ঈদে মীলাদুন্নবী

-মুহাম্মাদ গিয়াসুদ্দীন*

শিবগঞ্জ, বগুড়া।

 

কুরআন ও ছহীহ হাদীছে ইসলামের প্রতিটি বিষয়ই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারপরও মানুষ ইসলামী আচার-অনুষ্ঠান, সভ্যতা-সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে গ্রহণ করেছে বিভিন্ন নবাবিষ্কৃত ইসলাম পরিপন্থী আচার-অনুষ্ঠানকে। সেসব অনুষ্ঠানকে আবার পূণ্য জ্ঞান করে মহাসমারোহে রমরমা পরিবেশে জাকজমকপূর্ণভাবে পালন করে থাকে। এসব অনুষ্ঠানের মধ্যে ঈদে মীলাদুন্নবী অন্যতম।

মীলাদ-এর পরিচয় :

মীলাদ-এর আভিধানিক অর্থ, জন্মসময়। এই অর্থে ‘মাওলিদ’ শব্দটিও ব্যবহৃত হয়।[1]

আল্লামা ইবনে মানযূর তাঁর সুপ্রসিদ্ধ আরবী অভিধান ‘লিসানুল আরবে’ লিখেছেন,

مِيلادُ الرَّجُلِ: اسْمُ الْوَقْتِ الَّذِي وُلِدَ فِيهِ.

‘লোকটির মীলাদ: যে সময়ে জন্মগ্রহণ করেছে সে সময়ের নাম’।[2]

ঈদে মীলাদুন্নবী অর্থ হল, নবী (ছাঃ)-এর জনমদিনের আনন্দ-উৎসব। বর্তমানে ১২ রবীউল আউয়ালকে শেষ নবী (ছাঃ)-এর জন্মদিন ধরে কিছু সুবিধাবাদী আলেমের পৃষ্ঠপোষকতায় ওয়ায-নছীহত, যিকর-আযকার ও ক্বিয়াম করে পরিশেষে মিষ্টিমুখ করে অনুষ্ঠান ত্যাগ করা হয়। এটাই মীলাদ বা মীলাদুন্নবীর সংক্ষিপ্ত পরিচয়।[3]

রাসূল (ছাঃ)-এর জন্মদিন :

রাসূল (ছাঃ)-এর জন্মদিন সম্পর্কে হাদীছে এসেছে,

عن أَبي قتادة رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ صَومِ يَوْمِ الإثْنَيْنِ فَقَالَ ذَلِكَ يَومٌ وُلِدْتُ فِيهِ وَيَومٌ بُعِثْتُ أَوْ أُنْزِلَ عَلَيَّ فِيهِ

আবু ক্বাতাদাহ আল-আনছারী (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে  সোমবার দিনে ছিয়াম রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, ‘এই দিনে (সোমবার) আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমি নবুঅত পেয়েছি’।[4]

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন, সোমবারে নবুঅত লাভ করেন, সোমবারে ইন্তিকাল করেন, সোমবারে মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনার পথে রওয়ানা করেন, সোমবারে মদীনা পৌঁছেন এবং  সোমবারেই তিনি হাজারে আসওয়াদ উত্তোলন করেন।[5]

রাসূল (ছাঃ)-এর জন্ম বছর :

এ প্রসঙ্গে হাদীছে এসেছে,

قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ وُلِدْتُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفِيلِ ‏.‏ وَسَأَلَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ قُبَاثَ بْنَ أَشْيَمَ أَخَا بَنِي يَعْمُرَ بْنِ لَيْثٍ أَأَنْتَ أَكْبَرُ أَمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكْبَرُ مِنِّي وَأَنَا أَقْدَمُ مِنْهُ فِي الْمِيلاَدِ وُلِدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفِيلِ وَرَفَعَتْ بِي أُمِّي عَلَى الْمَوْضِعِ قَالَ وَرَأَيْتُ خَذْقَ الْفِيلِ أَخْضَرَ مُحِيلاً ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ.‏

ক্বায়েস ইবনে মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হস্তীর বছরে (আবরাহার বাহিনী ধ্বংসের বছর) জন্মগ্রহণ করি। তিনি বলেন, ইয়া‘মুর ইবনু লাইছ গোত্রীয় কুবাছ ইবনু আশইয়ামকে ওছমান ইবনে আফফান (রাঃ) প্রশ্ন করেন, আপনি বড় নাকি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমার চাইতে অনেক বড়, তবে আমি তাঁর আগে জন্মগ্রহণ করি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হাতির বছর জন্মগ্রহণ করেছেন। আমার মা আমাকে এমন জায়গায় নিয়ে গেলেন যেখানে গিয়ে আমি পাখিগুলোর (হাতিগুলোর) মলের রং সবুজে বদল হয়ে যেতে দেখেছি। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীছটি হাসান, গারীব। আমরা শুধু মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রেই এ হাদীছ জেনেছি।[6]

রাসূল (ছাঃ)-এর জন্ম তারিখ :

রাসূল (ছাঃ)-এর জন্ম তারিখ নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে।

(১) কারো মতে, তাঁর জন্ম তারিখ অজ্ঞাত, তা জানা যায়নি এবং তা জানা সম্ভব নয়। তিনি সোমবারে জন্মগ্রহণ করেছেন এটুকুই শুধু জানা যায়, জন্ম মাস বা তারিখ জানা যায় না। এ বিষয়ে কোন আলোচনা তারা অবান্তর মনে করেন।

(২) কারো মতে, তিনি রবীউল আউয়াল মাসের ২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় হিজরী শতকের অন্যতম ঐতিহাসিক ও মাগাযী প্রণেতা মুহাদ্দিছ আবু মা‘শার নাজীহ ইবনে আর-রহমান আস-সিনদী (রাহঃ) (১৭০ হিঃ) এই মতটি গ্রহণ করেছেন।

(৩) অন্যমতে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জন্ম তারিখ ১০ রবীউল আউয়াল। এই মতটি হুসাইন (রাঃ)-এর পৌত্র মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-বাক্বের (রাহঃ) (১১৪ হিঃ) থেকে বর্ণিত। দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ আমর ইবনে শারাহিল আশ-শা‘বী (রাহঃ) (১০৪ হিঃ) থেকেও এই মতটি বর্ণিত। ঐতিহাসিক মুহাম্মাদ ইবনে ওমর আল-ওয়াকেদী (রাহঃ) (২০৭ হিঃ) এই মতটি গ্রহণ করেছেন। ইবনে সা‘দ (রাহঃ) তার বিখ্যাত ‘আত-তাবাকাতুল কুবরা’-তে শুধু দু’টি মত উল্লেখ করেছেন, তা হল ২ তারিখ ও ১০ তারিখ।[7]

(৪) অন্যমতে, তাঁর জন্ম তারিখ রবীউল আউয়াল মাসের ৮ তারিখ। আল্লামা কাসতালানী (রাহঃ) ও যারকানী (রাহঃ)-এর বর্ণনায় এই মতটিই অধিকাংশ মুহাদ্দিছ গ্রহণ করেছেন। এই মতটি দু’জন ছাহাবী  ইবনে আব্বাস ও যুবায়ের ইবনে মুত্বঈম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। অধিকাংশ ঐতিহাসিক ও সীরাতুন্নবী বিশেষজ্ঞ এই মতটি গ্রহণ করেছেন বলে তারা উল্লেখ করেছেন। প্রখ্যাত তাবেঈ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আয-যুহরী (রাহঃ) (১২৫ হিঃ) তাঁর উস্তায প্রথম শতাব্দীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ ও নসববিদ ঐতিহাসিক তাবেঈ মুহাম্মাদ ইবনে যুবায়ের ইবনে মুত্বঈম (রাহঃ) (১০০ হিঃ) থেকে এই মতটি বর্ণনা করেছেন। কাসতালানী বলেন, ‘মুহাম্মাদ ইবনে যুবায়ের (রাহঃ) আরবদের বংশ পরিচিতি ও আরবদের ইতিহাস সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জন্ম তারিখ সম্পর্কিত এই মতটি তিনি তার পিতা ছাহাবী যুবায়ের ইবনে মুত্বঈম (রাঃ) থেকে গ্রহণ করেছেন। স্পেনের প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ ও ফিক্বহবিদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে হাযম (রাহঃ) (৪৫৬ হিঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনে ফাতূহ আল-হুমাইদী (রাহঃ) (৪৮৮ হিঃ) এই মতটিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছেন। স্পেনের মুহাদ্দিছ আল্লামা ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল বার (রাহঃ) (৪৬৩ হিঃ) উল্লেখ করেছেন  যে, ঐতিহাসিকগণ এই মতটিই শক্তিশালী বলে মনে করেন। মীলাদের উপর প্রথম গ্রন্থ রচনাকারী আল্লামা আবুল খাত্ত্বাব ইবনে দিহয়া (রাহঃ) (৬৩৩ হিঃ) ঈদে মীলাদুন্নবীর উপর লিখিত ‘আত-তানবীর ফী মাওলিদিল বাশীর আন নাযীর’- গ্রন্থে এই মতটিকেই গ্রহণ করেছেন।[8]

(৫) কারো মতে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জন্ম তারিখ ১২ রবীউল আউয়াল। এই মতটি হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রখ্যাত ঐতিহাসিক মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রাহঃ) (১৫১ হিঃ) গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হাতির বছরে রবীউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন।[9]

এখানে লক্ষ্যণীয় যে, ইবনে ইসহাক (রাহঃ) সীরাতুন্নবীর সকল তথ্য সাধারণত সনদ সহ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এই তথ্যটির জন্য তিনি কোন সনদ উল্লেখ করেননি। কোথা থেকে তিনি এই তথ্যটি গ্রহণ করেছেন তাও জানাননি বা সনদসহ প্রথম শতাব্দীর কোন ছাহাবী বা তাবেঈ থেকে মতটি বর্ণনা করেননি। এজন্য অনেক গবেষক এই মতটিকে দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন।[10]

(৬) কারো কারো মতে, তিনি মুহাররম মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।

(৭) অন্যমতে, তিনি ছফর মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।

(৮) অন্যমতে, তিনি রবীউছ ছানী মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।

(৯) অন্যমতে, তিনি রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন। ।

(১০) অন্যমতে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জন্মতারিখ ১৭ রবীউল আউয়াল।

(১১) অন্যমতে, তাঁর জন্ম তারিখ ২২ রবীউল আউয়াল।

(১২) অন্যমতে, তিনি রামাযান মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন। ৩য় হিজরী শতকের প্রখ্যাত ঐতিহাসিক যুবায়ের ইবনে বাক্কার (রাহঃ) (২৫৬ হিঃ) থেকে এই মতটি বর্ণিত। তাঁর মতের পক্ষে যুক্তি হল যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সর্বসম্মতভাবে রামাযান মাসে নবুঅত পেয়েছেন। তিনি ৪০ বৎসর পূর্তিতে নবুঅত পেয়েছেন। তাহলে তাঁর জন্ম অবশ্যই রামাযানে হবে।[11]

(১৩) মুছান্নাফ ইবনে আবি শায়বাতে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে ১৮ রবীউল আউয়াল।[12]

(১৪) আল্লামা শিবলী নু‘মানী ও সাইয়্যেদ সুলায়মান নদভী (রাহঃ) প্রণীত সাড়া-জাগানো সীরাত-গ্রন্থ হল ‘সীরাতুন্নবী’। এ গ্রন্থে বলা হয়েছে, নবী (ছাঃ)-এর জন্ম দিবস সম্পর্কে মিশরের প্রখ্যাত জোতির্বিজ্ঞানী মাহমূদ পাশা এক পুস্তিকা রচনা করেছেন। এতে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পবিত্র বেলাদত (জন্ম) ৯ রবীউল আউয়াল, রোজ সোমবার, মোতাবেক ২০ এপ্রিল, ৫৭১ খ্রীস্টাব্দ। মাহমূদ পাশা যে প্রমাণপত্র দিয়েছেন তা কয়েক পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত। তাদের গবেষণার বিষয়ের একটি দিক হল যে, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) ছহীহ হাদীছে নিজেই বলেছেন, তাঁর জন্মের দিন হচ্ছে সোমবার। মাহমূদ পাশা গবেষণা ও হিসাব করে দেখিয়েছেন যে, সে বছর ১২ রবীউল আউয়াল তারিখের দিনটা সোমবার ছিল না, ছিল বৃহস্পতিবার। আর সোমবার ছিল ৯ রবীউল আউয়াল।

মীলাদ অনুষ্ঠানের আবিষ্কর্তা :

মীলাদের আবিষ্কর্তা ক্রুসেড বিজেতা সেনাপতি মিশরের সুলতান ছালাহুদ্দীন আইয়ূবী (৫৩২/৫৮৯ হিঃ) কর্তৃক নিয়োজিত ইরাকের ‘এরবল’ প্রদেশের গভর্নর আবু সাঈদ মুযাফফরুদ্দীন কুকুবুরী (৫৮৬-৬৩০ হিঃ) সর্বপ্রথম ৬২৫ হিজরীতে মীলাদের প্রচলন ঘটান।[13]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যু হয় ১১ হিজরীতে আর তাঁর মৃত্যুর ৬১৪ বছর পরে ‘মীলাদুন্নবী’ নামক বিদ‘আতের উদ্ভব হয়। ক্রুসেডকালে খ্রীস্টান পক্ষ ২৫ শে ডিসেম্বর তাদের ‘বড়দিন’ উপলক্ষে যুদ্ধ বন্ধ রাখত। তাদের দেখাদেখি গভর্নর কুকুবুরী মুসলিমদের মধ্যে শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর জন্মদিবস হিসাবে ‘মীলাদুন্নবী’ চালু করেন বলে কথিত। প্রতি বছর মীলাদুন্নবীর মৌসুমে প্রাসাদের নিকটে তৈরি অন্যূন ২০টি খানক্বায় তিনি গান-বাদ্যের আসর বসাতেন। কখনও মুহাররম বা কখনও ছফর মাস থেকে এই মৌসুম শুরু হত। মীলাদুন্নবীর দু’দিন আগে থেকেই খানক্বার আশপাশে গরু-ছাগল যবেহ করার ধুম পড়ে যেত। কবি, গায়ক, ওয়ায়েয সহ অসংখ্য লোক সেখানে ভিড় জমিয়ে মীলাদুন্নবী উদযাপনের নামে চরম স্বেছাচারিতায় লিপ্ত হত। গভর্নর তাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে উপহার সামগ্রী বিতরণ করতেন।[14]

আবু সাঈদ কুকুবুরীর সমসাময়িক ঐতিহাসিক আল্লামা ইয়াকূত আল-হামাবী (মৃত্যু ৬২৬ হিঃ) কুকুবুরীর বর্ণনা দিতে  গিয়ে লিখেছেন, ‘আমীর মুযাফফরুদ্দীন কুকুবুরী এই এরবল শহরের উন্নয়নমূলক কর্ম করেন। এই আমীরের চরিত্র বৈচিত্রময়। একদিকে তিনি প্রজাদের উপর অনেক অত্যাচার করেন, অবৈধভাবে প্রজাদের নিকট থেকে সম্পদ সংগ্রহ করেন। অপরদিকে তিনি কুরআন পাঠক ও ধার্মিক মানুষদের সাহায্য করেন, দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য তাঁর দানের হাত খুবই প্রশস্ত। কল্যাণকর্মে তিনি মুক্তহস্তে ব্যয় করেন, অমুসলিমদের নিকট বন্দী মুসলিমদেরকে টাকার বিনিময়ে মুক্ত করেন’।[15]

আহমদ ইবনে আলী আল-কালকাশান্দী (রাহঃ) (৮২১ হিঃ) লিখেছেন, ‘রবীউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ ফাতেমী শী‘আ শাসক মীলাদুন্নবী উদযাপন করতেন। তাদের নিয়ম ছিল, এ উপলক্ষ্যে বিপুল পরিমাণে উন্নত মানের মিষ্টান্ন  তৈরি করা হত। এই মিষ্টান্ন ৩০০ পিতলের খাঞ্চায় ভরা হত। মীলাদের রীতি অনুযায়ী এই মিষ্টান্ন সকল তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলদের মধ্যে বিতরণ করা হত, যেমন প্রধান বিচারক, প্রধান শী‘আ মত প্রচারক, দরবারের ক্বারীগণ, বিভিন্ন মসজিদের খত্বীব ও প্রধানগণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানাদির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ। এ উপলক্ষ্যে খলীফা প্রাসাদের সামনের ব্যালকনিতে বসতেন, আছরের ছালাতের পরে বিচারপতি বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আল-আযহার মসজিদে গমন করেতন এবং সেখানে এক খতম কুরআন তিলাওয়াত পরিমাণ সময় বসতেন। মসজিদ ও প্রাসাদের মধ্যবর্তী স্থানে অভ্যাসগত পদস্থ মেহমানগণ বসে খলীফাকে সালাম প্রদানের জন্য অপেক্ষা করতেন। এ সময়ে ব্যালকনির জানালা খুলে হাত নেড়ে খলীফা তাদের সালাম গ্রহণ করতেন। এরপর ক্বারীগণ কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং বক্তাগণ বক্তৃতা প্রদান করতেন। বক্তৃতা অনুষ্ঠান শেষ হলে খলীফার সহচরগণ হাত নেড়ে নেড়ে সমবেতদের বিদায়ী সালাম জানাতেন। খিড়কী বন্ধ করা হত এবং উপস্থিত সকলে নিজ নিজ ঘরে ফিরতেন। এভাবেই তারা আলী (রাঃ)-এর জন্মদিনও পালন করত’।

ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন করার ক্ষেত্রে শী‘আরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

মীলাদুন্নবী সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য :

মীলাদুন্নবী সম্পর্কে বড় বড় আলেমদের মন্তব্য পেশ করা হল,

(১) নবম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ ও ঐতিহাসিক আল্লামা আবুল খায়ের মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সাখাবী (রাহঃ) (মৃত্যু : ৯০২ হিঃ/১৪৯৭ খ্রীঃ) লিখেছেন, ‘ইসলামের সম্মানিত প্রথম তিন যুগের সালাফে ছালেহীনের (ছাহাবী, তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈন) কোন একজন থেকেও মাওলিদ পালনের কোন ঘটনা খুঁজে পাওয়া যায় না। মাওলিদ পালন বা উদযাপন পরবর্তী যুগে উদ্ভাবিত হয়েছে। এরপর থেকে সকল দেশের ও সকল বড় বড় শহরের মুসিলমগণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জন্মমাস পালন করে আসছেন। এ উপলক্ষ্যে তারা অত্যন্ত সুন্দর ও জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবময় খানাপিনার মাহফিলের আয়োজন করেন। এ মাসের রাতে তাঁরা বিভিন্ন রকমের দান-ছাদাক্বাহ করেন, আনন্দপ্রকাশ করেন এবং জনকল্যাণমূলক কাজ করেন’।[16]

(২) লাহোরের প্রখ্যাত আলেম সাইয়েদ দিলদার আলী (রাহঃ) (১৯৩৫ খ্রীঃ) মীলাদের সপক্ষে আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘মীলাদের কোন আসল বা সূত্র প্রথম তিন যুগের (ছাহাবী, তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈন) সালাফে ছালেহীন থেকে বর্ণিত হয়নি; বরং তাদের যুগের পরে এর উদ্ভাবন ঘটেছে’।[17]

(৩) আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রাহঃ) বলেন, ‘বর্তমানে প্রচলিত মীলাদ ৬০০ হিজরীতে এরবিলের সুলতানের যুগে চালু হয়। শরী‘আতে এর কোন অস্তিত্ব নেই, বরং এই বিদ‘আত সম্পর্কে এমন কোন কিতাব নেই যা হাফেয ও মুহাদ্দিছগণের হাতে নেয়ার মত উপযুক্ত’।[18]

(৪) হাফেয আবুবকর বাগদাদী হানাফী ওরফে ইবনু নুকতা (রাহঃ) তার ফৎওয়ার কিতাবে লিখেছেন, ‘মীলাদ মাহফিল সালাফ বা অতীত মুসলিম সুধীবৃন্দ হতে প্রমাণিত নয় এবং ঐ সকল কাজকর্মে মোটেও কোন মঙ্গল নেই’।[19]

(৫) নবম হিজরী শতকের অন্যতম আলেম ও ঐতিহাসিক আল্লামা ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহঃ) লিখেছেন, ‘ইসলামের সম্মানিত প্রথম তিন যুগের সালাফে ছালেহীনের কোন একজনও মীলাদ বা মাওলিদ পালন করেননি’।[20]

(৬) মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রাহঃ) বলেন, ‘মীলাদ অনুষ্ঠান শরী‘আতে বিলকুল (একেবারেই) নাজায়েয ও গুনাহের কাজ’। তিনি আরো লিখেছেন, ‘প্রচলিত মীলাদ ও ক্বিয়াম যা নবাবিষ্কৃত ও নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং তা নাজায়েয ও বিদ‘আত’।[21]

(৭) মাওলানা রাশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী (রাহঃ) বলেন, ‘প্রচলিত ধরনের মীলাদ অনুষ্ঠান বিদ‘আত এবং মাকরূহ’।[22]

(১১) ইমাম আহমাদ বছরী (রাহঃ) কওল-ই-মুতামাত-এ লিখেছেন, ‘চার মাযহাবের আলেমগণ মীলাদ অনুষ্ঠানের উপর দোষারোপে ঐকমত্য পোষণ করেছেন’।[23]

(৮) মাওলানা মোহাম্মাদ শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলভী (রাহঃ) স্বরচিত তুহফা-ই-ইছনা আশারিয়া বইয়ে লিখেছেন, ‘কোন নবীর জন্ম ও মৃত্যুদিবসকে ঈদ উৎসবে পরিণত করা বৈধ নয়’।[24]

(৯) মাওলানা আব্দুর রহমান আল-মাগরিবী আল হানাফী (রাহঃ) বলেন, ‘মীলাদ অনুষ্ঠান করা বিদ‘আত’।[25]

(১০) ভারতীয় উপমহাদেশের খ্যাতনামা পন্ডিত, রাজনীতিবিদ ও সংগঠক আল্লামা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহিল কাফী আল-কোরায়শী (রাহঃ) বলেন, ‘মীলাদ শরীফের সাহায্যে রাসূল (ছাঃ)-এর জন্য দ্বাদশী পালন খ্রীস্ট মাসের অনুকরণ মাত্র’।[26]

(১১) মাওলানা মোহাম্মাদ আব্দুর রহীম (রাহঃ) বলেন, ‘বর্তমানে মীলাদ সুন্নাতের ব্যবস্থা নয়, সুন্নাত মোতাবেক ব্যবস্থাও এটি নয়। বরং তা সুস্পষ্টরূপে বিদ‘আত’।[27]

ইসলামে ঈদ কয়টি? :

ইসলামে ঈদ হল দু’টি- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا، فَقَالَ: مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ؟ قَالُوا: كُنَّا نَلْعَبُ فِيهِمَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا: يَوْمَ الْأَضْحَى، وَيَوْمَ الْفِطْرِ

রাসূল (ছাঃ) যখন মদীনায় আসলেন, তখন দেখলেন বছরের দু’টি দিনে মদীনাবাসীরা আনন্দ-ফূর্তি করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘এ দিন দু’টি কী? তারা বলল, আমরা ইসলামপূর্ব মূর্খতার যুগে এ দু’দিন আনন্দ-ফূর্তি করতাম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা এ দু’দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দু’টি দিন তোমাদের দিয়েছেন। তা হল ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর’।[28]

ইসলামে ঈদ যে শুধু দু’টি, সে বিষয়টি শুধু ছহীহ হাদীছ দ্বারাই প্রমাণিত নয়, বরং তা ইজমা‘য়ে উম্মত দ্বারাও প্রতিষ্ঠিত। যদি কেউ ইসলামে তৃতীয় আরেকটি ঈদের প্রচলন করে তবে তা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং তা দ্বীনের মধ্যে একটা বিদ‘আত ও বিকৃত বলেই গণ্য হবে। যখন কেউ বলে ‘সকল ঈদের সেরা ঈদ, ঈদে মীলাদুন্নবী’ তখন স্বাভাবিকভাবেই এর অর্থ হয় ইসলামে যতগুলো ঈদ আছে তার মধ্যে ঈদে মীলাদ হল শ্রেষ্ঠ ঈদ। কীভাবে এটি সম্ভব? যে ঈদকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ) স্বীকৃতি দেননি। ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও ইমামগণ যে ঈদকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তা ইসলামে শ্রেষ্ঠ ঈদ বলে বিবেচিত হতে পারে কীভাবে? কোনভাবেই নয়। আর যে ঈদ আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) প্রচলন করে গেলেন, তা শ্রেষ্ঠ হবে না। এটি কীভাবে মেনে নেওয়া যায়? কোনভাবেই নয়, তবে শুধু একদিক থেকে মেনে নেওয়া যায়, যত ভুয়া ও ভেজাল ঈদ আছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল এই ঈদ!

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট বুঝা যায় যে, ঈদে মীলাদুন্নবী ইসলামী শরী‘আতের কোন বিষয় নয়; বরং তা নবাবিষ্কৃত একটি বিদ‘আত, যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ.‏‏‏ ‏

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘কেউ আমাদের এই শরী‘আতে নেই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত’।[29]

عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، قَالَ وَعَظَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا بَعْدَ صَلاَةِ الْغَدَاةِ مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ فَقَالَ رَجُلٌ إِنَّ هَذِهِ مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَمَاذَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدٌ حَبَشِيٌّ فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ يَرَى اخْتِلاَفًا كَثِيرًا وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّهَا ضَلاَلَةٌ فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَعَلَيْهِ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ

ইরবায ইবনে সারিয়া (রাঃ) বলেন, একদিন ফজরের ছালাতের পর রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) আমাদেরকে এমন এক উচ্চাঙ্গের নছীহত করলেন যে, তাতে আমাদের চক্ষু থেকে অশ্রুধারা প্রবাহিত হতে লাগল এবং অন্তর ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। তখন এক ব্যক্তি বললেন, এ তো বিদায়ী ব্যক্তির মত নছীহত! ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য কী অছিয়ত করে যাচ্ছেন? তিনি বললেন, ‘তোমাদের আমি আল্লাহকে ভয় করার অছিয়ত করছি। যদি হাবশী গোলামও আমীর নিযুক্ত হয়, তবুও তার প্রতি অনুগত থাকবে, তার নির্দেশ শুনবে। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা বহু বিরোধ প্রত্যক্ষ করবে। তোমরা সাবধান থাকবে নতুন নতুন বিষয়ে লিপ্ত হওয়া থেকে। কারণ তা হল গোমরাহী। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ঐ যুগ পাবে, তার কর্তব্য হল আমার সুন্নাত এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতের উপর অবিচল থাকা। এগুলো তোমরা চোয়ালের দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরে রাখবে’।[30]

রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,

أَلَا وَإِنِّي فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ، وَأُكَاثِرُ بِكُمُ الْأُمَمَ، فَلَا تُسَوِّدُوا وَجْهِي، أَلَا وَإِنِّي مُسْتَنْقِذٌ أُنَاسًا، وَمُسْتَنْقَذٌ مِنِّي أُنَاسٌ، فَأَقُولُ: يَا رَبِّ أُصَيْحَابِي؟ فَيَقُولُ: إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ

‘শুনে রাখো! হাউযে কাউছারের কাছে তোমাদের সাথে আমার দেখা হবে। তোমাদের সংখ্যার আধিক্য নিয়ে আমি গর্ব করব। সেদিন তোমরা আমার চেহারা মলিন করে দিও না। জেনে রাখো! আমি সেদিন অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চালাব, কিন্তু তাদের অনেককে আমার থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হবে। আমি বলব, হে আমার রব! তারা তো আমার প্রিয় সঙ্গী-সাথী, আমার অনুসারী। কেন তাদেরকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে? তিনি উত্তর দিবেন, আপনি জানেন না, আপনার চলে আসার পর তারা দ্বীনের মধ্যে কী কী নতুন বিষয় আবিষ্কার করেছে’।[31]

মীলাদের অনুষ্ঠানে প্রচারিত বানোয়াট হাদীছসমূহ :

মীলাদের অনুষ্ঠানে অনেক বানোয়াট হাদীছ প্রচার করা হয় রাসূল (ছাঃ)-এর শানে। তন্মধ্যে কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হল, أّوَّلُ مَا خَلَقَ اللهُ نُوْرِيْ ‘সর্বপ্রথম আল্লাহ যা সৃষ্টি করেন তা হচ্ছে আমার নূর’।[32]

রাসূল (ছাঃ)-এর নূর সম্পর্কে আরেকটি ভিত্তিহীন বর্ণনা হল,

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ بَابِىْ اَنْتَ وَاُمِّىْ اَخْبِرْنِىْ عَنْ اَوَّلِ شَيْئٍ خَلَقَه اللهُ تَعَالٰى قَبْلَ الْاَشْيَاءِ قَالَ: يَا جَابِرُ! اِنَّ اللهَ خَلَقَ قَبْلَ الْاَشْيَاءِ نُوْرَ نَبِيِّكَ مِنْ نُوْرِهِ فَجَعَلَ ذٰلِكَ النُّوْرَ يَدُوْرُ بِالْقَدْرِ حَيْثُ شَاءَ اللهُ وَلَمْ يَكُنْ فِىْ ذَلِكَ الْوَقْتِ لَوْحٌ وَلَا قَلَمٌ وَلَا جَنَّةٌ وَلَا نَارٌ وَلَا مَلَكٌ وَلَا سَمَاءٌ وَلَا اَرْضٌ وَلَا شَمْسٌ وَلَا قَمَرٌ وَلَا جِنٌّ وَلَا اِنْسَانٌ.

জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! ঐ প্রথম জিনিস সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন, যা আল্লাহ তা‘আলা সবকিছুর আগে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বললেন, হে জাবের! নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর পূর্বে তোমার নবীর নূর স্বীয় নূর থেকে তৈরি করেছেন আর ঐ নূরকে এমন শক্তি দিলেন যে তা নিজে নিজে যেখানে আল্লাহ চাইলেন সেখানে গেল আর তখন লাওহে মাহফূযও ছিল না, কলমও ছিল না, জান্নাত-জাহান্নামও ছিল না, ফেরেশতা ছিল না, আসমান-যমীনও ছিল না, চন্দ্র-সূর্যও ছিল না, জিন এবং মানুষ কিছুই ছিল না।’[33] এ রেওয়ায়েতটি বহুলভাবে উদ্ধৃত হয়।[34] মূলত এ রেওয়ায়েতটি ছহীহ নয়। অন্য বর্ণনায় আছে,

اَنَا مِنْ نُوْرِ اللهِ وَالْمُؤْمِنُوْنَ مِنِّىْ وَالْخَيْرُ فِىَّ وَفِىْ اُمَّتِىْ اِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.

‘আমি আল্লাহর নূর থেকে সৃষ্টি হয়েছি আর মুমিনরা সৃষ্টি হয়েছে আমার নূর থেকে, ক্বিয়ামত পর্যন্ত আমার এবং আমার উম্মতের মধ্যে কল্যাণ বিদ্যমান থাকবে’।[35]

আরশের গায়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নাম লেখা আছে, ওমর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন,

لَمَّا اقْتَرَفَ آَدَمُ الْخَطِيْئَةَ قَالَ: يَا رَبِّ، أَسْأَلُكَ بِحَقِّ مُحَمَّدٍ لَمَّا غَفَرْتَ لِيْ. فَقَالَ اللهُ: يَا آَدَمُ، وَكَيْفَ عَرَفْتَ مُحَمَّداً وَلَمْ أَخْلُقْهُ؟ قَالَ: يَا رَبِّ، لأَنَّكَ لَمَّا خَلَقْتَنِيْ بِيَدِكَ وَنَفَخْتَ فِيَّ مِنْ رُوْحِكَ رَفَعْتُ رَأْسِيْ فَرَأَيْتُ عَلَى قَوَائِمِ الْعَرْشِ مَكْتُوْباً لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ مُحَمَّدٌ رَسُوْلُ اللهِ فَعَلِمْتُ أَنَّكَ لَمْ تُضِفْ إِلَى اسْمِكَ إِلاَّ أَحَبَّ الْخَلْقِ إِلَيْكَ. فَقَالَ اللهُ: صَدَقْتَ يَا آَدَمُ، إِنَّهُ لأحَبُّ الْخَلْقِ إِلَيَّ، ادْعُنِيْ بِحَقِّهِ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكَ، وَلَوْلاَ مُحَمَّدٌ مَا خَلَقْتُكَ.

‘আদম (আঃ) যখন (নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়ে) ভুল করে ফেললেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন, হে প্রভু! আমি মুহাম্মাদের হক্ব (অধিকার) দিয়ে আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যে আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। তখন আল্লাহ বলেন, হে আদম! তুমি কীভাবে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে চিনলে, আমি তো এখনো তাঁকে সৃষ্টিই করিনি? তিনি বলেন, হে প্রভু! আপনি যখন নিজ হাতে আমাকে সৃষ্টি করেন এবং আমার মধ্যে আপনার রূহ ফুঁক দিয়ে প্রবেশ করান, তখন আমি মাথা তুলে দেখলাম আরশের খুঁটি সমূহের উপর লিখা রয়েছে, ‘লা ইলাহা ইল­াল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। এতে আমি জানতে পারলাম যে, আপনার সবচেয়ে প্রিয় সৃষ্টি বলেই আপনি আপনার নামের সাথে তাঁর নামকে সংযুক্ত করেছেন। তখন আল্লাহ বলেন, হে আদম! তুমি ঠিকই বলেছো। তিনিই আমার সবচেয়ে প্রিয় সৃষ্টি। তুমি আমার কাছে তার হক্ব (অধিকার) দিয়ে চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। মুহাম্মাদ (ছাঃ) না হলে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না’।[36]

ইমাম হাকিম নাইসাপূরী (রাহঃ) হাদীছটি সংকলন করে একে ছহীহ বলেছেন। কিন্তু সকল মুহাদ্দিছ একমত যে, হাদীছটি যঈফ। তবে মাউযূ‘ কিনা তাতে তারা মতভেদ করেছেন। ইমাম হাকিম (রাহঃ) নিজেই অন্যত্র এ হাদীছের বর্ণনাকারীকে মিথ্যা হাদীছ বর্ণনাকারী বলে উল্লেখ করেছেন। আমরা দেখেছি যে, হাকিম অনেক যঈফ ও মাউযূ‘ হাদীছকে ছহীহ বলেছেন এবং ইবনুল জাওযী অনেক ছহীহ বা হাসান হাদীছকে মাউযূ‘ বলেছেন। এজন্য তাদের একক মতামত মুহাদ্দিছগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, বরং তাদের মতামত তারা পুনর্বিচার ও নিরীক্ষা করেছেন।

এ হাদীছটির সনদের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, সনদটি খুবই দুর্বল। যে কারণে অনেক মুহাদ্দিছ একে মাউযূ‘ হাদীছ বলে গণ্য করেছেন। হাদীছটির একটিই সনদ, আবুল হারিছ আব্দুল্লাহ ইবনু মুসলিম আল-ফিহরী নামক এক ব্যক্তি দাবী করেন, ইসমাঈল ইবনু মাসলামা নামক এক ব্যক্তি তাকে বলেছেন, আব্দুর রহমান ইবনু যায়েদ ইবনু আসলাম তার পিতা, তার দাদা ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

বর্ণনাকারী আবুল হারিছ একজন অত্যন্ত দুর্বল রাবী। এছাড়া আব্দুর রহমান ইবনু যায়েদ ইবনু আসলাম (রাহঃ) (১৮২ হিঃ) খুবই দুর্বল ও অনির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ছিলেন। মুহাদ্দিছগণ তার বর্ণিত হাদীছ গ্রহণ করেননি। কারণ তিনি কোন হাদীছ ঠিকমত বলতে পারতেন না, সব উল্টাপাল্টা বর্ণনা করতেন। ইমাম হাকিম নিজেই তার ‘মাদখাল ইলাছ ছহীহ’ গ্রন্থে বলেছেন,

عبد الرَّحْمَن بن زيد بن أسلم قَالَ الْحَاكِم روى عَن أَبِيه أَحَادِيث مَوْضُوعَة لَا يخفى على من تأملها من أهل الصَّنْعَة أَن الْحمل فِيهَا عَلَيْهِ.

আব্দুর রহমান ইবনু যায়েদ ইবনু আসলাম (রাঃ) তার পিতার সূত্রে কিছু মাউযূ‘ বা জাল হাদীছ বর্ণনা করেছেন। হাদীছ শাস্ত্রে যাদের অভিজ্ঞতা আছে, তারা একটু চিন্তা করলেই বুঝবেন যে, এ সকল হাদীছের জালিয়াতির অভিযোগ আব্দুর রহমানের উপরেই বর্তায়।[37]

মীলাদের অনুষ্ঠানে প্রচারিত আরেকটি বহুল প্রচলিত বানোয়াট কথা হল, لَوْلَاكَ لَمَا خَلَقْتُ الْأَفْلَاكَ ‘আপনি না হলে আমি আসমান-যমীন বা মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতাম না’।

আল্লামা ছাগানী, মোল্লা আলী কারী, আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌবী (রাহঃ) ও অন্যান্য মুহাদ্দিছ একবাক্যে কথাটিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ এসব শব্দ এবং বাক্য কোন হাদীছের গ্রন্থে কোন প্রকার সনদে বর্ণিত হয়নি।[38]

এছাড়াও কবিতা আকারে অনেক ভিত্তিহীন কথা আলোচনা করা হয়। যেমন, তাওয়ারীখে মোহাম্মাদীতে বলা হয়েছে, ‘এইরূপে আছে কত হাদীছ অপার সর্ব্বাগে নবীর নূর হইল তৈয়ার সব হাদীছের মূল একই হল রছুলের নূর আল্লা সর্ব্বাগে সৃজিল’।[39]

পরিশেষে বলা যায় যে, জন্ম দিবস কেন্দ্রিক উৎসব-অনুষ্ঠান খ্রীস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও অন্যান্য অমুসলিমদের ধর্মীয় রীতি। যেমন, বড়দিন, জন্মাষ্ঠমী, বৌদ্ধপূর্ণিমা ইত্যাদি। তাই এটি মুসলিমদের জন্য পরিত্যাজ্য। বিধর্মীদের ধর্মীয় রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠান যতই ভালো দেখা যাক না কেন, তা কখনো মুসলিমদের জন্য গ্রহণ করা জায়েয নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন ‘যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্যতা গ্রহণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে’।[40]

[1]. ড. ইবরাহীম আনীস ও সঙ্গীগণ, আল-মু‘জামুল ওয়াসীত, (বৈরূত: দারুল ফিকর), ২/১০৫৬।

[2]. ইবনে মানযূর, লিসানুল আরব, (বৈরূত : দারম্নছ-ছাদের), ৩/৪৬৮।

[3]. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর, মীলাদ ও মীলাদুন্নবী; একটি পর্যালোচনা, মাসিক আত-তাহরীক, এপ্রিল-২০০৪, পৃঃ ১৮।

[4]. ছহীহ মুসলিম, (মিশর, কায়রো : দারুল এহইয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ, তা.বি.), ২/৮১৯।

[5]. আহমাদ ইবনে হাম্বল, আল-মুসনাদ (মিশর : দারম্নল মা‘আরিফ, ১৯৫০), ৪/১৭২-১৭৩, হা/২৫০৬ (মুহাক্কিক্ব আহমদ শাকির সনদ আলোচনা করে  বলেছেন, হাদীছটির সনদ ছহীহ)।

[6]. জামে‘ আত-তিরমিযী, হা/৩৬১৯।

[7]. ইবনে সা‘দ, আত-তাবাকাতুল কুবরা (বৈরূত : দারম্নল এহইয়াইত তুরাছিল আরাবী), ১/৪৭।

[8]. ড. খোন্দকার আবু নসর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ): একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা, এপ্রিল-জুন, ২০০৩, পৃঃ ৯।

[9]. ইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবীয়্যাহ (মিশর, কায়রো : দারম্নর রাইয়ান, ১ম সংস্করণ, ১৯৭৮), ১/১৮৩।

[10]. আহমদ মাহদী রিযকুল্লাহ, আস-সীরাতুন নাবাবীয়্যাহ,  পৃঃ ১০৯ ।

[11]. আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/১০০-১০১; ইবনে কাছীর, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (বৈরূত : দারুল ফিকর, ১ম সংস্করণ, ১৯৯৬), ২/২১৫; আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাসতালানী, আল-মাওয়াহিবুল লাদুনিয়্যা (বৈরূত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ, ১৯৯৬), ১/৭৪-৭৫; আয-যারকানী, শরহুল মাওয়াহিব আল-লাদুনিয়্যা (বৈরূত : দারুল কুতুব আল-ইলিময়্যাহ, ১ম সংস্করণ, ১৯৯৬), ১/২৪৫-২৪৮।

[12]. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১/২৪২।

[13]. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল গালিব, মীলাদ প্রসঙ্গ (রাজশাহী: হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ৬ষ্ঠ প্রকাশ: মার্চ ২০১৯) পৃঃ ৯।

[14]. ইবনু খাল্লিকান, ওয়াফায়াতুল আ‘ইয়ান (বৈরূত : দারম্নছ ছাদের, তা.বি), ৪/১১৩-২১ পৃঃ, ক্রমিক-৫৪৭, মুযাফফরদ্দীন ক্রমিক-৪৯৭।

[15]. ইয়াকূত আল-হামাবী, মু‘জামুল বুলদান (বৈরূত : দারু এহইয়াইত তুরাছ আল-আরাবী, ১৯৭৯), ১/১১৮।

[16]. মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আছ-ছালেহী, সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সীরাতি খাইরিল ইবাদ, আছ-ছীরাতুশ-শামিয়্যাহ (বৈরূত : দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ১ম প্রকাশ, ১৯৯৩), ১/৩৬২।

[17]. সাইয়েদ দিলদার আলী, রাসূলুল কালাম ফিল মাওলিদ ওয়াল কিয়াম, (লাহোর), পৃঃ ১৫।

[18]. আল-আরফুর শাযী ও আল-জামে‘ তিরমিযী, পৃঃ ২৩২।

[19]. হাফেয মুহাম্মাদ আইয়ূব, মীলাদ, শবে বরাত ও  মীলাদুন্নবী কেন বিদ‘আত (ঢাকা : তাওহীদ পাবলিশার্স, ১ম প্রকাশ: অক্টোবর-২০০০), পৃঃ ২৫।

[20]. ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা, এপ্রিল-জুন, ২০০৩ সংখ্যা, পৃঃ ১১।

[21]. মীলাদ, শবে বরাত ও  মীলাদুন্নবী কেন বিদ‘আত, পৃঃ ২৬।

[22]. ফাতাওয়ায়ে রাশেদিয়া, পৃঃ ৪১৫।

[23]. মীলাদ, শবে বরাত ও  মীলাদুন্নবী কেন বিদ‘আত, পৃঃ ২৬।

[24]. প্রাগুক্ত, পৃঃ ২৭।

[25]. মাওলানা মোহাম্মাদ আব্দুর রহীম, সুন্নাত ও বিদ‘আত (ঢাকা: খায়রম্নন প্রকাশনী, ৮ম প্রকাশ: নভেম্বর- ১৯৯৮), পৃ: ২৩০।

[26]. মীলাদ, শবে বরাত ও  মীলাদুন্নবী কেন বিদ‘আত, পৃঃ ২৭।

[27]. সুন্নাত ও বিদ‘আত, পৃঃ ২২৬।

[28]. আবুদাঊদ, হা/১১৩৪।

[29]. ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭।

[30]. সুনানে তিরমিযী, হা/২৬৭৬।

[31]. ইবনে মাজাহ, হা/৩০৫৭।

[32]. আব্দুল ক্বাদির জিলানী, সিররুল আসরার, বঙ্গানুবাদ: আবদুল জলীল, (ঢাকা : হক লাইব্রেরী, ১৯৯৮), পৃঃ ১১; কারামাত আলী জৈনপুরী, নূরে মোহাম্মাদী, বাংলা অনুবাদ (ঢাকা : বাংলাবাজার, সীরাত লাইব্রেরী, ১৯৮০), পৃঃ ৩৭, ৪৪, ৫৫; গোলাম মোস্তফা, বিশ্বনবী (ঢাকা : আহমদ পাবলিশিং হাউজ, ১৯৮৭), পৃঃ ২৪ ও ২৬।

[33]. আল-আজলূনী, কাশফুল খফা ওয়া মুযীলুল ইলবাস আম্মা ইশতাহারা মিনাল আহাদীছি আলা আলসিনাতিন নাস, ১ম খন্ড, হা/৮২৭; আল মাওয়াহিবুল লাদুনিয়্যা, ১/৭১-৭২।

[34]. নূরে মোহাম্মদী, পৃঃ ৩৬-৩৭; আব্দুল খালেক, সাইয়েদুল মুরসালীন (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন), ১/২১।

[35]. শাওকানী, আল-ফাওয়ায়েদ আল-মাজমূ‘আ ফিল আহাদীছিল-মাওযূ‘আ,  হা/১০৫, পৃঃ ২৮৮।

[36]. হাকেম, আল-মুসতাদরাক, ২/৬৭২।

[37]. হাকেম, আল-মাদখাল, পৃঃ ১৫৪; ইবনু আর্রাক, তানযীহুশ শারী‘আহ, ১/২৫০; আলবানী, সিলসিলাতুয যাঈফাহ, ১/৯০।

[38]. আল্লামা ছাগানী, আল-মাউযূ‘আত, পৃঃ ৫২; মোল্লা আলী কারী, আল-আসরার, পৃঃ ১৯৪; আল-মাসনূ, পৃঃ ১১৬; কাশফুল খফা, ২/২১৪; শাওকানী, আল-ফাওয়াইদ, ২/৪৪১; আব্দুল হাই লাক্ষ্নৌভী, আল-আসারুল মারফূয়া, পৃঃ ৪৪।

[39]. মোহাম্মাদ ছায়ীদ, তাওয়ারীখে মোহম্মাদী (ঢাকা: আইডিয়াল, ৫ম সং, ১৯৮১), ১/৩।

[40]. আবুদাঊদ, হা/৪০৩১।

2 মন্তব্য