাথে মিথ্যা বলেছে, সে আবার আসবে’। তাই আমি তৃতীয়বার তার আগমনের অপেক্ষায় থাকলাম, সে আসল এবং আবার ফিতরার মাল মুষ্টি ভরে নিতে লাগল, আমি তাকে আটক করলাম এবং বললাম, আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট নিয়ে যাব, এটা তিনবারের শেষবার। প্রত্যেকবার তুমি ওয়াদা কর যে, আসবে না। কিন্তু তুমি আবার চলে আস। সে বলল, আমি তোমাকে এমন কিছু কথা শিখাব, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে উপকৃত করবেন, কিন্তু এর বিনিময়ে তুমি আমাকে ছেড়ে দিবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঐ কথাগুলো কী? সে বলল, যখন তুমি রাতে শোয়ার জন্য বিছানায় যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে; তাহলে একজন ফেরেশতা রাতব্যাপী তোমাকে সংরক্ষণ করবেন, সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার নিকট আসবে না। একথা শুনে আমি তাকে আবার ছেড়ে দিলাম, সকালে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘গতরাতে তোমার বন্দীকে কী করলে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! সে বলল যে, আমি তোমাকে এমন কিছু কথা শিখাব, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে উপকৃত করবেন। তাই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ‘ঐ কথাগুলো কী? আমি বললাম, সে বলেছে যে, যখন তুমি রাতে বিছানায় ঘুমাতে যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করবে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা রাতব্যাপী তোমাকে সংরক্ষণ করবে, আর শয়তান তোমার নিকট আসবে না। ছাহাবীগণ যেহেতু ভালো এবং কল্যাণের কাজে উৎসাহী ছিলেন, তাই তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে কিছু বললেন না, বরং বললেন, ‘সে তোমাকে সত্য কথা শিখিয়েছে, কিন্তু সে নিজে মিথ্যুক। তুমি কি জানো গত তিন রাত ধরে তোমার নিকট কে আসত? আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেন, না। রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘সে হল শয়তান’।[4]

একই মর্মে ছাহাবী উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তার একটি খেজুরের গুদাম ছিল। একদা তিনি খেজুরের মধ্যে কিছুটা কমতি অনুভব করলেন, তাই রাতে তিনি তা পাহারা দিতে বসে গেলেন, হঠাৎ প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেদের ন্যায় একটি ছেলে আসল এবং সালাম দিল, উবাই (রাঃ) সালামের উত্তর দিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তুমি জিন না মানুষ? সে উত্তরে বলল, আমি জিন। উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ) বললেন, তোমার হাত দেখাও! তিনি হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে, তার হাত কুকুরের হাতের ন্যায়, কুকুরের ন্যায় শরীরের পশমও ছিল। উবাই ইবনে কা‘ব আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, জিনেরা কি এই আকৃতিরই? সে উত্তরে বলল, হ্যাঁ। আর জিনেরা জানে যে, তাদের মধ্যে আমার মতো শক্তিধর আর কেউ নেই। উবাই (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, এখানে কি জন্য এসেছ? জিন উত্তরে বলল, আমরা জেনেছি যে, তুমি দান করা পসন্দ কর; তাই তোমার খাদ্য থেকে আমাদের অংশ নিতে এসেছি। উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, আমাদেরকে অর্থাৎ মানুষকে কোন জিনিস তোমাদের উপদ্রব থেকে রক্ষা করবে? সে বলল, সূরা বাক্বারার আয়াতুল কুরসী তেলাওয়াত করতে পার? উবাই (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ পড়তে পারি। জিন বলল, যখন তুমি সকালে তা পাঠ করবে, তখন সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের উপদ্রব থেকে রক্ষা পাবে এবং সন্ধ্যায় পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত আমাদের উপদ্রব থেকে রক্ষা পাবে। উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ) বলেন, সকাল হলে আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট আসলাম এবং ঘটনাটি খুলে বললাম। তিনি তা শুনে বললেন, খবীছ (শয়তান) সত্য বলেছে’।[5]

(৩) প্রত্যেক ফরয ছালাতের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা জান্নাত লাভের কারণ :

হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ دُخُولِ الْجَنَّةِ إِلَّا أَنْ يَمُوتَ».

আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয ছালাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করে, তার মাঝে এবং জান্নাতের মাঝে দূরত্ব থাকে শুধু মৃত্যু’।[6]

রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী, ‘তার মাঝে এবং জান্নাতের মাঝে দূরত্ব থাকে শুধু মৃত্যু’ এর ব্যাখ্যায় ত্বীবী (রহিঃ) বলেন,  মৃত্যু হল তার ও জান্নাতে প্রবেশের প্রতিবন্ধক। অতএব, যখন তা বাস্তবে রূপ নিবে, তখনই তার জান্নাতে প্রবেশ বাস্তবায়িত হবে।[7]

(৪) আয়াতুল কুরসীতে রয়েছে ইসমে আযম :

আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে, আর আমাদেরকে সে নামগুলোর মাধ্যমে তাঁকে ডাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই বরকতময় নামগুলোর মাঝে রয়েছে ইসমে আ‘যম, যে নামের মাধ্যমে (অসীলায়) চাইলে দেয়া হয় এবং তার মাধ্যমে প্রার্থনা করলে গ্রহণ করা হয়। এ সম্পর্কে বিশ্বনবী (ছাঃ) সংবাদ দিয়েছেন, ‘নিশ্চয়ই ইসমে আ‘যম কুরআনের কতিপয় আয়াতে রয়েছে। আয়াতুল কুরসী সেই আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ, আসমা বিনতে ইয়াযীদ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি  রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কে বলতে শুনেছি, اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ ‘আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরপরিচালক’ (বাক্বারাহ, ২৫৫)। অন্যত্র আছে,

الم – اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ

‘আলিফ, লাম, মীম। আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরপরিচালক’ (আলে ইমরান, ১-২)। এ আয়াত দু’টিতে ইসমে আ‘যম  রয়েছে’।[8]

শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহিঃ)-এর মতে, ইসমে আ‘যম হল (اَلْحَيُّ) আল-হাইয়্যূ। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, আল-হাইয়্যূতে সকল গুণগুলো বিরাজমান এবং এটাই হল তার মূল। এ কারণেই কুরআনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত আয়াত হল,  اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ ‘আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরপরিচালক’। এটাই হল ইসমে আ‘যম। কেননা প্রত্যেক সৃষ্টিজীবই হায়াত কামনা করে। এজন্যই তা সকল গুণ সম্বলিত। যদি সকল গুণ একটি গুণ দ্বারা প্রকাশ করা হত, তবে আল-হাইয়্যূ দ্বারা প্রকাশ করাই যথেষ্ট হত’।[9]

ইবনুল কাইয়্যিম (রহিঃ)-এর মতে, ইসমে আ‘যম হল, আল-হাইয়্যূল কাইয়্যূম। তিনি বলেন, ইসমে আ‘যম আল্লাহ তা‘আলার এমন নাম, যার অসীলায় প্রার্থনা করা হলে কবুল করেন এবং সে নামের অসীলায় চাওয়া হলে দেয়া হয়। আর তা হল, আল-হাইয়্যূল কাইয়্যূম।[10]

আয়াতুল কুরসীর এমন ফযীলতের কথা ভেবে অনেকেই ঘরে আয়াতুল কুরসীর লিখিত কাগজ বাঁধাই করে তা‘বীয আকারে ঝুলিয়ে রাখেন। কিন্তু এভাবে ঘরে আয়াতুল কুরসী লিখিত কাগজ বাঁধাই করে রাখার আলাদা কোন উপকারিতা, সুফল কিংবা ফযীলত নেই। বরং তা ইসলামী নির্দেশনার পরিপন্থী। আয়াতুল কুরসী কুরআনের একটি আয়াত বৈ অন্য কিছু নয়। কুরআনে কারীমে এ ছাড়া আরও আয়াত রয়েছে। মুসলিমদের ঘরে ঘরে রয়েছে কুরআন। মনে রাখতে হবে, কুরআন ঘরে রাখার মাঝে আলাদা কোন ফযীলত নেই। ঘরে রাখা কুরআন তেলাওয়াত করলেই কেবল ঘরে কুরআন রাখা স্বার্থক হবে।

[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/৮১০।

[2]. মাজমূ‘আ ফাতাওয়া, ১৭/১৩০।

[3]. আবুদাঊদ, হা/৪০০৫।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/২৩১১।

[5]. হাকেম, হা/২০৬৪।

[6]. নাসাঈ, হা/৯৯২৮।

[7]. মিরকাতুল মাফাতীহ, ৩/ ৫৬।

[8]. মুসনাদে ইমাম আহমদ এর তারতীব আল-ফাতহুর রাব্বানী, কুরআনের ফযীলত ও তার তাফসীর ও অবতীর্ণের পটভূমি অধ্যায়, আয়াতুল কুরসীর ফযীলত পরিচ্ছেদ, হা/১৯৬।

[9]. মাজমূ‘আ ফাতাওয়া, ১৮/৩১১ পৃঃ।

[10]. যাদুল মা‘আদ, ৩/১৩০ পৃঃ।