ঈমানের শাখা

হাফেয আব্দুল মতীন মাদানী

(পর্ব-১১)

(৫৭) দাস-দাসীর মালিকের অধিকার :

হাদীছে এসেছে, ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, الْعَبْدُ إِذَا نَصَحَ سَيِّدَهُ وَأَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ كَانَ لَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ ‘ক্রীতদাস যদি তার মনিবের হিতাকাক্সক্ষী হয় এবং তার প্রতিপালকের উত্তমরূপে ইবাদত করে, তাহলে তার ছওয়াব হবে দ্বিগুণ’।[1]  অন্য হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِى مُوسَى الأَشْعَرِىِّ رضى الله عنه قَالَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم أَيُّمَا رَجُلٍ كَانَتْ لَهُ جَارِيَةٌ فَأَدَّبَهَا فَأَحْسَنَ تَأْدِيبَهَا، وَأَعْتَقَهَا وَتَزَوَّجَهَا، فَلَهُ أَجْرَانِ، وَأَيُّمَا عَبْدٍ أَدَّى حَقَّ اللَّهِ وَحَقَّ مَوَالِيهِ، فَلَهُ أَجْرَانِ-

আবু মুসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে লোক তার দাসীকে উত্তমরূপে জ্ঞান ও আদব শিক্ষা দেয় এবং তাকে মুক্ত করে ও বিয়ে করে, তাহলে সে দ্বিগুণ ছওয়াব লাভ করবে। আর যে ক্রীতদাস আল্লাহর হক্ব আদায় করে এবং মনিবের হক্বও আদায় করে, সেও দ্বিগুণ ছওয়াব লাভ করবে’।[2]

(৫৮) পরিবার ও সন্তান-সন্ততির হক্ব আদায় করা :

সন্তান-সন্ততির পিতা-মাতাগণ তাওহীদের শিক্ষা দান করবে। মহান আল্লাহ বলেন, وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ‘আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদত (তাওহীদ প্রতিষ্ঠা) করার জন্য’ (যারিয়াত, ৫১/৫৬)। সকল প্রকার ইবাদত শুধুমাত্র আল্লাহ্র জন্য ও সকল প্রকার শিরকী কাজ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দান করবে। মহান আল্লাহ বলেন,

وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُورً

‘আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তার সাথে কাউকে শরীক করো না। তোমরা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো এবং আত্মীয় পরিজন, ইয়াতীম, মিসকীন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, পথের সাথী ও তোমাদের দক্ষিণ হাত যাদের অধিকারী তাদের সাথেও সদ্ব্যবহার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী ও গর্বিতকে ভালোবাসেন না’ (নিসা, ৪/৩৬)। সকল নবী-রাসূলগণই নিজের পরিবার সন্তান-সন্তানাদি এবং সম্প্রদায়কে সর্ব প্রথম তাওহীদের শিক্ষা দান করেছেন ও শিরকী কাজ পরিত্যাগ করার কথা বলেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ ‘প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিকট আমরা রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত করো এবং ত্বাগূত থেকে দূরে থাকো’ (নাহল, ১৬/৩৬)।

ইবরাহীম (আঃ) সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ

‘আর যখন ইবরাহীম বলেছিল, হে আমার পালনকর্তা, এ শহর (মক্কা)-কে তুমি শান্তিময় করো এবং আমাকে ও আমার সন্তানদের তুমি মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখো’ (ইবরাহীম, ১৪/৩৫)। মহান আল্লাহ আরও বলেন,

وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ – أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ

‘এরই অছিয়ত করেছিল ইবরাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকূবও। (আর তা এই যে,) হে আমার সন্তানেরা! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য এই ধর্মকে মনোনীত করেছেন। অতএব অবশ্যই তোমরা মরো না মুসলিম (আত্মসমর্পিত) না হয়ে। তোমরা কি উপস্থিত ছিলে যখন ইয়াকূবের মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়েছিল? যখন সে তার সন্তানদের বলেছিল, আমার পরে তোমরা কার ইবাদত করবে? তারা বলেছিল, আমরা আপনার মা‘বূদের এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাক্বের মা‘বূদের ইবাদত করব- যিনি একক উপাস্য এবং আমরা তাঁরই অনুগত থাকবো’ (বাক্বারাহ, ২/১৩২-১৩৩)।

মহান আল্লাহ ইউসুফ (আঃ) সম্পর্কে বলেন,

وَاتَّبَعْتُ مِلَّةَ آبَائِي إِبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ مَا كَانَ لَنَا أَنْ نُشْرِكَ بِاللَّهِ مِنْ شَيْءٍ ذَلِكَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ عَلَيْنَا وَعَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ – يَا صَاحِبَيِ السِّجْنِ أَأَرْبَابٌ مُتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ – مَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ

‘আমি আমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসহাক্ব ও ইয়াকূবের ধর্ম অনুসরণ করি। আমাদের জন্য শোভা পায় না যে, কোনো বস্তুকে আল্লাহ্র সাথে শরীক করি। এটা আমাদের প্রতি এবং অন্য সব লোকদের প্রতি আল্লাহ্র বিশেষ অনুগ্রহ। কিন্তু অধিকাংশ লোক কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না। হে কারাগারের সাথীদ্বয়! পৃথক পৃথক অনেক উপাস্য ভালো, না পরাক্রমশালী এক আল্লাহ? তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে নিছক কতগুলো নামের পূজা করে থাকো। যেগুলো তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারা সাব্যস্ত করে নিয়েছ। এদের পক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। আল্লাহ ব্যতীত কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ব্যতীত তোমরা অন্য কারও ইবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না’ (ইউসুফ, ১১/৩৮-৪০)।

মহান আল্লাহ লোক্বমান সম্পর্কে বলেন,

وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ

‘স্মরণ করো, যখন লোক্বমান উপদেশ দিয়ে তার পুত্রকে বলেছিল, হে বৎস! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না। নিশ্চয়ই শিরক সবচেয়ে বড় পাপ’ (লোক্বমান, ৩১/১৩)। সন্তান-সন্ততির পরিবারবর্গকে আল্লাহ তা‘আলার অনুগত করা এবং রাসূল (ছাঃ)-এর আনুগত্য করার শিক্ষা প্রদান করা। মহান আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো। আর তোমরা তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না’ (মুহাম্মাদ, ৪৭/৩৩)।

রাসূল ধ-এর আদেশ-নিষেধ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا ‘রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও’ (হাশর, ৫৯/৭)। যে ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর আনুগত্য করল, সে যেন আল্লাহরই আনুগত্য করল। মহান আল্লাহ বলেন,

قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ – قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ

‘তুমি বলো, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমার অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন ও তোমাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। বস্তুত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান’ (আলে ইমরান, ৩/৩১)।

সন্তান ও পরিবারকে রাসূল (ছাঃ) যেভাবে ছালাত আদায় করাতেন সেভাবে ছালাত আদায়ের পদ্ধতি শিক্ষা দিতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي ‘নিশ্চয় আমিই আল্লাহ! আমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। অতএব আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে ছালাত ক্বায়েম করো’ (ত্বো-হা, ২০/১৪)। মহান আল্লাহ বলেন,  وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَ ‘আর তুমি তোমার পরিবারকে ছালাতের আদেশ দাও এবং তুমি এর উপর অবিচল থাকো। আমরা তোমার নিকট রূযী চাই না। আমরাই তোমাকে রূযী দিয়ে থাকি। আর (জান্নাতের) শুভ পরিণাম তো কেবল মুত্তাক্বীদের জন্যই’ (ত্বো-হা, ২০/১৩২)। এভাবেই যাকাত আদায় করার পদ্ধতি, ছিয়াম সাধনের পদ্ধতি, হজ্জ আদায়ের পদ্ধতি শিক্ষা প্রদান করতে হবে। দ্বীনের সমস্ত প্রয়োজনীয় বিষয় এবং আদব-ক্বায়দা শিক্ষা প্রদান করতে হবে। পরিবার এবং মেয়েরা বাইরে বের হলে পর্দার সহিত বের হবার শিক্ষা প্রদান করবে। অর্থাৎ নিজেকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে বাঁচাবে এবং সন্তান-সন্ততি ও আত্মীয় স্বজনদেরকেও বাঁচানোর চেষ্টা করবে। মহান আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন হতে বাঁচাও, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর; যেখানে রয়েছে নির্মম ও কঠোর ফেরেশতাকূল, যারা আল্লাহ তাদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন সে ব্যাপারে অবাধ্য হয় না। আর তারা তা-ই করে যা তাদেরকে আদেশ করা হয়’ (তাহরীম, ৬৬/৬)।

আয়াতটির ব্যাখ্যা হিসাবে রাসূল (ছাঃ) বলেন, مُرُوا الصَّبِىَّ بِالصَّلاَةِ إِذَا بَلَغَ سَبْعَ سِنِينَ وَإِذَا بَلَغَ عَشْرَ سِنِينَ فَاضْرِبُوهُ عَلَيْهَا ‘সন্তান-সন্ততিকে সাত বছর বয়সে ছালাতের আদেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে (ছালাত আদায় না করলে) তাদের প্রহার করো’।[3]  হাসান (রাঃ) বলেন, তাদেরকে আল্লাহ্র আনুগত্য করার আদেশ করো এবং তাদের শিক্ষাদান করো এবং আদব-ক্বায়দা শিক্ষা দাও’।[4]

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘আল্লাহর আনুগত্য করার শিক্ষা প্রদান করো, আল্লাহর সাথে সীমালঙ্ঘন ও পাপ থেকে রক্ষা করো, তুমি তোমার (সন্তান-সন্ততি) পরিবার-পরিজনকে সর্বদায় আল্লাহকে স্মরণ করা শিক্ষা প্রদান করো, জাহান্নামের অগ্নি থেকে রক্ষা করো’।[5]  ফক্বীহগণ বলেন, ‘এভাবেই তাদের ছিয়াম সাধনে অভ্যস্ত করো, যাতে তারা সর্বদায় আল্লাহর ইবাদত ও তারই আনুগত্য করে এবং পাপ কাজ ও অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকে’। [6] হাদীছে এসেছে,

عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها قَالَتْ دَخَلَتِ امْرَأَةٌ مَعَهَا ابْنَتَانِ لَهَا تَسْأَلُ، فَلَمْ تَجِدْ عِنْدِى شَيْئًا غَيْرَ تَمْرَةٍ فَأَعْطَيْتُهَا إِيَّاهَا، فَقَسَمَتْهَا بَيْنَ ابْنَتَيْهَا وَلَمْ تَأْكُلْ مِنْهَا، ثُمَّ قَامَتْ فَخَرَجَتْ، فَدَخَلَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْنَا ، فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ مَنِ ابْتُلِىَ مِنْ هَذِهِ الْبَنَاتِ بِشَىْءٍ كُنَّ لَهُ سِتْرًا مِنَ النَّارِ-

‘আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, এক ভিখারী নারী দু’টি শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে আমার নিকট এসে কিছু চাইল। আমার নিকট একটি খেজুর ব্যতীত অন্য কিছু ছিল না। আমি তাকে তা দিলাম। সে নিজে না খেয়ে খেজুরটি দু’ভাগ করে কন্যা দু’টিকে দিয়ে দিল। এরপর সে বেরিয়ে চলে গেলে নবী (ছাঃ) আমাদের নিকট আসলেন। তার নিকট ঘটনা বিবৃত করলে তিনি বললেন, যাকে এরূপ কন্যা সন্তানের ব্যাপারে কোনরূপ পরীক্ষা করা হয় সে কন্যা সন্তান তার জন্য জাহান্নামের আগুন হতে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়’।[7]  অন্য হাদীছে এসেছে

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ وَضَمَّ أَصَابِعَهُ

আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দু’টি মেয়েকে তাদের প্রাপ্ত বয়স হওয়া পর্যন্ত ভরণ-পোষণ ও উত্তম শিক্ষা প্রদান করল, সে ও আমি ক্বিয়ামতের দিন এভাবে এক সাথে থাকব, তিনি আঙ্গুলদ্বয় মিলিয়ে দেখালেন’।[8]  অপর এক হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ. قَالَتِ النِّسَاءُ لِلنَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم غَلَبَنَا عَلَيْكَ الرِّجَالُ، فَاجْعَلْ لَنَا يَوْمًا مِنْ نَفْسِكَ فَوَعَدَهُنَّ يَوْمًا لَقِيَهُنَّ فِيهِ فَوَعَظَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ فَكَانَ فِيمَا قَالَ لَهُنَّ مَا مِنْكُنَّ امْرَأَةٌ تُقَدِّمُ ثَلاَثَةً مِنْ وَلَدِهَا إِلاَّ كَانَ لَهَا حِجَابًا مِنَ النَّارِ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ وَاثْنَيْنِ فَقَالَ وَاثْنَيْنِ-

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘এক মহিলা নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে এসে বললেম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনার হাদীছ তো কেবল পুরুষেরা শুনতে পায়। সুতরাং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করে দিন, যে দিন আমরা আপনার কাছে আসব, আল্লাহ আপনাকে যা কিছু শিখিয়েছেন তা থেকে আপনি আমাদের শিখাবেন। তিনি বললেন, তোমরা অমুক অমুক দিন অমুক অমুক জায়গায় একত্রিত হবে।

সে মোতাবেক তারা একত্রিত হলেন এবং নবী করীম (ছাঃ) তাদের কাছে এলেন এবং আল্লাহ তাকে যা কিছু শিখিয়েছেন তা থেকে তাদের শিক্ষা দিলেন এবং বললেন, তোমাদের কেউ যদি সন্তানদের থেকে তিনটি সন্তান আগে পাঠিয়ে দেয় (মৃত্যুবরণ) করে, তাহলে এ সন্তানরা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার জন্য পর্দা হয়ে দাঁড়াবে। তাদের মাঝে থেকে একজন মহিলা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি দু’জন হয়? বর্ণনাকারী বলেন, মহিলা কথাটি দু’ দু’বার জিজ্ঞেস করলেন, তখন নবী (ছাঃ) বললেন, দু’জন হলেও, দু’জন হলেও, দু’জন হলেও।[9]

(চলবে)

[1]. বুখারী, হা/২৫৪৬; মুসলিম, হা/১৬৬৪।

[2]. বুখারী, হা/২৫৪৭।

[3]. আহমাদ, হা/১৫৩৭৭; আবুদাঊদ, হা/৪৯৪; তিরিমিযী, হা/৪০৪; ইবনে কাছীর, ১৪/৫৯, সনদ ছহীহ।

[4]. মুখতাছার শু‘আবুল ঈমান, পৃঃ ৯৩।

[5].  ইবনু কাছীর, ১৪/৫৮।

[6]. ইবনু কাছীর, ১৪/৫৯।

[7]. বুখারী, হা/১৪১৮; মুসলিম, হা/২৬২৯; আহমাদ, হা/২৫৩৩২।

[8]. মুসলিম, হা/২৬৩১।

[9]. বুখারী, হা/৭৩১০; মুসলিম, হা/২৬৩৩; আহমাদ, হা/১১২৯৬।