ঈমান বৃদ্ধির উপায়



 [২০ শাবান, ১৪৪২ হি. মোতাবেক ২ এপ্রিল, ২০২১। পবিত্র হারামে মাক্কীর (কা‘বা) জুমআর খুৎবা প্রদান করেন শায়খ বান্দার বিন আব্দুল আযীয বালীলা (হাফি.) উক্ত খুৎবা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, রাজশাহীর সম্মানিত সিনিয়র শিক্ষক ও ‘আল-ইতিছাম গবেষণা পর্ষদ’-এর গবেষণা সহকারী শায়খ মুরসালীন বিন আব্দুর রউফ খুৎবাটি ‘মাসিক আল-ইতিছাম’-এর সুধী পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো।]

প্রথম খুৎবা



সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তাঁরই কাছে ক্ষমা ও সাহায্য কামনা করি এবং আশ্রয় চাই অন্তর ও কর্মের অনিষ্ট হতে। তিনি যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন, যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, এতে কারো কোনো ক্ষমতা নেই। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হোক তার প্রতি, তার পরিবার ও ছাহাবীগণের প্রতি, যিনি উজ্জ্বল প্রদীপের ন্যায় প্রকাশিত হয়েছিলেন।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। যদি তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে যত্নবান হও, তাহলে আল্লাহ তোমাদের রক্ষা করবেন এবং তাকে তোমরা সম্মুখে পাবে। সুখের সময়ে তোমরা আল্লাহকে বুঝার চেষ্টা করলে আল্লাহ তোমাদের কষ্টের সময় বুঝার চেষ্টা করবেন। চাইলে তোমরা কেবল আল্লাহর কাছেই চাও। সাহায্য প্রার্থনা করলে কেবল আল্লাহর নিকটই প্রার্থনা করো।

হে মুসলিমগণ! পৃথিবীতে মানুষকে যা কিছু দেওয়া হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম জিনিস হলো, ‘আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান’। এই ঈমান তাকে সুউচ্চ মর্যাদায় আসীন করে। আল্লাহ প্রদত্ত এই নিয়ামত পেলে পূর্বে না পাওয়া কোনোকিছুতে তার আসে যায় না। কারণ সে সামগ্রিক কল্যাণ, সুবিশাল সফলতা ও সুমহান পূর্ণতা পেয়ে গেছে। আর এটা আল্লাহর বড় নিয়ামত। আল্লাহ তাআলা এই সম্পর্কে বলেন,

﴾وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ﴿

‘এমনভাবেই আমি আমার আদেশে (দ্বীনের এ) রূহ তোমার কাছে অহী করে পাঠিয়েছি; (নতুবা) তুমি তো (আদৌ) জানতেই না ঈমান কী, কিন্তু একে আমি নূরে পরিণত করেছি, যা দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা (দ্বীনের) পথ দেখাই’ (আশ-শূরা, ৪২/৫২)

আল্লাহ ঈমানদারদের ঈমানের মাধ্যমেই বড় পরীক্ষা করে থাকেন। আর এই ঈমান কখনো শক্তিশালী হয়, কখনো দুর্বল হয়, কখনো বাড়ে, কখনোবা কমে। আবার কখনো নতুন ও পুরাতনও হয়ে থাকে। অতএব, মুমিনের কর্তব্য হলো যে, সে তার ঈমানের ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকবে এবং ঈমানের প্রতি যত্নবান হবে। সাথে সাথে আনুগত্যের মাধ্যমে ঈমানে নতুনত্ব আনবে এবং অন্যায় কাজ পরিত্যাগ করার মাধ্যমে হ্রাস পাওয়া হতে ঈমানকে রক্ষা করবে। প্রবৃত্তি ও ফেতনা পরিহার করে চলবে। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

  إِنَّ ‌الْإِيمَانَ ‌لَيَخْلَقُ فِي جَوْفِ أَحَدِكُمْ كَمَا يَخْلَقُ الثَّوْبُ، فَاتْلُوا الْقُرْآنَ يُجَدِّدُ الْإِيمَانَ فِي قُلُوبِكُمْ

‘ঈমান তোমাদের অভ্যন্তরে পুরাতন হয়, যেমন কাপড় পুরাতন হয়ে থাকে। অতএব, তোমরা (বেশি বেশি) কুরআন তেলাওয়াত করো, এতে তোমাদের অন্তরে ঈমান শানিত হবে’।[1]

আর ঈমানের সাথে যেন বাতিলের বাতাস প্রবাহিত না হতে পারে, যার ফলে মুমিনের মাঝে ঈমানের শূন্যতা পেয়ে বসে ও তার অন্তর হতে ঈমানের আলো মুছে যায়। আর এই জন্যই আল্লাহ ঈমানের কিছু উপায় বলে দিয়েছেন, যার মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি ও শক্তিশালী হবে এবং ঈমান হতে অন্ধকার ও আবরণ দূরীভূত হবে। অতএব, যখন কোনো বান্দা নিজের সফলতা ও স্বাচ্ছন্দ্য, তখন তার জন্য ঈমান বৃদ্ধির উপায়গুলো জানা বিশেষ প্রয়োজন এবং তা নিজের ‍প্রিয়তমা অপেক্ষাও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কেননা তা পবিত্রতা ও কল্যাণের উৎস।

ঈমান বৃদ্ধির প্রধান কিছু উপায় বা কারণসমূহ :

(১) চিন্তা সহকারে কুরআন তেলাওয়াত করা : কুরআন হলো আল্লাহর কালাম, যার মাধ্যমে তাঁর নাম ও গুণাবলি জানা যায় এবং তা হতে শরীআত ও তার বিধি-বিধান উন্মোচিত হয়। যার দিকে অগ্রসর হলে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তা হতে মুখ ফিরিয়ে নিলে ক্ষতি ও পরিতাপের বিষয় হিসাবে পরিণত হয়। আল্লাহ তাআলার বাণী,﴿كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُوا الْأَلْبَابِ﴾ ‘আমি এই বরকতময় কিতাব তোমার উপর অবতীর্ণ করেছি, যাতে করে তারা এর আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করে এবং জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে’ (ছোয়াদ, ৩৮/২৯)

এই কিতাবে মুমিনদের জন্য রয়েছে এক বিরাট প্রাপ্তি এবং মুমিনজীবনে রয়েছে এর সম্মানজনক প্রভাব। আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে বলেন,

﴾إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ﴿

‘আসল মুমিন তো তারাই যাদের নিকট আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে তাদের অন্তর প্রকম্পিত হয় এবং তাদের নিকট আল্লাহর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হলে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়। আর তারা তাদের রবের উপরই ভরসা রাখে’ (আল-আনফাল, ৮/২)

যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব পড়বে এবং তাঁর আয়াত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে, নিঃসন্দেহে সে অনেক ইলম অর্জন করতে পারবে। আর এর মাধ্যমে তার ঈমান শক্তিশালী হবে ও বৃদ্ধি পাবে।

ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সর্বোপরি কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা ও তেলাওয়াত করা অন্তরের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী, কেননা তা সমস্ত মর্যাদার আধার। এর সাথে ভালোবাসা, আগ্রহ, ভয়, আশা, ভরসা, সন্তুষ্টি, শুকরিয়া, ধৈর্য ও সমস্ত অবস্থা জড়িত রয়েছে। ‘চিন্তা-ভাবনার ও গবেষণার সহিত’ কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যে কী রয়েছে মানুষ যদি তা জানতে পারত, তাহলে সবকিছু ছেড়ে তারা সর্বদা কুরআন তেলাওয়াতেই মগ্ন থাকত।

(২) আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা : হে মুমিনগণ! ঈমান বৃদ্ধির উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম বিষয়টি হলো, আল্লাহ সম্পর্কে ও তাঁর সুন্দরতম নাম ও সুউচ্চ গুণাবলী সম্পর্কে অবগত হওয়া। কেননা এগুলো সম্পর্কে জানলেই মানুষ আল্লাহমুখী হবে। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴾وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴿

‘আল্লাহ তাআলার জন্যই সুন্দরতম নামসমূহ। অতএব, তোমরা সেসব ভালো নামেই তাঁকে ডাকো। যারা তাঁর নামসমূহের বিকৃতি ঘটায়, তাদের পরিত্যাগ করো। যা কিছু তারা করে তার প্রতিদান তাদের দেওয়া হবে’ (আল-আ‘রাফ, ৭/১৮০)

অতএব, বান্দা যখন উপকার করা, ক্ষতি করা, দান করা বা  ছিনিয়ে নেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আল্লাহর এককত্বের কথা বিশ্বাস করবে, তখন তার মাঝে প্রকাশ্যে বা গোপনভাবে তাওয়াক্কুল অর্জিত হবে। সাথে সে এটাও জানতে পারবে যে, আল্লাহ তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, তাঁর কাছে আকাশ ও যমীনের কোনো কিছুই গোপন থাকে না; এমনকি মানুষের অন্তর ও চোখের খিয়ানত সম্পর্কেও তিনি অবগত। আর এগুলো জানার ফলে মুমিন বান্দা জিহ্বা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অন্তর দ্বারা আল্লাহ পছন্দ করেন না এমন অন্যায় কাজ করা হতে বিরত হবে। সাথে যখন এ কথাও জানতে পারবে যে, তিনি মর্যাদাবান, পুণ্যবান, দয়ালু, অনুগ্রহশীল তখন তার মাঝে আশার শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং প্রকাশ্য ও গোপনীয়ভাবে ইবাদতের প্রতি আরো আগ্রহী হয়ে উঠবে ।

যখন সে আল্লাহর পরিপূর্ণতা ও তার সৌন্দর্যের প্রতি অবহিত হবে তখন তার ভালোবাসা ও আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে এবং সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের আশা করবে। আর এ বিষয়টি বিভিন্ন ইবাদাতের উপর নির্ভর করে, এ জন্যই নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বলেন,‌ إِنَّ ‌لِلَّهِ ‌تِسْعَةً ‌وَتِسْعِينَ ‌اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ ‘নিশ্চয় আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি তা মুখস্থ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’।[2] অর্থাৎ যারা এর অর্থ বুঝবে এবং তা মুখস্থ করবে সাথে এটাও বিশ্বাস করবে যে, এর মাধ্যমে সে আল্লাহর ইবাদত করছে তাহলে সে জান্নাতে যাবে। আর জান্নাতে কেবল মুমিনরাই প্রবেশ করবে। অতএব, জানা গেলে যে, এটা ঈমান লাভের প্রধান উৎস, যার দিকে ঈমান প্রত্যাবর্তন করে। আর এরই সত্যায়নস্বরূপ আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴾إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ﴿

‘বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই আল্লাহকে বেশি ভয় করে, নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীল’ (আল-ফাতির, ৩৫/২৮)

হাফেয ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, প্রকৃতপক্ষে বিজ্ঞ আলেমরাই আল্লাহকে বেশি ভয় করে থাকে, কেননা তারা আল্লাহর মহত্ত্ব ও গুণাবলি সম্পর্কে বেশি অবগত। এছাড়াও কিছু পূর্ববর্তী আলেমগণ বলেন, ‘যে যত আল্লাহর ব্যাপারে বেশি অবগত সে তত বেশি আল্লাহকে ভয় করে’।

দ্বিতীয় খুৎবা



সর্বোত্তম প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দরূদ এবং শান্তি বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর ও তার পরিবারবর্গ, সাথীবর্গ ও অনুসারীদের উপর।

হে মুমিনগণ! ঈমান বৃদ্ধির উপায়গুলোর মধ্যে হতে আরেকটি উপায় হলো— এই দ্বীনের সৌন্দর্য নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা ও এর শরীআতের পরিপূর্ণতার প্রতি অবগত হওয়া এবং আক্বীদা, আখলাক্ব, আদব, ব্যবস্থাপনা, উদ্দেশ্য ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হওয়া। কারণ তা শ্রেষ্ঠ বিচারক ও দয়াবান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা শরীআত।

ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যদি তুমি দ্বীনে ইসলাম ও শারীআতে মুহাম্মাদী নিয়ে গবেষণা কর তাহলে দেখতে পাবে কোনো বক্তব্য, বর্ণনা বা জ্ঞানীদের বাণী দ্বারা পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। যদিও এতে জ্ঞানী-গুণী ও বিজ্ঞজনদের সবার জ্ঞানকে একত্রিত করা হয়। তবুও তারা এ কথা বলতে বাধ্য হবে যে, এটা এক মহান কিতাব, যা অনির্বচনীয়; বরং তা নিজেই সত্যের সাক্ষী এবং তার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেওয়া হয়। নিজেই তা প্রামাণ্য দলীল ও তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা হয় এবং কোনো নবী যদি তার স্বপক্ষে দলীল নিয়ে নাও আসতেন, তথাপি তা যে আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসা দলীল ও নিদর্শন তা প্রমাণিত হত। আর এসবকিছু হতে বুঝা যাচ্ছে যে, তার ইলম, হিকমত, রহমত, পুণ্যতা, মহানুভবতা, অদৃশ্য জানা, ইহকাল-পরকাল ইত্যাদির প্রতি। আর তিনিই তাঁর বান্দদের উপর নিয়ামত দান করে থাকেন।

ঈমানের এই উজ্জ্বল প্রদীপের ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি তিন ধরনের–

(১) মৌলিকভাবে ঈমানের আলো হতে বঞ্চিত। এই শ্রেণির লোকেরা ঈমানের আলোকে শুধু অন্ধকার, বজ্র ও বজ্রধ্বনি ছাড়া আর কিছুই দেখে না এবং সে আল্লাহর প্রদর্শিত হেদায়াতকে গ্রহণ করে না, যদিও তার কাছে শরীআতের বিভিন্ন নিদর্শন পেশ করা হয়।

(২) দুর্বল ঈমানের অধিকারী, যারা মূলত তাদের পূর্বপুরুষ ও পূর্ববর্তী আলেমদের রীতি-নীতি অনুসরণ করে চলে। তাদের ব্যাপারে আলী ইবনু ত্বালেব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, যারা প্রকৃত হক্বের অনুসারী অথচ তাদের মধ্যে ঈমানের আলো নেই। যদি তারা ঈমানদারদের অনুসরণ করে এবং তাদের মধ্যে কোনো সন্দেহ না প্রবেশ করে, তাহলে তারা মুক্তিপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত হবে।

(৩) যারা প্রকৃতপক্ষে ঈমানের আলোর উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং তারা আদম শ্রেষ্ঠতম সন্তান। যাদের মধ্যে ঈমানের মৌলিক দিকগুলো রয়েছে, যা তাদের ঈমানের আলোর উপর পরিচালিত করছে। আর যদি তাদের নিকট জ্ঞানবিরোধী কিছু পেশ করা হয়, তাহলে তাদের চোখে তা ঘোরতর অন্ধকার রাতের মতো মনে হয়।

পরিশেষে নবীর উপর দরূদ, তাঁর পরিবার, খোলাফায়ে রাশেদীন, সমস্ত মুসলিম-মুসলিমা ও সকল মুসলিম দেশের জন্য দু‘আ এবং ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে বদদু‘আ করে তিনি তার খুৎবা সমাপ্ত করেন।


[1]. মুসতাদরাকে হাকেম, ১/৪৫; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৫৮৫।

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৭৩৯২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৭৭।