ইমাম আবু হানীফা (রাহি.)-এর আক্বীদা বনাম হানাফীদের আক্বীদা
-আব্দুল আলীম ইবনে কাওছার মাদানী*

(পর্ব-১৭)

বান্দার উপর প্রথম ওয়াজিব কাজ কোন্টি?

ইসলামের দৃষ্টিতে একজন বান্দার উপর সর্বপ্রথম ওয়াজিব কাজ হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ’-এর সাক্ষ্য দেয়া। অর্থাৎ একমাত্র মহান আল্লাহর ইবাদত সম্পাদনের মাধ্যমে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা।

কিন্তু মাতুরীদীদের নিকট একজন বান্দার উপর প্রথম ওয়াজিব কাজ হচ্ছে, আল্লাহর পরিচয় সম্পর্কে অবহিত করাতে পারে এমন কিছু নিয়ে চিন্তা-ফিকির করা। তাদের মতে, শরী‘আত না আসলেও বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে আল্লাহকে চেনা ও জানা ওয়াজিব ছিলো। এক্ষেত্রে তারা মু‘তাযিলাদের অন্ধ অনুসারী। ক্বাযী আব্দুল জব্বার আল-মু‘তাযিলী বলেন, ‘দলীল চার প্রকার: বিবেক-বুদ্ধি, কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা। আর বিবেক-বুদ্ধি ছাড়া আল্লাহকে চেনা যায় না’।[1]  তিনি আরো বলেন, ‘যদি কেউ প্রশ্ন করে, আল্লাহ আপনার উপর সর্বপ্রথম কী ওয়াজিব করেছেন? তাহলে আপনি বলুন, যা আল্লাহর পরিচয় করাবে, তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা। কেননা আল্লাহকে এমনি এমনি চেনা যায় না, দেখেও চেনা যায় না। সেজন্য চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে তাকে চেনা আমাদের উপর ওয়াজিব’।[2]

কিন্তু তাদের এই বক্তব্য সঠিক নয়। কারণ কুরআন-হাদীছে এরকম কোনো নির্দেশনা নেই যে, সবার উপর প্রথম ওয়াজিব হচ্ছে ভাবা ও চিন্তা করা এবং সবার উপর এটা চাপিয়ে দেয়ার মতো কোনো কথাও সেখানে নেই। বরং সেখানে আছে, মানুষকে আসমান-যমীন সৃষ্টি নিয়ে ভাবতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,

أَوَلَمْ يَتَفَكَّرُوا فِي أَنْفُسِهِمْ مَا خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَجَلٍ مُسَمًّى

‘তারা কি নিজেদের অন্তরে ভেবে দেখে না, আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুই যথাযথভাবে ও এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন?’ (আর-রূম, ৩০/৮)। তাছাড়া নবী (ছা.) কাউকে এ আহ্বান জানাননি যে, তাকে প্রথমে চিন্তা-গবেষণা করতে হবে। শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণও তার আহ্বান ছিলো না। বরং তিনি মানুষকে সর্বপ্রথম দুই শাহাদাত তথা তাওহীদের দিকেই আহ্বান জানিয়েছেন এবং তার ছাহাবায়ে কেরামকেও সেই নির্দেশনাই দিয়েছেন। তাই তো তিনি মু‘আয ইবনে  জাবাল (রা.)-কে ইয়ামানে প্রেরণকালে বলেন, ‘তুমি আহলে কিতাবদের একটি ক্বওমের নিকট যাচ্ছো। অতএব তাদের জন্য তোমার প্রথম দাওয়াত হবে, তারা যেন আল্লাহর তাওহীদ স্বীকার করে নেয়’।[3]  আর তাওহীদ মানেই হচ্ছে কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই যাবতীয় ইবাদত সম্পাদন করা। সেজন্যই তো হাদীছটির কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, ‘তুমি আহলে কিতাবদের কাছে যাচ্ছো। ফলে তুমি তাদেরকে সর্বপ্রথম যে দাওয়াত দিবে, সেটা হচ্ছে আল্লাহর ইবাদত’।[4]   অন্য হাদীছে রাসূল (ছা.) দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন, ‘আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো মা‘বূদ নেই ও মুহাম্মাদ (ছা.) আল্লাহর রাসূল। আর ছালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে’।[5]   এখানেও সর্বপ্রথম দুই শাহাদাতের কথাই এসেছে। অন্য হাদীছে নবী (ছা.) বান্দার উপর আল্লাহর হকের কথা বলতে গিয়ে তাওহীদের কথাই উল্লেখ করেছেন।[6]  উলামায়ে কেরামও এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইবনুল মুনযির (রাহি.) বলেন, ‘উলামায়ে কেরামের সবাই ইজমা পোষণ করেছেন যে, কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন প্রাপ্ত বয়স্ক কাফের যখন বলবে, আমি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ’-এর সাক্ষ্য দিচ্ছি। মুহাম্মাদ যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তার সবই হক্ব। আমি দ্বীন ইসলাম ছাড়া সব দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছি; তাহলে সে মুসলিম। এরপর সে যদি আবার পশ্চাদ্ভাব করে কুফরী প্রকাশ করে, তাহলে সে মুরতাদ হয়ে যাবে’।[7]

শুধু আমাদের শরী‘আতে নয়, বরং অন্যান্য নবী (আ.)-এর শরী‘আতেও মানুষের উপর সর্বপ্রথম ওয়াজিব ছিলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর সাক্ষ্য দেয়া। সেজন্য প্রত্যেক নবীই (আ.) তার ক্বওমকে এ আহ্বান জানিয়েছিলেন,

يَاقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُه

‘হে আমার ক্বওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই’ (হূদ, ১১/৬১)। মহান আল্লাহ প্রত্যেক জাতি ও তাদের নবী (আ.)-এর ব্যাপারে বলেন,

وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ

‘আর প্রত্যেক জাতির কাছে আমি রাসূল পাঠিয়েছি (এ নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগূতকে বর্জন করো’ (আন-নাহল, ১৬/৩৬)।

আল্লাহর ছিফাত বা গুণাবলি[8] :

মহান আল্লাহ তার কিতাবে বা তার রাসূল (ছা.)-এর মাধ্যমে হাদীছে নিজের জন্য যেসব নাম ও গুণ সাব্যস্ত করেছেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে তাকে একক বলে বিশ্বাস করতে হবে। আর এটাই হচ্ছে ‘তাওহীদুল আসমা-ই ওয়াছ-ছিফাত’। এসব সাব্যস্ত করতে গিয়ে কোনরূপ পরিবর্তন-পরিবর্ধন, অস্বীকার, কল্পিত আকৃতি স্থির ও সাদৃশ্য প্রদান করা চলবে না। এসব নাম ও গুণকে এমনভাবে সাব্যস্ত করতে হবে, যেমনভাবে সাব্যস্ত করলে তার শানে মানায়। সাথে সাথে সেগুলোর প্রতি পরিপূর্ণ ও দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। পক্ষান্তরে যেসব নাম ও গুণ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলির ক্ষেত্রে কোনোরূপ পরিবর্তন-পরিবর্ধন, অস্বীকার, কল্পিত আকৃতি স্থির ও সাদৃশ্য প্রদান করা চলবে না। যেমন: আল্লাহ তার নিজের এক নাম দিয়েছেন আস-সামী‘ (اَلسَّمِيْعُ) বা ‘সর্বশ্রোতা’। এখন আস-সামী‘কে আল্লাহর একটি নাম হিসাবে বিশ্বাস করা আমাদের উপর ওয়াজিব। অনুরূপভাবে আস-সাম‘উ (اَلسَّمْعُ) বা ‘শ্রবণ’ গুণটিকে আল্লাহর একটি গুণ হিসাবে বিশ্বাস করাও আমাদের উপর ওয়াজিব। এটাই এই নামের দাবী। কেননা ‘শ্রবণ’ ছাড়া ‘শ্রোতা’ হতে পারে না। এই হচ্ছে আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলির ব্যাপারে সঠিক আক্বীদার সংক্ষিপ্ত রূপ।

প্রিয় পাঠক! চলুন, আমরা সর্বপ্রথম দেখে আসি আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফা (রাহি.)  কী ও কেমন আক্বীদা পোষণ করতেন? নিচের কয়েকটি পয়েন্টে এ বিষয়টির নির্যাস পেশ করা হলো-

(ক) ইমাম আবু হানীফা (রাহি.)  মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ব্যাপারে উপর্যুক্ত সঠিক আক্বীদাই পোষণ করতেন। ‘আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত ও জাহমিয়্যাহ মতাদর্শ প্রত্যাখ্যানের ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফা (রাহি.)-এর আক্বীদা’ শীর্ষক শিরোনামের অধীনে আমরা আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফা (রাহি.)-এর অনেকগুলো বক্তব্য দেখে এসেছি, যেগুলো অকাট্যভাবে এই আক্বীদারই প্রমাণ বহন করে।

(খ) অনুরূপভাবে তিনি আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে মস্তিষ্কপ্রসূত চিন্তা-চেতনার আশ্রয় নিতেন না; বরং পবিত্র কুরআন ও হাদীছের উপর নির্ভর করতেন এবং এভাবে আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করতেন। তিনি বলেন,

لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَنْطِقَ فِي ذَاتِ اللَّهِ بِشَيْءٍ، بَلْ يَصِفُهُ بِمَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ، وَلَا يَقُوْلُ فِيْهِ بِرَأْيِهِ شَيْئاً تَبَارَكَ اللهُ تَعَالَى رَبُّ الْعَالَمِيْنَ

‘আল্লাহর সত্তার ব্যাপারে কোনো কিছুর মাধ্যমে কথা বলা কারো জন্যই উচিত নয়। বরং তিনি যা দ্বারা নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন, তা দ্বারা তার গুণ বর্ণনা করা উচিত। তার ব্যাপারে ব্যক্তিমতামতের ভিত্তিতে কিছু বলাও ঠিক নয়’।[9]

আসলে শুধু ব্রেন দিয়ে আল্লাহর ছিফাত বা গুণাবলি জানা অসম্ভব। অহী ছাড়া এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার প্রশ্নই আসে না। কারণ এগুলো গায়েবী বিষয়। আর অহী ছাড়া গায়েবী বিষয় জানার ব্যাপারে ব্রেন অক্ষম। ফলে মহান রবের ছিফাতের ধরন জানার ক্ষেত্রেও ব্রেন অক্ষম। কেননা কোনো কিছুর ধরন জানতে হলে হয় সেটাকে দেখতে হবে, নয়তো তার অনুরূপ কোনো কিছু দেখতে হবে। আর এ দু’টোই মহান আল্লাহর ছিফাতের ক্ষেত্রে অসম্ভব। মানুষের ব্রেন তো রূহ, জান্নাতের মতো আল্লাহর কিছু কিছু সৃষ্টির ধরন সম্পর্কেই জানতে অক্ষম, তাহলে সে স্রষ্টার সত্তা ও ছিফাতের ধরন সম্পর্কে জানবে কী করে?! ইবনু আব্দিল বার্র (রাহি.)  যথার্থই বলেছেন,

لَا خِلَافَ بَيْنَ فُقَهَاءِ الْأَمْصَارِ وَسَائِرِ أَهْلِ السُّنَّةِ، وَهُمْ أَهْلُ الْفِقْهِ وَالْحَدِيثِ فِي نَفْيِ الْقِيَاسِ فِي التَّوْحِيدِ وَإِثْبَاتِهِ فِي الْأَحْكَامِ

‘বিভিন্ন অঞ্চলের ফক্বীহগণ ও সকল আহলুস সুন্নাহ, যারা ফিক্বহ ও হাদীছ বিশারদ, তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই যে, তাওহীদের ব্যাপারে ক্বিয়াস চলে না। তবে অন্যান্য হুকুম-আহকামের ব্যাপারে ক্বিয়াস চলে’।[10]

(গ) ইমাম আবু হানীফা (রাহি.)  মনে করেন, মহান আল্লাহর ছিফাতসমূহের অর্থ জানা, কিন্তু ধরন অজানা। আর আমরা আগেই দেখে এসেছি যে, তার নিকট ‘তাফবীয মুতলাক্ব’[11] -এর কোনো গন্ধও নেই। সেজন্যই তো তিনি বলেছেন, يَنْزِلُ بِلَا كَيْفٍ ‘তিনি অবতরণ করেন, কিন্তু এর কোনো ধরন ও প্রকৃতি কারো জানা নেই’।[12]  ইমাম মালেক (রাহি.)  বলেছেন, ‘আল্লাহর আরশের উপর উঠার ব্যাপারটা জানা, কিন্তু এর ধরনটা অজানা। তবে এর উপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা বিদ‘আত’।[13]  তার এ মন্তব্য উল্লেখ করার পর মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী (রাহি.)  বলেন, ‘এই শব্দের অর্থ জানা ও ধরন জানার মধ্যে ঢের তফাৎ রয়েছে। এর ধরন কোনো মানুষের ব্রেনে ধরবে না। মালেক (রাহি.) -এর পক্ষ থেকে এই জবাব যথেষ্ট সন্তোষজনক এবং সকল ছিফাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; যেমন- শ্রবণ, দর্শন, ইলম, জীবন, ক্ষমতা, ইচ্ছা, অবতরণ, রাগ, অনুগ্রহ, হাসি। এসবগুলোর অর্থ জানা, কিন্তু এগুলোর ধরন অজানা। মনে রাখা উচিত, ধরন সম্পর্কে জানা সত্তার ধরন ও প্রকৃতি সম্পর্কে জানার একটি শাখা। তাহলে সেই সত্তা সম্পর্কেই যখন অজানা, তখন তার ছিফাতের ধরন সম্পর্কে জানা যাবে কীভাবে? ফলে এ ব্যাপারে কল্যাণকর ও পাপমুক্ত অবস্থান হলো, আল্লাহকে সেই বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যম-িত করতে হবে, যে বৈশিষ্ট্যে তিনি নিজেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং তার রাসূল (ছা.) তাকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। এক্ষেত্রে সেসব বৈশিষ্ট্যকে কোনোরূপ পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না, অকেজো ও অর্থহীন গণ্য করা যাবে না, কল্পিত কোনো রূপ চিন্তা করা যাবে না এবং কারো সাথে সাদৃশ্যও দেয়া চলবে না। বরং তার জন্য নাম ও ছিফাতসমূহ সাব্যস্ত করতে হবে এবং কোনো সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দেয়াকে নাকচ করতে হবে। অতএব, আপনার সাব্যস্তকরণ সাদৃশ্যমুক্ত হতে হবে এবং নাকচকরণ অর্থহীন হওয়া থেকে মুক্ত হতে হবে। সেজন্য, কেউ ‘ইস্তেওয়া’ বা উপরে উঠার বাস্তবতাকে অস্বীকার করলে সে ‘মু‘আত্ত্বিল’ হিসাবে গণ্য হবে। আর কেউ আল্লাহর ‘ইস্তেওয়া’কে কোনো সৃষ্টির ‘ইস্তেওয়া’র সাথে তুলনা করলে ‘মুশাব্বিহ’ হিসাবে গণ্য হবে। কিন্তু যে বলবে, সেটা এমন ‘ইস্তেওয়া’, যার কোনো সাদৃশ্য নেই, সে-ই তাওহীদবাদী, পবিত্রতা ঘোষণাকারী’।[14]

(ঘ) ইমাম আবু হানীফা (রাহি.) আল্লাহর ছিফাতসমূহের সামান্যতম অপব্যাখ্যা করেননি। কারণ তা করলে আল্লাহর ছিফাতগুলোকে অস্বীকার করা হয় এবং এগুলোর অর্থকে অকেজো করে দেয়া হয়। সেজন্যই তো তিনি বলেছেন, ‘একথা বলা যাবে না যে, তার হাত মানে তার কুদরত বা শক্তি অথবা তার দান। কেননা এতে রয়েছে গুণের অস্বীকৃতি। আর এটা (গুণকে অস্বীকার) ক্বাদারিয়্যাহ ও মু‘তাযিলাদের মতবাদ। আসলে তার হাত হচ্ছে তার গুণ, যার কোনো ধরন ও প্রকৃতি কারো জানা নেই’।[15]  তিনি আরো বলেন, ‘একথা বলা যাবে না যে, তার ক্রোধই হচ্ছে তার শাস্তি এবং তার সন্তুষ্টিই হচ্ছে তার প্রতিদান’। [16]

(ঙ) তিনি কখনও (রাহি.) আল্লাহর ছিফাতের সাদৃশ্য দেননি। বরং সাদৃশ্য না দিয়ে ছিফাত সাব্যস্ত করা তার নিকট কোনোভাবেই সাদৃশ্য প্রদান নয়। তাই তো তিনি বলেছেন, ‘তিনি (আল্লাহ) তার সৃষ্টির মধ্যে কোনো কিছুর সাথেই তুলনীয় নন। তার সৃষ্টির মধ্যে কোনো কিছুও তার মতো নয়। তিনি অনাদি কাল থেকে অনন্ত কাল বিদ্যমান তার নামসমূহ এবং সত্তাগত ও কর্মগত গুণসমূহ সহকারে’।[17]  তিনি আরো বলেন, ‘তার সকল বিশেষণ সৃষ্টির বিশেষণ থেকে আলাদা। তিনি জানেন, তবে তার জানা আমাদের জানার মতো নয়। তিনি ক্ষমতা রাখেন, তবে তার ক্ষমতা আমাদের ক্ষমতার মতো নয়। তিনি দেখেন, তবে তার দেখা আমাদের দেখার মতো নয়। তিনি কথা বলেন, তবে তার কথা বলা আমাদের কথা বলার মতো নয়। তিনি শোনেন, তবে তার শোনা আমাদের শোনার মতো নয়’।[18]

অতএব, আল্লাহর মতো কোনো কিছুই নেই। তার সমকক্ষ কিছুই নেই। মহান আল্লাহ বলেন,

لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ

‘কোনো কিছুই তার সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা’ (আশ-শূরা, ৪২/১১)। অন্যত্র তিনি বলেন,

فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

‘কাজেই কারো সাথে আল্লাহর তুলনা দিয়ো না। আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জানো না’ (আন-নাহল, ১৬/৭৪)। তিনি আরো বলেন,وَلَمْ يَكُنْ لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ‘তার কোনো সমকক্ষও নেই’ (আল-ইখলাছ, ১১২/৪)।

সেকারণে আল্লাহর ছিফাতগুলো সব পূর্ণাঙ্গ এবং সেগুলো কেবলমাত্র তার জন্যই নির্দিষ্ট। এগুলোতে কেউ তার সাথে অংশগ্রহণ করতে পারে না। আর কেউ এর বিপরীত আক্বীদা পোষণ করলে সে কুফরী করবে। নু‘আইম ইবনে হাম্মাদ (রাহি.) (মৃত্যু: ২২৮ হি.) বলেন,

مَنْ شَبَّهَ اللهَ بِشَيْءٍ مِنْ خَلْقِهِ فَقَدْ كَفَرَ، وَمَنْ أَنْكَرَ مَا وَصَفَ اللهُ بِهِ نَفْسَهُ فَقَدْ كَفَرَ، فَلَيْسَ فِيْمَا وَصَفَ اللهَ بِهِ نَفْسَهُ وَرَسُوْلُهُ تَشْبِيْهًا.

‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে তার কোনো সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দিলো, সে কুফরী করলো। মহান আল্লাহ তার নিজেকে যেসব বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, সেগুলো যে ব্যক্তি অস্বীকার করলো, সে কুফরী করলো। মনে রাখতে হবে, মহান আল্লাহ তার নিজেকে যেসব বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং তার রাসূল (ছা.)ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, সেগুলো মেনে নেয়া ‘তাশবীহ’ বা সাদৃশ্য নয়’।[19]  ইমাম বুখারী (রাহি.)-এর উস্তাদ ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রাহি.) বলেন,

مَنْ وَصَفَ اللَّهَ فَشَبَّهَ صِفَاتِهِ بِصِفَاتِ أَحَدٍ مِنْ خَلْقِ اللَّهِ فَهُوَ كَافِرٌ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ছিফাত সাব্যস্ত করলো এবং তার ছিফাতকে তার কোনো সৃষ্টির ছিফাতের সাথে সাদৃশ্য দিলো, সে মহান আল্লাহর ব্যাপারে কাফের হয়ে গেলো’।[20]

ইমাম আবু হানীফা (রাহি.)-এর এই আক্বীদা ইমাম ত্বহাবী (রাহি.)ও সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন,

 وَمَنْ وَصَفَ اللَّهَ بِمَعْنًى مِنْ مَعَانِي الْبَشَرِ فَقَدْ كَفَرَ

‘যে ব্যক্তি মানুষের বৈশিষ্ট্য দ্বারা আল্লাহকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করলো, সে কুফরী করলো’।[21]   কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, যারা আল্লাহর জন্য পূর্ণাঙ্গ ছিফাতগুলোকে সাব্যস্ত করে, যেগুলোতে আর কেউ তার সাথে শরীক নয়, তাদেরকে বিদ‘আতীরা ‘মুশাব্বিহাহ’ ও ‘মুজাসসিমাহ’ বলে গালি দিয়ে থাকে। হানাফী বিদ্বান কুনাবী (মৃত্যু: ১১৯৫ হি.) বলেন, ‘অনেক সালাফে ছালেহীন বলেছেন, জাহমিয়্যাদের আলামত হচ্ছে, তারা আহলুস সুন্নাহকে ‘মুশাব্বিহাহ’ বলে গালি দেয়। …অথচ অধিকাংশ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ আল্লাহর ছিফাতের সাদৃশ্য অস্বীকার করার মাধ্যমে তার ছিফাতগুলোকে অস্বীকার করতে চান না। বরং তারা বলতে চান, মহান আল্লাহ তার নাম, গুণ ও কর্মসমূহে কোনো সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নন- যেমনটি ইমাম (আবু হানীফা) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন’।[22]

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হলো, ইমাম আবু হানীফা (রাহি.) আল্লাহর ছিফাতগুলোকে ঠিক সেভাবে সাব্যস্ত করতেন, যেভাবে কুরআন ও হাদীছে এসেছে। এক্ষেত্রে তিনি সেসব বৈশিষ্ট্যকে কোনোরূপ পরিবর্তন-পরিবর্ধন করতেন না, অকেজো ও অর্থহীন গণ্য করতেন না, এগুলোর কল্পিত কোনো রূপ ও ধরন চিন্তা করতেন না এবং কারো সাথে সাদৃশ্যও দিতেন না। এই পদ্ধতিতে আক্বীদা পোষণ করলে তার নিকট এটাকে ‘তাশবীহ’ বা সাদৃশ্য বলারও কোনো সুযোগ নেই। সালাফে ছালেহীনও এই আক্বীদাই পোষণ করতেন। মনে রাখতে হবে, এ ব্যাপারে এর বাইরে যা আছে, তা-ই হচ্ছে বিদ‘আত।

(চ) ইমাম আবু হানীফা (রাহি.) সহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আলেম-উলামা মনে করেন, মহান আল্লাহর ছিফাতসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত: ১. ছিফাত যাতিয়্যাহ (সত্তাগত ছিফাত): যেগুলো আল্লাহর সাথে সার্বক্ষণিক থাকে এবং যেগুলোর সাথে আল্লাহর ইচ্ছার সম্পর্ক নেই। যেমন- জীবন, ইলম, শ্রবণ, দর্শন। ২. ছিফাত ফে‘লিয়্যাহ (কর্মগত ছিফাত): যেগুলো সবসময় আল্লাহর শক্তির সাথে সম্পৃক্ত এবং তার ইচ্ছায় সঙ্ঘটিত হয়। যেমন- অবতরণ, ঊর্ধ্বে উঠা, জীবনদান, মৃত্যুদান, সন্তুষ্টি, রাগ। ইমাম আবু হানীফা (রাহি.) বলেন, ‘তার ছিফাতসমূহ যাতিয়্যাহ ও ফে‘লিয়্যাহ। যাতিয়্যাহ, যেমন- জীবন, শক্তি, ইলম, কালাম, শ্রবণ, দর্শন, ইচ্ছা। ফে‘লিয়্যাহ, যেমন- সৃষ্টি করা, রিযিক্ব দেয়া, গঠন করা, আবিষ্কার করা, তৈরি করা ইত্যাদি। তিনি অনাদি কাল থেকে অনন্ত কাল বিদ্যমান তার নামসমূহ এবং গুণসমূহ সহকারে’।[23]

তিনি উভয় প্রকার ছিফাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না; বরং উভয় প্রকারকে সাব্যস্ত করতেন। আর এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মূলনীতি। কিন্তু বিদ‘আতীরা পার্থক্য করে থাকে।

প্রিয় পাঠক! এতক্ষণ আমরা দেখছিলাম, আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফা (রাহি.)-এর আক্বীদার সংক্ষিপ্ত রূপ। যেখানে আমাদের কাছে অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, তার গৃহীত আক্বীদাই কুরআন-হাদীছের উৎস থেকে নিঃসরিত স্বচ্ছ আক্বীদা, যা ছাহাবায়ে কেরামসহ অন্য সালাফে ছালেহীনও ধারণ করেছিলেন।

এবার চলুন দেখে আসি আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে আবু মানছূর মাতুরীদী ও তার অনুসারীদের আক্বীদা কেমন ছিলো। আমরা যদি আবু মানছূর মাতুরীদী ও তার অনুসারীদের আক্বীদা দেখি, তাহলে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখতে পাবো। তারা আল্লাহর ছিফাত সাব্যস্তের পরিমণ্ডলকে খুবই সংকীর্ণ করে কেবলমাত্র ৮টি ছিফাত মেনে নেয়ার দাবী করেছে। সেগুলো হচ্ছে- জীবন (الحياة), শক্তি বা ক্ষমতা (القدرة), ইলম (العلم), ইচ্ছা (الإرادة), শ্রবণ (السمع), দর্শন (البصر), কালাম  (الكلام) ও সৃষ্টি /তৈরি (التكوين)।[24]

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তারা এই ৮টি ছিফাতও আসলে সাব্যস্ত করেনি; বরং কয়েকটি সাব্যস্ত করেছে এবং কয়েকটি প্রত্যাখ্যান করেছে। মাতুরীদীদের অনেকেই ‘শ্রবণ’ ও ‘দর্শন’ ছিফাত দু’টিকে সাব্যস্ত করেছে। তবে কেউ কেউ এ দু’টিকে ‘ইলম’-এর দিকে ফিরিয়ে দিয়েছে। তারা ‘ইচ্ছা’ ছিফাতটিকে সাব্যস্ত করলেও ইমাম আবু হানীফা ও সালাফে ছালেহীনের মতো করে সাব্যস্ত করেনি- যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রাহি.) বলেছেন। ‘কালাম’ ছিফাতটিকে সাব্যস্তের দাবী করলেও তারা আসলে এটার অপব্যাখ্যা করেছে এবং এটাকে অর্থহীন জ্ঞান করেছে। কারণ কুরআন ও হাদীছে আল্লাহর যে কালামের কথা এসেছে, তারা সেই কালাম সাব্যস্ত করেনি। বরং তারা আল্লাহর জন্য এমন কালাম সাব্যস্ত করেছে, যার তারা নাম দিয়েছে ‘কালাম নাফসী’, যা শোনাও যায় না, যা হরফও নয়, ধ্বনিও নয়। এটা যেন বোবার ছিফাত! ইবনে কুল্লাব সর্বপ্রথম এই অপব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে। পরবর্তীতে মাতুরীদী ও আশ‘আরীরা এটা গলধঃকরণ করেছে। ‘তাকবীন’ (التكوين) বা গঠন/সৃষ্টি ছিফাতটি তাদের নিকট সব ফে‘লী ছিফাত বা কর্মগত ছিফাতের উৎস। যেমন- জীবনদান (الإحياء), মৃত্যুদান (الإماتة) ইত্যাদি। তারা এই ছিফাতটি সাব্যস্তের দাবী করলেও আসলে আল্লাহর প্রকৃত ছিফাত হিসাবে গণ্য করে না। কেননা তারা ধারণা করে, ফে‘লী ছিফাতগুলো আল্লাহর সাথে খাপ খায় না।

বুঝা গেলো, মাতুরীদীরা উপর্যুক্ত ৮টি ছিফাতকে সাব্যস্ত করলেও তাতে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য ছিফাতকে তো তারা রীতিমতো অর্থহীন গন্য করে ও অপব্যাখ্যা করে। তারা আল্লাহর ‘চেহারা’ (الوجه) ছিফাতটিকে অপব্যাখ্যা করে তার সত্তা বা বিদ্যমানতা বুঝাতে চেয়েছে। ‘দুই হাত’ (اليدان) ছিফাতটিকে অপব্যাখ্যা করে পরিপূর্ণ ক্ষমতা বা রাজত্ব ও অনুগ্রহ বুঝাতে চেয়েছে। ‘ইস্তেওয়া’ (الاستواء) বা উপরে উঠা ছিফাতটিকে অপব্যাখ্যা করে ‘ইস্তীলা’ (الاستيلاء) বা প্রভাব ও কর্তৃত্ব বুঝাতে চেয়েছে। ‘অবতরণ’ (النزول) ছিফাতটিকে অপব্যাখ্যা করে দয়া ও অনুগ্রহ বুঝাতে চেয়েছে। ‘ক্রোধ’ (الغضب) ছিফাতটিকে অপব্যাখ্যা করে প্রতিশোধ বা প্রতিশোধের ইচ্ছা বুঝাতে চেয়েছে। ‘সন্তুষ্টি’ (الرضا) ছিফাতটিকে অপব্যাখ্যা করে ছওয়াব অর্থ বুঝাতে চেয়েছে। ‘ভালোবাসা’ (المحبة) ছিফাতটিকে অপব্যাখ্যা করে ছওয়াব প্রদান বা সন্তুষ্টি বুঝাতে চেয়েছে। ‘কালাম’ (الكلام) ছিফাতটিকে অপব্যাখ্যা করে কালাম নাফসী বানিয়ে ফেলেছে। ‘উপরে অবস্থান’ (العلو) ছিফাতটিকে অপব্যাখ্যা করে উচ্চ মর্যাদা বুঝাতে চেয়েছে। তাদের বই-পুস্তকে এসব অপব্যাখ্যার অভাব নেই।[25]

সম্মানিত পাঠক! মহান আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ ও গুণাবলির ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফা ও মাতুরীদীদের আক্বীদার মধ্যে যে আকাশ-যমীন ফারাক, তা বোধ করি বুঝতে কারো বাকী নেই। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সর্বাবস্থায় সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী কুরআন-হাদীছ বুঝার ও মানার তাওফীক দান করুন। আমীন!

(চলবে)

 

* বি. এ. (অনার্স), উচ্চতর ডিপ্লোমা, এম. এ. এবং এম.ফিল., মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব; অধ্যক্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

[1]. আব্দুল জব্বার ইবনে আহমাদ আল-মু‘তাযিলী, শারহুল উছূলিল খামসাহ, (কায়রো: মাকতাবাতু ওয়াহবাহ, তৃতীয় প্রকাশ: ১৪১৬ হি./১৯৯৬ খ্রি.), পৃ. ৮৮।

[2]. শারহুল উছূলিল খামসাহ, পৃ. ৩৯।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৭৩৭২।

[4].  ছহীহ বুখারী, হা/১৪৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/১৪৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯।

[6]. দ্রষ্টব্য: ছহীহ বুখারী, হা/২৮৫৬, ৬২৬৭, ৭৩৭৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৩০।

[7]. ইবনুল ক্বাইয়িম, দারউ তা‘আরুযিল আক্বলি ওয়ান নাক্বল, (রিয়াদ: ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সু‘ঊদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ২য় প্রকাশ: ১৪১১ হি./১৯৯১ খ্রি.), ৮/৭।

[8]. আল্লাহর ছিফাত সম্পর্কিত এ আলোচনার জন্য দেখুন: উছূলুদ্দীন ‘ইনদাল ইমাম আবী হানীফা, পৃ. ২৯৮-৩০৬।

[9].  শারহুল আক্বীদাতিত ত্বহাবিয়্যাহ, পৃ. ২৯৩।

[10]. জামে‘উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহী ২/৮৮৭।

[11]. এর ব্যাখ্যা গত হয়ে গেছে।

[12]. আল-ইক্বতিছাদ ফিল ই‘তিক্বাদ, পৃ. ১০৯।

[13]. শাহরিস্তানী, আল-মিলালু ওয়ান-নিহাল, (মুআসসাসাতুল হালাবী, তা. বি.), ১/৯৩।

[14]. মিরক্বাতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাছাবীহ, (দারুল ফিকর, বৈরূত, ১ম প্রকাশ: ১৪২২ হি./২০০২ খ্রি.), ৭/২৭৭৯।

[15]. আল-ফিক্বহুল আকবার, পৃ. ২৭।

[16]. আল-ফিক্বহুল আকবার, পৃ. ১৫৯।

[17]. আল-ফিক্বহুল আকবার, পৃ. ১৪।

[18]. আল-ফিক্বহুল আকবার, পৃ. ২৪-২৬।

[19]. শারহু উছূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ, ৩/৫৮৭।

[20]. প্রাগুক্ত, ৩/৫৮৮।

[21]. আল-আক্বীদাতুত ত্বহাবিয়্যাহ (শায়খ আলবানীর টীকাসহ), পৃ. ৪১।

[22].  মিনাহুর রওযিল আযহার ফী শারহিল ফিক্বহিল আকবার, পৃ. ৬৫-৬৬।

[23]. আল-ফিক্বহুল আকবার, পৃ. ১৬।

[24]. যাহাবী, আল-আরশ, (মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ২য় প্রকাশ: ১৪২৪ হি./২০০৩ খ্রি.), পৃ. ১/৭৭।

[25]. এসব অপব্যাখ্যা তাদের বই-পুস্তক থেকেই সাব্যস্ত। এ ব্যাপারে সদলীল বিস্তারিত জানতে দেখুন: উছূলুদ্দীন ‘ইনদাল ইমাম আবী হানীফা, পৃ. ৬০৩। এখানে অনেকগুলো রেফারেন্স-এর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।