একটি লিফলেটের ইলমী জবাব
-আহমাদুল্লাহ*




(শেষ পর্ব)

১১. তারাবীহ’র নামায বিশ রাকআত : এই শিরোনামে লেখক তিনটি হাদীছ পেশ করেছেন। যার সবগুলোই নানান দোষে দুষ্ট। নিচে হাদীছগুলোর ধারাবাহিক তাহক্বীক্ব পেশ করা হলো।-

عن ابن عباس t أن رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ كان يصلي في رمضان عشرين ركعة والوتر.

(১) হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূল সা. রমজানে বিশ ও বিতর পড়তেন। (মুছান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ৫/২২৫, হাদীস নং ৭৭৭৪)

তাহক্বীক্ব : এই হাদীছটি বানোয়াট ও মনগড়া। মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ (২/৩৯৪) গ্রন্থে এই রেওয়ায়াতটি ‘ইবরাহীম ইবনু উছমান আল-হাকাম হতে, তিনি মিকসাম হতে, তিনি ইবনু আব্বাস হতে’-এর সনদে রয়েছে। এর রাবী ইবরাহীম সম্পর্কে আল্লামা যায়লাঈ হানাফী (মৃ. ৭৬২ হি.) বলেছেন, ‘আহমাদ বলেছেন, তিনি মুনকারুল হাদীছ’।[1]

আল্লামা যায়লাই হানাফী নাছবুর রায়াহ গ্রন্থে (২/৬৬) তার একটি হাদীছকে যঈফ বলেছেন এবং বায়হাক্বী হতে এই উক্তিটি ‘তিনি যঈফ’ বর্ণনা করেছেন (২/৬৭)। আর (২/১৫৩-এর মধ্যে) আবুল ফাতহ সুলাইম ইবনু আইয়ূব আর-রাযী আল-ফক্বীহ হতে এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন যে, তার যঈফ হওয়ার উপর ঐকমত্য আছে।

আইনী হানাফী বলেছেন, শু‘বাহ তাকে (ইবরাহীম ইবনু উছমানকে) মিথ্যুক বলেছেন। আহমাদ, ইবনু মাঈন, বুখারী, নাসাঈ প্রমুখ বিদ্বানগণ তাকে যঈফ বলেছেন। আর ইবনু আদী তার এই হাদীছটিকে তার আল-কামিল গ্রন্থে তার মুনকার বর্ণনাসমূহের মধ্যে উল্লেখ করেছেন।[2]

ইবনু হুমাম হানাফী ফাতহুল ক্বাদীর (১/৩৩৩) গ্রন্থে ও আব্দুল হাই স্বীয় ফাতাওয়া গ্রন্থে (১/৩৫৪) এই হাদীছটির উপর সমালোচনা করেছেন। আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী দেওবন্দী এই হাদীছটি সম্পর্কে লিখেছেন,

وأما عشرون ركعة فهو عنه بسند ضعيف وعلى ضعفه اتفاق

‘আর ২০ রাকআত— যেটি মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে যঈফ সনদে বর্ণিত, সেটির দুর্বল হওয়ার উপর ঐকমত্য আছে।[3]

তারা ব্যতীত আরও অসংখ্য দেওবন্দী আলেম এই হাদীছ এবং এর রাবীর সমালোচনা করেছেন। যেমন দেখুন— মুহাম্মাদ যাকারিয়া কান্ধালবী দেওবন্দী তাবলীগীর ‘আওজাযুল মাসালিক’ (১/৩৯৭) গ্রন্থটি।

আবূ শায়বা ইবরাহীম ইবনু উছমানের উপর মুহাদ্দিছগণের কঠিন সমালোচনামূলক উক্তিগুলোর জন্য দেখুন— মীযানুল ই‘তিদাল (১/৪৭, ৪৮), তাহযীবুত তাহযীব (১/১৪৪, ১৪৫) ইত্যাদি। আল্লামা সুয়ূতী এই হাদীছের রাবীর উপর কঠিন সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন,

هَذَا الْحَدِيثُ ضَعِيفٌ جِدًّا لَا تَقُومُ بِهِ حُجَّةٌ

‘এই হাদীছটি অত্যন্ত যঈফ। এর দ্বারা দলীল পেশ করা যাবে না’।[4]

সুতরাং এর কোনো সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জিত হয়নি। বরং বড় বড় আলেমগণ যেমন হাফেয যাহাবী, আল্লামা যায়লাঈ, আল্লামা আইনী, ইবনু হুমাম (রাহিমাহুল্লাহ) প্রমুখ বিদ্বানগণ তো একে বাতিল করে দিয়েছেন। অর্থাৎ এই রেওয়ায়াতটিকে সকলেই বাতিল করেছেন। সেজন্য সাধারণ লোকদের ধোঁকা দেওয়া অত্যন্ত নিকৃষ্ট কাজ।

عن السائب بن يزيد t قال كانوا يقومون على عهد عمر بن الخطاب t فى شهر رمضان بعشرين ركعة قال وكانوا يقرءون بالمئين وكانوا يتوكئون على عصيهم فى عهد عثمان بن عفان t من شدة القيام.

(২) হযরত ছায়েব ইবনে ইয়াজিদ রা. বলেন, মুসলমানগণ হযরত উমরের যুগে রমজান মাসে বিশ রাকআত তারাবীহ’র নামায পড়তেন। (বায়হাক্বী শরীফ ২/৪৯৬)

তাহক্বীক্ব : শায়েখ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) এ হাদীছের একাধিক ত্রুটি বর্ণনা করেছেন। যেমন এর রাবী ইবনু খুসায়ফাকে ইমাম আহমাদ মুনকারুল হাদীছ বলেছেন। এছাড়াও তিনি তারাবীহর সংখ্যা বর্ণনায় ভুল করেছেন।[5]

كان أبي بن كعب t يصلي بالناس في رمضان بالمدينة عشرين ركعة ويوتر بثلاث.

(৩) হযরত উবাই ইবনে কাআব রা. রমজান মাসে মদীনায় বিশ রাকআত তারাবিহ ও তিন রাকআত বিতর পড়াতেন। (মুছান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ৫/২২৪, হাদীস নং ৭৭৬৬)

তাহক্বীক্ব : এই রেওয়ায়াত সম্পর্কে হানাফীদের বিখ্যাত আলেমে দ্বীন নিমাবী সাহেব লিখেছেন, আব্দুল আযীয ইবনু রুফাঈ উবাই ইবনু কা‘বকে পাননি।[6] অর্থাৎ এই রেওয়ায়াতটি মুনক্বাত্বে‘। উছূলে হাদীছের গ্রন্থে লেখা আছে, মুনক্বাত্বে‘ বর্ণনা আলেমদের ঐকমত্যানুসারে যঈফ।[7]

১২. মহিলাদের নামাযের উত্তম স্থান নিজ গৃহ (বাড়ি) : এই শিরোনামে তিনি চারটি দলীল পেশ করেছেন। যার আলোচনা নিম্নরূপ-

عن أم سلمة i عن رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ انه قال خير مساجد النساء قعر بيوتهن.

(১) হযরত উম্মে সালামা রা.-এর সূত্রে বর্ণিত যে, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, গৃহাভ্যন্তরই হলো মহিলাদের জন্য উত্তম মসজিদ। (মুছনাদে আহমাদ হাদীস নং ২৬৫৪২)

তাহক্বীক্ব : হাদীছটির সনদ যঈফ। তবে হাদীছটির মর্ম ছহীহ। কেননা এর পক্ষে আরও সাক্ষীমূলক হাদীছ রয়েছে। কিন্তু এই হাদীছটি আহলেহাদীছদের বিরুদ্ধে পেশ করা অনর্থক। কারণ এতে সালাফীদের মতের বিরুদ্ধে কোনো কিছুই বলা নেই। কেননা সালাফীদের মতামত হলো, মহিলারা মসজিদে গিয়ে জামাআতে ছালাত আদায় করতে পারবে। তবে বাড়িই হলো তাদের উত্তম স্থান। সুতরাং এ হাদীছের সাথে আহলেহাদীছদের মতের কোনো বিরোধ নেই।

حدثنا هارون حدثنا عبد الله بن وهب قال حدثنى داود بن قيس عن عبد الله بن سويد الأنصارى عن عمته أم حميد امرأة أبى حميد الساعدى أنها جاءت النبى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فقالت يا رسول الله إنى أحب الصلاة معك قال قد علمت أنك تحبين الصلاة معى وصلاتك فى بيتك خير لك من صلاتك فى حجرتك وصلاتك فى حجرتك خير من صلاتك فى دارك وصلاتك فى دارك خير لك من صلاتك فى مسجد قومك وصلاتك فى مسجد قومك خير لك من صلاتك فى مسجدى قال فأمرت فبنى لها مسجد فى أقصى بيت فى بيتها وأظلمه فكانت تصلى فيه حتى لقيت الله عز وجل.

(২) একদা হযরত উম্মে হুমাইদ রা. রাসূল সা.-এর দরবারে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার সাথে নামায পড়তে ভালবাসি। রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, আমি জানি তুমি আমার সঙ্গে নামায পড়তে ভালবাস, কিন্তু তোমার ঘরে নামায তোমার বাইরের হুজরায় নামায অপেক্ষা উত্তম। আর তোমার হুজরার নামায তোমার বাড়িতে নামায অপেক্ষা উত্তম। আর তোমার বাড়িতে নামায তোমার মহল্লার মসজিদে নামায অপক্ষো উত্তম। আর তোমার মহল্লার মসজিদে নামায আমার মসজিদে ছালাত অপেক্ষা উত্তম। অতঃপর উক্ত মহিলা নিজ ঘরের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নামাযের স্থান নির্ধারণ করে নিল এবং আমরণ সেখানেই নামায আদায় করল। (মুছনাদে আহমাদ হাদীস নং ২৬৫৪২)

তাহক্বীক্ব : এখানে নারীদের মসজিদে গিয়ে জামাআতে ছালাত আদায় করা হারাম করা হয়নি। বরং কোনটা অনুত্তম ও কোনটা উত্তম, তা নির্দেশ করা হয়েছে। যেহেতু লিফলেটের লেখক নারীদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করেন, সেহেতু তার উচিত ছিল এমন একটি হাদীছ দেখানো, যেখানে নারীদেরকে মসজিদে যেতে সরাসরি বাধা প্রদান করা হয়েছে।

عن عائشة i قالت لو أدرك رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ ما أحدث النساء لمنعهن المسجد.

(৩) হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি হুজুর রা. মহিলাদের অশোভনীয় পরিবর্তন পরিলক্ষিত করতে পারতেন, যা তারা ঘটিয়েছে, তবে অবশ্যই তাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করে দিতেন। (বুখারী ১/১২০ (৮৬৯) মুসলিম ১/১৮৩ (৯৯৮)

তাহক্বীক্ব : প্রথমত, হাদীছটিতে তাদের জন্য কোনো দলীল নেই, যারা মহিলাদেরকে মসজিদে গমনে বাধা প্রদান করেন। কেননা এতে পরিষ্কারভাবে বলা আছে যে, ‘যদি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহিলাদের অশোভনীয় আচরণ দেখতে পেতেন, তাহলে তিনি নিষেধ করতেন’ —কিন্তু বাস্তবতা হলো, তিনি নিষেধ করেননি। আর তার মৃত্যুর পর আর কোনো ব্যক্তিরও নতুন করে শরীআতে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারী করার ক্ষমতা নেই। কেননা শরীআতের আদেশ-নিষেধ যা অবতীর্ণ হওয়ার, তা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় হয়েছে। তাঁর তিরোধানের পর আর কোনো নতুন আদেশ-নিষেধ যুক্ত হবে না।

দ্বিতীয়ত, এটি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিজস্ব ধারণা ছিল, যা কোনো দলীল নয়। তবে যদি সকল ছাহাবী ইজমা করে মহিলাদের মসজিদ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারী করতেন, তাহলে তা সঠিক হতো। কেননা ছাহাবীদের ইজমা দলীল হয়ে থাকে। আর তাঁদের ইজমা হাদীছ কর্তৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত। বিস্তারিত দেখুন শায়েখ যুবায়ের আলী যাঈ (রাহিমাহুল্লাহ) প্রণীত ‘ইসলামে তাক্বলীদের বিধান’ গ্রন্থটি।

عن عبد الله بن عمر أنه كان لا يخرج نساءه في العيدين.

(৪) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. হতে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর পরিবারের মেয়েদেরকে দুই ঈদের নামাযের জন্য বের হতে দিতেন না। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ৪/২৩৪, হাদীস নং ৫৮৪৫)

তাহক্বীক্ব : সনদ যঈফ। কেননা এখানে সুফিয়ান ছাওরী (রাহিমাহুল্লাহ)–এর তাদলীস রয়েছে।[8]

১৩. জুমআ ও ঈদ একই দিনে হলে উভয়টি পড়তে হবে : লিফলেটটির শেষ বিষয়টি এটাই। এখানে মুহতারাম লেখক নিম্নোক্ত বর্ণনা পেশ করেছেন—

كان رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يقرأ في العيدين وفي الجمعة بسبح اسم ربك الأعلى وهل أتاك حديث الغاشية قال وإذا اجتمع العيد والجمعة في يوم واحد يقرأ بهما أيضا في الصلاتين.

“রাসূলুল্লাহ সা. দুই ঈদে ও জুমআয় ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা’ এবং ‘হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ’ পড়তেন। আর যখন ঈদ ও জুমআ একই দিনে হতো, তখনও তিনি ঈদ ও জুমআ উভয় নামাযে উক্ত সূরা দু’টিই পড়তেন।” (মুসলিম ১/২৮৮ হা: নং ১৪৫৮)

তাহক্বীক্ব : এটি ছহীহ মুসলিমের হাদীছ। সুতরাং অবশ্যই হাদীছটি ছহীহ। কিন্তু আমাদের দেখতে হবে যে, এই ছহীহ হাদীছটির ব্যাখ্যা অন্য কোনো ছহীহ হাদীছে আছে কি না। এ ব্যাপারে কয়েকটি হাদীছ নিম্নরূপ—

হাদীছ-১ : ইয়াস ইবনু আবী রমলা আশ-শামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীছ :

عَنْ إِيَاسِ بْنِ أَبِي رَمْلَةَ الشَّامِيِّ قَالَ شَهِدْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ وَهُوَ يَسْأَلُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ قَالَ أَشَهِدْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ عِيدَيْنِ اجْتَمَعَا فِي يَوْمٍ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَكَيْفَ صَنَعَ قَالَ صَلَّى الْعِيدَ ثُمَّ رَخَّصَ فِي الْجُمُعَةِ فَقَالَ مَنْ شَاءَ أَنْ يُصَلِّيَ فَلْيُصَلِّ.

মুআবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে জিজ্ঞেস করেন যে, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ে তার সাথে দুই ঈদ (ঈদ ও জুমআ) একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কী করেছিলেন? তিনি বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে ঈদের ছালাত আদায় করেন। অতঃপর জুমআর ছালাত আদায়ের ব্যাপারে অবকাশ প্রদান করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি তা আদায় করতে চায়, সে তা আদায় করতে পারে’।[9]

হাদীছ-২ : আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীছ :

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ قَدِ اجْتَمَعَ فِي يَوْمِكُمْ هَذَا عِيدَانِ فَمَنْ شَاءَ أَجْزَأَهُ مِنَ الْجُمُعَةِ وَإِنَّا مُجَمِّعُونَ.

রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘আজকের এই দিনে দুইটি ঈদ (ঈদ ও জুমআ) এর সমাগম ঘটেছে। কেউ চাইলে ঈদের ছালাতে উপস্থিত হওয়া তার জন্য জুমআর ছালাতে উপস্থিত হওয়ার পরিবর্তে যথেষ্ট হবে। আমরা জুমআর ছালাত পড়ব’।[10]

হাদীছ-৩ : ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীছ :

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ اجْتَمَعَ عِيدَانِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فَصَلَّى بِالنَّاسِ ثُمَّ قَالَ مَنْ شَاءَ أَنْ يَأْتِيَ الْجُمُعَةَ فَلْيَأْتِهَا وَمَنْ شَاءَ أَنْ يَتَخَلَّفَ فَلْيَتَخَلَّفْ.

ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যামানায় দুই ঈদ (জুমআ ও ঈদ) এর সমাগম হলো। তিনি লোকদের নিয়ে (ঈদের) ছালাত আদায় করার পর বললেন, ‘যে ব্যক্তি জুমআর ছালাতে আসতে চায়, সে আসতে পারে। আর কেউ না আসতে চাইলে সে না আসতে পারে’।[11]

হাদীছ-৪ : ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীছ :

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ اجْتَمَعَ عِيدَانِ فِي يَوْمِكُمْ هَذَا فَمَنْ شَاءَ أَجْزَأَهُ مِنَ الْجُمُعَةِ وَإِنَّا مُجَمِّعُونَ إِنْ شَاءَ اللهُ.

রাসূলুল্লাল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘আজকের এই দিনে দুই ঈদের সমাগম ঘটেছে। কেউ চাইলে ঈদের ছালাতে উপস্থিত হওয়া তার জন্য জুমআর ছালাতে উপস্থিত হওয়ার পরিবর্তে যথেষ্ট হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা জুমআর ছালাত আদায় করব’।[12]

এছাড়াও আরও আছার রয়েছে। যা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ঈদ ও জুমআ একত্র হলে জুমআ না পড়লেও যথেষ্ট হবে।

উপসংহার : লিফলেটে প্রদত্ত ১৩টি বিষয়ের সংক্ষিপ্ত জবাব এখানেই সমাপ্ত হলো। আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে দ্বীন শেখার ও বুঝার তাওফীক্ব দান করুন। আমাদের সকলকে হক্ব বুঝার ও সালাফদের দেখানো পথে অটল থাকার তাওফীক্ব দিন- আমীন!


* সৈয়দপুর, নীলফামারী।

[1]. নাসবুর রায়াহ, ১/৫৩।

[2]. উমদাতুল ক্বারী, ১/১২৮।

[3]. আল-আরফুশ শাযী, ১/১৬৬।

[4]. আল-হাবী, ১/৩৪৭।

[5]. আলবানী, ছালাতুত তারাবীহ, পৃ. ৫৮-৬০।

[6]. আছারুস সুনান, হা/৭৮১-এর টীকা দ্রষ্টব্য।

[7]. তায়সীরু মুছত্বলাহিল হাদীছ, পৃ. ৭৮।

[8]. ইবনু হাজার, ত্ববাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৫১।

[9]. আবূ দাঊদ, হা/১০৭০; ইবনু মাজাহ, হা/১৩১০; তামামুল মিন্নাহ, পৃ. ৩৪৪, হাদীছ ছহীহ।

[10]. আবূ দাঊদ, হা/১০৭৩, হাদীছ ছহীহ।

[11]. ইবনু মাজাহ, হা/১৩১২, হাদীছ ছহীহ।

[12]. ইবনু মাজাহ, হা/১৩১১, হাদীছ ছহীহ।