উত্তম ও সুন্দরভাবে কর্ম সম্পাদন করা সাফল্য ও সন্তুষ্টির পথ
-অনুবাদ : মাহবূবুর রহমান মাদানী*


[১৭ রজব, ১৪৪৩ হি. মোতাবেক ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২। মদীনা মুনাওয়ারার আল-মাসজিদুল হারামে (মসজিদে নববী) জুমআর খুৎবা প্রদান করেন শায়খ আব্দুল বারী আছছুবায়তী t উক্ত খুৎবা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, রাজশাহীর সম্মানিত সিনিয়র শিক্ষক শায়খ মাহবূবুর রহমান মাদানী। খুৎবাটি ‘মাসিক আল-ইতিছাম’-এর সুধী পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো।]

প্রথম খুৎবা

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে নিয়ে এসেছেন। মহান পূত-পবিত্র আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা করছি, তিনি ঈমানের দ্বারা আমাদেরকে অধিকারী করেছেন সমৃদ্ধি ও আনন্দের। আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক; তাঁর কোনো শরীক নেই। যিনি বলেন, ﴿وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ﴾ ‘পার্থিব জীবন ছলনার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়’ (আলে ইমরান, ৩/১৮৫)। আমি আরও সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আমাদের নেতা, আমাদের নবী মুহাম্মাদ a তাঁর বান্দা ও রাসূল। যিনি উৎসাহ দিয়েছেন আনুগত্য ও গৃহীত আমলের প্রতি। কিয়ামত পর্যন্ত দরূদ বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর ছাহাবীগণের প্রতি।

অতঃপর, আমি আপনাদের সকলকে সেই সাথে নিজেকেও আল্লাহভীরুতার উপদেশ দিচ্ছি, আর তা হচ্ছে দুনিয়া ও পরকালে মুক্তির একমাত্র উপায়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ﴾

‘হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো যেমনভাবে তাঁকে ভয় করা উচিত। আর তোমরা মুসলিম না হয়ে কক্ষনো মৃত্যুবরণ করো না’ (আলে ইমরান, ৩/১০২)। আল্লাহ আরও বলেন, ﴿إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا﴾ ‘যে উত্তমভাবে কাজ করে আমি তার কর্মফল বিনষ্ট করি না’ (আল-কাহফ, ১৮/৩০)। এই আয়াত মুমিনদের অন্তনসমূহকে পবিত্র করছে ও তাদের সুসংবাদ প্রদান করছে। মুমিনগণ আল্লাহর দেওয়া ওয়াদাকে সত্য প্রতিপন্ন করে। এই আয়াত মুসলিমকে তার কর্মে পর্যালোচনা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। ইসলাম চাই আমলের সুন্দর ও সেরাটাই। যে ব্যক্তি তার শক্তি-সামর্থ্য ব্যয় করে, একনিষ্ঠতা উপস্থিত করে এবং নিপুণভাবে কাজ সম্পাদন করে যাতে সে দুনিয়া ও পরকালের আমলে সুন্দরতম অবস্থায় পৌঁছে। ফলে তার রবের নিকট তার উন্নত মর্যাদা রয়েছে। তার রব তাকে সম্মানিত করবেন তাঁর ভালবাসা, সাহায্য ও অনুগ্রহ দিয়ে।

ইহসান অর্থ— রাসূল a ইহসানের অর্থ বর্ণনা করেন, আপনি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন। আপনি যদি তাঁকে দেখতে না পান তাহলে মনে করবেন যে, নিশ্চয় তিনি আপনাকে দেখছেন।[1] আর রাসূল a আমাদের জানিয়েছেন যে, আমাদের প্রত্যেক কাজেই ইহসান অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন,

إِنَّ اللهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ، فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَ

‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক বিষয়ে তোমাদের উপর ইহসান বা দয়া-অনুগ্রহ অত্যাবশ্যক করেছেন। অতএব, তোমরা যখন হত্যা করবে, দয়ার্দ্রতার সঙ্গে হত্যা করবে; আর যখন যবেহ করবে তখন দয়ার সঙ্গে যবেহ করবে’।[2] আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন; ছালাতে, ছিয়ামে, হজ্জে, ওযূতে, ছাদাক্বাতে এবং প্রত্যেক প্রকার কর্মে। যদি তাঁকে দেখতে না পান তাহলে মনে করবেন যে, নিশ্চয় তিনি আপনাকে দেখছেন। অর্থাৎ উক্ত বৈশিষ্ট্যের উপর যদি আপনি ইবাদত না করেন, তাহলে আপনি তাঁর ইবাদত করুন নজরদারি ও ভয়-ভীতির পন্থায়। এই অর্থ যদি অন্তরে মযবূত হয় এবং অন্তর তাকে সতর্ক করে, তখন তা চরিত্রের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে এবং কর্মের বলিষ্ঠতা ও দৃঢ়তার উপর উৎসাহ দেয়, যার মাধ্যমে দেশ ও জাতির অবস্থা ঠিক হয়ে যাবে। আর তা তখনই হবে যখন একনিষ্ঠতার বাস্তবায়ন করবে এবং আল্লাহর পর্যবেক্ষণ জাগ্রত হবে মুসলিমের জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে; চাই তা ইবাদত, পারস্পরিক সম্পর্কে ও লেনদেনে হোক।

‘আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন। যদি তাঁকে দেখতে না পান তাহলে মনে করবেন যে, নিশ্চয় তিনি আপনাকে দেখছেন’। এই অর্থ একজন শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্মকর্তার মনকে জাগ্রত করে দেয়। সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি এবং কাজে ফাঁকির যা কিছু পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা একমাত্র কর্মে সঠিক ও সুদক্ষতার দুর্বলতার কারণেই। কুরআন আল্লাহর ইহসানের নমুনায় বা দৃষ্টান্তে পরিপূর্ণ, যে সুন্দরভাবে কাজ সম্পাদন করে তার জন্য । যাতে করে উত্তমভাবে কর্ম সম্পাদনকারী দেখতে পায় আসমান-যমীনের মহান রবের পক্ষ হতে ইহসানের প্রভাব ও বড় প্রতিদান। আর কীভাবে ইহসানকারীর ইহসান নষ্ট হবে, অথচ সে মহান সম্মানিত আল্লাহর বানী শুনতে থাকে, ﴿هَلْ جَزَاءُ الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ﴾ ‘ইহসানের প্রতিদান ইহসান ছাড়া আর কী হতে পার?’ (আর-রহমান, ৫৫/৬০)। যিনি বলেন, ﴿لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ﴾ ‘যারা উত্তমরূপে আমল করে তাদের জন্য আছে জান্নাত এবং আরও বেশি’ (ইউনুস ১০/২৬)

ইবরাহীম e তার পিতার সহিত সদ্ব্যবহার উপদেশ ও শিক্ষাদান হিসেবে উত্তমরূপে সম্পাদন করেছেন। ফলে মহান আল্লাহ তার জন্য উক্ত ইহসান তার সন্তানদের তার সহিত সদ্ব্যবহার সংরক্ষণ করেছেন এবং তাদেরকে ইহসানের বদলায় ইহসানের পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,﴿إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِي عَنْكَ شَيْئًا﴾ ‘স্মরণ করুন! যখন তিনি তার পিতাকে বললেন, হে আমার পিতা! আপনি তাঁর ইবাদত করেন কেন, যে শুনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো কাজেই আসে না? (মারইয়াম, ১৯/৪২)। হে আমার পিতা! এটা চরম নম্রতা, নমনীয়তা ও আদব বহন করে। অতঃপর আল্লাহ তাকে সম্মানিত করলেন তার সন্তানদের সদ্ব্যহারের দ্বারা। মহান আল্লাহ যখন তাকে নির্দেশ দিলেন তার পুত্রকে যবেহ করতে তখন তার পুত্র আল্লাহর আদেশের নিকট আত্মসমর্পণ করলেন এবং তার পিতার আনুগত্য ও কথা মান্য করতে তিনি বললেন, ‘হে আমার পিতা! আপনি যা আদেশপ্রাপ্ত হয়েছেন তা-ই করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন’ (আছ-ছফফাত, ৩৭/১০২)। ইউসুফ e তার সৌন্দর্যের নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা পবিত্রতা ও আমানাতের সহিত সুন্দরভাবে আদায় করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর সুন্দর কাজের হেফাযত করেছেন নবুঅত, নেতৃত্ব ও সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রদানের মাধ্যমে। আল্লাহ বলেন,

﴿وَكَذَلِكَ مَكَّنَّا لِيُوسُفَ فِي الْأَرْضِ يَتَبَوَّأُ مِنْهَا حَيْثُ يَشَاءُ نُصِيبُ بِرَحْمَتِنَا مَنْ نَشَاءُ وَلَا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ﴾

‘এভাবে আমি ইউসুফকে সে দেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম। দেশের যেখানে ইচ্ছে সে নিজের স্থান করে নিতে পারত, আমি যাকে চাই আমার রহমত দিয়ে ধন্য করি, আমি সৎকর্মশীলদের কর্মফল কক্ষনো বিনষ্ট করি না’ (ইউসুফ, ১২/৫৬)। আল্লাহর নবী আইয়ূব e কঠিন বিপদের সময় দীর্ঘ সময় ধরে সুন্দরভাবে ধৈর্যধারণ করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অফুরন্ত কল্যাণ দান করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আমরা তাকে পেয়েছি ধৈর্যশীল। কতই উত্তম বান্দা তিনি! নিশ্চয় তিনি ছিলেন আমার অভিমুখী’ (ছোয়াদ, ৩৮/৪৪)। তিনি আরো বলেন, ‘অতঃপর আমরা তার ডাকে সাড়া দিলাম, তার দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিলাম, তাকে তার পরিবার-পরিজন ফিরিয়ে দিলাম এবং আরও দিলাম তাদের সঙ্গে তাদের সমপরিমাণ; আমাদের পক্ষ থেকে বিশেষ রহমতরূপে এবং ইবাদতকারীদের জন্য উপদেশস্বরূপ’ (আম্বিয়া, ২১/৮৪)। আমাদের নবী a-এর উপর হেরা গুহায় যখন জিবরীল e অবতরণ করেন, তিনি তাঁর বিবি খাদীজা g-কে বললেন, আমি আমার নিজের নফসের উপর আশঙ্কা করছি। তখন তিনি বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ কখনো আপনাকে অপমান করবেন না। আল্লাহর কসম! আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখেন, সত্য কথা বলেন, অন্যের কষ্ট লাঘব করেন, মেহমানদারী করেন এবং দুর্যোগের সময় সাহায্য করেন।[3]

অতএব, যে ব্যক্তি নিজের সমাজের, দেশের ও জনসাধারণের জন্য উত্তম ও কল্যাণময় কিছু করে, আল্লাহ তাআলা তাকে কক্ষনো অপমান-অবমাননা করবেন না।

আবূ বকর ছিদ্দীক্ব c নবী a-এর সাহচর্য উত্তমভাবে সম্পাদন করেছেন। ফলে মহান আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি শেষ নবীর বন্ধু হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।[4]

হে আল্লাহর বান্দা! উল্লেখিত এই উদাহরণ ও দৃষ্টান্তসমূহ পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তিকে সর্বোৎকৃষ্ট প্রতিদান দেবেন, যে তার কর্মে সুন্দর ও উত্তম হবে। তাই মহান আল্লাহ যথার্থই বলেছেন,﴿إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا﴾ ‘যে উত্তমভাবে কাজ করে আমি তার কর্মফল বিনষ্ট করি না’ (আল-কাহফ, ১৮/৩০)। এরপর খত্বীব ছাহেব নিম্নের দু‘আ পড়ে প্রথম খুৎবা শেষ করেন।

بَارَكَ اللَّهُ لِيْ وَلَكُمْ فِيْ الْقُرْآنِ الْعَظِيْمِ، وَنَفَعْنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآيَاتِ وَالذِّكْرِ الْحَكِيْمِ. أَقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ الله الْعَظِيْمَ الْجَلِيْلَ لِيْ وَلَكُمْ وَلِسَائِرِ الْمُسْلِمِيْنَ مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ، فَاسْتَغْفِرُوْهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ.

দ্বিতীয় খুৎবা

সম্মানিত খত্বীব দ্বিতীয় খুৎবায় আল্লাহর প্রশংসা করার পর রাসূল a-এর উপর, তার পরিবার, ছাহাবী এবং যারা তার পথে চলে তাদের উপর দরূদ ও সালাম পাঠ করেন। এরপর বলেন, কর্মে সঠিকতা ও ভালো করা হলো— নিজের ভালোটা নিজের জন্য করা। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿إِنْ أَحْسَنْتُمْ أَحْسَنْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ﴾ ‘তোমরা যদি ভালো কাজ করলে নিজেদের কল্যাণের জন্যই তা করবে’ (আল-ইসরা, ১৭/০৭)। অতএব, মুসলিমের উপর জানা কর্তব্য, তার উত্তমভাবে কাজ সম্পাদন করা হলো আল্লাহর নেয়ামত ও তাঁর কৃতজ্ঞতাকে রক্ষা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,﴿وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ﴾ ‘তুমি অনুগ্রহ করো, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন’ (আল-ক্বাছাছ, ২৮/৭৭)

পরিশেষে সকল মুছল্লীকে সম্বোধন করে কুরআনের এই আয়াত তেলাওয়াত করেন,﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴾ ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতামণ্ডলী নবীর উপর দরূদ (রহমত) প্রেরণ করেন। (অতএব) হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর উপর দরূদ ও সালাম পেশ করো’ (আল-আহযাব, ৩৩/৫৬)। দরূদে ইবরাহীমী পাঠ করেন এবং চার খালীফার উপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দু‘আ করেন। অতঃপর দেশ, জাতি ও সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য কল্যাণের দু‘আ করে খুৎবা সমাপ্ত করেন।


[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৫০।

[2]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৫৫।

[3]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৪১।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৬৬।