করোনা ভাইরাস ও আমাদের করণীয়

আরিয়ান রিয়ান নাঈম

করোনা ভাইরাস। চীন থেকে শুরু করে বর্তমানে প্রায় অধিকাংশ দেশেই এর প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশ্বের তথাকথিত সমৃদ্ধশালী, শক্তিধর ও ক্ষমতাশালী দেশ বা ব্যক্তিত্ব পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না এর প্রকোপ থেকে। দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে সারাবিশ্বে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি এখন এক বৈশ্বিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে।

অনেক মুসলিমকেই দেখা যাচ্ছে তারা জোর বিশ্বাসের সাথে বলছে, এ বিপদ চীনসহ অন্যান্য দেশের ওপর  আল্লাহর  পক্ষ হতে এক কঠিন শাস্তি মুসলিমদের জান-মাল, ইযযত-আব্রুর উপর নৃশংস হামলার প্রতিফলস্বরূপ।

কিন্তু কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ ব্যতিরেকে এটা আযাব কিনা এ ব্যাপারে কোনো ফয়ছালা দেওয়া সম্ভব না। যদিও কাফের ও মুনাফিক্বরা দুনিয়া-আখিরাতে আযাবের উপযুক্ত।

পূর্ববর্তী অনেক জাতি আল্লাহর  পক্ষ হতে আযাব ভোগ করেছে তাদের ধৃষ্টতা, শিরক এবং নবী ও নেককার বান্দাদের সহিত দুশমনী করার পরিণামস্বরূপ। আদ, ছামূদ, ফেরাঊনগোষ্ঠী, মাদায়েনবাসী, বনী ইসরাঈল প্রভৃতি জাতির ওপর ঘূর্ণিঝড়, বিকট আওয়ায, বিকৃতিসাধন, দুর্ভিক্ষসহ নানা ধরনের আযাব এসেছিল তাদের অসৎকর্মের প্রতিফল হিসাবে।

সাথে সাথে নবী-রাসূল ও তাদের অনুসারীদের ওপরও বিভিন্ন বিপদ-আপদ ও পরীক্ষা এসেছিল। তো তাদের কাউকে হত্যা করা হয়, কাউকে নির্যাতন করা হয়, আর কাউকে ভূমিছাড়া করা হয়। এমনকি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কিছু শ্রেষ্ঠতম ছাহাবীও শামভূমিতে মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেন, অথচ তারা সেখানে জিহাদরত ও বিজয়ীরূপে  প্রবেশ করেছিলেন। তাদেরকে আমরা আল্লাহর  পথের শহীদই মনে করি। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, الطّاعُونُ شَهادَةٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ ‘মহামারীতে মৃত্যুবরণ করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য শাহাদাত’।[1]

তবে বিপদাপদ ও বালা-মুছীবতের সময় মুমিন ও মুশরিকদের মাঝে যে বড় পার্থক্য দেখা দেয় তা হলো, মুমিনগণ এ সময় দু‘আ ও অনুনয়-বিনয় করে বিপদাপদ থেকে আল্লাহ তা‘আলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তওবা ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর  নৈকট্য লাভ করে এবং বিপদাপদের ওপর ধৈর্যধারণ করে আল্লাহর  নিকট প্রতিদানের আশা রাখে।

পক্ষান্তরে কাফেররা এগুলোকে আল্লাহর  পক্ষ হতে কোনো নিদর্শনই মনে করে না যে, তারা কুফর ও গোমরাহি থেকে তওবা করবে এবং তাদের সৃষ্টিকর্তার নিকট মুক্তি চাইবে। বরং বিপদাপদের সময় তাদের কুফর ও অহমিকা আরও বেড়ে যায়। যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

وَقَالُواْ مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِ مِن آيَةٍ لِّتَسْحَرَنَا بِهَا فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ – فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الطُّوفَانَ وَالْجَرَادَ وَالْقُمَّلَ وَالضَّفَادِعَ وَالدَّمَ آيَاتٍ مُّفَصَّلاَتٍ فَاسْتَكْبَرُواْ وَكَانُواْ قَوْمًا مُّجْرِمِينَ

‘(কাফেররা মূসাকে) বলল, আমাদেরকে যাদু করতে তুমি যে নিদর্শনই নিয়ে আসো না কেন, আমরা তোমার প্রতি কিছুতেই ঈমান আনবো না। অতঃপর আমি প্রেরণ করলাম তাদের ওপর একের পর এক নিদর্শনস্বরূপ জলোচ্ছ্বাস, ফড়িং, উঁকুন, ব্যাঙ এবং রক্তের বালাই। অতঃপর তারা অহঙ্কার করলো এবং তারা ছিলো পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়’ (আ‘রাফ, ১৩২-১৩৩)।

কাফেরদের মাঝে আবার আরেক প্রকার রয়েছে, যারা বিপদাপদের সময় আল্লাহর  প্রতি ঈমান আনে, যখন তারা অন্য সব উপায় ও ব্যবস্থা থেকে নিরাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু তাদের এই ঈমানই আবার পরে কুফরে রূপ নেয় শুধুমাত্র বিপদ দূর হয়ে যাওয়ার পরপরই। ফলে তারা আল্লাহর  এই অনুগ্রহকে অন্য কারও দান বলা শুরু করে দেয়। যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

قُلْ مَن يُنَجِّيكُم مِّن ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ تَدْعُونَهُ تَضَرُّعاً وَخُفْيَةً لَّئِنْ أَنجَانَا مِنْ هَذِهِ لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ – قُلِ اللّهُ يُنَجِّيكُم مِّنْهَا وَمِن كُلِّ كَرْبٍ ثُمَّ أَنتُمْ تُشْرِكُونَ

‘বলে দিন, কে তোমাদের জল-স্থলের অন্ধকার থেকে মুক্তি দান করেন, এমতাবস্থায় তোমরা তাঁর নিকট কাকুতিমিনতি ও গোপনে ডেকে বলো যে, যদি তিনি আমাদের মুক্তি দান করেন, তবে অবশ্যই আমরা শোকরগুজারে পরিণত হবো। বলে দিন, আল্লাহই তোমাদের এসব থেকে এবং সমস্ত মুছীবত থেকে মুক্তি দান করেন, তারপরও তোমরা শিরক করতে থাকো’ (আন‘আম, ৬৩-৬৪)।

চীনে যে মহামারী শুরু হয়েছিল এর ভয়াবহতা কেবল মুশরিকদের মাঝেই এখন সীমাবদ্ধ না, বরং চীনে বসবাসকারী মুসলিমদের মাঝে এবং চীনের আশেপাশে অন্যান্য দেশসহ সারা পৃথিবীব্যাপী সংক্রমিত হচ্ছে, যেখানে রয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন আহলে ক্বিবলার জনগোষ্ঠী। একইভাবে বর্তমান বৈশ্বিক বিভিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সহজেই রোগবালাই ও মহামারী দুনিয়ার এক প্রান্ত থেকে অন্যান্য প্রান্তে অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা আল্লাহর  নিকট সমস্ত মুসলিমের জন্য নিরাপত্তা ও ‘আফিয়াত চাই।

কাজেই বর্তমানে মুসলিমদের কর্তব্য হলো, রোগবালাই থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট সাহায্য চাওয়া এবং আল্লাহ তা‘আলার আশ্রয় গ্রহণ করে রোগাক্রান্ত দেশগুলো থেকে দূরে থাকা, যাতে করে আল্লাহ তাদের বালা-মুছীবত থেকে নিরাপত্তা দান করেন ও হিফাযত করেন। যে আক্রান্ত হয় শুধুমাত্র আল্লাহর  হুকুমেই সে আক্রান্ত হয়। আর যে নিরাপদ থাকে সেও কেবল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার হুকুমেই নিরাপদ থাকে। সাথে সাথে রোগবালাই ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহ তা‘আলার তাক্বদীর নির্ধারিত মাধ্যমও গ্রহণ করা চাই।

এ ধরনের মাধ্যম গ্রহণের কিছু উদাহরণ হলো :

মহামারী-আক্রান্ত এলাকাগুলোতে প্রবেশ না করা, যাতে রোগাক্রান্ত না হতে হয়। আর আগে থেকে সেখানে থেকে থাকলে বের না হওয়া, যাতে আক্রান্ত এলাকার বাহিরেও রোগ না ছড়ায়। এগুলো সব নিজের ও অন্যের ক্ষতি থেকে হিফাযত থাকার জন্য আল্লাহর  আনুগত্য ও তাঁর রাসূল ধ-এর সুন্নাতের অনুকরণেই করতে হবে। উসামাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,

الطّاعُونُ رِجْسٌ أُرْسِلَ على طائِفَةٍ مِن بَنِي إسْرائِيلَ، أوْ على مَن كانَ قَبْلَكُمْ، فَإِذا سَمِعْتُمْ به بأَرْضٍ، فلا تَقْدَمُوا عليه، وإذا وقَعَ بأَرْضٍ، وأَنْتُمْ بها فلا تَخْرُجُوا، فِرارًا منه قالَ أبو النَّضْرِ: لا يُخْرِجْكُمْ إلّا فِرارًا منه.

‘মহামারী হচ্ছে এমন আযাব যা বনী ইসরাঈলের একটি দলের ওপর অথবা তাদের পূর্বে কারও ওপর নাযিল হয়েছিল। সুতরাং তোমরা যখন কোনো স্থানে মহামারীর কথা শুনবে, তখন সেখানে যাবে না। আর যদি সেখানেই রয়ে যাও, তাহলে সেখান হতে রোগ থেকে পালানোর উদ্দেশ্যে  বের হবে না’।[2]

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, لا عَدْوى ولا طِيَرَةَ، ولا هامَةَ ولا صَفَرَ، وفِرَّ مِنَ المَجْذُومِ كما تَفِرُّ مِنَ الأسَدِ ‘সংক্রামক, কুলক্ষণ, পেঁচা ও সফর মাসের নিজস্ব কোনো ক্ষতি করার শক্তি নেই। আর কুষ্ঠরোগী থেকে পলায়ন করো, যেমন তোমরা সিংহ দেখলে পলায়ন করো’।[3]  অর্থাৎ, রোগবালাই আল্লাহ তা‘আলার হুকুম ছাড়া নিজে থেকে সংক্রামিত হতে পারে না। কাজেই রোগবালাই থেকে দূরে দূরে থাকা আল্লাহ তা‘আলার একটি শারঈ বিধান, যা মানা আবশ্যক। এর মাধ্যমে আশা করা যায় আল্লাহ তা‘আলা রোগবালাই থেকে হিফাযত করবেন।

এছাড়াও আরও কিছু করণীয় রয়েছে। যথা: আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া, রোগ থেকে নিরাপদ থাকার নিয়্যতে সংক্রামিত রোগী থেকে দূরে থাকা এবং এ জাতীয় অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আর যিনি চিকিৎসাবিদ্যা ও বিজ্ঞানে পারদর্শী, তিনি বিভিন্ন ওষুধ ও প্রতিষেধক উদ্ভাবনের চেষ্টা করবেন। আর নিয়্যত করবেন যে, মুসলিমদের থেকে যেন শরী‘আত অনুমোদিত পন্থায় আল্লাহর  হুকুমে রোগবালাই প্রতিরোধ করা যায়। পাশাপাশি তিনি মুসলিম প্রাণগুলোকে রক্ষার দ্বারা ছওয়াবের আশা রাখবেন। যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا ‘আর যে রক্ষা করল কোনো প্রাণ, সে যেন গোটা মানবজাতিকেই রক্ষা করল’ (মায়েদাহ, ৩২)। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েন না কোনো কঠিন বোঝা।

এমন পরিস্থিতিতে মুসলিমদের জন্য বিশেষভাবে যে সকল ইবাদতের প্রতি যত্নবান হওয়া চাই :

(১) আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করা ও তাঁর আযাবের ব্যাপারে নিজেদের ভয়-ভীতি প্রকাশ করা, যদিও এই আযাব কাফেরদের ওপর নাযিল হয়। পাশাপাশি মানুষদেরও এ বিষয়ে সতর্ক করা চাই। কেননা এসকল আযাব ও নিদর্শন দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় বান্দাদেরকে ভীত করেন। তাদের সামনে স্বীয় শক্তি ও ক্ষমতা যাহির করে দেখান। আর দেখিয়ে দেন বান্দাদের নিজেদের দুর্বলতা ও অপারগতা। এই কঠিন আযাবের দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা ঐ সকল লোকদের সতর্ক করেন, যারা তাঁর নিকট দো‘আ করা ও ক্ষমা চাওয়া থেকে অহংকার ও বিমুখতা প্রদর্শন করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَن يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِّن فَوْقِكُمْ أَوْ مِن تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعاً وَيُذِيقَ بَعْضَكُم بَأْسَ بَعْضٍ انظُرْ كَيْفَ نُصَرِّفُ الآيَاتِ لَعَلَّهُمْ يَفْقَهُونَ

‘বলুন, তোমাদের ওপরের দিক থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে তোমাদের ওপর আযাব পাঠাতে কিংবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দল-উপদলে মিলিয়ে ফেলে একদলকে আরেক দলের শক্তিমত্তার স্বাদ গ্রহণ করাতে তিনিই সক্ষম’। লক্ষ্য করুন, কীভাবে আমি আয়াতসমূহ নানাভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছি, যাতে তারা বুঝতে পারে’ (আন‘আম, ৬৫)।

(২) আল্লাহর  শক্তি ও কুদরত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। মানুষ পৃথিবীতে যতই দাপট দেখাক না কেন, আল্লাহর  শক্তির সামনে তারা নিতান্তই দুর্বল। আর দৃঢ়ভাবে এই বিশ্বাস রাখা কর্তব্য যে, আল্লাহ তা‘আলা যখন চান, যেভাবে চান, তাঁর দুশমনদেরকে দুর্বল ও ক্ষুদ্রতর সৃষ্টি দ্বারাও শায়েস্তা করেন। আর মুমিনদের ওপর যে জিহাদের বিধান দেওয়া হয়েছে, যদিও আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের জিহাদ ব্যতীতই কাফেরদের শায়েস্তা করতে পারেন। কেননা জিহাদ তো মুমিনদের জন্য ইবাদতস্বরূপ এক পরীক্ষা এবং মুমিনদের ঈমান পরিশুদ্ধকরণের এক ব্যবস্থা। যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

فَإِذا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَثْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاء حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاء اللَّهُ لَانتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لِّيَبْلُوَ بَعْضَكُم بِبَعْضٍ وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ

‘অতএব, কাফেরদের সাথে যখন তোমাদের মোকাবেলা হবে তখন তাদের শিরশ্ছেদ করবে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের (অনেকের) রক্তপাত ঘটাবে, তখন (অবশিষ্টদেরকে) কষে বাঁধবে (বন্দী করবে)। তারপর হয় অনুকম্পা, না হয় মুক্তিপণ (অর্থাৎ তাদেরকে হয় অনুকম্পা দেখিয়ে ছেড়ে দেবে, না হয় মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি দেবে)। (তবে তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখবে) যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে (শত্রু তার অস্ত্র সমর্পণ করে)। এটাই (আল্লাহর  নির্দেশ)। আল্লাহ চাইলে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি চান তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে। তবে যারা আল্লাহর  পথে নিহত হয়, তাদের আমলসমূহ তিনি কিছুতেই নষ্ট করবেন না’ (মুহাম্মাদ, ৪)।

(৩) বেশি করে দো‘আ করা ও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার নিকট আশ্রয় চাওয়া উচিত, যেন আল্লাহ মুসলিমদের ও তাদের ভূমিগুলোকে রোগবালাই ও মহামারী থেকে রক্ষা করেন এবং আক্রান্ত মুসলিমদের সুস্থতা দান করেন। এসকল রোগবালাই যেন তাদের গুনাহের কাফফারা হয় ও তা মিটিয়ে দেয়। আরও দো‘আ করা উচিত, যেন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৈন্য হিসাবে এই মহামারী ও রোগবালাই কাফের ও মুশরিকদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তাদের শক্তি নিঃশেষ করে দেন এবং মুসলিমদের ওপর আগ্রাসন চালানো থেকে তাদেরকে বিরত রাখেন। পাশাপাশি এ সবকিছুর জন্য প্রতি ছালাতে কুনূতে নাযিলা পড়া কর্তব্য।

সমস্ত স্থানের মুসলিমদের যেন আল্লাহ হিফাযত করেন, মুশরিকদের দেওয়া আযাব থেকে যেন তাদের রক্ষা করেন এবং তাদের ওপর থেকে সমস্ত বালা-মুছীবত দূর করে দেন। আল্লাহ তা‘আলার নিকট এই হলো আমাদের প্রার্থনা।

رَبَّنَا لاَ تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلاَ تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَآ أَنتَ مَوْلاَنَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

‘হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা ভুল করি তাহলে (অনুগ্রহ করে) আমাদেরকে শাস্তি দিয়েন না। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর কোনো ভারী বোঝা চাপিয়ে দিয়েন না, যেমনটি আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হে আমাদের রব! আমাদেরকে এমন কোনো দায়িত্ব দিয়েন না, যা পালন করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আর আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। আপনি আমাদের রব। তাই কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন’ (বাক্বারাহ, ২৮৬)।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার জন্য নিবেদিত।

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/২৮৩০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯১৬; মিশকাত, হা/১৫৪৫।

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৭৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২২১৮; মিশকাত, হা/১৫৪৮।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৭০৭।