একটি লিফলেটের ইলমী জবাব
-আহমাদুল্লাহ*



(পর্ব-২)

(৪) ইমামের পিছনে সূরায়ে ফাতিহা না পড়া :

এ শিরোনামে মুফতী সাহেব একটি ছহীহ হাদীছ পেশ করেছেন। হাদীছটি নিম্নরূপ :

عن ابى هريرة رضـ عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: جعل ‌الامام ‌ليوتم ‌به ‌فاذا ‌قرأ ‌فانصتوا. (السنن للنسائى رقم الحديث 922 ، السن لابى داود رقم الحديث 604) وفى رواية واذا اقرأ فانصتوا واذا قال غير المغضوب عليهم ولا الضالين فقولوا اٰمين. (الصحيح المسلم، رقم الحديث : 404)

অর্থ : আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, ‘নবীজী সা. ইরশাদ করেন, ইমামকে এজন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে, যেন তাকে অনুসরণ করা হয়। অতএব, তিনি যখন তেলাওয়াত করবেন, তোমরা নিরবে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো’।

অন্য বর্ণনায় আছে, ‘যখন ইমাম তেলাওয়াত করবেন, তখন তোমরা নিরবে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো এবং ইমাম যখন غير المغضوب عليهم ولا الضالين তেলাওয়াত করবেন, তখন তোমরা اٰمين বলো’। (মুছলিম-১/১৭৪, নাছায়ী-১/১৪৬)

জবাব : প্রথমত, হাদীছটি যঈফ বা দুর্বল, যা উক্ত হাদীছের সংকলক ইমাম আবূ দাঊদ নিজেই বলে গিয়েছেন। কিন্তু লেখক নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার হীন মানসিকতার দরুন ইমাম আবূ দাঊদের উক্তিটুকু গায়েব করে ফেলেছেন। পূর্ণ হাদীছটি নিম্নরূপ :[1]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ «إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ». بِهَذَا الْخَبَرِ زَادَ « وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا ». قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذِهِ الزِّيَادَةُ «وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا». لَيْسَتْ بِمَحْفُوظَةٍ الْوَهَمُ عِنْدَنَا مِنْ أَبِى خَالِدٍ.

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) হতে হতে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘ইমাম নির্ধারণ করা হয় তার অনুসরণের জন্য’। এই হাদীছের শেষে বৃদ্ধি করেছেন, ‘আর ইমাম তেলাওয়ার করলে চুপ থাকো’। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, ‘আর ইমাম তেলাওয়ার করলে চুপ থাকো’ অংশটুকু মাহফূয নয় অর্থাৎ গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে মূলত আবূ খালেদের থেকে ওহম (সংশয়) সৃষ্টি হয়েছে।[2]

অবশ্য হাদীছটিকে ইমাম আলবানী হাসান ও ছহীহ বলেছেন। কিন্তু ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) বহুপূর্বে বলেছেন ‘হাদীছটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ইজমা হয়নি’। তিনি বলেন, ‘হাদীছটি আমার মতে ছহীহ হলেও ছহীহ মুসলিমে সেটিকে স্থান দেইনি, কারণ আমি ইজমা না থাকলে কোনো হাদীছ আমি স্থান দেই না।[3]

দ্বিতীয়ত, হাদীছটিতে বলা হয়েছে, ইমামের তেলাওয়াত চলাকালীন চুপ করে তেলাওয়াত শ্রবণ করতে হবে। অথচ হানাফীরা তা করেন না। তারা এ সময়ে ছানা পাঠ করাকে বৈধ মনে করেন। কোন দলীলের ভিত্তিতে তারা নীরব না থেকে ছানা পাঠ করেন?

তৃতীয়ত, হাদীছটি আম বা ব্যাপক অর্থবোধক। যার কারণে হাদীছটিকে সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক খাছ হাদীছ দ্বারা ব্যাখ্যা করতে হবে। যদি কোনো খাছ হাদীছ পাওয়া যায়, তাহলে খাছ হাদীছের উপর আমল করতে হবে।[4] আর খাছ হাদীছে পৃথকভাবে সূরা ফাতিহা পড়াকে আবশ্যক করা হয়েছে। উবাদা ইবনুছ ছমেত (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الكِتَابِ ‘তার কোনো ছালাত নেই, যে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না’।[5]

চতুর্থত, ইমামের তেলাওয়াত অবশ্যই মুক্তাদীকে শ্রবণ করতে হবে। তবে সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্যান্য সূরা শ্রবণ করার কথা বলা হয়েছে। মুক্তাদীকে অবশ্যই সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে। এ সম্পর্কে কয়েকটি হাদীছ নিম্নরূপ :

(১) উবাদা ইবনুছ ছমেত (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الكِتَابِ ‘তার কোনো ছালাত নেই, যে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না’।[6]

(২) আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) হতে হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,مَنْ صَلَّى صَلَاةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ ثَلَاثًا غَيْرُ تَمَامٍ ‘যে ব্যক্তি ছালাত পড়ল, কিন্তু তাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, সেই ছালাত ত্রুটিযুক্ত (বাতিল)। নবী (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কথাটি কথাটি তিন বার বললেন। অর্থাৎ তা পরিপূর্ণ নয়।[7]

(৩) আয়েশা (রাযিয়াল্লা-হু আনহা) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, كُلُّ صَلَاةٍ لَا يُقْرَأُ فِيهَا بِأُمِّ الْكِتَابِ فَهِيَ خِدَاجٌ ‘প্রত্যেক ঐ ছালাত যেখানে উম্মুল কিতাব পাঠ করা হয় না, তা ত্রুটিযুক্ত’।[8]

(৪) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আছ (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) হতে রেওয়ায়াত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,كُلُّ صَلَاةٍ لَا يُقْرَأُ فِيهَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَهِيَ خِدَاجٌ ‘প্রত্যেক ঐ ছালাত যেখানে উম্মুল কিতাব পাঠ করা হয় না, তা ত্রুটিযুক্ত’।[9]

(৫) আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লা-হু আনহুমা) থেকে বর্ণনা আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الكِتَابِ ‘তার কোনো ছালাত নেই, যে ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করে না’।[10]

(১০) আনাস (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) হতে বর্ণনা আছে, নবী (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (মুক্তাদীদেরকে) বলেছেন,فَلَا تَفْعَلُوا وَلْيَقْرَأْ أَحَدُكُمْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فِي نَفْسِهِ ‘তোমরা এমন করবে না; তোমাদের প্রত্যেকে মনে মনে ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করবে’।[11]

(১১) একজন ছাহাবী (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (মুক্তাদীদেরকে) বলেছেন,فَلَا تَفْعَلُوا إِلَّا أَنْ يَقْرَأَ أَحَدُكُمْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فِي نَفْسِهِ ‘তোমরা এমন করবে না, তবে তোমাদের প্রত্যেকে মনে মনে ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করবে’।[12]

(১২) নাফে‘ ইবনু মাহমূদ (রাহিমাহুল্লাহ) (তাবেঈ) উবাদা ইবনুছ ছমেত (ছাহাবী) (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) হতে রেওয়ায়াত করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (মুক্তাদীদেরকে) বলেছেন,

فَلَا تَفْعَلُوا إِلَّا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَإِنَّهُ لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا

‘তোমরা এমন করবে না, তবে উম্মুল কুরআন ব্যতীত। কেননা যে এটা পাঠ করবে না, তার কোনো ছালাত নেই’।[13] একটি সনদে এই শব্দগুলো আছে-

لَا يَقْرَأَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ إِذَا جَهَرْتُ بِالْقِرَاءَةِ إِلَّا بِأُمِّ الْقُرْآنِ

‘যখন আমি উচ্চৈঃস্বরে ক্বিরাআত পাঠ করি, তখন তোমাদের মধ্য হতে একজনও সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু যেন পাঠ না করে’।[14]

(১৩) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আছ (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) হতে রেওয়ায়াত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (মুক্তাদীদেরকে) বলেছেন,فَلَا تَفْعَلُوا إِلَّا بِأُمِّ الْقُرْآنِ ‘উম্মুল কুরআন তথা সূরা ফাতিহা ব্যতীত কিছু পড়বে না’।[15]

(১৪) ‘মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব মাকহূল হতে, তিনি মাহমূদ ইবনু রবী (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) হতে, তিনি উবাদা ইবনুছ ছমেত (রাযিয়াল্লা-হু আনহু)’-এর সনদে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুক্তাদীদেরকে বলেছেন,

فَلَا تَفْعَلُوا إِلَّا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَإِنَّهُ لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا

‘উম্মুল কুরআন ব্যতীত ক্বিরাআত পাঠ করবে না; নিশ্চিতরূপে তার ছালাত হয় না, যে তা (সূরা ফাতিহা) পাঠ করে না’।[16]

(১৮) রিফাআ ইবনু রাফে‘ আয-যুরাকী (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاةُ فَكَبِّرْ، ثُمَّ اقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَمَا تَيَسَّرَ ثُمَّ ارْكَعْ

‘যখন ছালাতের ইক্বামত প্রদান করা হয়, তখন তাকবীর দাও। অতঃপর সূরা ফাতিহা পাঠ এবং যা সহজ হয় তা পাঠ করো। তারপর রুকূ করো’।[17]

(১৯) উমার (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) ইমামের পেছনে ক্বিরাআত সম্পর্কে বলেছেন, ‘হ্যাঁ (পাঠ করো)… যদিও আমি পাঠ করতে থাকি’।[18]

(২০) আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) ইমামের পেছনে ক্বিরাআত সম্পর্কে বলেছেন, اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِك ‘তুমি এটি তোমার অন্তরে পাঠ করবে’।[19] আরও বলেছেন, إِذَا قَرَأَ الْإِمَامُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَاقْرَأْ بِهَا وَاسْبُقْهُ ‘যখন ইমাম সূরা ফাতিহা পাঠ করবে, তখন তুমিও পাঠ করো। আর ইমামের পূর্বেই তা শেষ করবে’।[20] একটি রেওয়ায়াতে এসেছে যে, প্রশ্নকর্তা বলেছিলেন, যখন ইমাম জেহরী ক্বিরাআত করেন, তখন আমি কী করব? আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) বললেন, اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِك ‘মনে মনে পড়ো’।[21]

(২১) আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) ইমামের পেছনে ক্বিরাআত সম্পর্কে বলেছেন, بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ ‘সূরা ফাতিহা পাঠ করো’।[22]

(২২) উবাদা ইবনুছ ছমেত (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) ইমামের পিছে সূরা ফাতিহা পড়ার পর বলেছেন, أَجَلْ؛ إِنَّهُ لَا صَلَاةَ إِلَّا بِهَا ‘হ্যাঁ, এটি ব্যতীত ছালাত হয় না’।[23]

(২৩) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লা-হু আনহুমা) বলেছেন,اقْرَأْ خَلْفَ الْإِمَامِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ ‘তুমি ইমামের পিছে সূরা ফাতিহা পাঠ করো’।[24]

(২৪) আনাস (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) ইমামের পিছে সূরা ফাতিহা এবং (সিররী ছালাতে) একটি সূরা পাঠ করার প্রবক্তা ছিলেন। ছাবেত ইবনু আসলাম আল-বুনানী (তাবেঈ) বলেছেন, كَانَ يَأْمُرُنَا بِالْقِرَاءَةِ خَلْفَ الْإِمَامِ ‘তিনি আমাদেরকে ইমামের পিছে ক্বিরাআত করার আদেশ করতেন’।[25]

(২৬) জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) থেকে রেওয়ায়াত আছে যে,

كُنَّا نَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ خَلْفَ الْإِمَامِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ وَفِي الْأُخْرَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ

‘আমরা যোহর ও আছরে ইমামের পিছে প্রথম দু’রাকআতে ফাতিহাতুল কিতাব এবং অন্য কোনো একটি সূরা পাঠ করতাম। আর শেষের দু’রাকআতে কেবল সূরা ফাতিহা পড়তাম’।[26]

এ ব্যতীত অন্যান্য আছারের জন্য বায়হাক্বীর ‘কিতাবুল ক্বিরাআত’ গ্রন্থটি অধ্যয়ন করা যেতে পারে।

তাবেঈদের আছার :

(১) ‘আমি কি ইমামের পিছে ক্বিরাআত করবো?’ এই প্রশ্নটির জবাব সাঈদ ইবনু জুবায়ের (এভাবে) দিয়েছেন যে, ‘হ্যাঁ, যদিও তুমি তার ক্বিরাআত শুনতে পাও’।[27] অন্য আরেকটি রেওয়ায়াতে বলেছেন, لَا بُدَّ أَنْ تَقْرَأَ بِأُمِّ الْقُرْآنِ مَعَ الْإِمَامِ ‘অবশ্যই তোমাকে ইমামের পিছে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে’।[28]

(২) হাসান বাছরী বলেছেন, اقْرَأْ خَلْفَ الْإِمَامِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فِي نَفْسِكَ ‘ইমামের পিছে প্রত্যেক রাকআতে তুমি মনে মনে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে’।[29]

(৫) আবুল মালীহ উছামা ইবনু উমায়ের ইমামের পিছে সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন।[30]

(৬) হাকাম ইবনু উতায়বা বলেছেন, ‘যেই ছালাতে ইমাম উচ্চৈঃস্বরে পড়ে না, তার প্রথম দু’রাকআতে সূরা ফাতিহা এবং (অন্য কোনো) একটি সূরা পড়ো এবং শেষ রাকআতে (স্রেফ) সূরা ফাতিহা পড়ো’।[31]

(৭) উরওয়া ইবনুয যুবায়ের ইমামের পিছে সিররী ছালাতসমূহে (ফাতিহা ও ফাতিহার পরে আরও একটি সূরা) পড়তেন।[32]

(৮) কাসেম ইবনু মুহাম্মাদ ইমামের পিছে অনুচ্চস্বরে (সিররী) ছালাতসমূহে (ফাতিহা এবং ফাতিহার পরে যা পাঠ করা হয়) পড়তেন।[33]

(৯) নাফে‘ ইবনু জুবায়ের ইবনু মুত্বইম ইমামের পিছে সিররী ছালাতে (ফাতিহা এবং আরেকটি অতিরিক্ত সূরা) পড়তেন।[34] এ জাতীয় আরও দলীল রয়েছে যেগুলো প্রমাণ করে যে, মুক্তাদীগণ ইমামের পিছে অবশ্যই সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। তবে সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কোনো সূরা ইমামের পিছে পড়া যাবে না। বরং ইমামের তেলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করতে হবে।

 (চলবে)


* সৈয়দপুর, নীলফামারী।

[1]. নাসাঈ, হা/৯২২।

[2]. আবূ দাঊদ, হা/৬০৪।

[3]. ছহীহ মুসলিম, হা/৪০৪।

[4]. উসূলুশ শাশী; নূরুল আনওয়ার।

[5]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/২; ছহীহ বুখারী, হা/৭৫৬।

[6]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/২; ছহীহ বুখারী, হা/৭৫৬।

[7]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/১১; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৯৫।

[8]. সুনানে ইবনু মাজাহ, হা/৮৪০, আহমাদ, হা/২৬৮৮৮।

[9]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/১৪; ইবনু মাজাহ, হা/৮৪১।

[10]. বায়হাক্বী, কিতাবুল ক্বিরাআত, হা/১০০, পৃ. ৫০, সনদ ছহীহ।

[11]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/২৫৫; ইবনু হিব্বান, হা/৪৫৮, ৪৫৯; আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়াহ, পৃ. ১৯, ‘ছহীহ’।

[12]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/৬৭; আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়াহ, পৃ. ২৯, ‘ছহীহ’।

[13]. বায়হাক্বী, কিতাবুল ক্বিরাআত, হা/১২১, পৃ. ৬৪, সনদ হাসান, বায়হাক্বী ছহীহ বলেছেন।

[14]. সুনানে নাসাঈ, হা/৯২১; জুযউল ক্বিরাআত, হা/৬৫; আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়াহ, পৃ. ২৯।

[15]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/৬৩; আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়াহ পৃ. ৩৫, সনদ হাসান।

[16]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/২৫৭; আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়াহ পৃ. ৪১।

[17]. বাগাভী, শারহুস সুন্নাহ, হা/৫৫৪, তিনি বলেছেন, এই হাদীছটি হাসান।

[18]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/৫১, ‘ছহীহ’।

[19]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/১১; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৯৫।

[20]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/২৮৩, সনদ ছহীহ।

[21]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/৭৩, সনদ হাসান, তবে সাক্ষীমূলক বর্ণনা দ্বারা এটি ছহীহ।

[22]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/১১, ১০৫, সনদ হাসান; আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়াহ, পৃ. ৬৮, ৬৯।

[23]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/৩৭৭০, সনদ ছহীহ; জুযউল ক্বিরাআত, হা/৬৫।

[24]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/৩৭৭৩, ‘ছহীহ’; আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়াহ পৃ. ৭০, ৭১।

[25]. বায়হাক্বী, কিতাবুল ক্বিরাআত, হা/২৩১; আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়াহ পৃ. ৭৩, সনদ হাসান।

[26]. ইবনু মাজাহ, হা/৮৪৩, সনদ ছহীহ।

[27]. জুযউল ক্বিরাআত, হা/২৭৩, সনদ হাসান।

[28]. মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হা/২৭৮৯, ২/১৩৩; তাওযীহুল কালাম, ১/৫৩০; বায়হাক্বী, কিতাবুল ক্বিরাআত, হা/২৩৭, শেষ ছত্র, আব্দুর রাযযাক হাদীছ শ্রবণের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

[29]. বায়হাক্বী, কিতাবুল ক্বিরাআত, হা/২৪২; বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা ২/১৭১, সনদ ছহীহ; তাওযীহুল কালাম, ১/৫৩৮; মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/৩৭৬২।

[30]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/৩৭৬৮, সনদ ছহীহ; জুযউল ক্বিরাআত, হা/৪৬।

[31]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/৩৭৬৬, সনদ ছহীহ; তাওযীহুল কালাম, ১/৫৫৫।

[32]. মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/১৮৬, সনদ ছহীহ।

[33]. মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/১৮৭, সনদ ছহীহ।

[34]. মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/১৮৭, সনদ ছহীহ।