ইসলাম নিয়ে বাউল শিল্পীদের অনৈসলামিক কার্যকলাপ

জুয়েল রানা

ভূমিকা : আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় পীর-ফক্বীর বা বয়াতীদের নিয়ে যে কুসংস্কার বা পশ্চাৎপদতা, তা ষাট বা সত্তর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রবল ছিল, তা হঠাৎ করে ২০১৯-২০২০ সালে নতুন করে আবার কেন মাতামাতি শুরু হলো তার সঠিক কারণ বা প্রমাণ আমার এখনো অজানা রয়ে গেছে। তবে এটা ঠিক যে, বয়াতী বা পীরদের প্রচারিত বিষয়বস্তু বহুসংখ্যক মানুষের মন-মানসিকতা ও চিন্তার রাজ্য আচ্ছন্ন করে ফেলে। নানা বয়সের মানুষজন বয়াতীর সুর, কথা বা পীর-ফক্বীরদের কা-কারখানা দিয়ে প্রভাবিত হয় এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তা বয়ে বেড়ায়। তাদের কারও কারও মনে এসব বিষয় এতটাই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে যে, তারা বিকৃত তথ্য, মিথ্যার বেসাতি এবং কুসংস্কারের মায়াজালে বন্দী হয়ে প্রকৃত সত্যকে পরিহার করে, কেউ কেউ সত্যকে রুখে দিয়ে মিথ্যার পাহাড় গড়ে তোলে এবং সেই পাহাড়ের পাদদেশে নিজেদের ভ্রান্তির প্রতিমূর্তি স্থাপন করে পূজা-অর্চনা শুরু করে দেয়।

আসল ঘটনা : গত ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ রাতে ঢাকার ধামরাই উপজেলার রৌহাট্টেক এলাকায় অবস্থিত হযরত হেলাল শাহ্ পীরের ১০ম বাৎসরিক পালা গানের অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার আগধল্যা গ্রামের পবন মিয়ার ছেলে কথিত শরীয়ত বয়াতী ইসলাম ধর্ম ও নবী-রাসূলদের নিয়ে শরী‘আত বিরোধী ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে গান পরিবেশন করেন। এ সময় তিনি ইসলাম ধর্মে গান-বাজনা হারাম, কুরআনের কোথাও উল্লেখ নেই বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে প্রমাণ দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেন। গানে তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) গান না শুনে ঘুমাইতেন না। নবীজী আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ)-কে ২৩ রকমের বাদ্যযন্ত্র হাদিয়া হিসাবে প্রদান করেন। বাদ্যযন্ত্রগুলো দাঊদ নবী (ছাঃ)-এর ছিল। শরীয়ত বয়াতী বলেন, মসজিদের হুযূররা ১৩’শ টাকা বেতনের চাকুরি করে আযান দেয়। সেই টাকা দিয়ে সংসার চালায়। বানরের মতো চুক্কা টুপি মাথায় দিয়া ঘুরে, আর শালারা বলে হারাম, হারাম। যারা নামায পড়ে সেজদা দিয়া কপালে কালো দাগ করে, তাদের কপাল থেকে ১১৩টি কিরা বের হয়। নামায পড়ে যে নূর হয় সেইগুলি হুযূরদের পায়ু পথে বের হয়। নবীই আল্লাহ, আল্লাই নবী, যেই মুরশেদ সেই রাসূল, এই কথাতে নেই কোনো ভুল- বলেন লালন ফক্বীর। গুরুর চরণে সেজদা করিতে হবে, আল্লাহকে সেজদা করার প্রয়োজন নাই। যে পীর ধরে না সে মুসলমান না।[1]  এভাবেই পালা গানের মধ্যে শরীয়ত বয়াতী আল্লাহ, রাসূল, ইসলাম, কুরআন-হাদীছের বিরুদ্ধে এমন আরও অনেক ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে গান পরিবেশন করেন। সেই গানটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউব ও ফেসবুকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়। পরে এ বিষয়ে মির্জাপুরের ধর্মপ্রাণ মুছল্লীরা ও দেশের হক্বপন্থী ওলামায়ে কেরাম তার বিচারের দাবিতে আন্দোলন করেন ও সোচ্চার হন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জানুয়ারি ২০২০ শরীয়ত বয়াতীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় নিরাপত্তা আইন ২০১৮ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মির্জাপুর উপজেলার আগধল্যা গ্রামের মাওলানা মুহাম্মাদ ফরীদুল ইসলাম বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা (মামলা নম্বর-১০) করে দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ আসলাম মিয়া তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং হাজতে প্রেরণ করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ শরীয়ত সরকারের যামিন না মঞ্জুর করে আদালত।

শরীয়ত বয়াতীর গ্রেফতারের প্রতিবাদে বাউলরা দল বেঁধে রাস্তায় নেমে এসেছেন এবং তাদের সমর্থন জানাচ্ছেন দেশের বুদ্ধিজীবী শ্রেণি বলে পরিচিত একদল লোক। বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হওয়ায় শরীয়ত বয়াতীকে নিয়ে সংসদেও আলোচনা হয় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং শরীয়ত বয়াতীর ব্যাপারে নাতিদীর্ঘ বক্তব্য রাখতে বাধ্য হন।

শরীয়ত বয়াতী ছাড়াও কিছু পীর নামধারীর বিরুদ্ধে ইদানীং যেসব অভিযোগ শোনা যাচ্ছে, তা ইতোপূর্বে কল্পনাও করা যেত না।  নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জনৈক বিতর্কিত পীরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে প্রতারণার অভিযোগে। অন্য এক কথিত পীর তার বাড়ীতে নকল কা‘বা স্থাপন করে সেখানে খুব কম খরচে হজ্জ-ওমরাহর প্যাকেজ চালু করেছিল, যা পুলিশি তৎপরতায় বন্ধ হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত কিছু ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে দেখা যায় যে, কিছু ভণ্ড পীরের ভণ্ড মুরীদরা দাবি করছে যে, তাদের পীরই আল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ।[2]

আবার, গত ৩১ জানুয়ারি ২০২০ নারী বাউল শিল্পী রিতা দেওয়ান সরকারের পালা গানের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, তিনি ঐ ভিডিওতে আল্লাহকে শয়তান, মুনাফিক্ব, দুমুখী বলে গালি দেন- নাঊযুবিল্লাহ। এরই প্রেক্ষিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার রাসেল মিয়া নামের এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর আগে ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে রিতা সরকারের বিরুদ্ধে আইনজীবী সমিতির সদস্য মুহাম্মাদ ইমরুল হাসান একটি মামলা দায়ের করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর রিতা দেওয়ান তার ভুলের জন্য করজোড়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে সামাজিক মাধ্যম ইউটিউবে এক ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এ সময় মায়ের সাথে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েছে রিতা দেওয়ানের দুই মেয়ে আফরিন দেওয়ান ও নাজমিন দেওয়ান।

বাউলদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় : ‘বাউল’ শব্দের উৎপত্তি নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে প্রচুর মতভেদ লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ বলেছেন, বাউল শব্দটি ‘বাতুল’ শব্দ থেকে উদ্ভূত। ‘বাতুল’ মানে পাগল। সুতরাং বাউল সম্প্রদায় মানে পাগলের দল। আবার কারও কারও মতে, বাউল শব্দটি আরবী বাওয়াল শব্দের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তারা বাউল শব্দটিকে আউলিয়া শব্দের বিকৃতরূপ বলে উল্লেখ করেছেন। আবার কারও কারও মতে, বাউল শব্দটি বাউলা শব্দের অপভ্রংশ। বাউল সম্প্রদায়ের কোনো লিখিত ধর্মগ্রন্থ নেই। তাই তারা তাদের ধর্মের দার্শনিক পরিচয় দিতে পারে না। বাউলদের বাহ্যিক পরিচয়ে বলা যায় যে, বাউল মাত্রই গোঁফ-দাড়ি, বাবরী অথবা চূড়াবাঁধা মাথার চুল, ডান হাতে একতারা, বাম হাতে বাঁয়ার ওপর বাঁয়া বাঁধা থাকে কোমরের সঙ্গে। কেউ কেউ পায়ে নূপুর বাঁধে, গলায় রুদ্রাক্ষ-প্রবাল পদ্মবিজের মালা, কাঁধে ভিক্ষার ঝুলি, কোমর দুলিয়ে দেহ ঘুরিয়ে নাচে।

বাউলদের শ্রেণি বিভাগ : বাংলাদেশে ও পশ্চিম বঙ্গে লালন ও তার অনুসারী ফক্বীরদেরকে বাউল, বে-শরা ফক্বীর, নেড়ার ফক্বীর ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়। কদাচিৎ বাউল নামেও তারা পরিচিত। মোটামুটিভাবে বাউলদেরকে দুই সম্প্রাদায়ে বিভক্ত করা হয়। যথা: (১) হিন্দু জাতির বাউল তথা বৈষ্ণব, বৈষ্ণব-বাউল, বাউল-মোহান্ত, বৈষ্ণব-রসিক ইত্যাদি (২) মুসলিম জাতির বাউল তথা পীর, কুতুব, সাঁই, ফক্বীর প্রভৃতি।[3]

বাউলদের প্রসিদ্ধ কতিপয় দর্শন ও তত্ত্ব : (১) বাউলরা হলো গুরুবাদী সম্প্রদায়। তাদের মতে গুরুই সকল শক্তির উৎস। আল্লাহ্র চেয়ে গুরুই বড়। আল্লাহকে সিজদা করার প্রয়োজন নেই, গুরুকেই সিজদা করতে হবে। বাউলরা বলে থাকে:

মন পাগলরে গুরু ভজনা

গুরু বিনে মুক্তি পাবি না।

গুরু নামে আছে সুধা,

যিনি গুরু তিনিই খোদা

মন পাগলরে গুরু ভজনা।

(২) বাউল দর্শনের আর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, যৌনাচারের স্বাধীনতা। বাউল সাধনায় নারীকে সাধনার যন্ত্ররূপে ব্যবহার করা হয়। বাউলদের ধারণা হচ্ছে, নারী হইতে জগৎ সৃষ্টি। নারী ব্যতিরেকে জগৎ চলিতে পারে না। নারী রহস্যময়ী। তাহার রহস্য উদ্ঘাটন করা বাউলদের একটি বিশিষ্ট সাধন পদ্ধতি। তারা আরও সূত্র উদ্ভাবন করে বলে যে, আদম ব তার নিজ কন্যা বিশ্বজননী হাওয়াকে অপহরণ করেন এবং তাহাকে তাহার পতœীরূপে গ্রহণ করেন। আস্তাগফিরুল্লাহ।

(৩) দেহকে আশ্রয় করেই পল্লবিত হয়েছে বাউল সন্যাসীদের সাধনা। তাদের বিশ্বাস মতে, বিশ্বজাহানের সবই এ স্থূল মনুষ্য দেহে বিরাজমান। তাদের গানে বলা হয়েছে, ‘যাহা আছে ভাণ্ডে, তাহা ব্রহ্মাণ্ডে’। তারা বৈষ্ণব মহাজন চণ্ডিদাসের ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তার উপরে নাই’ এই বাণীর পূর্ণ অনুসারী। তাদের গানে আরও বলা হয়েছে:

উপাসনা নাই গো তার,

দেহের সাধনা সর্বসার।

তীর্থ ব্রত যার জন্য,

এ দেহে তার সব মিলে।

(৪) বাউলদের দাবি অনুযায়ী, ‘তাদের মনের মদীনায় কুরআনের বিশুদ্ধ ১০ পারা সদা জীবন্ত অবস্থায় বিদ্যমান’। এজন্য শরীয়তী কুরআনের ৩০ পারা বাউলরা অনুসরণ করে না।

(৫) বাউলদের মতে রাসূল ও আল্লাহ একই সত্তা। এমনকি আদমও আল্লাহ। এ সম্পর্কিত তাদের গানগুলো হলো:

(ক) যেই মুর্শিদ, সেইতো রাসূল,

ইহাতে নেই কোনো ভুল।

(খ) আপন ছুরাতে আদম গঠলেন দয়াময়

তা নইলে কি ফেরেশতারে সিজদাহ দিতে কয়?

আল্লাহ আদম না হইলে,

পাপ হইত সিজদা দিলে।

(গ) মুহাম্মাদ নাম নূরেতে হয়, নবুঅতে নবী কয়

রাসূলুল্লাহ ফানা-ফিল্লা আল্লাহতে মিশেছে

মুহাম্মাদ হন সৃষ্টিকর্তা, নবী নামে ধর্ম দত্তা।

(ঘ) আলিফ লাম মীম আহাদ নূরী

তিন হরফের মর্ম ভারী।

আলিফেতে আল্লাহ হাদি

মিমেতে নূর মোহাম্মদী।

লামের মানে কেউ করল না,

নুক্তা বুঝি হলো চুরি।[4]

(৬)  পবিত্র কুরআন আল্লাহর কালাম হওয়ার ব্যাপারে তাদের সন্দেহ আছে। তাদের গান থেকে এটা বোঝা যায়:

কি কালাম পাঠাইলেন আমার সাঁই দয়াময়

এক এক দেশে এক এক বাণী কোন খোদায় পাঠায়?

যদি একই খোদার হয় বর্ণনা

তাতে তো ভিন্ন থাকে না

মানুষের সব রচনা

তাইতে ভিন্ন হয়।

(৭) বাউলরা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী। পুনর্জন্মের ফেরে পড়ে মানুষকে দুনিয়াতে অবস্থান করতে হয়। তাই তাদের লালন সাঁই বলেন, ‘পিতার বীজে পুত্রের সৃজন, তাইতে পিতার পুনর্জনম’।

(৮) বাউলদের বিশ্বাস অনুযায়ী মদপান ব্যতীত আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করা সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি মদপান ও গাঁজা ইত্যাদি সেবন করে সে অনতিকালের মধ্যেই মা‘রেফতের এলাহী বা আল্লাহর জ্ঞান লাভে সক্ষম হয়। তাই আল্লাহর সান্নিধ্য হতে দূরে রাখার জন্যই শয়তান মানুষকে মদপানে নিষেধ করে। এই শয়তানের প্ররোচনায় মুসলিম শাস্ত্রবিদ বা শরী‘আতী আলেমগণ মদপান এবং অন্যান্য নেশা সেবনকে পাপ বলে ফৎওয়া দিতে শুরু করেছিলেন।

(৯) বাউল মতবাদের লক্ষ্য হলো, সব ধর্মের সমন্বয় সাধন। তাদের মতে, সব ধর্মের মূল লক্ষ্য হলো আত্মার মুক্তি। এই সব ধর্ম সমন্বয় দর্শনের কারণেই বাউলগণ একদিকে আল্লাহ-রাসূলের কথা বলে, আবার রাম-নারায়ণেরও কথা বলে।

(১০) বাউলদের মতে সিদ্ধি অর্জন করার জন্য ‘চার চন্দ্র ভেদ তত্ত্ব’ সাধনার গুরুত্ব অপরিসীম। চার চন্দ্র বলতে বোঝায় শুক্র, রজঃ, বিষ্ঠা ও মূত্র। অমাবশ্যা ও পূর্ণিমা যোগে বাউলগণ প্রকৃতি আশ্রয়ী হয়ে সাধনা করতে গিয়ে তারা পান ক্রিয়া অনুষ্ঠানে এসব পান করে থাকে। এই চার চন্দ্র ভেদ সাধনার জন্য বাউলরা হিন্দু, মুসলিম নির্বিশেষে সকলের কাছে অত্যন্ত নিন্দিত; যদিও বাউল সাধনার দৃষ্টিকোণ থেকে তা খুবই প্রশংসনীয়।[5]

(১১) তারা আল্লাহর উপর অভিযোগ পেশ করে গান ধরে:

আমি তোমার কলের গাড়ি

তুমি আমার ড্রাইভার

যদি তোমার ইচ্ছায় চলে গাড়ি

তবে দোষ কেন পড়ে আমার?

(১২) তাদের মতে, আল্লাহ তাঁর লক্ষ-কোটি সৃষ্টির মধ্যে বিভক্ত হয়ে নিরাকাররূপে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছেন। আল্লাহর পৃথক কোনো অস্তিত্ব বলতে কিছুই নেই। যেমন তারা গেয়ে থাকে:

লক্ষ-কোটি সুরত নিয়ে

সাজলে তুমি নিরাকার

প্রভু, সাজলে তুমি নিরাকার।

(১৩) এইসব ভক্তের দল ছালাত, ছিয়াম, হজ্জ, যাকাত ছেড়ে দিয়ে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ঢোলে তালি মেরে মেরে মাথা হিলিয়ে হিলিয়ে গান গায়:

নামায নামায কর মোল্লাজী

নামায কি চিনো?

পিছন দিকে খোদা থুইয়া

ডুম দেও ময়দানো।[6]

এ ছাড়াও বাউলদের আরও জঘন্য ও নোংরা আক্বীদা রয়েছে, যা কলেবর বৃদ্ধির আশংকায় এখানে উল্লেখ করা সম্ভব হলো না।

উপসংহার : বাউল কপোল-কল্পিত ও প্রতারণামূলক এমন একটি সম্প্রদায় যা মানুষকে অসভ্য, বর্বর ও রুচিহীন নরপশুতে পরিণত করে। হিন্দু-মুসলিম একাকার করে এরা ইসলামকে চরমভাবে বিকৃত করেছে। তাওহীদকে ধ্বংস করে শিরক প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে এই সম্প্রদায়ের মূল কাজ। অতএব, এদের এই সমস্ত জঘন্য আক্বীদা-বিশ্বাস ও নোংরা কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের বিরত রাখতে হবে, তেমনি এই ভণ্ডামির প্রতিরোধও গড়ে তুলতে হবে।

[1]. https://m.dailyinqilab.com/article/26015.

[2].  শরীয়ত বয়াতি বনাম পীর-ফকিরের বেসাতি, গোলাম মাওলা রনি, উপসম্পাদকীয়: দৈনিক নয়া দিগন্ত, ৩১ জানুয়ারি ২০২০ ইং।

[3]. আব্দুশ শাফী আহমাদ, ঈমান বিনষ্টকারী আকীদা ও মারেফতের গোপন প্রশ্নের জবাব (রাজশাহী: তাওহীদ পাঠাগার, প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১১ খ্রি.), পৃঃ ৯২।

[4]. ইসলাম বনাম ফের্কাবন্দী (ঢাকা: ইসলামিক রিসার্চ এ্যান্ড রিফরমেশন সেন্টার, প্রকাশকাল-জুলাই ২০১৯ খ্রি.), পৃঃ ৪৬৩-৪৭৬।

[5]. আব্দুশ শাফী আহমাদ, ঈমান বিনষ্টকারী আকীদা ও মারেফতের গোপন প্রশ্নের জবাব (রাজশাহী: তাওহীদ পাঠাগার, প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১১ খ্রি.), পৃঃ ৯২-৯৮।

[6]. মাওলানা আবূ তাহের বর্ধমানী (রহ.), পীরতন্ত্রের আজব লীলা (ঢাকা: তাওহীদ পাবলিকেশন্স, তৃতীয় প্রকাশ-ফেব্রুয়ারি ২০০৬ খ্রি.), পৃঃ ৬১-৬২।