ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর আক্বীদা বনাম হানাফীদের আক্বীদা

-আব্দুল আলীম ইবনে কাওছার মাদানী*

বি. এ. (অনার্স), উচ্চতর ডিপ্লোমা, এম.এ এবং এম.ফিল,

মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব,

অধ্যক্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রুপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

(পর্ব-৬)

ঈমান কী?[1] ‘আল-ঈমান’ (الإيمان) শব্দটি বাবেإفعال -এর মাছদার বা ক্রিয়ামূল। অভিধানিক অর্থ-اَلتَّصْدِيْقُ  ‘আন্তরিক বিশ্বাস’,اَلْإِقْرَارُ وَالطَّمَأْنِيْنَةُ  ‘স্বীকৃতি ও প্রশান্তি’। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রাহঃ) শেষোক্ত অর্থটাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কেননা হৃদয়ে যখন আন্তরিক বিশ্বাস ও বশ্যতা স্থান পায়, তখনই কেবল স্বীকৃতি ও প্রশান্তি অর্জিত হয়।[2] শরী‘আতের পরিভাষায়,

تَصْدِيْقٌ بِالْجِنَانِ وَقَوْلٌ بِاللِّسَانِ، وَعَمَلٌ بِالْجَوَارِحِ وَالْأَرَكَانِ يَزِيْدُ بِالطَّاعَةِ وَيَنْقُصُ بِالْمَعْصِيَةِ.

‘অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি, আমলে বাস্তবায়নের নাম ঈমান, যা পুণ্য দ্বারা বৃদ্ধি পায় এবং পাপ দ্বারা হ্রাস পায়’।[3]

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের নিকট, কথা ও কাজের নাম ঈমান। এর ভূরি ভূরি দলীল মিলে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

اَلْإِيْمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُوْنَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّوْنَ  شُعْبَةً فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيْقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيْمَانِ.

‘ঈমানের ৭০ বা ৬০টিরও উপরে শাখা রয়েছে। এর সর্বোত্তমটি হলো, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলা এবং সর্বনিম্নটি হলো, রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা। আর লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা’।[4] হাদীছটিতে ‘রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা’-কে ঈমানের একটি শাখা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ‘রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা’ কাজ নয় কি? ইবনু আবিল ইয্ আল-হানাফী (রাহঃ) বলেন,

فَإِذَا كَانَ الْإِيْمَانُ أَصْلًا لَهُ شُعَبٌ مُةَعَدِّدَةٌ وَكُلُّ شُعْبَة مِنْهَا تُسَمَّى إِيمَانًا فَالصَّلَاة مِنَ الْإِيمَانِ وَكَذَلِكَ الزَّكَاة وَالصَّوْمُ وَالْحَجُّ وَالْأَعْمَالُ الْبَاطِنَة، كَالْحَيَاءِ وَالتَّوَكُّلِ وَالْخَشْيَة مِنَ اللهِ وَالْإِنَابَة إِلَيْهِ، حَتَّى تَنْتَهِي هَذِهِ الشُّعَبُ إِلَى إِمَاطَة الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ فَإِنَّهُ مِنْ شُعَبِ الْإِيمَانِ.

‘ঈমান হচ্ছে মূল, যার বহু শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এর প্রত্যেকটি শাখাকে ‘ঈমান’ বলা হয়। ফলে ছালাত, যাকাত, ছওম ও হজ্জ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে গোপন আমলও। যেমন লজ্জা, ভরসা, আল্লাহর ভয় ও তাঁর নিকট তওবা। এভাবে ‘রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা’ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে এসব শাখা-প্রশাখা। কেননা সেটাও ঈমানের অন্তর্ভুক্ত’।[5] সেজন্য, ঈমানের পারিভাষিক অর্থে মৌলিকভাবে পাঁচটি বিষয় থাকা যরূরী। যথা- ১. অন্তরের কথা, ২. মুখের স্বীকৃতি, ৩. অন্তরের আমল, ৪. মুখের আমল ও ৫. অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমল।[6]

খারেজী, মু‘তাযিলী, মুরজিঈ সহ অনেক দল ও ব্যক্তি ঈমানের সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যায় বিভ্রান্ত হয়েছে। তারা ঈমানের উপর্যুক্ত প্রামাণ্য ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি।

আমল কি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত?

উপর্যুক্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, আমল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে এ সম্পর্কে আরো কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হলো। ইমাম আউযাঈ (রাহঃ) বলেন,

كَانَ مَنْ مَضَى مِنَ السَّلَفِ لَا يُفَرِّقُوْنَ بَيْنَ الْإِيْمَانِ وَالْعَمَلِ فَمَنِ اسْتَكْمَلَهَا اسْتَكْمَلَ الْإِيْمَانَ وَمَنْ لَمْ يَسْتَكْمِلْهَا لَمْ يَسْتَكْمِلِ الْإِيْمَانَ.

‘সালাফে ছালেহীন ঈমান এবং আমলের মধ্যে কোন পার্থক্য করতেন না। যে আমল পূর্ণ করল, সে ঈমান পূর্ণ করল। আর যে আমল পূর্ণ করল না, সে ঈমান পূর্ণ করল না’।[7] তিনি আরো বলেন,

وَكَانَ مَنْ مَضَى مِنْ سَلَفِنَا لَا يُفَرِّقُوْنَ بَيْنَ الْإِيْمَانِ وَالْعَمَلِ وَالْعَمَلُ مِنَ الْإِيْمَانِ وَالْإِيْمَانُ مِنَ الْعَمَلِ.

‘আমাদের সালাফে ছালেহীন ঈমান এবং আমলের মধ্যে কোন পার্থক্য করতেন না। আমল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত এবং ঈমান আমলের অন্তর্ভুক্ত’।[8]

আমল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হওয়ার বহু দলীল মিলে। যেমন- আল্লাহ বলেন,

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ -الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ -أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ.

‘নিশ্চয় মুমিনরা এরূপই হয় যে, যখন (তাদের সামনে) আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন তাদের অন্তরসমূহ ভীত হয়ে পড়ে, আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পায়, আর তারা নিজেদের রবের উপর ভরসা করে। যারা ছালাত ক্বায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক্ব দিয়েছি, তা হতে ব্যয় করে। তারাই হলো সত্যিকারের ঈমানদার’ (আল-আনফাল ৮/২-৪)। রাসূল (ছাঃ) আব্দুল ক্বায়স প্রতিনিধি দলকে প্রশ্ন করেছিলেন,

هَلْ تَدْرُوْنَ مَا الإِيْمَانُ بِاللهِ؟ قَالُوْا اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَعْلَمُ قَالَ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللهِ وَإِقَامُ الصَّلَاةِ وَإِيْتَاءُ الزَّكَاةِ وَأَظُنُّ فِيْهِ صِيَامُ رَمَضَانَ وَتُؤْتُوْا مِنَ المَغَانِمِ الخُمُسَ.

‘তোমরা কি জানো, ঈমান কী? তারা বলেছিলেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তখন তিনি বলেছিলেন, আল্লাহ ছাড়া কোন হক্ব মা‘বূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল- একথার সাক্ষ্য দেয়া, ছালাত ক্বায়েম করা, যাকাত আদায় করা। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয়, এতে রামাযানের ছিয়ামও আছে- এবং গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ দান করা’।[9] রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন,

اَلْإِيْمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُوْنَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّوْنَ شُعْبَةً فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيْقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيْمَانِ.

‘ঈমানের ৭০ বা ৬০টিরও উপরে শাখা রয়েছে। এর সর্বোত্তমটি হলো, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ এবং সর্বনিম্নটি হলো, রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা। আর লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা’।[10] এসব আয়াত ও হাদীছে ছালাত আদায়, যাকাত প্রদান, দান-ছাদাক্বাহ, ছিয়াম পালন, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূরীকরণ ইত্যাদিকে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঈমানের কি হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে? ঈমানের পরিচয়ের সাথে ‘ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি’র বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণও বটে। সেজন্য ঈমানের সংজ্ঞার সাথে সেটিকে অনেকেই উল্লেখ করেছেন। এক্ষণে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।

কুরআন-হাদীছে বহু দলীল-প্রমাণ পাওয়া যায়, যেগুলো ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি প্রমাণ করে। আরো প্রমাণ করে যে, ঈমানদারগণ সমপর্যায়ের নয়; বরং তাদের কেউ কেউ ঈমানের দিক দিয়ে অপেক্ষাকৃত বেশী পরিপূর্ণ, কেউ কল্যাণের কাজে অগ্রগামী, কেউ মধ্যপন্থী, কেউ নিজের প্রতি যুলমকারী। তারা সবাই দ্বীনের ব্যাপারে এক স্তরে নয়; বরং আল্লাহ তাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, যে দলীল ঈমান বৃদ্ধি প্রমাণ করে, তা ঈমান হ্রাসও প্রমাণ করে। অনুরূপভাবে, যা ঈমান হ্রাস প্রমাণ করে, তা ঈমান বৃদ্ধিও প্রমাণ করে। সুতরাং যেসব দলীল ঈমান বৃদ্ধি প্রমাণের জন্য পেশ করা হবে, সেগুলো ঈমান হ্রাসপ্রাপ্তিও প্রমাণ করবে। কেননা- (১) একটি উল্লেখ করলে বিপরীতটি আবশ্যিকভাবে প্রমাণিত হয়। (২) যাতে বৃদ্ধি ঘটতে পারে, তাতে হ্রাসও ঘটতে পারে। (৩) কোন কিছু বৃদ্ধি পেলে কম থেকেই তো তা বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ কম না হলে তা বৃদ্ধি পাবে কিভাবে? এসব কারণে ওলামায়ে কেরাম ঈমান বৃদ্ধির দলীলগুলোকেই ঈমান হ্রাসের দলীল হিসাবে পেশ করেছেন এবং এর বিপরীতটিও করেছেন। সেজন্য ইমাম বুখারী (রাহঃ) তাঁর ‘ছহীহ’-তে ঈমান বৃদ্ধির দলীলগুলোকে ‘ঈমান বৃদ্ধি পাওয়া ও হ্রাস পাওয়া’ (بَابُ زِيَادَةِ الْإِيْمَانِ وَنُقْصَانِهِ) অনুচ্ছেদে উল্লেখ করে প্রমাণ করেছেন যে, সেগুলো একই সাথে ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি উভয়টিই সাব্যস্ত করে।[11] ইবনু হাজার (রাহঃ) উক্ত অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যায় বলেন,

ثُمَّ شَرَعَ الْمُصَنِّفُ يَسْتَدِلُّ لِذَلِكَ بِآيَاتٍ مِنَ الْقُرْآنِ مُصَرِّحَةٍ بِالزِّيَادَةِ وَبِثُبُوْتِهَا يَثْبُتُ الْمُقَابِلُ فَإِنَّ كُلَّ قَابِلٍ لِلزِّيَادَةِ قَابِلٌ لِلنُّقْصَانِ ضَرُوْرَةً.

‘এরপর লেখক ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি প্রমাণের জন্য কুরআনের এমন কিছু আয়াত পেশ করেছেন, যেগুলো বাহ্যত ঈমান বৃদ্ধি প্রমাণ করে। তবে ঈমান বৃদ্ধি প্রমাণিত হওয়া মানে এর বিপরীত দিকও প্রমাণিত হওয়া। কেননা যা বৃদ্ধি পায়, তা নিশ্চিতরূপে হ্রাসও পায়’।[12]

অতএব ঈমান বৃদ্ধির যেসব দলীল এখানে পেশ করা হবে, সেগুলো ঈমান বৃদ্ধি প্রমাণের সাথে সাথে ঈমান হ্রাসও প্রমাণ করবে। অনুরূপভাবে ঈমান হ্রাসের যেসব দলীল পেশ করা হবে, সেগুলো ঈমান হ্রাস প্রমাণের সাথে সাথে ঈমান বৃদ্ধিও প্রমাণ করবে।

পবিত্র কুরআন থেকে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির দলীল :

নীচে পবিত্র কুরআন থেকে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির কতিপয় দলীল পেশ করা হলো :

১. যেসব আয়াতে সরাসরি ঈমান বৃদ্ধির স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় :

পবিত্র কুরআনের ৬ স্থানে সরাসরি ঈমান বৃদ্ধির সুস্পষ্ট বক্তব্য এসেছে। যথা-

মহান আল্লাহ বলেন,

الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

‘যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, তোমাদের সাথে মোকাবিলা করার জন্য লোকেরা সমবেত হয়েছে। অতএব তোমরা তাদেরকে ভয় কর। কিন্তু তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক’ (আলে ইমরান ৩/১৭৩)

তিনি আরো বলেন,

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ

‘মুমিন তো কেবল তারাই, যাদের সামনে যখন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন তাদের অন্তরসমূহ ভীত হয়ে পড়ে। আর যখন তাদের সামনে তার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দেয় এবং তারা তাদের রবের উপর ভরসা করে’ (আল-আনফাল, ৮/২)

এছাড়া সূরা আত-তাওবাহ (৯/১২৪), আল-আহযাব (৩৩/২২), আল-ফাত্হ (৪৮/৪), আল-মুদ্দাছছির (৭৪/৩১)-এ সরাসরি ঈমানবৃদ্ধির এমন বক্তব্য এসেছে।

এই আয়াতগুলো ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির স্পষ্টতম দলীল। সেজন্য ওলামায়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ এগুলো দিয়ে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির দলীল গ্রহণ করেছেন। সুফইয়ান ইবনে উয়্যাইনা (রাহঃ)-কে ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আপনারা কি فَزَادَهُمْ إِيْمَانًا؛ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى আয়াতগুলো পড়েন না? তাকে বলা হলো, তাহলে ঈমান কি কমে যায়? তিনি বললেন, لَيْسَ شَيْءٌ يَزِيْدُ إِلَّا وَهُوَ يَنْقُصُ ‘কমে না, অথচ বাড়ে- এমন কিছু নেই’।[13]

২. যেসব আয়াতে ‘হেদায়াত’ বৃদ্ধির স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়:

‘হেদায়াত’ ‘ঈমান’-এর অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কুরআনের ৩ জায়গায় ‘হেদায়াত’ বৃদ্ধির কথা এসেছে। যথা-

মহান আল্লাহ বলেন,

وَيَزِيدُ اللَّهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى

‘আর যারা সৎপথে চলে, আল্লাহ তাদের হেদায়াত বৃদ্ধি করে দেন’ (মারিয়াম, ১৯/৭৬)

এছাড়া সূরা মুহাম্মাদ (৪৭/১৭) ও সূরা আল-কাহ্ফ (১৮/১৩)-এ হেদায়াতবৃদ্ধির এমন বক্তব্য পাওয়া যায়।

উপর্যুক্ত আয়াতসমূহে হেদায়াত বৃদ্ধির সুস্পষ্ট বক্তব্য এসেছে। আর হেদায়াত ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ বলেন,

فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا.

‘অতএব তোমরা যেরূপ ঈমান এনেছ, তারাও যদি তদ্রূপ ঈমান আনে, তাহলে অবশ্যই তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে’ (আল-বাক্বারাহ, ২/১৩৭)। এজাতীয় আরো বেশ কিছু আয়াত রয়েছে।

এসব আয়াতে হেদায়াতবৃদ্ধিই প্রমাণ করে, ঈমানও বৃদ্ধি পায়। সেকারণে ওলামায়ে কেরাম এসব আয়াতকে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির দলীল হিসাবে পেশ করেছেন। হাফেয ইবনু কাছীর (রাহঃ) وَزِدْنَاهُمْ هُدًى ‘এবং আমি তাদের হেদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম’ আয়াতাংশের তাফসীর করতে গিয়ে বলেন,

اسْتَدَلَّ بِهَذِهِ الْآيَةِ وَأَمْثَالِهَا غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْأَئِمَّةِ كَالْبُخَارِيِّ وَغَيْرِهِ مِمَّنْ ذَهَبَ إِلَى زِيَادَةِ الْإِيمَانِ وَتَفَاضُلِهِ، وَأَنَّهُ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ.

‘ইমাম বুখারীসহ যারা ঈমান বৃদ্ধি পাওয়ার কথা বলেছেন, তারা সবাই এ আয়াত এবং এজাতীয় অন্যান্য আয়াতকে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন’।[14]

৩. যে আয়াতে ‘খুশূ’ বা ‘আল্লাহর ভয়’ বৃদ্ধির বক্তব্য পাওয়া যায় :

পবিত্র কুরআনের ১ জায়গায় এমন বক্তব্য পাওয়া যায়। আহলে কিতাবদের আলেম-ওলামার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন,

وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا

‘আর তারা কাঁদতে কাঁদতে নতমস্তকে ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে এবং এটা তাদের আল্লাহর ভয় বাড়িয়ে দেয়’ (বানী ইসরাঈল, ১৭/১০৯)। ‘খুশূ’ বাড়ে মানে ঈমান বাড়ে। ইবনু কাছীর (রাহঃ) বলেন,

وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا أَيْ إِيْمَانًا وَتَسْلِيْمًا.

‘আর আল্লাহ তাদের ভয় বাড়িয়ে দেন’ অর্থাৎ ‘ঈমান ও আত্মসমর্পণ’ বাড়িয়ে দেন’।[15] বুঝা গেল, আয়াতে উল্লিখিত ‘খুশূ’ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

৪. যেসব আয়াতে আল্লাহ কতক মুমিনকে কতকের উপর মর্যাদা দিয়েছেন : যেমন:

মহান আল্লাহ বলেন,

لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَفَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًا

‘মুমিনদের মধ্যে যারা কোন ওযর ছাড়াই গৃহে উপবিষ্ট এবং যারা স্বীয় ধন ও প্রাণ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, তারা সমান নয়। যারা ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে, আল্লাহ তাদেরকে গৃহে অবস্থানকারীদের উপর উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন এবং সকলকেই আল্লাহ কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ উপবিষ্টদের উপর জিহাদকারীদেরকে মহা পুরস্কার দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন’ (আন-নিসা, ৪/৯৫)। এ জাতীয় আরো কিছু আয়াত পবিত্র কুরআনে পাওয়া যায়।

ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধি ও মুমিনদের একে অপরের মর্যাদার তারতম্যের এগুলোই স্পষ্ট দলীল। আর মহান আল্লাহ তাদের মর্যাদার যে তারতম্য করেছেন, তা ঈমান ও আনুগত্যের কারণে; সুন্দর চেহারা বা অঢেল সম্পদের কারণে নয়। ইবনু বাত্ত্বাহ (রাহঃ) মুমিনদের পারস্পরিক মর্যাদার তারতম্য সম্বলিত কতিপয় আয়াত উল্লেখ করে বলেন, ‘জ্ঞানী-গুণী-বিবেকমান সবাই জানেন যে, অগ্রগামী পশ্চাদ্বর্তীর চেয়ে উত্তম এবং অনুসৃত ও অনুসারী সমান নয়। মহান আল্লাহ চমৎকার শারীরিক গঠন, উজ্জ্বল চেহারা, সুন্দর পোশাক ও অঢেল সম্পত্তির কারণে মানুষের পরস্পরকে পরস্পরের উপর মর্যাদা দেননি…। ফলে আমরা বুঝতে পারলাম যে, উচ্চ মর্যাদা হয়ে থাকে শুধু দৃঢ় ও শক্তিশালী ঈমান এবং ভাল আমল ও একনিষ্ঠ নিয়তের মাধ্যমে, সেদিকে অগ্রগামিতার কারণে…। অতএব এসব আয়াত এবং এজাতীয় অন্যান্য আয়াত ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি ও মুমিনদের পারস্পরিক মর্যাদার তারতম্য প্রমাণ করে…। ঈমান যদি সব এক হত এবং এতে হ্রাস-বৃদ্ধির ব্যাপার না থাকত, তাহলে তাদের একজনের উপর অপরজনের অতিরিক্ত কোন মর্যাদা থাকত না’।[16]

৫. যেসব আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে মুমিনদের পারস্পরিক মর্যাদার তারতম্য উল্লেখ করেছেন :

এসব আয়াত ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি প্রমাণ করে। কেননা জান্নাতে তাদের মর্যাদার তারতম্যের কারণই হচ্ছে ঈমানে তাদের তারতম্য। যার ঈমান যত দৃঢ় ও শক্ত, জান্নাতে তার মর্যাদাও তত উচ্চ। এরশাদ হচ্ছে,

أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ.

‘তারাই প্রকৃত মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট উচ্চ মর্যাদাসমূহ এবং ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযক্ব’ (আল-আনফাল, ৮/৪)। এরকম আরো কতিপয় আয়াত আছে, যেগুলো মুমিনদের তারতম্য প্রমাণ করে। এসব আয়াত ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধিই প্রমাণ করে। কারণ এমন তারতম্য কেবল ঈমানে কমবেশীর কারণেই হবে। ইবনু হিববান  (রাহঃ) বলেন,

فَمَنْ أَتَى بِالْإِقْرَارِ الَّذِيْ هُوَ أَعْلَى شُعَبِ الْإِيْمَانِ وَلَمْ يُدْرِكِ الْعَمَلَ ثُمَّ مَاتَ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ أَتَى بَعْدَ الْإِقْرَارِ مِنَ الْأَعْمَالِ قَلَّ أَوْ كَثُرَ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ جَنَّةً فَوْقَ تِلْكَ الْجَنَّةِ لِأَنَّ مَنْ كَثُرَ عَمَلُهُ عَلَتْ دَرَجَاتُهُ وَارْتَفَعَتْ جَنَّتُهُ لَا أَنَّ الْكُلَّ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ يَدْخُلُوْنَ جَنَّةً وَاحِدَةً وَإِنْ تَفَاوَتَتْ أَعْمَالُهُمْ وَتَبَايَنَتْ لِأَنَّهَا جِنَانٌ كَثِيْرَةٌ لَا جَنَّةٌ وَاحِدَةٌ.

‘যে ব্যক্তি ঈমানের সর্বোচ্চ শাখার স্বীকৃতি দিল এবং কোন আমল করতে সক্ষম না হয়ে মারা গেল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। কিন্তু যে ব্যক্তি উক্ত শাখার স্বীকৃতি প্রদানের পর কম বা বেশী আমল করে মারা গেল, সে ঐ জান্নাতে প্রবেশ করবে, যা আগের ব্যক্তির জান্নাতের উপরে। কেননা যার আমল বেশী হলো, তার মর্যাদা উঁচু হলো। এমনটা নয় যে, সকল মুসলিম আমলের তারতম্য হওয়া সত্ত্বেও একই জান্নাতে প্রবেশ করবে। কেননা সেখানে বহু জান্নাত হবে; শুধু একটি জান্নাত নয়’।[17]

৬. মহান আল্লাহ কর্তৃক ‘দ্বীনের পূর্ণতা’ ঘোষণা সম্পর্কিত আয়াত :

পবিত্র কুরআনে ঘোষিত হয়েছে,

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا.

‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসাবে মনোনীত করলাম’ (আল-মায়েদাহ, ৫/৩)। আয়াতটিকে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির স্পষ্ট দলীল হিসাবে গণ্য করা হয়। কেননা এখানে দ্বীন পরিপূর্ণ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আর পূর্ণতার সামান্যতম অংশও যদি বাদ রাখা হয়, তবুও তাকে অসম্পূর্ণ ধরা হয়। এভাবে যেহেতু পূর্ণতা প্রমাণিত হলো, সেহেতু তা বৃদ্ধিপ্রাপ্তি অবশ্যম্ভাবী করে দিল। যেসব বিদ্বান আয়াতটিকে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে ইমাম বুখারীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য। তিনি তাঁর ‘ছহীহ’-তে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির অনুচ্ছেদ রচনার পর এর অধীনে যে ৩টি আয়াত নিয়ে এসেছেন, সেগুলোর মধ্যে উপর্যুক্ত আয়াতটিও রয়েছে। এরপর তিনি বলেছেন, فَإِذَا تَرَكَ شَيْئًا مِنَ الكَمَالِ فَهُوَ نَاقِصٌ ‘যখন পূর্ণতার কিছু অংশ ছেড়ে দিয়েছেন, তখন তা অপরিপূর্ণই ছিল’।[18] অতএব আয়াতটি স্পষ্টভাবে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধি প্রমাণ করে।

৭. আল্লাহ কর্তৃক তাঁর নবী ইবরাহীম (আঃ)-এর মনের প্রশান্তি প্রার্থনার সংবাদ প্রদান : মহান আল্লাহ বলেন,

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي.

‘আর যখন ইবরাহীম বলেছিল, হে আমার রব! আপনি কিভাবে মৃতকে জীবিত করেন, তা আমাকে দেখান। তিনি বললেন, তুমি কি বিশ্বাস করোনি? সে বলল, জী হ্যাঁ, কিন্তু আমার অন্তর যাতে প্রশান্ত হয়’ (আল-বাক্বারাহ, ২/২৬০)। আয়াতটি ঈমান বৃদ্ধি প্রমাণ করে। ইবনু বাত্ত্বাহ (রাহঃ) বলেন, يُرِيْدُ لِأَزْدَادَ إِيْمَانًا إِلَى إِيْمَانِي بِذَلِكَ جَاءَ التَّفْسِيْرُ ‘এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য, আমি আমার ঈমানের সাথে আরো ঈমান বৃদ্ধি করতে চাই। আয়াতাংশের এমন তাফসীরই এসেছে’।[19]

৮. আল্লাহ কর্তৃক মুমিনদেরকে ৩টি ভাগে ভাগকরণ :

মহান আল্লাহ বলেন,

ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ.

‘অতঃপর আমরা কিতাবের অধিকারী করলাম আমাদের বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে, যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি। তবে তাদের কেউ নিজের প্রতি যুলমকারী, কেউ মধ্যপন্থী এবং কেউ আল্লাহর ইচ্ছায় কল্যাণের কাজে অগ্রগামী। এটাই মহা অনুগ্রহ’ (ফাত্বির, ৩৫/৩২)। এ আয়াতে ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির স্পষ্ট দলীল মিলে। শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে সা‘দী (রাহঃ) বলেন, ‘ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির অন্যতম একটি দিক হচ্ছে, তিনি মুমিনদেরকে ৩টি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন। কল্যাণের কাজে অগ্রগামী বলতে তাদেরকে বুঝানো হয়েছে, যারা ওয়াজিব ও মুস্তাহাবসমূহ পালন করেছে এবং হারাম ও অপসন্দনীয় বিষয়সমূহ বর্জন করেছে। আর তারাই হচ্ছে, আল্লাহর নিকটতম বান্দা। মধ্যপন্থী তারা, যারা শুধু ওয়াজিবসমূহ পালন করেছে এবং শুধু হারামসমূহ বর্জন করেছে। আর নিজেদের প্রতি যুলমকারী তারা, যারা কিছু কিছু হারাম কাজ করে ফেলেছে এবং কিছু কিছু ওয়াজিব আদায়ে শিথিলতা দেখিয়েছে; তবে তাদের মূল ঈমান আছে। এটা ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধির বড় দলীল’।[20]

 (চলবে)

[1]. ঈমান সম্পর্কে বিসত্মারিত জানতে লেখকের ‘ঈমানের মূলনীতি (হ্রাস-বৃদ্ধি ও শর্তসমূহ)’ শীর্ষক বইটি পড়ুন।

[2]. দ্রষ্টব্য : আছ-ছরেমুল মাসলূল, প্রকাশক : সঊদী বোর্ডার গার্ড, তা. বি.), পৃঃ ৫১৯।

[3]. ইবনু তাইমিয়াহ, আল-আক্বীদাতুল ওয়াসিত্বিইয়াহ, তাহক্বীক্ব: আশরাফ ইবনে আব্দুল মাক্বছূদ (রিয়ায : আযওয়াউস সালাফ, ২য় প্রকাশ, ১৪২০ হিঃ/১৯৯৯ খৃঃ), পৃঃ ১১৩; আব্দুলস্নাহ ইবনে আব্দুল হামীদ আল-আছারী, (আল-ওয়াজীয ফী আক্বীদাতিস সালাফিছ ছলেহ, প্রকাশক : সঊদী ধর্ম মন্ত্রণালয়, ১ম প্রকাশ : ১৪২২ হিঃ), পৃঃ ১০৩।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/৫৮।

[5]. ইবনু আবিল ইয্, শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবিইয়াহ, তাহক্বীক্ব : আহমাদ শাকের, (সঊদী আরব :  ধর্ম, ওয়াকফ, দা‘ওয়াত ও দিক-নির্দেশনা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ১ম প্রকাশ: ১৪১৮ হিঃ), পৃঃ ৩২৩।

[6]. ইবনু তাইমিয়াহ, আল-আক্বীদাতুল ওয়াসেত্বিইয়াহ, পৃঃ ১১৩।

[7]. সাফফারীনী (মৃত্যু: ১১৮৮ হি.), লাওয়ামে‘উল আনওয়ার আল-বাহিয়্যাহ, (দিমাশক্ব : মুওয়াসসাতুল খফেক্বীন, ২য় প্রকাশ, ১৪০২ হিঃ/১৯৮২ খৃঃ), ১/৪০৫।

[8]. আল-ইবানাহ আল-কুবরা, ২/৮০৭, আ/১০৯৭।

[9]. ছহীহ বুখারী, হা/৭২৬৬।

[10]. ছহীহ মুসলিম, হা/৫৮।

[11]. আব্দুর রাযযাক্ব ইবনে আব্দুল মুহসিন আল-আববাদ, যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুক্বছানুহূ ওয়া হুকমুল ইসতিছনা ফীহি, (রিয়ায : দারম্ন কুনূযি ইশবীলিয়া, সঊদী আরব, ২য় প্রকাশ ১৪২৭ হিঃ/২০০৬ খৃঃ), পৃঃ ৫১।

[12]. ফাৎহুল বারী শারহু ছহীহিল বুখারী, (বৈরূত : দারম্নল মা‘রেফা, ১৩৭৯ হিঃ), ১/২৭।

[13]. ইবনু বাত্ত্বাহ (মৃত্যু ৩৮৭ হিঃ), আল-ইবানাহ আল-কুবরা, তাহক্বীক্ব: রিযা মু‘ত্বী, ওছমান ইথিওপী, ইউসুফ আল-ওয়াবেল প্রমুখ, (রিয়ায : দারুর রায়াহ, সঊদী আরব, ১৪১৫ হিঃ-১৪২৬ হিঃ), ২/৮৫০।

[14]. ইবনু কাছীর (মৃঃ ৭৭৪ হি.), তাফসীরুল কুরআনিল আযীম (তাফসীর ইবনে কাছীর), তাহক্বীক্ব : সামী ইবনে মুহাম্মাদ সালামাহ, (সঊদী আরব : দারম্ন ত্বাইবাহ, ২য় প্রকাশ, ১৪২০ হিঃ/১৯৯৯ খৃঃ), ৫/১৪০।

[15]. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ৫/১২৮।

[16]. আল-ইবানাহ আল-কুবরা, ২/৮৩৩।

[17]. ইবনু হিব্বান (মৃঃ ৩৫৪ হিঃ), ছহীহ ইবনে হিববান বিতারতীবি ইবনে বালাবান, তাহক্বীক্ব: শু‘আইব আল-আরনাঊত্ব (বৈরূত : মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ, লেবানন, ২য় প্রকাশ, ১৪১৪ হিঃ/১৯৯৩ খৃঃ), ১/৪২৯।

[18]. ছহীহ বুখারী, ১/১৭।

[19]. আল-ইবানাহ আল-কুবরা, ২/৮৩৩।

[20]. আব্দুর রহমান ইবনে নাছের সা‘আদী (মৃত্যু : ১৩৭৬ হিঃ), আত-তানবীহাতুল লাত্বীফাহ ফীমাহ্তাওয়াত আলাইহিল ওয়াসেত্বিইয়াহ মিনাল মাবাহিছিল মুনীফাহ, (প্রকাশক: দারু ত্বাইবাহ, রিয়ায, সঊদী আরব, প্রথম প্রকাশ: ১৪১৪ হি.), পৃ: ১০৭।

4 মন্তব্য