ইয়াজূজ-মাজূজ ও নাস্তিকদের মাঝে মিল

-সাঈদুর রহমান*


নাস্তিক পরিচিতি : যারা আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তা বলতে একজন আছেন, তা বিশ্বাস করে না; মনে করে পৃথিবী নিজ থেকে অস্তিত্বে এসেছে আবার নিজ থেকে ধ্বংস হয়ে যাবে। পুনরুত্থান, জান্নাত-জাহান্নাম প্রভৃতি গায়েবী বিষয়গুলো অস্বীকার করে এবং যা চোখে  দেখা যায়, তা বিশ্বাস করে আর যা দেখে যায় না, তা বিশ্বাস করে না- এরূপ বিশ্বাস পোষণকারীরাই নাস্তিক। সারা বিশ্বে যারা নিজেদের নাস্তিক বলে বুলি আওড়িয়ে থাকে তারা মূলত নাস্তিক না; বরং তারা ইসলাম বিদ্বেষী। নাস্তিকতার আড়ালে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরোধিতা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। কখনো কি তাদের মুখ থেকে বিদ্যমান বিকৃত অন্যান্য ধর্মের সমালোচনা শুনেছেন? তাদের সমালোচনার বিষয় একটাই, তা হলো ‘ইসলাম’।
মানব জাতি ইসলামের বিধি-বিধান পালন করে চিরসুখের ও আরাম-আয়েশের স্থান জান্নাতের অধিবাসী হোক এটাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চান। পক্ষান্তরে, শয়তান চায় মানুষ তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভয়াবহ কষ্টদায়ক স্থান জাহান্নামের অধিবাসী হোক। কারণ সে তো মানুষের বিরোধী ও প্রকাশ্য শত্রু। হ্যাঁ, সে বিরোধীই! আদম ও হাওয়া (আলাইহিস সালাম)-কে প্ররোচিত করে নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ করানোর মধ্য দিয়ে তার বিরোধিতার সূত্রপাত হয়। যুগে যুগে মানুষকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ধোঁকা দিয়ে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছে সে। সে কখনো ধরেছে নায়কের রূপ আবার কখনো-বা ধরেছে গায়কের রূপ আবার কখনো ধরেছে পীর, ফকির ও দরবেশের রূপ। কারণ সে তো মানুষের গতিবিধি লক্ষ্য করে তাদের চালচলনে। সে মানুষের শিরা-উপশিরায় বিচরণ করতে পারে। সে এই শক্তি মহাপ্রলয় অবধি আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে এসেছে। উদ্দেশ্য শুধু একটিই আর তা হচ্ছে ‘মানুষকে বিপথগামী করা’। বর্তমানে শয়তান নব উদ্দীপনা নিয়ে মানুষের পিছনে লেগেছে; নাস্তিকতার চাদরে আবৃত হয়ে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রে আপতিত হয়েছে। আর তার কাজগুলো আঞ্জাম দিচ্ছে ইসলাম বিদ্বেষী মানুষরূপী কিছু শয়তান ও মিডিয়া। যেহেতু ইয়াজূজ-মাজূজ পৃথিবীর বিপর্যয় ঘটাবে আর নাস্তিকরা বর্তমানে মানবতার বিপর্যয় সৃষ্টি করছে, সেহেতু এই দিকে মিল রেখে বিষয়ের নাম চয়ন করা হয়েছে ‘ইয়াজূজ-মাজূজ ও নাস্তিকদের মাঝে মিল’।

ইয়াজূজমাজূজ পরিচিতি : চারজন বাদশাহ ব্যতীত কোনো বাদশাহই সারা পৃথিবী শাসন করেনি। মুসলিমদের থেকে দুইজন: সোলায়মান ও যুলকারনায়ন (আলাইহিস সালাম) আর খ্রিষ্টানদের থেকে দুইজন: নমরূদ ও বুখতে নাসর। যুলকারনাইন একদা কোনো এক এলাকায় যান। ঐ এলাকার অধিবাসীরা তাঁর কাছে অভিযোগ করে যে, আমাদের এলাকায় দুটি দল বিপর্যয় সৃষ্টি করে, তাই আমাদের জন্য একটা ব্যবস্থা করুন। ঐ দলদ্বয়কে প্রতিরোধকল্পে তখন তিনি গিরিপথের মাঝে সীসাঢালা প্রাচীর নির্মাণ করেন। এই বিপর্যয় সৃষ্টিকারী দলই হলো ইয়াজূজ-মাজূজ।

উৎপত্তি : আমরা জানি নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর চারজন পুত্র সন্তান ছিলেন। তারা হলেন- কেনান, হাম, সাম ও ইয়াফেস। এর মাঝে কেনান প্লাবনের সময় কাফের অবস্থায় মারা যায়। আর বাকি তিন পুত্র মুসলিম অবস্থায় নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে ছিল। এদের মাঝে সামের বংশ থেকে এসেছে ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) আর ইবরাহীম থেকে ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম) এবং ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর হতে এসেছেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আর ইয়াফেসের বংশ থেকে এসেছে ইয়াজূজ-মাজূজ ও  ইউনান অর্থাৎ গ্রীক দার্শনিকরা, যারা পরবর্তীতে মনে করত যে, আল্লাহ বা স্রষ্টা বলতে কোনো কিছু নেই, পৃথিবী নিজ থেকে অস্তিত্বে এসেছে আবার নিজ থেকে বিলীন হয়ে যাবে।[1] তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম যে, ইয়াজূজ-মাজূজ ও নাস্তিকদের বংশ একই এবং তারা একই সূত্রে গাঁথা।

ক্রবিকাশ : ইয়াজূজ ও মাজূজ দুটি সম্প্রদায়। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন হাদীছ বর্ণনা করেন, তখন তাদের  দুই দলে ৪ লক্ষ করে মোট ৮ লক্ষ লোক ছিল। তাদের মাঝে প্রত্যেক পুরুষ এমন ১ হাজার সন্তান জন্ম দিয়ে মৃত্যুবরণ করে, যারা যুদ্ধের উপযুক্ত। তারা তাদের মৃত লাশগুলোকে ভক্ষণ করে ফেলে এবং তারা তাদের ভাই-বোন, মা ও মেয়ের সাথেও ব্যভিচার ও বলাৎকারে লিপ্ত হয়। অর্থাৎ তাদের মাঝে কোনো বাছ-বিচার নেই। বর্তমানে তাদের সংখ্যা কত হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।[2]

বিভিন্ন যুগে নাস্তিক আগমন করেছে; কিন্তু ইয়াজূজ-মাজুজের মতো সংখ্যায় এতো বেশি হতে পারেনি। ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর পূর্বে নাস্তিক ছিল এরিস্টটল, প্লেটো ও সক্রেটিস। তারপর  ডারউইন, কালমার্কস ও সর্বশেষ লেনিন। এই ক্রমধারায় বর্তমানেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অসংখ্য নাস্তিক রয়েছে। বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন বড় বড় কর্মকর্তাদের মাঝে নাস্তিক  রয়েছে, যারা তাদের অসৎ উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভট কথা বলে সাধারণ মানুষের মস্তিষ্ক ধোলাই করে, তাদের বিপদগামী করছে। আল্লাহ ও রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ থেকে মানুষকে বিমুখ করছে।

উদ্দেশ্য : আল্লাহ তাআলা বলেন,قَالُوا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ ‘তারা বলল, হে যুলকারনাইন! নিশ্চয় ইয়াজূজ ও মাজূজ পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে’ (আল-কাহফ, ১৮/৯৪)

আমরা জানি, ইয়াজূজ-মাজূজ দাজ্জালের পরে এসে সারা পৃথিবীতে ফেতনা-ফাসাদ ও বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। আর বর্তমানে নাস্তিকদের উদ্দেশ্যও তাই। অর্থাৎ ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করা। ইয়াজূজ-মাজূজ যেমন হালাল-হারামের তোয়াক্কা করে না, অনুরূপ নাস্তিকরাও কোনো কিছুর তোয়াক্কা করে না। শূকর, কুকুর থেকে শুরু করে সব হিংস্র জন্তু ভক্ষণ তারা বৈধ মনে করে। সূদ, ঘুষ, পতিতাবৃত্তি তাদের নিকট হালাল উপার্জন। ইয়াজূজ-মাজূজ যেমন মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন সবার সাথে ব্যভিচার ও বলাৎকার  করতে দ্বিধা করে না, অনুরূপ নাস্তিকরাও দ্বিধা করে না। অনেকেই হয়তো পত্রিকাতে পড়েছেন যে, ভারতে বলাৎকার বৈধতাকরণে হাইকোর্টে আপিল করেছে নাস্তিকরা; শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট এর অনুমোদন দিতে পর্যন্ত বাধ্য হয়েছে।[3] নারী অধিকার ও স্বাধীনতার নামে তারা নারীদের সুকৌশলে উলঙ্গ-অর্ধোলঙ্গ করছে; নামিয়েছে তাদের রাস্তাঘাটে।  যার কারণে অহরহ শোনা যাচ্ছে নারী ধর্ষণের অনাকাঙ্ক্ষিত দু্র্ঘটনা। নাস্তিকরা এই কাজগুলো  সুনিপুণভাবে বিভিন্ন মহলে করছে। নিম্নে কয়েকটি স্থান উল্লেখ করা হলো :

() শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আছে অনেক নাস্তিক শিক্ষক। ক্লাসে ঢুকেই এই নাস্তিকরা শুরু করে ইসলাম বিদ্বেষী প্রচারণা। ইসলামের অনেক ইস্যু নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী কুরআন ও হাদীছের যথার্থ জ্ঞান রাখে না, সেহেতু এই সরলমনা তরুণদের মাঝে সহজেই এসব সমালোচনা বিষের ন্যায় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আস্তে আস্তে তারা নাস্তিকতার দিকে ধাবিত হয়। এই নাস্তিকরা অন্য কোনো ধর্মের সমালোচনা করে না, শুধু ইসলামকে নিয়েই তাদের যত মাথা ব্যথা। কোনো ছাত্র যদি এসকল সমালোচনার যথোচিত উত্তর দেয়, তাহলেই তার পিছনে লাগে; পরীক্ষায় ভালো করা সত্ত্বেও তাকে কম নম্বর দেওয়া হয়। এই ভয়ে কেউ তাদের সমালোচনার জবাব দেয় না। আর এতে নাস্তিকদের প্রপাগান্ডা বৃদ্ধি পায়।

একটি বিষয় নিয়ে যদি বারবার আলোচনা করা হয়, তখন শিক্ষার্থীদের মাঝে এর একটা প্রভাব পড়ে। ফলে ধীরে ধীরে তারা ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে ওঠে। কারণ একজন মানুষকে জাহান্নামী করার জন্য তিনটি জিনিস কাজ করে- শয়তান, কুপ্রবৃত্তি ও মানুষরূপী শয়তান। নাস্তিকরা কখনো প্রকৃত ইসলাম তুলে ধরে না, বরং  কারসাজি করে। আংশিক বলে আর আংশিক গোপন রাখে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুল ধরার মতো শিক্ষার্থী একেবারে বিরল; ধর্ম চর্চা সেখানে নেই বললেই চলে।

আমরা আগে বলেছি যে, ইয়াজূজ ও মাজূজ ব্যভিচার করে, আর নাস্তিকরা যেহেতু তাদের বংশধর সেহেতু তাদেরও অভ্যাস ব্যভিচার করা। তারা প্রেমের নামে ব্যভিচারের মতো এই মহামারি সমাজের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এখন আর কেউ প্রেমিক-প্রেমিকার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে খারাপ মনে করে না। সবাই মনে করে প্রেম হলো পবিত্র। শয়তান তাদের উপর এমনভাবে চেপে বসেছে যে, তারা বিন্দুমাত্র টের পায় না। এভাবেই আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর নাস্তিকরা তাদের চক্রান্তে সফল হচ্ছে। ইয়াজূজ-মাজূজ যেমন পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে, অনুরূপ নাস্তিকরাও বর্তমানে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ তা অনুধাবন করতে পারছে না।

() মিডিয়া : নাস্তিকতার বীজ বপনে মিডিয়ার ভূমিকাও কম নয়। অনেক সাংবাদিক আছে নাস্তিক। তারা তাদের উদ্দেশ্যকে খুব সূক্ষ্মভাবে বাস্তবায়ন করছে। মিডিয়ার মাধ্যমে সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। আপনি দেখবেন, বিভিন্ন সময় টকশোতে মাদরাসা শিক্ষাকে কটাক্ষ করা হয়, দেশের বড় বড় আলেমদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়। এতে করে জনসাধারণের মাঝে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

বর্তমানে কিছু মিডিয়া আলোচিত কিছু স্কলারের বক্তব্য কাটছাঁট করে তাদের সুনাম নষ্ট করার সাথে সাথে পাবলিক প্লেসে ইসলামের দুর্নাম করছে, করছে ইসলামের সমালোচনা। ধর্ষণের কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছে মাহফিলের বক্তব্যকে। বক্তব্য শুনে নাকি ধর্ষকরা ধর্ষণের প্রতি ধাবিত হচ্ছে, বক্তারা নাকি ধর্ষণের উসকানিদাতা। আমরা তাদের তীব্র নিন্দা করে বলছি, বর্তমানের কিছু বক্তা জাতির জন্য রহমতস্বরূপ। তাদের জোরালো বক্তব্যের প্রভাবেই একবিংশ শতাব্দীতে ইসলামের রেনেসাঁ শুরু হয়েছে। দলে দলে মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছে, অনেক বিপদগামী সুপথের সন্ধান পাচ্ছে, যারা আগে দ্বীন-ধর্মের কোনো পরওয়াই করত না, তারা এখন দ্বীন ছাড়া কিছু বোঝে না। তারা বুঝতে পেরেছে যে, শান্তি একমাত্র ইসলামেই রয়েছে। যে সমস্ত নারী স্বাধীনতার নামে বেপর্দায় চলত, তারা এখন শালীন পোশাক পরে চলাফেরা করে। ওহে নাস্তিক! আপনার মধুমাখা আলোচনা শুনে কতজন নারী শালীনভাবে পোশাক পরছে?

() সহযোগিতার নেপথ্যে কুমতলব : গ্রামের অধিকাংশ পরিবার দুস্থ-দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের; সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। শহরের লোকদের ন্যায় এত টাকা-পয়সা নেই যে ব্যবসা-বাণিজ্য করে খাবে। এসব সরলমনা লোকদের নিকট নাস্তিকরা গমন করছে, সহযোগিতার নামে তাদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে নাস্তিকতার বিষবাষ্প। তারা গ্রামে গ্রামে কিছু নারী পাঠাচ্ছে, যারা গ্রামের সাধারণ নারীদের নারী স্বাধীনতার নামে ইসলাম বিদ্বেষী করে তুলছে। গ্রামে এনজিও-র নামে সূদের বিস্তার ঘটাচ্ছে, বাস্তবায়ন করছে অসৎ উদ্দেশ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি : হে আমার মুসলিম ভাই! আপনারা হলেন জাতির কাণ্ডারী, জাতি আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাওহীদের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে ঈমানের বলে বলীয়ান হয়ে অগ্রসর হোন। আপনাদের দ্বারা অসম্ভব কাজ সম্ভব, কারণ আপনারাই তো জাতির ভবিষ্যৎ দিশারী। আপনারা সুপথে থাকলে জাতি সুপথে থাকবে আর আপনারা উদাসীন হলে জাতি আলোর মুখ কীভাবে দেখবে? আপনারা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শকে নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করুন।

এসব নাস্তিকদের মোকাবেলা করতে হলে আপনাকে ইসলামের সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে হবে; পড়তে হবে ইসলামের নিয়ম-নীতি, আদর্শ, হালাল-হারাম সংক্রান্ত বই। নচেৎ আপনি তাদের খোঁড়া যুক্তির কাছে হেরে যাবেন। আর আপনারা হারলে চলবে না। আপনাকে যে বিজয়ী হতেই হবে। আপনি হয়ে যান রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কলম সৈনিক, নাস্তিকদের আতঙ্ক। সিলেবাসের বই পড়ার সাথে সাথে কিছু সময় আপনাকে ইসলামের বই পড়তে হবে। সময়টা কীভাবে ঠিক করবেন সেটা আপনার ব্যাপার, তবে আপনাকে ইসলাম সম্পর্কে জনতে বই পড়তে হবে। কিছু বইয়ের নাম আমি উল্লেখ করব। যেহেতু নাস্তিকরা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনী নিয়ে সমালোচনা করে, সেহেতু রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনী বিষয়ক একটি বই পড়া আবশ্যক। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনী বিষয়ক অন্যতম সেরা গ্রন্থ হলো আল্লামা ছফিউর রহমান মুবারকপুরী (রাহিমাহুল্লাহ) সংকলিত ‘আর-রাহীকুল মাখতূম’। নাস্তিকরা কবরের শাস্তি, পরকাল, পুনরুত্থান, পুলসিরাত, জান্নাত ও জাহান্নামকে অস্বীকার করে। তাই ইবনুল ক্বাইয়িমের লেখা ‘আত্মার রহস্য’ বইটি পড়া জরুরী। আক্বীদা সংক্রান্ত কিছু বই পড়তে হবে। এমনিভাবে হাদীছের কিতাবগুলো পড়াও জরুরী।

ওহে ইবলিসের প্রেতাত্মা! তুমি মুসলিম জাতিকে বিপদগামী করার জন্য প্রতিটি পথে চক্রান্তের জাল বিস্তার করেছো, ওঁৎ পেতে বসে আছো পথের ধারে। মনে রেখো, মৃত্যু থেকে কিন্তু বাঁচতে পারবে না। শিক্ষা গ্রহণ করো আতাতুর্কের পরিণাম থেকে ও ত্বহা খান থেকে, তারাও তোমাদের মতো সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিয়েছিল; কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। তারা নিঃশেষ হয়ে গেছে ঠিকই, ইসলাম কিন্তু নিঃশেষ হয়ে যায়নি। আর কত মানুষকে গোলকধাঁধায় ফেলবে? মেঘের ঘনঘটা দেখে উল্লাস করছ! মনে রেখো, মেঘের আড়ালে কিন্তু সূর্যের কিরণ হাসছে। খড়কুটা, আবর্জনার ন্যায় আর কত দিন বেঁচে থাকবে! মনে রেখো, খড়কুটা, আবর্জনা কিন্তু পানির স্রোতে ভেসে যায় দূর অজানায়। মুসলিম জাতি বর্তমানে ঘুমন্ত বাঘের ন্যায় থাকলেও জেগে উঠতে দেরি হবে না। আর যদি তারা জেগে উঠে, তাহলে তোমাদের মতো বিড়ালকে মুহূর্তের মাঝে কুপোকাত করে ফেলবে। نَصْرٌ مِنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ ‘আল্লাহর পক্ষ  থেকে সাহায্য ও বিজয় অচিরেই আসবে। সুতরাং মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও’ (আছ-ছফ, ৬১/১৩)


* শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, বীরহাটাব-হাটাব, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

[1]. ছহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারী, ‘ইয়াজুজ ও মাজুজ’ অধ্যায়, হা/৩৩৪৬

[2]. প্রাগুক্ত।

[3]. বিবিসি বাংলা (অনলাইন), ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮। লিংক : https://www.bbc.com/bengali/news-45430015.