ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)এর আক্বীদা বনাম হানাফীদের আক্বীদা

আব্দুল আলীম ইবনে কাওছার মাদানী
বি,এ (অনার্স), উচ্চতর ডিপ্লোমা, এম.এ এবং এম,ফিল, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব
অধ্যক্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রুপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।
(পর্ব-৭)

হাদীছ থেকে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির দলীল :

বহু হাদীছে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধি প্রমাণিত হয়। এগুলোর কতক হাদীছে সরাসরি ও স্পষ্টভাবে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির কথা এসেছে; আবার কতকগুলোতে পরোক্ষভাবে এসেছে। ইতিপূর্বে আমরা দেখে এসেছি, যে দলীল ঈমান বৃদ্ধি প্রমাণ করে, তা ঈমান হ্রাসও প্রমাণ করে। হাদীছ থেকে দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রেও ঠিক একই নীতি প্রযোজ্য হবে। নীচে হাদীছ থেকে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির কতিপয় দলীল পেশ করা হলো :

হাদীছ নং-১ : আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, لَا يَزْنِي الزَّانِي حِيْنَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَشْرَبُ الخَمْرَ حِيْنَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَسْرِقُ حِيْنَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَنْتَهِبُ نُهْبَةً يَرْفَعُ النَّاسُ إِلَيْهِ فِيْهَا أَبْصَارَهُمْ حِيْنَ يَنْتَهِبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ ‘কোন ব্যভিচারী মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না এবং কোন মদ্যপায়ী মুমিন অবস্থায় মদ পান করে না। কোন চোর মুমিন অবস্থায় চুরি করে না। কোন লুটতরাজকারী মুমিন অবস্থায় এরূপ লুটতরাজ করে না যে, যখন সে লুটতরাজ করে, তখন তার প্রতি লোক চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে’।[1]   হাদীছটিতে ‘মুমিন অবস্থায়’ উল্লিখিত পাপগুলো না করার অর্থ ‘পূর্ণ মুমিন অবস্থায়’ সেগুলো না করা। অর্থাৎ যখন কেউ এসব কাজ করে, তখন সে পূর্ণ মুমিন থাকে না; তবে তার মধ্যে অপূর্ণ ঈমান মওজূদ থাকে। আর সেকারণেই তো ব্যভিচারী, চোর, হত্যাকারীরা কাবীরা গুনাহগার হলেও তারা ‘কাফের’ নয়; বরং তারা মুমিন, তবে অপূর্ণ মুমিন। তারা তওবা করলে তাদের সাজা মওকূফ হবে আর কাবীরা গুনাহের উপর অটল থাকলে তারা আল্লাহর ইচ্ছাধীন হয়ে যাবে; তিনি চাইলে তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়ে শুরু থেকেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, আর চাইলে প্রথমে শাস্তি দিয়ে পরে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।[2]

হাদীছ নং-২ : আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন,

اَلْإِيْمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُوْْنَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّوْنَ شُعْبَةً فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيْقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيْمَانِ

‘ঈমানের ৭০ বা ৬০ টিরও উপরে শাখা রয়েছে। এর সর্বোত্তমটি হলো, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ বলা’ এবং সর্বনিম্নটি হলো, রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা। আর লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা’।[3]  হাদীছটি ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির উৎকৃষ্ট দলীল। নবাব ছিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী (রহঃ) হাদীছটি উল্লেখপূর্বক বলেন, وَفِيْ هَذَا دَلِيْلٌ عَلَى أَنَّ الْإِيْمَانَ فِيْهِ أَعْلَى وَأَدْنَى وَإِذَا كَانَ كَذَلكَ كَانَ قَابِلاً لِلزِّيَادَةِ وَالنُّقْصَانِ ‘ঈমানের যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্তর রয়েছে, তার দলীল এই হাদীছে মিলে। ব্যাপারটি যদি তাই হয়, তাহলে বুঝতে হবে- ঈমানে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে’।[4]

হাদীছ নং-৩ : আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন,

يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَفِيْ قَلْبِهِ وَزْنُ شَعِيْرَةٍ مِنْ خَيْرٍ وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَفِيْ قَلْبِهِ وَزْنُ بُرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَفِيْ قَلْبِهِ وَزْنُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ

‘যে ব্যক্তি ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু’ পড়েছে এবং তার অন্তরে একটি যবের ওযন পরিমাণ কল্যাণ (ঈমান) আছে, সে জাহান্নামের আগুন থেকে বের হয়ে আসবে। যে ব্যক্তি ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু’ পড়েছে এবং তার অন্তরে একটি গমের ওযন পরিমাণ কল্যাণ (ঈমান) আছে, সে জাহান্নামের আগুন থেকে বের হয়ে আসবে। যে ব্যক্তি ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু’ পড়েছে এবং তার অন্তরে অণু পরিমাণ কল্যাণ (ঈমান) আছে, সে জাহান্নামের আগুন থেকে বের হয়ে আসবে’।[5] হাদীছটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির পক্ষে স্পষ্টতম দলীল। সেজন্য ইমাম বুখারী (রহঃ) তাঁর ‘ছহীহ’-এর ‘ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি’ অনুচ্ছেদে হাদীছটিকে এনেছেন।[6]  ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ) ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির দলীল হিসাবে এই হাদীছসহ আরো কয়েকটি হাদীছ উল্লেখ করার পর বলেন,و وَالْأَحَادِيثُ فِي… أَنَّ الْإِيمَانَ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ سِوَى مَا ذَكَرْنَا كَثِيرَةٌ ‘যেসব হাদীছ আমরা উল্লেখ করেছি, সেগুলো ছাড়া ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির আরো বহু হাদীছ রয়েছে’।[7]

হাদীছ নং-৪ : আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيْمَانِ ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অন্যায় দেখে, সে যেন তার হাত দিয়ে তা বাধা দেয়। হাত দিয়ে সক্ষম না হলে যবান দ্বারা বাধা দেয়। যবান দিয়ে সম্ভব না হলে অন্তর দিয়ে বাধা দেয়। তবে এটা ঈমানের দুর্বলতম স্তর’।[8]  বুঝা গেল, মুমিনরা ঈমানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরভুক্ত। যার ঈমান বেশী, সে হাত দিয়ে অন্যায়কে বাধা দিতে পারে; কিন্তু যার ঈমান দুর্বল, সে অন্তর ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে বাধা দিতে পারে না। অতএব হাদীছটি ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির পক্ষে অত্যন্ত স্পষ্ট একটি দলীল। وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيْمَانِ ‘তবে এটা ঈমানের দুর্বলতম স্তর’ কথাটি ঈমানে দুর্বলতা সৃষ্টির বিষয়টি স্পষ্ট প্রমাণ করে। আর দুর্বলতা দেখা দেয়া মানেই হচ্ছে হ্রাস পাওয়া। সেজন্য ইমাম নাসাঈ ও ইবনু মান্দাহ (রাঃ) হাদীছটিকে যথাক্রমে নিম্নক্ত অনুচ্ছেদদ্বয়ে এনেছেন, تَفَاضُلُ أَهْلِ الْإِيْمَانِ ‘ঈমানদারদের মধ্যে তারতম্য’[9]  এবং ذِكْرُ خَبَرٍ يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْإِيْمَانَ قَوْلٌ بِاللِّسَانِ وَاعْتِقَادٌ بِالْقَلْبِ وَعَمَلٌ بِالْأَرْكَانِ يَزِيْدُ وَيَنْقُصُ ‘মৌখিক স্বীকৃতি, অন্তরের বিশ্বাস ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমলের নাম ‘ঈমান’, যা বাড়ে ও কমে- একথার দলীল সম্পর্কিত হাদীছ’ ।[10]

হাদীছ নং-৫: আবু উমামা বাহেলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ أَحَبَّ لِلهِ وَأَبْغَضَ لِلهِ وَأَعْطَى لِلهِ وَمَنَعَ للهِ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ الْإِيْمَانَ ‘যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালবাসল, অপসন্দ করল, দান করল, বিরত রইল, সে ঈমান পূর্ণ করল’।[11]  فَقَدِ اسْتَكْمَلَ الْإِيمَانَ ‘সে ঈমান পূর্ণ করল’ কথাটি ঈমান বাড়া ও কমার স্পষ্ট দলীল। কেননা অপূর্ণতা থেকে ছাড়া কোন কিছু পূর্ণতা পায় না। আর যখনই অপূর্ণতা সাব্যস্ত হলো, তখনই তা বৃদ্ধি অবধারিত করল। সেকারণে ঈমান বাড়তে বাড়তে ‘পূর্ণতা’ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে; আবার কমতে কমতে একদম ঈমানশূন্য হয়ে যেতে পারে। ইমাম আবুদাঊদ ও বায়হাক্বী (রহঃ) হাদীছটিকে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধি সম্পর্কিত অনুচ্ছেদে নিয়ে এসেছেন।[12]

ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির প্রমাণে এরকম বহু হাদীছ হাদীছগ্রন্থসমূহের পাতায় পাতায় জ্বলজ্বল করছে।

ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি সম্পর্কে সালাফে ছালেহীনের বক্তব্য :

সালাফে ছালেহীনের বহু বক্তব্য পাওয়া যায়, যেখানে তারা ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধি সম্পর্কিত কুরআন-হাদীছের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন এবং বলেছেন, কথা ও কাজের নাম ঈমান, যা নেকীর কাজে বৃদ্ধি পায় এবং পাপ কাজে হ্রাস পায়। বরং এব্যাপারে অনেক বিদ্বান তাদের ‘ইজমা’ উল্লেখ করেছেন। যেমন-

(১) ইয়াহ্ইয়া ইবনে সাঈদ আল-ক্বাত্ত্বান (রাঃ) বলেন, كُلُّ مَنْ أَدْرَكْتُ مِنَ الأَئِمَّةِ كَانُوا يَقُوْلُوْنَ الإِيْمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يَزِيْدُ وَيَنْقُصُ ‘আমি যেসব আইম্মায়ে কেরামকে পেয়েছি, তারা সবাই বলতেন, কথা ও কাজের নাম ঈমান, যা বাড়ে ও কমে’। [13]

(২) ইমাম আব্দুর রাযযাক্ব ছান‘আনী (রহঃ) ৬২ জন শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, যাদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করার পর বলেছেন, ُلُّهُمْ يَقُوْلُوْنَ الْإِيْمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يَزِيْدُ وَيَنْقُصُ ‘তারা সবাই বলেছেন, কথা ও কাজের নাম ঈমান, যা বাড়ে ও কমে’।[14]

(৩) ইমাম আবু উবাইদ আল-ক্বাসেম ইবনু সাল্লাম ঢ় ছাহাবায়ে কেরাম ও পরবর্তী ওলামায়ে কেরামের মধ্যে ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে বলেন, هَؤُلَاءِ كُلُّهُمْ يَقُوْلُوْنَ الْإِيْمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يَزِيْدُ وَيَنْقُصُ وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْمَعْمُوْلُ بِهِ عِنْدَنَ ‘তাদের সবাই বলেন, কথা ও কাজের নাম ঈমান, যা বাড়ে ও কমে। এটাই আহলুস সুন্নাহ-এর বক্তব্য এবং এর উপরেই আমাদের আমল চলছে’। [15]

(৪) ইমামু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রাঃ) বলেন, ৭০ জন তাবেঈ, আইম্মায়ে কেরাম এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ফক্বীহগণ ‘ইজমা’ পোষণ করেছেন যে, রাসূল (ছাঃ) যেসব সুন্নাত রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে এটাও ছিল যে, اَلْإِيْمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يَزِيْدُ بِالطَّاعَةِ وَيَنْقُصُ بِالْمَعْصِيَة ‘কথা ও কাজের নাম ঈমান, যা নেকীর কাজ দ্বারা বাড়ে এবং পাপকাজ দ্বারা কমে’।[16]

(৫) ‘আমীরুল মুমিনীনা ফিল হাদীছ’ ইমাম বুখারী (রহিঃ) বলেন, لَقِيْتُ أَكْثَرَ مِنَ أَلْفِ رَجُلٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ بِالْأَمْصَارِ فَمَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْهُمْ يَخْتَلِفُ فِي أَنَّ الْإِيْمَانَ قَوْلٌ وَعَمَلٌ وَيَزِيْدُ وَيَنْقُصُ ‘আমি বিভিন্ন অঞ্চলের ১০০০-এরও বেশী আলেমের সাক্ষাৎ পেয়েছি; কিন্তু ঈমান যে কথা ও কাজের নাম এবং বাড়ে ও কমে, সে বিষয়ে তাদের কাউকে মতভেদ করতে দেখিনি’।[17]

সুধী পাঠক! ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির ব্যাপারে যে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ‘ইজমা’ রয়েছে, এ গেল তার কিছু খন্ড চিত্র। এক্ষণে আমরা এক নযরে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির ব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন এবং তাদের পরবর্তী যুগের কয়েকজন বিশেষ ব্যক্তিত্বের বক্তব্য দেখে নিব :

১. ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) তাঁর সঙ্গী-সাথীগণকে বলতেন, هَلُمُّوا نَزْدَادُ إِيْمَانًا ‘আসুন! আমরা ঈমান বাড়াই’।[18]

২. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলতেন,اجْلِسُوا بِنَا نَزْدَدْ إِيْمَانًا ‘আমাদের সাথে বসুন, আমরা ঈমান বাড়াই’।[19] তিনি তাঁর দু‘আয় বলতেন, اَللَّهُمَّ زِدْنِيْ إِيْمَانًا وَيَقِيْنًا وَفِقْهًا  ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার ঈমান, ইয়াক্বীন ও ফিক্বহ বাড়িয়ে দিন’।[20]

৩. আবুদ্দারদা উওয়াইমির আল-আনছারী (রাঃ) বলেন, اَلْإِيْمَانُ يَزْدَادُ وَيَنْقُصُ ‘ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়’। [21]

৪. আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, اَلْإِيْمَانُ يَزْدَادُ وَيَنْقُصُ ‘ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়’। [22]

৫. উমাইয়া খলীফা ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাঃ) তাঁর ‘আল-জাযীরা’ অঞ্চলের গভর্ণর আদী ইবনু আদী (রাঃ)-এর নিকট এক চিঠিতে লিখেছিলেন, إِنَّ لِلْإِيْمَانِ فَرَائِضَ وَشَرَائِعَ وَحُدُوْدًا وَسُنَنًا فَمَنِ اسْتَكْمَلَهَا اسْتَكْمَلَ الإِيْمَانَ وَمَنْ لَمْ يَسْتَكْمِلْهَا لَمْ يَسْتَكْمِلِ الإِيْمَانَ ‘ঈমানের কতগুলো ফরয, বিধি-নিষেধ, সীমারেখা এবং সুন্নাত রয়েছে। যে সেগুলো পূর্ণভাবে আদায় করে, তার ঈমান পূর্ণ হয়। আর যে সেগুলো পূর্ণভাবে আদায় করে না, তার ঈমান পূর্ণ হয় না’।[23]

৬. বিখ্যাত মুফাসসির মুজাহিদ (রহঃ) বলেন,اَلْإِيْمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يَزِيْدُ وَيَنْقُصُ ‘কথা ও কাজের নাম ঈমান, যা বাড়ে ও কমে’। [24]

৭. সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) বলেন,اَلْإِيْمَانُ يَزِيْدُ وَيَنْقُصُ  ‘ঈমান বাড়ে ও কমে’।[25]

৮. ইমাম বুখারীর উস্তায ইসহাক্ব ইবনে রাহাওয়াইহ্ (রাঃ) বলেন, اَلْإِيْمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يَزِيْدُ وَيَنْقُصُ حَتَّى لَا يَبْقَى مِنْهُ شَيْءٌ ‘কথা ও কাজের নাম ঈমান, যা বাড়ে ও কমে, এমনকি ঈমানের কোন কিছু আর অবশিষ্ট থাকে না’। [26]

৯. ইমাম মালেক (রাঃ) বলেন, اَلْإِيْمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يَزِيْدُ وَيَنْقُصُ ‘কথা ও কাজের নাম ঈমান, যা বাড়ে ও কমে’। [27]

১০. ইমাম শাফেঈ (রাঃ) বলেন, اَلْإِيْمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يَزِيْدُ وَيَنْقُصُ ‘কথা ও কাজের নাম ঈমান, যা বাড়ে ও কমে’। [28]

১১. ইমাম আহমাদ (রাঃ) বলেন, اَلْإِيْمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يَزِيِدُ وَيَنْقُصُ إِذَا عَمِلْتَ الْخَيْرَ زَادَ وَإِذَا ضَيَّعْتَ نَقَصَ ‘কথা ও কাজের নাম ঈমান, যা বাড়ে ও কমে। আপনি যখন ভাল কাজ করবেন, তখন তা বৃদ্ধি পাবে। আর যখন মন্দ কাজ করবেন, তখন তা হ্রাস পাবে’।[29]

এ গেল ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির পক্ষে আমাদের সালাফে ছালেহীনের ছিটেফোঁটা কিছু বক্তব্য। তাদের সবার নাম ও বক্তব্য সংকলন করতে গেলে বড় ভলিউমের প্রয়োজন পড়বে। সেজন্য শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহিঃ) বলেন, ‘এ ব্যাপারে তাদের অনেক বক্তব্য রয়েছে। অনেক লেখক ছাহাবী এবং তাবেঈনের এ সম্পর্কিত বক্তব্য বহু ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহে বর্ণনা করেছেন’।[30]  যেসব গ্রন্থে এসব বিষয়ে সালাফে ছালেহীনের বক্তব্য সংকলন করা হয়েছে, সেসব গ্রন্থ পড়লে তাঁদের বক্তব্যগুলো আরো স্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে জানা যাবে। যেমন : আবু উবাইদের ‘ঈমান’, ইবনু আবী শায়বার ‘ঈমান’, ইবনু আবী শায়বার ‘আল-মুছান্নাফ’, আব্দুর রাযযাক্ব ছান‘আনীর ‘আল-মুছান্নাফ’, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদের ‘আস-সুন্নাহ’, খল্লালের ‘আস-সুন্নাহ’, আজুর্রীর ‘আশ-শারী‘আহ’, ত্বাবারীর ‘তাহযীবুল আছার’, ত্বাবারীর ‘তাফসীর’, ইবনু মান্দার ‘আল-ঈমান’, ইবনু বাত্ত্বার ‘আল-ইবানাহ আল-কুবরা’, ইবনু আবী যামানীনের ‘উছূলুস-সুন্নাহ’, লালকাঈর ‘শারহু উছূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ’, ইবনু আব্দিল বার্রের ‘আত-তামহীদ’, বায়হাক্বীর ‘শু‘আবুল ঈমান’, তাঁর ‘আল-ই‘তিক্বাদ’ ইত্যাদি। উপর্যুক্ত ওলামায়ে কেরামের সবাই ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির পক্ষেই কথা বলেছেন এবং এর পক্ষে কুরআন, হাদীছ ও সালাফে ছালেহীনের বক্তব্য তাঁদের এসব গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

তাঁদের পরে আরো বহু আলেম-ওলামা সালাফে ছালেহীনের পথ ধরে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির পক্ষেই কথা বলেছেন। যেমন- শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ, তাঁর ছাত্র ইবনুল ক্বাইয়িম, হাফেয যাহাবী, ইবনু কাছীর, ইবনু রজব, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এবং তাঁর ছাত্রবৃন্দ, আমীর ছান‘আনী, শাওকানী প্রমুখ, যাদের পূর্ণ তালিকা পেশ করা কঠিনই বটে।

এসব বই-পুস্তক ও আলেম-ওলামার সংক্ষিপ্ত তালিকা পেশ করার পর শায়খ আব্দুর রাযযাক্ব ইবনে আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ (রহঃ) বলেন,

وَالْمَقْصُوْدُ بَيَانُ أَنَّ قَوْلَ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ بِلَا رَيْبٍ، أَنَّ الْإِيْمَانَ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يَزِيْدُ وَيَنْقُصُ، لَا قَوْلَ لَهُمْ غَيْرُهُ، بَلْ هُمْ مُجْمِعُوْنَ عَلَيْهِ وَمَنْ نَسَبَ إِلَيْهِمْ خِلَافَ ذَلِكَ فَقَدْ جَهِلَ مَذْهَبَهُمْ وَنَسَبَ إِلَيْهِمْ مَا لَمْ يَقُوْلُوْهُ. ثُمَّ إِنِّيْ بَعْدَ ذَلِكَ لَأَعْجَبُ أَشَدَّ الْعَجَبِ مِمَّنْ يَعُدُّ هَذِهِ الْمَسْأَلَةَ مِنْ مَسَائِلِ الْخِلَافِ بَيْنَ أَهْلِ السُّنَّةِ ثُمَّ يَقُوْلُ: وَجُمْهُوْرُ أَهْلِ السُّنَّةِ عَلَى أَنَّهُ يَزِيْدُ وَيَنْقُصُ، وَذَلِكَ لِأَنَّهُ رَأَى الْبَعْضَ شَذَّ فِيْ هَذَا، وَأَتَى بِقَوْلٍ لَيْسَ عَلَيْهِ دَلِيْلٌ لَا مِنْ كِتَابٍ وَلَا سُنَّةٍ وَلَا عَقْلٍ، بَلِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَالْعَقْلُ عَلَى خِلَافِهِ. فَهَلْ كُلُّ مَنْ شَذَّ فِيْ مِثْلِ هَذَا عُدَّ شُذُوْذُهُ مُعْتَبَراً، وَعُدَّ الْأَمْرُ الْمُجْمَعُ عَلَيْهِ خِلَافِيًّا؟! وَهَلْ كُلُّ مَنْ خَالَفَ النُّوْرَ الْأَبْلَجَ وَالْحَقَّ الْمُبِيْنَ، عُدَّ مَا خَالَفَ فِيْهِ مِنَ الْأُمُوْرِ الْمُتَنَازَعِ فِيْهَا؟

‘এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধি সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের বক্তব্য পেশ করা। আর তা হচ্ছে এই যে, ‘কথা ও কাজের নাম ঈমান, যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়’; এর বাইরে তাদের ভিন্ন কোন বক্তব্য নেই। বরং তারা সবাই একথার উপর ‘ইজমা’ পোষণ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি ভিন্ন কোন বক্তব্য তাদের দিকে সম্বন্ধিত করে, সে আসলে তাদের মাযহাব সম্পর্কে অজ্ঞ এবং তাদের দিকে এমন কথা সম্বন্ধিত করে, যা তারা বলেননি। আমি তাদের ব্যাপারে খুবই আশ্চর্য হই, যারা এই মাসআলাটিকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মধ্যে মতভেদপূর্ণ মাসআলা মনে করে এবং বলে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অধিকাংশের বক্তব্য হচ্ছে, ঈমান বাড়ে ও কমে। মূলত যারা এমনটি মনে করে, তারা দেখেছে যে, কেউ কেউ এই মাসআলায় ব্যতিক্রমী মত প্রকাশ করেছে এবং এমন বক্তব্য নিয়ে এসেছে, যার কোনই দলীল নেই; না কুরআন থেকে, না হাদীছ থেকে আর না সেটা বিবেকগ্রাহ্য। বরং কুরআন, হাদীছ এবং সুষ্ঠু বিবেক এর বিপরীতে। যারা এমন মাসআলায় ব্যতিক্রমী ও বিরল মত প্রকাশ করে, তাদের এই বিরল মত কি ধর্তব্য এবং এর বিপরীতে ‘ইজমাযুক্ত’ একটি বিষয়কে কি মতভেদপূর্ণ বিষয় বলা চলে! যারা উজ্জ্বল আলো ও স্পষ্ট হক্বের বিরোধিতা করে, তাদের বিরোধপূর্ণ বিষয়কে কি মতভেদপূর্ণ বিষয় বলা চলে! [31]

(চলবে)

[1].   ছহীহ বুখারী, হা/২৪৭৫।

[2]. নববী (মৃঃ ৬৭৬ হিঃ), আল-মিনহাজ শারহু ছহীহি মুসলিমিবনিল হাজ্জাজ, (বৈরূত : দারু এহ্্ইয়াইত তুরাছ আল-আরাবী, ২য় প্রকাশ ১৩৯২ হিঃ), ২/৪১-৪২।

[3]. ছহীহ মুসলিম, হা/৫৮।

[4]. ছিদ্দীক্ব হাসান খান (মৃঃ ১৩০৭ হিঃ), ফাৎহুল বায়ান ফী মাক্বাছিদিল কুরআন, (ছয়দা, বৈরূত : আল-মাকতাবাহ আল-আছরিইয়াহ, ১৪১২ হিঃ/১৯৯২ খৃঃ), ৫/১৩১।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৩২৫।

[6]. ছহীহ বুখারী, ১/১৭।

[7]. বায়হাক্বী (মৃঃ ৪৫৮ হিঃ), আল-ই‘তিক্বাদ ওয়াল হেদায়াহ ইলা সাবীলির রশাদ আলা মাযহাবিস সালাফি ওয়া আছহাবিল হাদীছ, তাহক্বীক্ব: আহমাদ ইছাম আল-কাতেব (বৈরূত : দারুল আফাক্ব আল-জাদীদাহ, ১ম প্রকাশ : ১৪০১ হিঃ), পৃঃ ১৮০।

[8]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭৮।

[9]. সুনানে নাসাঈ, ৮/১১১।

[10].  ইবনু মান্দাহ (মৃঃ ৩৯৫ হিঃ), আল-ঈমান, তাহক্বীক্ব : আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নাছের আল-ফাক্বীহী, (বৈরূত : মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ২য় প্রকাশ, ১৪০৬ হিঃ), ১/৩৪১।

[11]. সুনানে আবুদাঊদ, হা/৪৬৮১, হাদীছটি ‘ছহীহ’।

[12]. দ্রষ্টব্য: আবুদাঊদ, ৪/২২০, ‘ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির দলীল’ অনুচ্ছেদ; আল-ই‘তিক্বাদ, পৃঃ ১৭৮।

[13]. যাহাবী (মৃঃ ৭৪৮ হিঃ), শারহু উছূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ, (কায়রো : দারুল হাদীছ, ১৪২৭ হিঃ/২০০৬ খৃঃ), ৭/৫৮০-৫৮১।

[14]. আল-লালকাঈ (মৃঃ ৪১৮ হিঃ), সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, তাহক্বীক্ব: আহমাদ ইবনে সা‘দ আল-গামেদী, (সঊদী আরব : দারু ত্বাইবাহ, ৮ম প্রকাশ ১৪২৩ হিঃ/২০০৩ খৃঃ), ৫/১০২৯, আ/১৭৩৭।

[15].  আল-ইবানাহ আল-কুবরা, ২/৮১৪।

[16]. ইবনুল জাওযী (মৃঃ ৫৯৭ হিঃ), মানাক্বিবুল ইমাম আহমাদ, তাহক্বীক্ব: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কী (দারু হাজর, ২য় প্রকাশ ১৪০৯ হিঃ), পৃঃ ২৩৯।

[17]. মানাক্বিবুল ইমাম আহমাদ, পৃঃ ২৩৯।

[18]. আশ-শারী‘আহ, ২/৫৮৪, আ/২১৭; আব বকর আল-খল্লাল (মৃঃ ৩১১ হি.), আস-সুন্নাহ, তাহক্বীক্ব : আতিইয়্যাহ আয-যাহরানী, (রিয়ায : দারুর রা-ইয়াহ, ১ম প্রকাশ, ১৪১০ হিঃ/১৯৮৯ খৃঃ), ৫/৪৯, আ/১৫৮৪।

[19]. শু‘আবুল ঈমান, ১/১৪৯, আ/৪৪।|

[20]. আশ-শারী‘আহ, ২/৫৮৫।

[21]. আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বাল (মৃঃ ২৯০ হিঃ), আস-সুন্নাহ, তাহক্বীক্ব : মুহাম্মাদ সাঈদ আল-ক্বাহতানী, (দাম্মাম, সঊদী আরব : দারুবনিল ক্বাইয়িম, ১ম প্রকাশ, ১৪০৬ হিঃ/১৯৮৬ খৃঃ), ১/৩১৪, আ/৬২৩; আল-ইবানাহ আল-কুবরা, ২/৮৪৩, আ/১১২৬।

[22]. আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বাল, আস-সুন্নাহ, ১/৩১৪, আ/৬২২; আল-ইবানাহ আল-কুবরা, ২/৮৪৪, আ/১১২৮।

[23]. ছহীহ বুখারী, ১/১০ (‘মু‘আল্লাক্ব’ হিসাবে); আল-ইবানাহ আল-কুবরা, ২/৮৫৮, আ/১১৬৬।

[24]. আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ, আস-সুন্নাহ, ১/৩১১, আ/৬১১; আল-ইবানাহ আল-কুবরা, ২/৮০৬, আ/১০৯৫।

[25]. আশ-শারী‘আহ, ২/৬০৫, আ/২৪১; আল-ইবানাহ আল-কুবরা, ২/৮৫০, আ/১১৪৩।

[26].  আবুবকর আল-খল্লাল, আস-সুন্নাহ, ৩/৫৮২, আ/১০১১।

[27]. শারহু উছূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ, ৫/১০২৯, আ/১৭৩৭; আশ-শারী‘আহ, ২/৬০৬, আ/২৪৩; আল-ইবানাহ আল-কুবরা, ২/৮১৩, আ/১১১৪।

[28]. শারহু উছূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ, ৫/১০২৮; শু‘আবুল ঈমান, ১/১৬১, আ/৬৬; ইবনু আব্দিল বার্র, আল-ইনতিক্বা ফী ফাযাইলিছ ছালাছাতিল আইম্মাতিল ফুক্বাহা মালেক ওয়াশ শাফেঈ ওয়া আবী হানীফা, (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ইলমিইয়্যাহ, তা. বি.), পৃঃ ৮১।

[29]. আবুবকর আল-খল্লাল, আস-সুন্নাহ, ৩/৫৮২, আ/১০১৩।

[30]. মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ, ৭/২২৫।|

[31]. যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুক্বছানুহূ ওয়া হুকমুল ইসতিছনা ফীহি, পৃঃ ১৪৮-১৪৯।