ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ধৃষ্টতার বাস্তব চিত্র ও আমাদের করণীয়

-জুয়েল রানা*


ভূমিকা : বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন ইস্যুতে অযথা ও প্রসঙ্গহীনভাবে ইসলামকে টেনে এনে কটাক্ষ করা, বিভিন্ন ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা ও মিডিয়া ব্যবহার করে ইসলামফোবিয়া ছড়ানোর কাজে সর্বদা ব্যস্ত রয়েছে এক শ্রেণির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী। সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম জাতির সাথে তাদের হিংসা-বিদ্বেষ আবারও স্পষ্ট হলো।

জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের প্রজ্ঞাপন ও ইসলাম বিদ্বেষীদের আস্ফালন :

গত ২৮ অক্টোবর, ২০২০ এক বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘অত্র ইনস্টিটিউটের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অফিস চলাকালীন সময়ে মোবাইল সাইলেন্ট/বন্ধ রাখা এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পুরুষ টাখনুর উপরে এবং মহিলা হিজাবসহ টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা আবশ্যক এবং পর্দা মেনে চলার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।’ তিনি সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। টাখনুর উপরে যদি পুরুষ কাপড় পরে, তাহলে তার কোনো গুনাহ নেই, টাখনুর নিচে পরলে সে কবীরা গুনাহ করল। একইভাবে নারীদের জন্যও সেটা প্রযোজ্য, নারীরা পর্দার ভেতরেই সুন্দর। টাখনুর নিচে কাপড় পরলে তার কবীরা গুনাহ হবে না। এই জিনিসটা আমাদের দেশে উঠে গেছে’। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, কেউ যদি তাঁর এই আইন মেনে না চলে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই, তাকে এই আইন মানতে বাধ্য করা হবে না।

জনাব আব্দুর রহিম সাহেব যা করেছেন, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু আমাদের দেশের কতিপয় নামধারী মুসলিম সেটা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। এই ধরনের পর্দাকে তালেবানি সংস্কৃতি বলে দ্বীন ইসলামকে হেয় করার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছেন। অথচ ছহীহ হাদীছে ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেছেন, ‘যে লোক (পুরুষ) দম্ভভরে তার বস্ত্র (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে রাখবে, ক্বিয়ামতের দিনে আল্লাহ তার দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দিবেন না’।[1] শুধু পরকালেই নয়, দুনিয়াতেও টাখনুর নিচে কাপড় পরার অপকারিতা কম নয়। পুরুষের পায়ের টাখনুতে থাকে টেস্টোস্টেরন নামক যৌন হরমোন, যা সঠিকভাবে কাজ করার জন্য প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের প্রয়োজন। টাখনুকে ঢেকে রাখলে টেস্টোস্টেরন হরমোন শুকিয়ে যায়। যার প্রভাবে শরীরে অনেক রকম সমস্যা দেখা দেয়। শুক্রাণু কমে যায়। ফলে সহজে বাচ্চা হয় না। এ সমস্যাটি আমাদের সমাজে মহামারি আকার ধারণ করছে। তা ছাড়া টেস্টোস্টেরনের অভাব মস্তিষ্ক ‘ঘোলাটে’ করে দেয়। এতে মনোযোগ নষ্ট হয়। স্মৃতিশক্তিও কমে আসে ধীরে ধীরে।[2]

সালাম নিয়ে ঢাবি শিক্ষকের ধৃষ্টতা :

সম্প্রতি ‘ডিবিসি নিউজ’ টেলিভিশন চ্যানেলের ‘উপসংহার’ নামক টকশো-তে ‘ধর্মের অপব্যাখ্যায় জঙ্গিবাদ’ বিষয়ক আলোচনায় মুসলিমদের শুদ্ধ উচ্চারণে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা ও ‘আল্লাহ হাফেয’ বলাকে গর্হিত, নিন্দনীয়, জঘন্য ব্যাখ্যা করে এসবকে জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান।[3]

ছহীহভাবে ‘সালাম’ আদান-প্রদান করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সালাম আদান-প্রদানের জন্য কুরআন মাজীদ ও ছহীহ হাদীছে বহুবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন, ইমরান ইবনু হুছাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বললেন, আসসালামু আলাইকুম। তিনি তার জবাব দিলেন। লোকটি বসলেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বললেন, ১০ নেকী। এরপর আরেকজন এসে বললেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  অনুরূপ জবাব দিলেন। লোকটি বসলেন। তিনি বললেন, ২০ নেকী। অতঃপর আরেকজন এসে বললেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতাল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  তারও জবাব দিলেন। লোকটি বসলেন। তিনি বললেন, ৩০ নেকী।[4] মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন ও মহানবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর প্রদত্ত নির্দেশ ও শিক্ষা অনুযায়ী শুদ্ধভাবে ‘সালাম’ দেওয়াকে জিয়াউর রহমান সাহেব অত্যন্ত গর্হিত, নিন্দনীয়, বেয়াদবিপূর্ণ ও জঘন্যভাবে জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। এসব মন্তব্য দ্বারা বাংলাদেশের মুসলিমদের শুদ্ধভাবে ধর্মীয় ইবাদত পালনের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করতে চেয়েছেন। এই ধরনের মন্তব্য ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক। উনার মন্তব্যসমূহ মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাত করেছে। খোদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের যে কোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে। উপরন্তু ‘ডিবিসি নিউজ’ টেলিভিশন চ্যানেলের ‘উপসংহার’ নামক টক শো-তে জিয়াউর রহমান ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অপরাধ করেছেন।

ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুষ্ঠানের ভিডিওটি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ‘সালাম’ ও ‘আল্লাহ হাফেয’ নিয়ে এমন মন্তব্য করায় সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে সমালোচনা ও নিন্দার তীব্র ঝড়।

ড. জিয়াউর রহমান সাহেব সালাম ও আল্লাহ হাফেযকে জঙ্গিবাদের শিক্ষা বলে রীতিমত ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ইসলাম সম্পর্কে যাদের ন্যূনতম জ্ঞান নাই, তাদের টকশোতে ডেকে এনে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্য কী? একটা মানুষ চূড়ান্ত অজ্ঞ হলেই সালাম, আল্লাহ হাফেয নিয়ে এমন মাতলামিমূলক কথাবার্তা বলতে পারে। উল্লেখ্য, বিদায়ের সময় আল্লাহ হাফেয, খোদা হাফেয, টাটা, গুড বাই ইত্যাদি বলা সুন্নাহসম্মত নয়। বরং বিদায়ের সময় কী দু‘আ বলতে হবে, তা আমাদেরকে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  শিখিয়ে দিয়েছেন। ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো লোককে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বিদায় দেওয়ার সময় তাকে নিজের হাতে ধরতেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজের হাত নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  হতে না ছাড়াতেন, সে পর্যন্ত তিনিও তার হাত ছাড়তেন না। তিনি বলতেন, ‘তোমার দ্বীন, ঈমান ও সর্বশেষ আমলের ব্যাপারে আমি আল্লাহ তাআলাকে আমানতদার নিযুক্ত করলাম’৷[5]

রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনী :

সম্প্রতি ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন ভবনে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর বিতর্কিত ১২টি ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। মহানবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে অবমাননা করে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে ফরাসি সরকার। এতে করে ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম জাতির সাথে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিংসা-বিদ্বেষ আবারো স্পষ্ট হয়েছে। সম্প্রতি ফ্রান্সের একটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের মহানবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ব্যঙ্গচিত্র দেখান ইসলাম বিদ্বেষী স্যামুয়েল পার্টি নামের এক শিক্ষক। এরপর আবদুল্লাখ আনজোরভ নামের বিক্ষুব্ধ এক চেচেন যুবক তাকে গলা কেটে হত্যা করে। এই যুবককে পুলিশ গুলি করে মেরে ফেলে। ঘটনাটি বাকস্বাধীনতার উপর আঘাত উল্লেখ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ব্যঙ্গচিত্র প্রচার করে ফরাসি সরকার। ঐ ঘটনা নিয়ে ফ্রান্সে ব্যাপক উত্তেজনা চলছে। চালানো হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিমবিরোধী প্রচারণা।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘ফ্রান্স কার্টুন প্রত্যাহার করবে না, বরং এ ধরনের কার্টুন প্রকাশ অব্যাহত থাকবে’। ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ তিনি লালন করবেন এবং কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবেন। এর আগে তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘সোসাইটি পরিবর্তন’-এর অভিযোগ আনেন। 

ফ্রান্সে বর্তমানে সাড়ে ৬ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৬০ লাখ মুসলিম। এর মধ্যে ১০ লাখ অরিজিনাল ফরাসি বংশোদ্ভূত। ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে রয়েছে ৩ হাজার মসজিদ। ৫শ’র বেশি শুধু প্যারিস শহরে। প্রায় ২ হাজার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও মসজিদ কেন্দ্রিক মাদরাসা রয়েছে। দেশটিতে ইসলাম বিকাশমান ধর্ম। প্রতিনিয়ত মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছে শান্তির অন্বেষায়। শীর্ষ ব্যবসায়ীদের মধ্যে মুসলিমের সংখ্যাও আনুপাতিক হারে কম নয়। জাতীয়তাবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শে বিশ্বাসী ফ্রান্স হিজাব নিষিদ্ধ করেছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি ফ্রান্স সরকার ৬৮টি মসজিদ ও মাদরাসা বন্ধ করে দিয়েছে। আরও অসংখ্য মসজিদ-মাদরাসা বন্ধের তালিকায় আছে। এই আচরণ চরম ইসলাম বিদ্বেষের পরিচয় বহন করে।

বিভিন্ন দেশের ক্ষুব্ধ মুসলিমরা ‍বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, মানববন্ধন করে যাচ্ছে। ফরাসি পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে। কুয়েত, জর্দান, কাতার, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ ফরাসি পণ্য বয়কট করতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফরাসি জনপ্রিয় কোম্পানির তালিকা তৈরি করে সেগুলো বর্জনের ডাক দেওয়া হয়। এই বর্জনের ডাকে ব্যাপক সাড়া পড়ে বিশ্বব্যাপী। বিভিন্ন দেশের মার্কেট ও শপিংমল থেকে ফ্রান্সের পণ্য সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ফ্রান্সের সাময়িকী শার্লি এবদোতে কিছু দিন পরপর রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে অবমাননা করে কার্টুন ছাপানো হয়। এ কারণে ফরাসি মুসলিমরা ক্ষুব্ধ। অথচ সরকার বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করেছে। এর আগেও গত ২০১১ ও ২০১৫ সালে মহানবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কটাক্ষ করে কার্টুন ছেপেছিল ওই পত্রিকা।

বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্স সরকার দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করছে। তারা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর অবমাননাকে বাকস্বাধীনতা বললেও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করছে। বলছে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ বাকস্বাধীনতা, অন্যদিকে মেয়েদের বোরকা পরা নিষিদ্ধ করেছে। এ দ্বিমুখীনীতি শান্তি, সৌহার্দ ও সহাবস্থানের পথে অন্তরায়। লন্ডন, প্যারিস, ব্রাসেলস, নাইরোবি ও কলম্বোসহ এই দুই দশকে পৃথিবীর আরও অনেক স্থানে সন্ত্রাসের দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। সে ধারা এখনো যে অব্যাহত আছে, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তার প্রমাণ। গোটা ইউরোপের মধ্যে ইসলাম বিদ্বেষ ফ্রান্সে তীব্রতর। কারণ সেখানে প্রায় ৫০ লাখ মুসলিমের বসবাস। আলজেরিয়া, লিবিয়া ও তিউনিসিয়াসহ উত্তর পশ্চিম আফ্রিকান বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ ফরাসি কলোনি ছিল। আর ঐ জায়গাগুলো ভূমধ্যসাগরের এপারে-ওপারে অবস্থিত। মধ্যযুগের সোনালি সময়ে ফ্রান্সের একটি অংশ স্পেনভিত্তিক উমাইয়া সাম্রাজ্যের অধীন ছিল। এসব কারণে ফ্রান্সে মুসলিমের মিত্রতা ও শত্রুতার আধিক্য রয়েছে।

 পৃথিবীর কোথাও ইসলামের নামে কোনো হত্যা, সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সব ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। মুসলিম বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রশক্তি বা ব্যক্তিত্ব দৃশ্যত ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি অনুমোদন করছে না। এটা ঘটছে অননুমোদিতভাবে, বিচ্ছিন্ন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে। সুতরাং এর দায় সার্বিকভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর চাপিয়ে দেওয়া গুরুতর অন্যায়। আইন ও কর্তৃত্বের নিরপেক্ষ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রয়োগই যথার্থ। কিন্তু ফরাসি কর্তৃপক্ষ বিপরীত কাজটি করল। গোটা পৃথিবী অবাক হয়ে অবলোকন করলো, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ প্রতিশোধের ভাষায় কথা বললেন। বিপথগামী দু-এক জন মুসলিমের কর্মকাণ্ড ফ্রান্সের চিরায়ত বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার বাণীর অপব্যাখ্যা হতে পারে না। তিনি এক ধরনের উস্কানিমূলক কথা বলছেন। আরো মসজিদ, মাদরাসা ও মুসলিম প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সে দেশের মুসলিমদের জন্য এসব সিদ্ধান্ত বিপজ্জনক। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী নির্বাচনে জেতার জন্য খ্রিষ্ট মৌলবাদীদের তুষ্ট করার প্রতারণামূলক নীতি গ্রহণ করেছেন ম্যাক্রোঁ। ম্যাক্রোঁর বক্তব্য ও পদক্ষেপ নিয়ে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে প্রতিবাদ হচ্ছে। মুসলিম বিশ্ব এখন উত্তপ্ত। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।[6]

ওআইসি এক বিবৃতিতে নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অবমাননা, মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতিতে ক্রমাগত আঘাতের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, রাজনৈতিক স্বার্থে ফ্রান্সের নাগরিক ও ইসলামকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর ঘৃণ্য চেষ্টা করছেন কিছু ফরাসি কর্মকর্তা। 

এর পূর্বে মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা স্যাম বাসিল ও তার কলাকুশলীরা ‘ইনোসেন্স অব মুসলিম’ নামক চলচ্চিত্রে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে অত্যন্ত অশালীন ও বিকৃতভাবে বিদ্রুপ করেছিল।[7]  সব ঘটনায় একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে আর এমনটা প্রত্যেক মুসলিমেরই হওয়ার কথা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। মূলত বাকস্বাধীনতার নামে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতায় কত চমৎকারভাবেই-না বলেছেন ‘রাসূলের অপমানে যদি না কাঁদে তোর মন, মুসলিম নয়, মুনাফিক তুই রাসূলের দুশমন।’ আসলেই তাই, ইসলামের বিরুদ্ধে যখন কোনো বিষয়ে অভিযোগ হানা হয়, তখন প্রতিটি মুসলিমের হৃদয় কাঁদে এবং ব্যথা পায় আর এটাই স্বাভাবিক।

আমাদের জন্য কে ভালো, ট্রাম্প নাকি বাইডেন? :

শেষ পর্যন্ত আমেরিকার জনগণ বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তার জায়গায় প্রেসিডেন্ট হিসাবে নতুন করে আমেরিকার হাল ধরার ভার নিশ্চিতভাবে পড়ল ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা জো বাইডেনের উপর। নানা রেকর্ড সৃষ্টির মধ্য দিয়ে জোসেফ বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হবেন আমেরিকার সে প্রেসিডেন্ট, যিনি দেশটির ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। তার এই অভিষেকের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটল ট্রাম্পের বহু বিতর্কিত নেতিবাচকতায় ভরপুর চার বছরের আত্মম্ভরী শাসনের। ট্রাম্পের শাসন যেভাবেই হোক আমেরিকান ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। সেটি একজন আমেরিকান প্রেসিডেন্টের পাগলামো ধরনের উগ্র বক্তব্যের জন্য হলেও।[8]

একবিংশ শতাব্দীর সূচনাকালের এই কয়েক বছর ছিল আমেরিকান সমাজে মূল্যবোধ ও চেতনায় পরিবর্তন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। ২০০০ সালে ক্লিনটনের ডেমোক্র্যাট শাসনের মেয়াদ শেষে জুনিয়র বুশের রিপাবলিকান শাসনের সূচনা হয়। জুনিয়র বুশের সময় নাইন-ইলেভেনের ঘটনা ঘটে এবং তিনি মুসলিম দেশগুলোতে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ শুরু করেন। এর দুই দশক পরে ট্রাম্পের আলোচিত শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটছে। মাঝখানে বারাক ওবামার আট বছরের ডেমোক্র্যাট শাসন পার হয়েছে। যে জো বাইডেন আগামী জানুয়ারির শুরুর দিকে আমেরিকান প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, তিনি ওবামা প্রশাসনের পুরোটা সময়জুড়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র সুপরিচিত অভিবাসীদের দেশ হিসাবে। কিন্তু ট্রাম্প ছিলেন সবচেয়ে বেশি মাত্রায় অভিবাসনবিরোধী মনোভাব সম্পন্ন প্রেসিডেন্ট। গত চার বছরে তিনি সীমান্তে ৪০০ মাইলেরও বেশি নতুন দেয়াল নির্মাণ করেছেন। আর অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় সীমান্ত-নিরাপত্তা জোরদার করে তোলাকে তিনি নিজের সাফল্য হিসেবে বেশি প্রচার করেছেন। ট্রাম্পের কট্টরপন্থি সমর্থকরা এই নীতির প্রশংসা করলেও অনেকেই এর সমালোচনা করেছেন। তার আমলেই অভিবাসীদের ৪ শতাধিক শিশুকে তাদের মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। ৫ শতাধিক শিশু এখনো তাদের বাবা-মাকে খুঁজে পায়নি। শিশুদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই অমানবিক পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী প্রবল সমালোচিত হলেও কট্টর অভিবাসনবিরোধী ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে একটুও নড়েননি। তাছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বহু অভিবাসীকে আমেরিকা ছাড়তে হয়েছে। তার আমলে নতুন করে আমেরিকায় নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষের সংখ্যা কমেছে। বাইরের দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশেও ছিল কড়াকড়ি। অপরদিকে নতুন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে আনডকুমেন্টেড অর্থাৎ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের বৈধ অভিবাসী করা।

সবাই জানেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রবলভাবে ইয়াহূদী তথা ইসরাঈলপ্রেমী, অন্য কথায় ইসরাঈলের বেপরোয়া সমর্থক। তার বিগত চার বছরের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে এককভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেয় এবং তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থাপন করে। ট্রাম্প এবারের নির্বাচনকালে প্রচার করে বেড়িয়েছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের একটি বড় বিজয়।

ফিলিস্তীনি অবৈধ ইয়াহূদী বসতি স্থাপনে ছিল তার সক্রিয় সমর্থন। তার শাসনামলে তিনি ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনারের কলকাঠি নাড়াচাড়া, কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ আর ক্রিয়া-প্রক্রিয়ার পর শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে ঘোষণা করেন তার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও বহুল আলোচিত ‘মিডল ইস্ট পিস প্ল্যান’। অনেকের মতে, এটি আসলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অশান্তি সৃষ্টির এক ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা। তাদের মতে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা কখনোই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনবে না। বরং এটি কাজ করবে অশান্তি সৃষ্টি ও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলার নয়া জ্বালানি হিসাবে। এই পরিকল্পনায় প্রস্তাব করা হয়েছে, অবিভক্ত জেরুজালেম হবে এককভাবে ইসরাঈলের রাজধানী। ফিলিস্তীন হবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, তবে পশ্চিম তীরের বিতর্কিত অবৈধ ইয়াহূদী বসতিগুলোর উপর ইসরাঈলের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নিতে হবে ফিলিস্তীনকে। হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু পাশাপাশি দাঁড়িয়ে এই পরিকল্পনা ঘোষণার সময় ট্রাম্প বলেন, এই প্রস্তাব ‘হতে পারে ফিলিস্তীনিদের জন্য সর্বশেষ সুযোগ’। তার এ ধরনের মন্তব্যের সারমর্ম হচ্ছে- হয় ফিলিস্তীন এই পরিকল্পনা মেনে নেবে, নয়তো ফিলিস্তীনে ইসরাঈলি দখলদারিত্ব অব্যাহতভাবে চলবে।

বস্তুত ট্রাম্প তার শাসনের শুরুতেই ঘোষণা দিয়েছিলেন পূর্ববর্তী ‘দুই রাষ্ট্র’ তত্ত্ব ফিলিস্তীনকে ভুলে যেতে হবে। এরপরেই তিনি নেমে পড়েন ইসরাঈলের স্বার্থ শতগুণে বাড়িয়ে তোলার নানামুখী তৎপরতায়। এ তৎপরতায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তার জামাতা কুশনার। অস্বীকার করার উপায় নেই- তার সর্বশেষ ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’র মাধ্যমে তিনি ফিলিস্তীন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানকে আরও জটিল করে তুলেছেন। জানি না, বাইডেন কী করে এই জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ইসরাঈল-ফিলিস্তীন দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাবেন সব মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি ন্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপে তাকে ট্রাম্পের মতো অন্ধ ইয়াহূদী প্রেম-প্রবণতা থেকে অপরিহার্যভাবে বেরিয়ে এসে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে হবে। ট্রাম্প নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর বাইডেন প্রশাসন এই অতি কট্টর ইসরাঈলবান্ধব নীতি অনুসরণ করবে বলে মনে হয় না। ট্রাম্পের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে ছিল। এখন বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্পের নেওয়া সব কাজ আগের অবস্থানে হয়তো নিয়ে যাবেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাঈলের সাথে একাকার করে ফেলা থেকে নিবৃত হতে পারেন।

বাইডেন এখন প্রশাসন সাজানোর প্রক্রিয়ায়। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে বোঝা যাবে বাইডেন ঠিক কোন দিকে তার নীতি-কৌশলের তরী বাইবেন। তবে বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতার অধিকারী সত্তরোর্ধ্ব বাইডেন এমন এক সময় দেশের হাল ধরতে চলেছেন যখন পরিবর্তনের নতুন এক ঢেউ মনে হয় বিশ্বের নানা প্রান্তে উথলে উঠতে শুরু করেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাণ্ডারি পরিবর্তনের এই ক্রান্তিলগ্নে অপেক্ষা করতে হবে কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে ঢেউ তোলে তা দেখার জন্য।

আমাদের করণীয় :

যে বা যারা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অবমাননা করবে, সে দুনিয়াতে আল্লাহর লানতপ্রাপ্ত ও আখেরাতে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। দুনিয়াতে এরা হত্যার যোগ্য। সকল মুসলিম সরকারের উচিত, এ ব্যাপারে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া। আর তাদের ধ্বংসের জন্য সর্বসাধারণ জনগণের দু‘আ করতে হবে। তাদের পণ্য বয়কট করে হোক বা যেভাবেই হোক তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা সকল মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব।[9] আমরা এ ধরনের গর্হিত কাজের তীব্র নিন্দা জানাই এবং আল্লাহ পাকের দরবারে তাদের হেদায়াতের জন্য দু‘আ করি। যখন কেউ ইসলামের অবমাননা, কুরআনের অবমাননা এবং রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে অবমাননা করবে এর প্রতিবাদ আমরা অবশ্যই করব। তবে আমাদের প্রতিবাদের ধরন হবে শ্রেষ্ঠ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অনুপম আদর্শের প্রতিফলন ঘটিয়ে। কোনো দেশের পতাকা পুড়িয়ে বা কোনো দেশের রাষ্ট্রদূতের উপর হামলা চালিয়ে বা হত্যা করে অথবা অগ্নিসংযোগ ও অপহরণ করে এর প্রতিবাদ আমরা করব না। কারণ এগুলোর কোনোটাই ইসলাম আমাদেরকে অনুমতি দেয় না।

আমাদের প্রতিবাদের ধরন হবে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য, কুরআনের অনিন্দ্য সুন্দর শিক্ষা এবং বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অতুলনীয় আদর্শ সারা বিশ্বের মাঝে ফুটিয়ে তোলা। প্রতিটি দেশে বড় বড় সভা-সেমিনার করা, কুরআন প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা এবং সকল ধর্মের লোকদের ডেকে ইসলামের শান্তির শিক্ষা সম্পর্কে অবগত করা। আর এ কাজের জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে প্রথমে প্রয়োজন তা হলো সারা বিশ্বের মুসলিমের ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

আমরা যদি প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইসলামের আদর্শ ভুলে যুলুম-নির্যাতনের রাস্তা অবলম্বন করি, তাহলে বিধর্মীরা এটা বলতে আরও সাহস পাবে যে, মুসলিমরা সন্ত্রাসী আর এরাই পৃথিবীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ। তাই বিধর্মীদেরকে কোনোভাবেই অভিযোগের সুযোগ দেওয়া আমাদের মোটেও ঠিক হবে না। আমরা যদি প্রতিবাদ করতে গিয়ে দেশের রাস্তা বন্ধ করে রেখে জনগণকে কষ্ট দেই, তা কিন্তু শ্রেষ্ঠ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শের বিপরীত হবে।

উপসংহার :

আসুন! আত্মসমালোচনার পথ খোলা রাখি। নিজেদের ভুল সংশোধন করা যায় কীভাবে, সেটা নিয়ে চিন্তা করি। নিজ ঘরানার লোকদের সংশোধনের মাধ্যমে ইসলামকে অযথা নিন্দায় ফেলা থেকে সুরক্ষা দিই। অহেতুক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বীন ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ যেন না করি। আমাদের আখলাক এমন হওয়া উচিত, যেন আমাদের চরিত্রগুণে মানুষ দ্বীন-ইসলামে ধাবিত হয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে ছহীহ বিষয় বোঝার তাওফীক্ব দিন- আমীন!


* খত্বীব, গছাহার বেগপাড়া জামে মসজিদ, গছাহার (১২ নং আলোকডিহি), চিরিরবন্দর, দিনাজপুর; সহকারী শিক্ষক, আলহাজ্ব শাহ্ মাহতাব-রওশন ব্রাইট স্টার স্কুল, উত্তর পলাশবাড়ী, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।

[1]. ছহীহ মুসলিম (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), হা/৫২৮২।

[2].https://www.kalerkantho.com/online/Islamic-lifestylie/2019/07/08/788879.

[3]. https://m.dailyinqilab.com/article/330572.

[4]. সুনানে আবূ দাঊদ, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়, ‘সালাম বিনিময়ের পদ্ধতি’ অনুচ্ছেদ, হা/৫১৯৫।

[5]. সুনান আত-তিরমিযী, হা/৩৪৪২; মিশকাত, হা/২৪৩৫, সনদ ছহীহ।

[6]. উপসম্পাদকীয় : ম্যাক্রোঁর বিদ্বেষ এবং গাফফার চৌধুরীর বিশ্লেষণ, ড. আবদুল লতিফ মাসুম, দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১২ নভেম্বর ২০২০ ইং।

[7]. https://www.ittefaq.com.bd/opinion/193971.

[8]. উপসম্পাদকীয়, বাইডেন প্রশাসন ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি : মাসুম খলিলী; দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১১ নভেম্বর ২০২০ ইং।

[9]. জুমআর খুৎবা-রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ব্যঙ্গ বা কটুক্তি (০৬/১১/২০২০ ইং) : বায়তুল হামদ জামে মসজিদ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী; খত্বীব: শায়খ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ।