ইমাম আবু  হানীফা (রহি.)-এর আক্বীদা বনাম হানাফীদের আক্বীদা

-আব্দুল আলীম ইবনে কাওছার মাদানী*
* বি. এ. (অনার্স), উচ্চতর ডিপ্লোমা, এম. এ. এবং এম.ফিল.,
মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব;
অধ্যক্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

(পর্ব-১৪)

ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর আক্বীদা ও হানাফীদের আক্বীদার মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ :

সম্মাানিত পাঠক! এখানে ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর আক্বীদা ও আবু মানছূর মাতুরীদীর আক্বীদার মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হবে। আক্বীদার সব বিষয় এখানে স্থান পাবে না; বরং কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় আক্বীদার গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক পর্যালোচনা করা হবে। আরেকটা বিষয় এখানে খোলাসা করা ভালো, তা হচ্ছে এই যে, কেউ প্রশ্ন করতে পারে, ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর আক্বীদা ও হানাফীদের আক্বীদার মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করতে চেয়ে কেন ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর আক্বীদা ও আবু মানছূর মাতুরীদীর আক্বীদার মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হবে? এর জবাব ইতোমধ্যে গত হয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমাদের দেশের অধিকাংশ হানাফীই যেহেতু মাতুরিদী; বরং প্রায় সব হানাফীই মাতুরীদী, সেকারণে ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর আক্বীদা ও আবু মানছূর মাতুরীদীর আক্বীদার মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা মানেই ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর আক্বীদা ও হানাফীদের আক্বীদার মধ্যে বিশ্লেষণ করা। তবে যেসব হানাফী ভাই উছূল ও ফুরূ‘ বা আক্বীদা ও আমল উভয় ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-কে ইমাম হিসাবে গ্রহণ করেন, নিঃসন্দেহে সেসব ভাই তুলনামূলক এই বিশ্লেষণে ইমাম আবু হানীফা (রহি.) তথা খাঁটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের সাথেই থাকবেন। মহান আল্লাহ ইনছাফের ভিত্তিতে তথ্য-উপাত্তসহ বিশ্লেষণটি উপস্থাপনের তাওফীক্ব দান করুন।

আক্বীদার উৎস :

প্রিয় পাঠক! যে কারোরই আক্বীদার উৎস সম্পর্ক জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উৎস যতো ভালো হবে, তাত্থেকে সংগৃহীত আক্বীদা ততো সুন্দর হবে। আর আমরা ইতোপূর্বে একাধিক জায়গায় দেখে এসেছি যে, ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর নিকট সাধারণভাবে দ্বীনের সব বিয়য়ে এবং বিশেষভাবে আক্বীদা সংক্রান্ত বিষয়ে কিতাব ও ছহীহ হাদীছই ছিলো মূল উৎস। ইমাম আবু হানীফা (রহি.) আক্বীদা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনটা মুতাওয়াতির আর কোনটা আহাদ পর্যায়ের হাদীছ- সে পার্থক্যও করেননি।

কিন্তু মাতুরীদী ও তার অনুসারীদের আক্বীদার উৎস এর সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের আক্বীদার উৎস ও ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর আক্বীদার উৎসের মধ্যে রয়েছে আকাশপাতাল তফাৎ। মাতুরীদীরা আক্বীদা গ্রহণের ব্যাপারে অহি তথা কিতাব ও সুন্নাহকে ধারণ করেনি। বরং আক্বল (العقل) তথা বুদ্ধি ও যুক্তির উপর নির্ভর করেছে। মাতুরীদীদের নিকট আক্বীদার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূল উৎস হচ্ছে, আক্বল (العقل) তথা বুদ্ধি ও যুক্তি। এর ফলে তারা আল্লাহর ছিফাত বা গুণাবলির ক্ষেত্রে রূপক অর্থ গ্রহণ করে, যা প্রকারান্তরে অপব্যাখ্যা। তাছাড়া তারা আক্বীদার উৎস হিসাবে ‘আহাদ’ পর্যায়ের হাদীছকে গ্রহণ করে না।[1]  আবু মানছূর মাতুরীদীর আক্বীদার উৎস শিরোনামে এ ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত আলোচনা সদলীল দেখে এসেছি। যাহোক, উৎসেই যদি সমস্যা হয়, তাহলে পরবর্তী সব জায়গাতেই সমস্যা হবে এটাই স্বাভাবিক। ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর আক্বীদার উৎস এবং হানাফী ভাইদের আক্বীদার উৎস যদি সম্পূর্ণ আলাদা হয়, তাহলে উৎস থেকে গৃহীত আক্বীদাও আলাদা হবে এটা বুঝতে কারো বাকী থাকার কথা নয়।

আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত বক্তব্যের তাবীল বা অপব্যাখ্যা :

তা’বীল বলতে এখানে কালামশাস্ত্রীয় তা’বীল উদ্দেশ্য, যাকে এককথায় অপব্যাখ্যা বলা যায়। আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত কুরআন-হাদীছের প্রকাশ্য ও স্পষ্ট বক্তব্যকে খেয়াল-খুশি মতো ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা। এক্ষেত্রে বিবেক-বুদ্ধিকে কুরআন-হাদীছের উপর প্রাধান্য দিয়ে ছিফাত সম্পর্কিত কুরআন-হাদীছের প্রকাশ্য ও স্পষ্ট বক্তব্যকে অন্য অর্থে গ্রহণ করা। সালাফে ছালেহীনের মানহাজ ছেড়ে গ্রীকদর্শন দিয়ে কুরআন-হাদীছ বুঝতে চাইলে অবস্থা এর চেয়ে কি ভালো হতে পারে?! যাহোক, ইমাম আবু হানীফা (রহি.) তা’বীলের নামে কুরআন-হাদীছের বক্তব্যের এমন অপব্যাখ্যাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেজন্যই তো তিনি বলেছেন, وَلَا يُقَالُ إِنَّ يَدَهُ قُدْرَتُهُ أَوْ نِعْمَتُهُ، لِأَنَّ فِيهِ إِبْطَالَ الصِّفَةِ، وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْقَدْرِ وَالْاِعْتِزَالِ وَلَكِنَّ يَدَهُ صِفَتُهُ بِلَا كَيْفٍ ‘একথা বলা যাবে না যে, তার হাত মানে তার কুদরত বা শক্তি অথবা তার দান। কেননা এতে রয়েছে গুণের অস্বীকৃতি। আর এটা (গুণকে অস্বীকার) ক্বাদারিয়্যাহ ও মু‘তাযিলাদের মতবাদ। আসলে তার হাত হচ্ছে তার গুণ, যার কোনো ধরন ও প্রকৃতি কারো জানা নেই’।[2]

প্রিয় পাঠক! মাতুরীদীরা আল্লাহর হাত বৈশিষ্ট্যটিকে অবলীলাক্রমে শক্তি বা নে‘মত দিয়ে তা’বীল বা অপব্যাখ্যা করে থাকে। কিন্তু দেখুন, ইমাম আবু হানীফা (রহি.) কী চমৎকারভাবে এই অপব্যাখ্যাকে প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন, وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْقَدْرِ وَالْاِعْتِزَالِ  ‘এতে উক্ত ছিফাতটিকে বাতিল করে দেয়া হয়’। অর্থাৎ এই অপব্যাখ্যার মাধ্যমে আল্লাহর এই ছিফাত বা বিশেষণটিকেই অকেজো গণ্য করা হয়।

ইমাম আবু হানীফা (রহি.) আরো বলেন, لَا يُوْصَفُ اللهُ تَعَالَى بِصِفَاتِ الْمَخْلُوْقِيْنَ. وَغَضَبُهُ وَرِضَاهُ صِفَتَانِ مِنْ صِفَاتِهِ بِلَا كَيْفٍ وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ. وَهُوَ يَغْضَبُ وَيَرْضَى وَلَا يُقَالُ: غَضَبُهُ عُقُوْبَتُهُ وَرِضَاهُ ثَوَابُهُ ‘সৃষ্ট কোনো কিছুর বিশেষণ দ্বারা মহান আল্লাহকে বিশেষিত করা যাবে না। আল্লাহর ক্রোধ ও তার সন্তুষ্টি তার গুণাবলির মধ্যে দু’টি গুণ, যার ধরন ও প্রকৃতি কারো জানা নেই। এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের বক্তব্য। অতএব, আল্লাহ রাগ করেন এবং সন্তুষ্ট হন। তবে একথা বলা যাবে না যে, তার ক্রোধই হচ্ছে তার শাস্তি এবং তার সন্তুষ্টিই হচ্ছে তার প্রতিদান[3]

আমরা দেখলাম, এখানে আল্লাহর ক্রোধকে শাস্তি দিয়ে এবং সন্তুষ্টিকে প্রতিদান দিয়ে অপব্যাখ্যাকে তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন; বরং তিনি বললেন, ক্রোধ ও সন্তুষ্টি আল্লাহর দু’টি গুণ এবং এর কোনো ধরন ও প্রকৃতি কারো জানা নেই। আর এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের বক্তব্য। শেষের বক্তব্য দ্বারা তিনি বলতে চাইলেন, যারা এর বাইরে ভিন্ন কোনো অপব্যাখ্যামূলক অর্থ করে, তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তারা ক্বাদারিয়্যাহ, মু‘তাযিলাহ, জাহমিয়্যাহ বা অন্য কোনো মতের অনুসারী। আগের বক্তব্যটিতে তিনি একথা স্পষ্টই ঘোষণা করেছেন, তিনি বলেছেন, وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْقَدْرِ وَالْاِعْتِزَالِ   ‘আর এটা (গুণকে অস্বীকার) ক্বাদারিয়্যাহ ও মু‘তাযিলাদের মতবাদ’।

অনুরূপভাবে ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর বক্তব্যের মধ্যে ‘তাফবীয মুতলাক্ব’-এর কোনো গন্ধও পাওয়া যায় না; বরং ‘তাফবীয মুক্বাইয়্যাদ’ পাওয়া যায়। শব্দের অর্থ না জানার দাবী করে আল্লাহর দিকে এর অর্থ জানার বিষয়টি ঠেলে দিয়ে শুধুমাত্র অর্থহীন (!) শব্দটিকে সাব্যস্ত করার নাম ‘তাফবীয মুতলাক্ব’। যেমন- মহান আল্লাহ বলেন,  الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ‘পরম করুণাময় আরশের উপর সমুন্নত হয়েছেন’ (ত্বহা, ২০/৫)। যারা ‘মুফাওবিযাহ’ বা তাফবীযে বিশ্বাসী, তারা বলে, আমরা এর অর্থ জানি না, এর দ্বারা আল্লাহর কী উদ্দেশ্য, তাও জানি না। মাতুরীদীরা এই আক্বীদায় বিশ্বাসী।

কিন্তু তাদের একথা মোটেও ঠিক নয়। বরং এর অর্থ উলামায়ে কেরাম জানেন। তবে, তারা যেটা জানেন না, সেটা হচ্ছে এর ‘কাইফিয়্যাহ’ (كيفية) বা ধরন ও প্রকৃতি। সুতরাং ইমাম আবু হানীফা (রহি.)সহ গোটা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদা হচ্ছে, তারা আল্লাহর ছিফাত সমূহের ধরন জানার দাবী করেন না; বরং ধরন জানার বিষয়টি আল্লাহর দিকে ন্যস্ত করেন আর এটাই ‘তাফবীয মুক্বাইয়্যাদ’ এবং এটাই হক্ব। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের লোকেরা ছিফাত সংক্রান্ত আয়াত-হাদীছের অর্থ জানেন, মানেন ও মানুষকে বলেন। তা না হলে আল্লাহ কেন আমাদেরকে কুরআন গবেষণা করতে বললেন, যদি অর্থই জানা না যাবে?! সেজন্যই তো মহান আল্লাহর দুনিয়ার নিকটতম আসমানে অবতরণের ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা দেন, يَنْزِلُ بِلَا كَيْفٍ ‘তিনি অবতরণ করেন, কিন্তু এর কোনো ধরন ও প্রকৃতি কারো জানা নেই’।[4]   তিনি আরো বলেন, وَلَهُ يَدٌ وَوَجْهٌ وَنَفْسٌ كَمَا ذَكَرَهُ اللهُ تَعَالَى فِي الْقُرْآنِ، فَمَا ذَكَرَهُ اللهُ تَعَالَى فِي الْقُرْآنِ مِنْ ذِكْرِ الْوَجْهِ وَالْيَدِ وَالنَّفْسِ، فَهُوَ لَهُ صِفَاتٌ بِلَا كَيْفَ ‘তার হাত আছে, চেহারা আছে এবং প্রাণ আছে, যেমনটি আল্লাহ পবিত্র কুরআনে তা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে চেহারা, হাত ও প্রাণ সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা অবশ্যই তারই গুণাবলি, যার ধরন ও প্রকৃতি কারো জানা নেই’।[5]

বুঝা গেলো, তা’বীল, তাহরীফ, তা‘ত্বীল, [6]  তাফবীয মুতলাক্ব ইত্যাদি কস্মিনকালেও ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর নীতি নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আবু মানছূর মাতুরীদী ও তার অনুসারীরা কি ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর এই নীতি ও আক্বীদা গ্রহণ করতে পেরেছেন?

এর সোজাসাপ্টা জবাব হলো, মোটেও না। বরং তারা উল্টো অবলীলাক্রমে উক্ত কাজগুলো করেছেন। আবু মানছূর মাতুরীদী তো ছিফাত সম্পর্কিত আয়াত ও হাদীছকে কখনও কখনও ‘হুরূফে মুকাত্তা‘আত’ آلم، آلمر، ق، حم  ইত্যাদির মতো গণ্য করেছেন। অর্থাৎ এগুলোর অর্থ যেমন আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, ছিফাতের অর্থও তেমনি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।[7]  সুতরাং একটা অপব্যাখ্যা করাই লাগবে! মহান আল্লাহর ছিফাত সংক্রান্ত আয়াতের অপব্যাখ্যার নমুনা হলো, মহান আল্লাহ বলেন, وَجَاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ ‘আর তোমার রব ও ফেরেশতাগণ উপস্থিত হবেন’ (আল-ফাজর, ৮৯/২২)। মাতুরীদীরা এর অপব্যাখ্যা করে বলেন, وَجَاءَ رَبُّكَ بِالْمَلَكِ ‘তোমার রব ফেরেশতা নিয়ে আসবেন, অর্থাৎ ফেরেশতা পাঠাবেন’। অন্যভাবেও তারা এর অপব্যাখ্যা করেন, তারা বলেন, এর অর্থ-  أَيْ: جَاءَ وَعْدُهُ وَوَعِيْدُهُ ‘অর্থাৎ তার শান্তি ও শাস্তির প্রতিশ্রুতির ব্যাপারটা আসবে’। অন্যভাবে তারা এর অপব্যাখ্যা করে বলেন, أَمْرُ رَبِّكَ ‘তোমার রবের নির্দেশ আসবে’।[8]  আল্লাহর আগমনকে অস্বীকার করতেই এতো চোরাগলি খোঁজা!

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ বলেন, الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ‘পরম করুণাময় আরশের উপর সমুন্নত হয়েছেন’ (ত্বহা, ২০/৫)। এখানে উপরে সমুন্নত হওয়াকে অপব্যাখ্যা করে তারা আল্লাহর প্রভাব-প্রতিপত্তি ও কর্তৃত্ব অর্থ করে থাকেন! কখনও উপরে উঠাকে উচ্চ মর্যাদা বুঝিয়ে থাকেন! [9]

এতো সব কলাকৌশল অবলম্বনের পেছনে উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর গমন/আগমন ও আরশের উপরে উঠার ছিফাতটিকে অস্বীকার করা।

প্রিয় পাঠক! বুঝা গেলো, ইমাম আবু হানীফা (রহি.) তা’বীল বা অপব্যাখ্যার ব্যাপারে যে অবস্থান গ্রহণ করেছেন, আবু মানছূর মাতুরীদী ও তার ভক্তরা সে অবস্থান গ্রহণ করেননি; বরং উল্টো অবস্থান গ্রহণ করেছেন। ইমাম আবু হানীফা (রহি.) এসব তা’বীলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন কঠোরভাবে, কিন্তু মাতুরীদীরা সেগুলোকে লালন করেছেন আন্তরিকভাবে।[10]

ইলমুল কালামের ব্যাপারে উভয়ের অবস্থান : আমরা আগেই দেখে এসেছি যে, আক্বীদা বা ধর্মবিশ্বাসের ক্ষেত্রে দর্শন বা যুক্তিবিদ্যা ভিত্তিক আলোচনা বা গবেষণাকে ‘ইলমুল কালাম’ বা ‘ইলমুল মানতিক্ব’ বলা হয়। এই দর্শন ও যুক্তিবিদ্যা মূলত গ্রীকদর্শন থেকে সংগৃহীত। এতে কুরআন-সুন্নাহর দলীলের উপর বিবেককে প্রাধান্য দিয়ে আক্বীদা সম্পর্কিত বিষয়াবলি সাব্যস্ত করা হয়। এটা এক ধরনের মন্দ ইলম, যার চর্চা মোটেও কল্যাণকর নয়। আর ইলমুল কালাম অনুযায়ী আক্বীদা-বিশ্বাস পোষণ করলে বিভ্রান্তি সুনিশ্চিত। সেকারণে ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর মতো মানুষ এ বিদ্যা চর্চা অব্যাহত রাখবেন না এটাই স্বাভাবিক। তিনি প্রথম জীবনে এরূপ দর্শন ও যুক্তিবিদ্যা নির্ভর বিতর্ক চর্চা করলেও পরবর্তীতে তিনি তা বর্জন করেন। তিনি বলেন, ‘দর্শনভিত্তিক বিতর্কে আমার পারদর্শিতা ছিল… আমার জীবনের কিছু সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর আমি ভাবলাম, সালাফে ছালেহীন (দ্বীনের) প্রকৃত সত্য বিষয়ে অধিক অবগত ছিলেন। অথচ তারা এসব বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হননি। বরং এসব বিতর্ক তারা পরিহার করতেন। তারা শরী‘আত বা হুকুম-আহকাম বিষয়ে আলোচনা ও অধ্যয়নে লিপ্ত হতেন। তারা এগুলোতে উৎসাহ দিতেন, শিক্ষা করতেন, শিক্ষা দিতেন এবং এ বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করতেন। এজন্য আমি কালাম পরিত্যাগ করে ফিক্বহ চর্চায় মনোনিবেশ করি। আমি দেখলাম, দর্শনভিত্তিক আক্বীদা চর্চায় লিপ্ত মানুষগুলোর বৈশিষ্ট্য নেককার মানুষদের মতো নয়। বরং তাদের হৃদয়গুলো কঠিন, মন-মানসিকতা কর্কশ; তারা কুরআন ও হাদীছের বিরোধিতা করতে পরোয়া করে না। কালাম চর্চা যদি কল্যাণকরই হতো, তাহলে অবশ্যই সালাফে ছালেহীন তা চর্চা করতেন’। [11] নূহ আল-জামে‘ বলেন, قُلْتُ لِأَبِي حَنِيفَةَ مَا تَقُولُ فِيمَا أَحْدَثَ النَّاسُ مِنَ الْكَلَامِ فِي الْأَعْرَاضِ وَالْأَجْسَامِ فَقَالَ مقَالَاتُ الْفَلَاسِفَةِ عَلَيْكَ بِالْأَثَرِ وَطَرِيقَةِ السَّلَفِ وَإِيَّاكَ وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ فَإِنَّهَا بِدْعَةٌ ‘আমি ইমাম আবু হানীফা (রহি.) কে বললাম, ‘আ‘রায’ ও ‘আজসাম’[12]  নামে কালামশাস্ত্রীয় যেসব পরিভাষা মানুষ আবিষ্কার করেছে, সে ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী? জবাবে তিনি বলেন, এগুলো দর্শনশাস্ত্রের কথা। তোমার জন্য অপরিহার্য হচ্ছে, হাদীছ গ্রহণ করা এবং সালাফে ছালেহীনের নীতিতে চলা। পক্ষান্তরে, প্রত্যেকটি নবাবিষ্কৃত বিষয় বর্জন করা তোমার উপর যরূরী। কেননা তা বিদ‘আত’।[13]  ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর বিখ্যাত ছাত্র মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান (রহি.) বলেন, كَانَ أَبُو حَنِيْفَةَ يَحُثُّنَا عَلَى الْفِقْهِ وَيَنْهَانَا عَنِ الْكَلَامِ ‘আবু হানীফা ফিক্বহের প্রতি আমাদেরকে উৎসাহিত করতেন এবং আমাদেরকে কালাম চর্চা করতে নিষেধ করতেন’।[14]  বাযদাবী হানাফী বলেন,

وَنَحْنُ نَتَّبِعُ أَبَا حَنِيْفَةَ، فَإِنَّهُ إِمَامُنَا وَقُدْوَتُنَا فِي الْأُصُوْلِ وَالْفُرُوْعِ وَإِنَّهُ كَانَ يُجَوِّزُ تَعْلِيْمَهُ وَتَعَلُّمَهُ وَالتَّصْنِيْفَ فِيْهِ وَلَكِنْ فِيْ آخِرِ عُمُرِهِ اِمْتَنَعَ عَنِ الْمُنَاظَرَةِ فِيْهِ وَنَهَى أَصْحَابَهُ عَنِ الْمُنَاظَرَةِ فِيْهِ.

‘আমরা আবু হানীফার অনুসরণ করি। কারণ উছূল ও ফুরূ তথা আক্বীদা ও আমল উভয় ক্ষেত্রে তিনি আমাদের ইমাম ও মডেল। তিনি ইলমুল কালাম শেখানো, শেখা ও এর উপর লেখালেখি করা বৈধ বলতেন; কিন্তু তিনি শেষ জীবনে এ ব্যাপারে মুনাযারা করা থেকে বিরত থাকেন এবং তার শাগরেদদেরকেও নিষেধ করেন’।[15]

উল্লেখ্য, এতদসত্ত্বেও যেসব হানাফী ভাই ইলমুল কালাম চর্চা করেন, তারা আবু হানীফা (রহি.)-এর এসব নিন্দাজ্ঞাপক বক্তব্যকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেন। তারা যুক্তি দেখান যে, আবু হানীফা (রহি.) সহ আরো যারা ইলমুল কালামের নিন্দা করেছেন, তারা মূলত নিন্দনীয় ও মন্দ ইলমুল কালামের নিন্দা করেছেন। তারা বলতে চান, জাহমিয়্যাহ ও মু‘তাযিলারা যে ইলমুল কালাম চর্চা করেছেন, সেটা নিন্দনীয়। কিন্তু তারা যে ইলমুল কালাম চর্চা করেন, তা ঐসব নিন্দার অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা এ প্রকার ইলমুল কালাম প্রশংসনীয়।

কিন্তু এ ব্যাপারে সঠিক কথা হচ্ছে, ইলমুল কালাম পুরোটাই নিন্দনীয়। এটাকে ভালো-মন্দ দুইভাগে ভাগ করা বিদ‘আতকে দুইভাগে ভাগ করার মতো। সুতরাং যে ইলমুল কালাম ও তার চর্চাকারীদের সালাফে ছালেহীন নিন্দা করেছেন, তা সেই ইলমুল কালাম, যার ফলাফল হচ্ছে আল্লাহর ছিফাতকে অস্বীকার করা এবং বিবেককে অহির বক্তব্যের উপর প্রাধান্য দেয়া। আর বহু মাতুরীদী ও আশ‘আরী এই ইলমুল কালামই চর্চা করেন। ইমাম আহমাদ (রহি.) বলেন, عُلَمَاءُ الْكَلَامِ زَنَادِقَةُ ‘কালামশাস্ত্রের আলেমরা হচ্ছেন যিনদীক্ব’।[16]  ইবনুল ক্বাইয়িম (রহি.) বলেন, ‘আমাদের উস্তাদ বলেছেন, যে ইলমুল কালাম ও তার চর্চাকারীদের নিন্দা ও নিষেধের ব্যাপারে এবং তার ধ্বজাধারীরা অজ্ঞ, বিদ‘আতী ও পথভ্রষ্ট হওয়ার ব্যাপারে সালাফে ছালেহীন একমত পোষণ করেছেন, তা হচ্ছে সে পথ, যার উপর ভিত্তি করে তারা আল্লাহর ছিফাত, তার আরশের উপর উঠাকে অস্বীকার করে, কুরআনকে সৃষ্ট মনে করে, পরকালে আল্লাহর দর্শনকে অস্বীকার করে। মহান আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে কথা বলেছেন, তিনি কোনো কোনো বান্দার সাথেও কথা বলেছেন, প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন, পরকালে বান্দাদের মধ্যে ফায়ছালার জন্য আসবেন কালামশাস্ত্রের এ পথের মাধ্যমে তারা এসব বিষয়কে অস্বীকার করে। মূলত তারা কালামশাস্ত্র চর্চা করতে গিয়ে ভুলপথে হেঁটেছে এবং মিথ্যা অনুসঙ্গ দ্বারা দলীল পেশ করেছে। ফলে এর মাধ্যমে তারা এমন কিছু মাসআলা-মাসায়েল ধারণ করেছে, যেগুলো কুরআন, সুন্নাহ ও সুস্থ বিবেক পরিপন্থী’।[17] সুতরাং তারা যে ইলমুল কালাম লালন করছেন, তা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়, যার নিন্দা করেছেন ইমাম আবু হানীফা (রহি.) ও অন্যান্য সালাফে ছালেহীন। এজন্যই শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রহি.) তার সমসাময়িক মুতাকাল্লিমদের ব্যাপারে বলেন, وَهُمْ فِي الْحَقِيقَةِ لَا لِلْإِسْلَامِ نَصَرُوا وَلَا لِلْفَلَاسِفَةِ كَسَرُوا ‘বাস্তবতা হচ্ছে, তারা না ইসলামের সাহায্য করেছে, না দার্শনিকদের বিষদাঁত ভাঙতে পেরেছে’।[18] তিনি আরো বলেন, أَنَّ الْمَنْطِقَ الْيُونَانِيَّ لَا يَحْتَاجُ إلَيْهِ الذَّكِيُّ وَلَا يَنْتَفِعُ بِهِ الْبَلِيدُ ‘গ্রীকদর্শনের না বুদ্ধিমানের প্রয়োজন পড়ে, না নির্বোধ এর দ্বারা উপকার পায়’।[19]

কিন্তু আবু মানছূর মাতুরিদী এবং তার অনুসারীরা ইমাম আবু হানীফার এ নীতি গ্রহণ করতে পারেননি; বরং এই ইলমুল কালামই তাদের মূলধন। তারা ইলমুল কালামের গভীরে প্রবেশ করেছেন। তারা এটাকে সত্যিকারের ইলম হিসাবে বিশ্বাস করেন; বরং এটাকে সর্বোৎকৃষ্ট ইলম মনে করেন। কারণ তাদের কাছে এই বিদ্যা সন্দেহের গাঢ় অমানিশা ও অনুমানের অন্ধকার থেকে রক্ষা করতে পারে! তাদের বিশ্বাস মতে, যে ব্যক্তি ইলমুল কালাম বা ইলমুল মানতিক্ব জানে না, সে আক্বীদার বই পড়ার যোগ্যতা রাখে না এবং সে আক্বীদা বুঝতেও পারে না; বরং মানতিক্বের জ্ঞান ছাড়া কেউ আক্বীদা জানার চেষ্টা করলে সে কাফের হয়ে যেতে পারে! [20]  ইলমুল কালামই যে মাতুরীদীদের মূল পূঁজি, তার কয়েকটি প্রমাণ-

(১) আবু মানছূর মাতুরীদী বিরচিত ‘আত-তাওহীদ’ বইটির কথা আমরা ইতোপূর্বে জেনে এসেছি। বইটি পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবে যে, এটি আসলে দর্শন ও কালামশাস্ত্রের বই। এতে আল্লাহর বহু ছিফাতকে অকেজো করার এবং ছিফাত সম্পর্কিত অনেক আয়াতের অপব্যাখ্যা করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। নামে তাওহীদের বই হলেও আসলে এটি তাওহীদের বই নয়। বরং সেখানে শরী‘আতের অসংখ্য বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। মাতুরীদীরা কালামশাস্ত্রের কত গভীরে প্রবেশ করেছে এবং কত যতনে এই শাস্ত্রকে ধারণ ও লালন করেছে, তা প্রমাণের জন্য এই বইটিই যথেষ্ট।

(২) আমরা মাতুরীদীর তাফসীর গ্রন্থ ‘তা’বীলাতু আহলিস সুন্নাহ’ সম্পর্কেও জেনেছিলাম। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আল্লাহর ছিফাত সম্পর্কিত আয়াতগুলোকে জাহমিয়্যারা যেভাবে অকেজো ও অপব্যাখ্যা করেছে, সেই অকেজো-অপব্যাখ্যা এখানেও স্থান পেয়েছে। বইটির পাঠক মাত্রই বুঝতে পারবেন যে, এতে কী পরিমাণ কালামশাস্ত্রীয় যুক্তিতর্ক ঢুকানো হয়েছে! অথচ মাতুরীদীরা এই তাফসীরটিকে চূড়ান্ত মর্যাদা দেয় এবং এর ভূয়সী প্রশংসা করে। নাসাফী বলেন, كِتَابٌ لَا يُوَازِيْهِ فِيْ فَنِّهِ كِتَابٌ، بَلْ لَا يُدَانِيْهِ شَيْءٌ مِنْ تَصَانِيْفِ مَنْ سَبَقَهُ  ‘তাফসীরশাস্ত্রে এর মতো কোনো কিতাব নেই। বরং এ শাস্ত্রের এর আগের কোনো বই এর ধারেকাছেও আসতে পারবে না’।[21]

(৩) একটা বড় সংখ্যক মাতুরীদী আলেম ইলমুল কালাম শেখা ও শিখানোর কাজে তাদের জীবন শেষ করে ফেলেছেন এবং তাদের সর্বশক্তি নিঃশেষ করেছেন। যেমন- আবুল ইউসর বাযদাবী, আবুল মুঈন নাসাফী, নূরুদ্দীন ছাবূনী, নাজমুদ্দীন নাসাফী, হাফেযুদ্দীন নাসাফী, তাফতাযানী, জুরজানী, কামালুদ্দীন বায়াযী প্রমুখ।

(৪) এসব আলেম ইলমুল কালামের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। যেমন- তাফতাযানী বলেন,

 فَإِنَّ مَبْنَى عِلْمِ الشَّرَائِعِ وَالْأَحْكَامِ وَأَسَاسَ قَوَاعِدِ الْإِسْلَامِ هُوَ عِلْمُ التَّوْحِيْدِ وَالصِّفَاتِ الْمَوْسُوْمُ “بِالْكَلَامِ” اَلْمُنَجِّيْ مِنْ غَيَاهِبِ الشُّكُوْكِ وَظُلُمَاتِ الْأَوْهَامِ

‘শরী‘আত ও হুকুম-আহকাম সম্পর্কিত ইলম এবং ইসলামের মূলনীতির ভিত্তি হচ্ছে তাওহীদ ও ছিফাত সম্পর্কিত ইলম। যে ইলমকে ইলমুল কালাম নামে অভিহিত করা হয়। এই ইলম সন্দেহের গাঢ় অমানিশা ও অনুমানের অন্ধকার থেকে রক্ষা করতে পারে’।[22]

বুঝা গেলো, মাতুরীদীরা কালামশাস্ত্র বর্জনের ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-কে বয়কট করে উল্টো পথে হেঁটেছে। ইমাম আবু হানীফা (রহি.) ছিলেন সালাফী। তিনি কুরআন ও হাদীছের পথেই হেঁটেছেন। কোনো অবস্থাতেই এতদুভয় থেকে দূরে সরে যাননি। শরী‘আতের কোনো বক্তব্যের অপব্যাখ্যার তো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু মাতুরীদীরা ইলমুল কালামের পথ ধরে অনেক আয়াত ও হাদীছের অপব্যাখ্যা করেছে। প্রমাণিত হলো, ইমাম আবু হানীফা (রহি.)-এর মানহাজ এবং  হানাফীদের মানহাজের মধ্যে রয়েছে ঢের তফাত।[23] আর ইমাম আবু হানীফা (রহি.) ও হানাফীদের মধ্যে মানহাজ, মূলনীতি ও আদর্শগত এ পার্থক্যের কারণে উক্ত মানহাজের উপর প্রতিষ্ঠিত আক্বীদার মৌলিক বিষয়াবলির মধ্যেও হয়ে গেছে অনেক পার্থক্য। সামনের আলোচনায় আক্বীদার মৌলিক বিষয়াবলির সেসব পার্থক্যই আমরা দেখবো ইনশাআল্লহ।

 (চলবে)

[1]. দ্রষ্টব্য: মাতুরীদী, আত-তাওহীদ, পৃ. ৯; আল-ফিরাকুল কালামিয়্যাহ, পৃ. ১৭৯।

[2]. আল-ফিক্বহুল আকবার, পৃ. ২৭।

[3]. আল-ফিক্বহুল আকবার, পৃ. ১৫৯।

[4]. আব্দুল গনি আল-মাক্বদেসী (মৃত্যু: ৬০০ হি.), আল-ইক্বতিছাদ ফিল ই‘তিক্বাদ, (মদীনা: মাকতাবাতুল উলূমি ওয়াল হিকাম, ১ম প্রকাশ: ১৪১৪ হি./১৯৯৩ খৃ.), পৃ. ১০৯; ঈযাহুদ দালীল ফী ক্বত‘ই হুজাজি আহলিত তা‘ত্বীল, পৃ. ৪১।

[5]. আল-ফিক্বহুল আকবার, পৃ. ২৭।

[6]. এসব পরিভাষার ব্যাখ্যা গত হয়ে গেছে।

[7]. দ্রষ্টব্য: আবু মানছূর মাতুরীদী, কিতাবুত তাওহীদ, (ইস্কেন্দারিয়্যাহ: দারুল জামি‘আত আল-মিছরিয়্যাহ, তা.বি.), পৃ. ৭৪-৪৫।

[8].  দ্রষ্টব্য: আবু মানছূর মাতুরীদী, তা’বীলাতু আহলিস সুন্নাহ, (বৈরূত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১ম প্রকাশ: ১৪২৬ হি./২০০৫ খ্রী.), ১০/৫২৩-৫২৪।

[9]. দ্রষ্টব্য: আবু মানছূর মাতুরীদী, কিতাবুত তাওহীদ, পৃ. ৭০, ৭১, ৭৩ ও ৭৪।

[10]. এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন: উছূলুদ-দ্বীন ‘ইনদাল ইমাম আবী হানীফা, পৃ. ৫৭৫-৫৮৬।

[11]. আল-জাওয়াহিরুল মুযিয়্যাহ ফী ত্ববাক্বাতিল হানাফিয়্যাহ, ১/৪৬৮।

[12]. এসব দর্শনশাস্ত্রীয় পরিভাষা দ্বারা তারা আল্লাহর ছিফাতকে অস্বীকার করে।

[13]. যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি, ৫/২০৬-২০৭, আ/১০০৬।

[14]. যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি, ৫/২২১, আ/১০২০।

[15]. বাযদাবী, উছূলুদ্দীন, (কায়রো: আল-মাকতাবাতুল আযহারিয়্যাহ, ১ম প্রকাশ: ১৪২৪ হি./২০০৩ খ্রী.)

[16]. ইবনুল ক্বাইয়িম, আছ-ছওয়া‘একুল মুরসালাহ ফির-রদ্দি আলাল-জাহমিয়্যাহ, (রিয়াদ: দারুল আছেমাহ, ১ম প্রকাশ: ১৪০৮ হি.), ৪/১২৬৬।

[17]. আছ-ছওয়া‘একুল মুরসালাহ, ৪/১২৬৬-১২৬৭।

[18]. মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়াহ, ৫/৩৩।

[19]. ইবনে তাইমিয়াহ, আর-রদ্দু আলাল মানতিক্বিঈন, (বৈরূত: দারুল মা‘রেফাহ, তা. বি.), পৃ. ৩; মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়াহ, ৯/৮২।

[20]. আল-মাতুরীদিয়্যাহ: দিরাসাতান ওয়া তাক্ববীমান, পৃ. ১৩৭।

[21]. আল-জাওয়াহিরুল মুযিয়্যাহ ফী ত্ববাক্বাতিল হানাফিয়্যাহ, ২/১৩০।

[22]. সা‘দুদ্দীন তাফতাযানী, শারহুল আক্বাইদ আন-নাসাফিয়্যাহ, (কায়রো: মাকতাবাতুল কুল্লিয়াতিল আযহারিয়্যাহ, ১ম প্রকাশ: ১৪০৭ হি./১৯৮৭ খ্রী.), পৃ. ৯।

[23]. বিস্তারিত দ্রষ্টব্য: : উছূলুদ-দ্বীন ‘ইনদাল ইমাম আবী হানীফা, পৃ. ৫৫৮৬-৫৯১।