ঈমান ও ইসলাম ভঙ্গের কারণ
-ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর*


(পর্ব -৩)

অনেকে সামাজিকতার দোহায় দিয়ে বা রাষ্ট্রীয় নীতির বুলি আওড়িয়ে কিংবা আত্মীয়তা ও মান-সম্মানের দিকে খেয়াল করে শিরকী নীতির কাছে নতি স্বীকার করেন। তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপরিউক্ত নছীহতটি মাইলফলক হিসাবে সামনে রাখা বাঞ্ছনীয়। উক্ত উপদেশ শুধু মু‘আয (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য খাছ নয়; বরং ক্বিয়ামত পর্যন্ত সকল মুসলিম নর ও নারীর জন্য প্রযোজ্য। মান-সম্মান, দেশাচার ও বাঙালিত্ব বাঁচানো জরুরী না স্বীয় ঈমান বাঁচানো জরুরী? কোনটা অগ্রগণ্য তা প্রতিটি মুসলিমের ভাবা প্রয়োজন।

পরিশেষে বলা যায়, পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়াবহ পাপের নাম হচ্ছে- শিরক। অন্য কোনো পাপের সাথে শিরকের তুলনা করা সম্ভব নয়। এর ক্ষতির প্রভাবও অনেক বেশি। শিরক মানুষের অতীত জীবনের কৃত সৎ আমলগুলো পর্যন্ত বরবাদ করে দেয়। তাওহীদী বুনিয়াদকে ধ্বংস করে দেয়। যার কারণে কারও হৃদয়ে শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটলে, সেখান থেকে তাওহীদ বিদায় নেয়। খালেছ তাওহীদ ও শিরক একই সাথে কোনো ব্যক্তির মধ্যে উপস্থিত থাকতে পারে না। যেমন একই জায়গায় আগুন ও পানি একই সাথে উপস্থিত থাকতে পারে না। তাই প্রতিটি মুসলিমের শিরক থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। এটা তার তাওহীদী চেতনার বিশেষ দাবীর অন্তর্ভুক্ত।

পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত যে, আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরকের মিশ্রণ করলে তার ঈমান, ইসলাম ও আমল সবকিছুই নষ্ট হয়ে যাবে। তার কোনো আমলই অবশিষ্ট থাকবে না। সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। ফলে তার শেষ ঠিকানা হবে ভয়ংকর জাহান্নাম।

২. আল্লাহ ও বান্দার মাঝে অন্য কাউকে মাধ্যম বানানো :

ব্যাপকার্থে : আল্লাহ এবং বান্দার মাঝে মাধ্য নির্ধারণ করে তাদের কাছে চাওয়া, প্রার্থনা করা, শাফাআত কামনা করা, তাদের ইবাদত করা, তাদের উপর তাওয়াক্কুল করাএটা পরিষ্কার কুফরী

(مَنْ جَعَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللهِ وَسَائِطَ يَدْعُوْهُمْ وَيَسْأَلُهُمْ الشِّفَاعَةَ وَيَتَوَكَّلُ عَلَيْهِمْ فَقَدْ كَفَرَ إِجْمَاعًا).

আল্লাহ ও বান্দার মাঝে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে মাধ্যম নির্ধারণ করা, তাদের নিকট কোনো জিনিস চাওয়া, প্রার্থনা করা, পরকালে তাদের নিকট থেকে শাফা‘আত কামনা করা, আল্লাহর ইবাদতের ন্যায় তাদের ইবাদত করা, তাদের উপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করা সুস্পষ্ট কুফরী। এরূপ করলে ঈমান, ইসলাম ও আমল সবই নষ্ট হয়ে যাবে। জাহেলী যুগের মুশরিকদের মধ্যে এমন স্বভাব বিদ্যমান ছিল। তারা এরূপ আক্বীদায় বিশ্বাসী ছিল। তাদের কর্ম, ধ্যান-ধারণা তাওহীদে রুবূবিয়াতে বিশ্বাসী হলেও আল্লাহ এবং তাদের মাঝে বিভিন্ন মাধ্যম নির্ধারণ করে তাওহীদে উলূহিয়াতকে অস্বীকার করত। বিধায় তারা ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে প্রবেশ করতে পারেনি। যা বর্তমানে খানকা, মাযার ও কবর পূজারীদের মধ্যে অনেকাংশেই হুবহু মিল পাওয়া যায়। অথচ এরূপ আক্বীদা ও বিশ্বাস কোনো মুসলিমের মধ্যে বিন্দুমাত্র থাকতে পারে না। এমন আক্বীদা ও বিশ্বাস পোষণ করলে ঈমান নষ্ট হওয়ার দরুন সবকিছুই বিফলে যাবে। মহান আল্লাহ এদের কর্মের নিন্দা জানিয়ে বলেন, 

أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ إِنَّ اللهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ.

‘জেনে রাখো, অবিমিশ্র আনুগত্য আল্লাহরই প্রাপ্য। যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, (তারা বলে) আমরা তো এজন্যই তাদের পূজা করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছিয়ে দেয়। তারা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করছে, আল্লাহ তার ফয়সালা করে দিবেন। যে মিথ্যাবাদী ও কাফের, আল্লাহ তাকে হেদায়াত দান করেন না’ (আয-যুমার, ৩৯/৩)। তিনি অন্য আয়াতে বলেন,

وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ.

‘তারা আল্লাহ ছাড়া এমন বস্তুর ইবাদত করে, যারা তাদের কোনো উপকারও করতে পারে না, ক্ষতিও করতে পারে না। তারা বলে, এরা আল্লাহর নিকটে আমাদের জন্য সুপারিশকারী। (আল্লাহ তার জবাবে বলেন) আপনি তাদের বলে দিন, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ের সংবাদ দিচ্ছ, যা তিনি অবগত নন, না আকাশসমূহে, না যমীনে? তিনি মহাপবিত্র এবং তাদের শিরকী কর্মকাণ্ড থেকে অনেক ঊর্ধ্বে’ (ইউনুস, ১০/১৮)

وَلاَ تَدْعُ مِنْ دُوْنِ اللهِ مَا لاَ يَنْفَعُكَ وَلاَ يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِنْ الظَّالِمِيْنَ، وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللهُ بِضُرٍّ فَلاَ كَاشِفَ لَهُ إِلاَّ هُوَ.

‘আল্লাহ ছাড়া এমন কোনো সত্তাকে ডেকো না, যে তোমার কোনো উপকার করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না। যদি তুমি এমন কাজ করো, তাহলে নিশ্চয়ই তুমি অত্যাচারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো বিপদে ফেলেন, তাহলে একমাত্র তিনি ব্যতীত আর অন্য কেউ ঐ বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারবে না’ (ইউনুস, ১০/১০৬-১০৭)

وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُوْنِ اللهِ مَنْ لاَ يَسْتَجِيْبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُوْنَ.

‘তার চেয়ে অধিক ভ্রান্ত আর কে হতে পারে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ছেড়ে এমন ব্যক্তিকে ডাকে, যে ক্বিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিতে পারবে না। তারা তাদের প্রার্থনা হতে গাফিল’ (আল-আহক্বাফ, ৪৬/৫)। আল্লাহ অন্যত্র বলেন,

وَإِذَا رَأَى الَّذِينَ أَشْرَكُوا شُرَكَاءَهُمْ قَالُوا رَبَّنَا هَؤُلَاءِ شُرَكَاؤُنَا الَّذِينَ كُنَّا نَدْعُو مِنْ دُونِكَ فَأَلْقَوْا إِلَيْهِمُ الْقَوْلَ إِنَّكُمْ لَكَاذِبُونَ.

‘মুশরিকরা যখন তাদেরকে দেখবে, যাদেরকে তারা আল্লাহর সাথে শরীক করেছিল, তখন বলবে, হে আমাদের রব! এরাই তো আমাদের শরীক, আপনাকে ছাড়া যাদেরকে আমরা ডাকতাম। তখন ওরা তাদেরকে বলবে, তোমরাই মিথ্যাবাদী’ (আন-নাহল, ১৬/৮৬)

উক্ত আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, আল্লাহকে পাওয়ার জন্য কেউ যদি অবৈধ মাধ্যম গ্রহণ করে, তবে সে কুফরী করবে এবং তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। যারা মৃত পীর, বুযুর্গ, ফকীর, ওলী, মূর্তি, প্রতিকৃতি, শহীদ মিনারকে অসীলা করে দু‘আ করে, ইবাদত করে, তাদের মাঝে আর মক্কার মুশরিকদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। এদের ঈমান-আমল অবশিষ্ট থাকার প্রশ্নই আসে না। যারা মাযার, কবর, মাছ, পুকুর, কবুতর, কুমির, কচ্ছপ ইত্যাদির মাধ্যমে ইবাদত করছে, তারা আল্লাহর মর্যাদা ও বড়ত্বকে প্রতিনিয়ত ভূলুণ্ঠিত করছে। তারা মুসলিম হলেও তাদের ঈমান-আমল কোনো কাজে আসবে না। গায়রুল্লাহর পূজারী এ সমস্ত ভক্তরা যতই গলাবাজি করুক, মানুষের সাথে যতই প্রতারণা করুক, আল্লাহর বিধানকে তারা ফাঁকি দিতে পারবে না। রাজনীতির নামে দলীয় নেতা-কর্মী, সরকারি আমলা, এমপি, মন্ত্রী, ডিসি, এসপি, ম্যাজিস্ট্রেইট, জজ, উকীল, এ্যাডভোকেট, ব্যারিস্টার যতই ক্ষমতার দাপট দেখান, তারা কি আল্লাহর চেয়েও বড় প্রতাপশালী? দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শাসক নমরূদ, ফেরাঊন, আবূ জাহল কেউ কি আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষা পেয়েছে? অতএব সাবধান! দুনিয়াবী দাপট না দেখিয়ে রোম সম্রাটের মতো ইলাহী বিধানের সামনে আত্মসমর্পণ করাই হবে বুদ্ধিমানের পরিচয়।[1]

সর্বাবস্থায় আল্লাহরই ইবাদত করতে হবে। তার নিকটেই সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। সকল ক্ষেত্রে তার উপরই ভরসা করতে হবে। কেননা এসব কিছুর একচ্ছত্র-নিরঙ্কুশ মালিক তিনিই। এসবে অন্য কারও সামান্যতম কোনো অধিকার নেই। ইবাদত পাওয়ার হক্বদার মা‘বূদ কেবলমাত্র তিনিই।

এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন,

وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ

‘তাদেরকে এ ছাড়া অন্য কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে তার আনুগত্যের মাধ্যমে’ (আল-বাইয়্যিনাহ, ৯৮/৫)। তিনি অন্যত্র বলেন,

وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ

‘আপনার পালনকর্তা নির্দেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত  করো না’ (বানী ইসরাঈল, ১৭/২৩-২৪)। এ মর্মে হাদীছে এসেছে, মার্চ

عَنْ مُعَاذٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ رِدْفَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ عَلَى حِمَارٍ يُقَالُ لَهُ عُفَيْرٌ فَقَالَ يَا مُعَاذُ هَلْ تَدْرِى حَقَّ اللهِ عَلَى عِبَادِهِ وَمَا حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللهِ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّ حَقَّ اللهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلاَ يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَحَقَّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ أَنْ لاَ يُعَذِّبَ مَنْ لاَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا.

মু‘আয (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি একদা নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গাধার পিছনে ছিলাম। তাকে বলা হত ‘উফাইর’। তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘হে মু‘আয! তুমি কি জানো, বান্দার প্রতি আল্লাহর অধিকার কী? আর আল্লাহর প্রতি বান্দার অধিকার কী? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তার রাসূলই বেশি অবগত। তখন তিনি বললেন, ‘বান্দার প্রতি আল্লাহর অধিকার হলো, তারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তার সাথে কোনোকিছুকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর প্রতি বান্দার অধিকার হলো- যে বান্দা আল্লাহর সাথে শরীক করবে না, তাকে শাস্তি না দেওয়া’।[2]

সকল অবস্থায় তাওয়াক্কুল বা ভরসা আল্লাহর উপরই করতে হবে। অন্য কারও উপর নয়। মহান আল্লাহ বলেন, فَاعْبُدْهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ ‘তোমরা তার ইবাদত করো এবং তার উপর ভরসা করো’ (হূদ, ১১/১২৩)। তিনি অন্যত্র বলেছেন,

وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট হয়ে যান’ (আত-তালাক, ৬৫/৩)। হাদীছে এসেছে,

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ لَوْ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَوَكَّلُونَ عَلَى اللهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرُزِقْتُمْ كَمَا تُرْزَقُ الطَّيْرُ تَغْدُو خِمَاصًا وَتَرُوحُ بِطَانًا.

উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি যথাযোগ্য ভরসা করো, তবে তিনি তোমাদেরকে সেই মতো রূযী দান করবেন, যেমন পাখিদেরকে দান করে থাকেন। তারা সকালে ক্ষুধার্ত হয়ে বের হয় এবং সন্ধ্যায় পেট পূর্ণ করে (নিজ গৃহে) ফিরে আসে’।[3]

অপর বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের ৭০ হাজার লোক বিনা হিসাবে ও বিনা আযাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ওরা হলো যারা ঝাড়ফুঁক করে না, ঝাড়ফুঁক করায় না এবং কোনো জিনিসকে অশুভ লক্ষণ মনে করে না। বরং তারা কেবল আল্লাহর প্রতিই ভরসা রাখে’।[4]

সাহায্য-সহযোগিতা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর নিকট চাওয়া শিরকের অন্তর্ভুক্ত। যা কিছু চাওয়ার প্রয়োজন, তা আল্লাহর নিকটই চাইতে হবে।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كُنْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يَوْمًا فَقَالَ يَا غُلاَمُ إِنِّى أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ احْفَظِ اللهَ يَحْفَظْكَ احْفَظِ اللهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللهَ وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللهِ وَاعْلَمْ أَنَّ الأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَىْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلاَّ بِشَىْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ لَكَ وَلَوِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَىْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلاَّ بِشَىْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ عَلَيْكَ رُفِعَتِ الأَقْلاَمُ وَجَفَّتِ الصُّحُفُ.

ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো এক সময় আমি সওয়ারীতে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে ছিলাম। তিনি বললেন, ‘হে তরুণ! তুমি আল্লাহর বিধি-নিষেধ রক্ষা করবে, আল্লাহ তাআলা তোমাকে রক্ষা করবেন। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখবে, আল্লাহকে তুমি কাছে পাবে। তোমার কোনো কিছু চাওয়ার প্রয়োজন হলে আল্লাহর নিকট চাও। আর সাহায্য প্রার্থনা করতে হলে আল্লাহর নিকটই করো। জেনে রাখো, যদি সকল উম্মতও তোমার কোনো উপকারের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে ততটুকু উপকারই করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। অপরদিকে যদি সকল মানুষ তোমার কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে ততটুকু ক্ষতিই করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার তাক্বদীরে লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং লিখিত কাগজসমূহও শুকিয়ে গেছে’।[5]

(চলবে)


* শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।

[1]. মুযাফফর বিন মুহসিন, ভ্রান্ত আক্বীদা বনাম সঠিক আক্বীদা (রাজশাহী : আছ-ছিরাত প্রকাশনী, মার্চ-২০১৫ খ্রি.), পৃ. ২৭।

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/২৮৫৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৩; ইবনে মাজাহ, হা/৪২৯৬; তিরমিযী, হা/২৬৪৩; আহামাদ, হা/২২০৪৪; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৩৬২; ছহীহুল জামে‘, হা/৭৯৬৮; মিশকাত, হা/২৪।

[3]. তিরমিযী, হা/২৩৪৪; ইবনু মাজাহ, হা/৪১৬৪; আহমাদ, হা/৩৭৩; মুতদারাকে হাকেম, হা/৭৮৯৪; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩১০; মিশকাত, হা/৫২৯৯, সনদ ছহীহ।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৫২; ছহীহ মুসলিম, হা/২২০, ৫৪৯; তিরমিযী, হা/২৪৪৬; আহমাদ, হা/২৪৪৮; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৬০৮৪; মিশকাত, হা/৫২৯৬।

[5]. তিরমিযী, হা/২৫১৬; আহমাদ, হা/২৬৬৯; মুতদারাকে হাকেম, হা/৬৩০৩; ত্বাবারানী আওসাত্ব, হা/৫৪১৭; ছহীহুল জামে‘, হা/৭৯৫৭; মিশকাত, হা/৫৩০২, সনদ ছহীহ।