অপেক্ষা!

                                                            -আব্দুর রহমান বিন আব্দুর রাযযাক
                                                            ফারেগ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ,
                                                              বানারাস, ভারত।

এ পথে রইবো অপেক্ষায়!

কেউ তো আসবে হেতা নতুন সুরের মূর্ছনায়।

আসুক আঁধার করে মেঘ আকাশের বুকে,

অরুণ রবির আশায় আমি রবো ক্লান্তি ভুলে।

ঘুম সাগরের পাড়ে, দুয়ার খুলে রইবো দাঁড়িয়ে,

বিন যিয়াদের খোঁজে, বাণাধার কাঁধে।

কাতর কণ্ঠে সত্য যতই কাঁদে কাঁদুক,

গগণ-মরু প্রান্তরে কেউ তো হাসুক।

দলে গেছে কোন নিশীথে, কোন চেঙ্গিস কমল দল,

আসবে কবে? তরুণের বুকে কুতুয-বাইবার্সের বল।

একাকী দাঁড়িয়ে আমি সিন্ধু-নদের তোরণ তীরে,

 স্রোত বেয়ে, ফের কবে? বিন কাসিমের তরি আসিবে।

নিখিলের বুকে কায়েমে সেই, তব সত্য-সিংহ-দ্বার,

সিংহগ্রীবে আজও দাঁড়িয়ে আন্দালুসের ভগ্ন পাহারাদার।

অমর নিত্য-কেতন চুমবে আবার জয় ললাটের দীপ্তি,

মাথায় তাজ, বুকে বেঁধে তাকবীর-ধ্বনি, আমি সান্ত্রী।

কার বিষাদ-শায়কে নিখিল তোদের দিশেহারা,

কেউ তো আসিবে আবার মৃত্যু পায়ে বাঁধনহারা।

অতল কালো অশ্রুর-মেঘডম্বর ঠেলে, ঈমান-বাতি জ্বেলে,

কোন গাজনী-র জয় ধ্বনি আসবে আবার পরাভব মেড়ে।

বজ্র-আযানের গর্জনে, কাউরো খড়গ তলে,

এ যমীনে দুলবে আবার সেই নিশান বিজয় দোলে।

চাবুক-মারা বিপদের হানি আঘাত, রক্ত চক্ষু ফুঁড়ে,

কেউ হাঁকিবে তাকবীর, বল্লম হাতে ঐ মৃত্যুপুরে

কোন প্রাতঃকালে; বক্ষ ফুলে, অশ্রু মুছে, কান্না ভুলে,

বিন তাশফীন আসিবে আবার নোঙ্গর তুলে।

এবাদুর রহমান জাগাবে ফের বিজয়ের লহর,

নতুন রঙ্গে, নতুন সাজে সাজবে আবার হামরা প্রান্তর।

একলা আমি এ পথে রইবো অপেক্ষায়,

কেউ তো আসবে হেথা পুরোনো সুরের মূর্ছনায়।