কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মৃত মুসলিমদের জন্য নিবেদিত আমলসমূহের প্রতিদান


মূল : ড. সাঈদ ইবনু আলী ইবনু ওয়াহাফ আল-ক্বাহত্বানী (রাহিমাহুল্লাহ)
অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন*

(পর্ব-২)


৮ম দলীল : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,

فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرَضِينَ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ

‘আলেমের মর্যাদা আবেদের উপর ঠিক সেই রূপ, যেরূপ আমার মর্যাদা তোমাদের সাধারণ মানুষের উপর। অতঃপর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, আসমান-যমীনের সকল অধিবাসী, এমনকি গর্তের মধ্যে পিঁপড়া এবং (পানির মধ্যে) মাছ পর্যন্ত মানবমণ্ডলীর শিক্ষাগুরুদের জন্য মঙ্গল কামনা ও উত্তম দু‘আ করে থাকে’।[1]

৯ম দলীল : আবুদ-দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,

إِنَّهُ لَيَسْتَغْفِرُ لِلْعَالِمِ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ حَتَّى الْحِيتَانِ فِي الْبَحْرِ

‘নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের অধিবাসী আলেমদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি সমুদ্রের মাছরা পর্যন্ত’।[2]

মৃত মুসলিমদের জন্য নিবেদিত আমলসমূহের প্রতিদান পৌঁছা প্রসঙ্গে :

কুরআন-সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত যে, মৃত মুসলিমদের জন্য নিবেদিত আমলসমূহের প্রতিদান পৌঁছে। নিম্নে দলীলসমূহ পেশ করা হলো :

প্রথমত, কুরআনুল কারীম থেকে দলীল:

১ম দলীল : আল্লাহ তাআলার বাণী,

﴿وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ﴾

‘(এ সম্পদ তাদের জন্যও) যারা অগ্রবর্তীদের পরে (ইসলামের ছায়াতলে) এসেছে। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে আর আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা করো, যারা ঈমানের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছে, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের ব্যাপারে আমাদের অন্তরে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি বড়ই করুণাময়, অতিদয়ালু’ (আল-হাশর, ৫৯/১০)

২য় দলীল : আল্লাহ তাআলার বাণী,﴿فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ﴾ ‘কাজেই জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই, ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমার ভুলত্রুটির জন্য আর মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য, আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত’ (মুহাম্মাদ, ৪৭/১৯)

৩য় দলীল : নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কথা উল্লেখ পূর্বক আল্লাহ তাআলার বাণী,﴿رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَنْ دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا﴾ ‘হে আমার রব! তুমি ক্ষমা করো আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে যারা আমার গৃহে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে; আর যালেমদের জন্য ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করো না’ (আন-নূহ, ৭১/২৮)

৪র্থ দলীল : ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর কথা উল্লেখ পূর্বক আল্লাহ তাআলার বাণী,

﴿رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ – رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ﴾

‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ছালাত প্রতিষ্ঠাকারী বানাও আর আমার সন্তানদেরকেও, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রার্থনা কবুল করো। হে আমাদের প্রতিপালক! হিসাব গ্রহণের দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে আর মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিয়ো’ (ইবরাহীম, ১৪/৪০-৪১)

দ্বিতীয়ত, হাদীছ থেকে দলীল :

১ম দলীল : আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ ‘ছিয়ামের ক্বাযা যিম্মায় রেখে যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায়, তাহলে তার অভিভাবক তার পক্ষ হতে ছিয়াম আদায় করবে’।[3]

২য় দলীল : ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

أَنَّ امْرَأَةً رَكِبَتِ الْبَحْرَ فَنَذَرَتْ إِنَّ الله تبارك وتعالى أنْجَاهَا أَنْ تَصُومَ شَهْرًا فَأنْجَاهَا اللَّهُ عز وجل فَلَمْ تَصُمْ حَتَّى مَاتَتْ فَجَاءَتِ قرابة لها إما أُخْتُهَا أَوْ ابْنَتُهَا إِلَى النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فذكرت ذلك له فقال أَرَأَيْتَكِ لَوْ كَانَ عَلَيْهَا دَيْنٌ كُنْتِ تَقْضِينَهُ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ فَدَيْنُ اللَّهِ أَحَقُّ أَنْ يُقْضَى عَنْ أمُّك

‘এক মহিলা সমুদ্রে ভ্রমণে গিয়ে মানত করল, আল্লাহ তাবারকা ওয়া তাআলা তাকে নিরাপদে ফেরার সুযোগ দিলে সে এক মাস ছিয়াম পালন করবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাকে সমুদ্রে বিপদ থেকে মুক্তি দিলেন। কিন্তু ছিয়াম পালনের পূর্বেই সে মারা গেল। তার নিকটাত্মীয় (তার বোন অথবা মেয়ে) নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে এসে তার ঘটনা বর্ণনা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, মনে করো, তার যদি কোনো ঋণ বাকী থাকত তাহলে তা তুমি পরিশোধ করতে কি না? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহর ঋণ অধিকরূপে পরিশোধযোগ্য। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, সুতরাং তুমি তোমার মাতার পক্ষ থেকে ছিয়াম ক্বাযা করে দাও’।[4]

৩য় দলীল : ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ رضى الله عنه اسْتَفْتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أُمِّى مَاتَتْ وَعَلَيْهَا نَذْرٌ فَقَالَ اقْضِهِ عَنْهَا

‘সা‘দ ইবনু উবাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জানতে চেয়েছিলেন যে, আমার মা মারা গেছেন এবং তার উপর মানত ছিল। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ করো’।[5]

৪র্থ দলীল : সা‘দ ইবনু আত্বওয়াল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত,

أَنَّ أَخَاهُ مَاتَ وَتَرَكَ ثَلاَثَمِائَةِ دِرْهَمٍ وَتَرَكَ عِيَالاً قَالَ فَأَرَدْتُ أَنْ أُنْفِقَهَا عَلَى عِيَالِهِ قَالَ: فَقَالَ لِيْ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ إنَّ أَخَاكَ مَحْبُوسٌ بِدَيْنِهِ فَاَذْهَبْ فَاقْضِ عَنْهُ. فذهبت فقضيت عنه ثم جئت قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ قَضَيْتُ عَنْهُ إِلاَّ دِينَارَيْنِ ادَّعَتْهُمَا امْرأَةٌ وَلَيْسَ لَهَا بَيِّنَةٌ. قَالَ أَعْطِهَا فَإِنَّهَا مُحِقَّةٌ وفي رواية صادقة

‘তার ভাই মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনশ দিরহাম ও কতক অসহায় সন্তান রেখে যান। তিনি বলেন, আমি সেগুলো তার সন্তানদের জন্য খরচ করতে ইচ্ছা করলাম। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমার ভাই ঋণের কারণে আটকে রয়েছে (চলে যাও)। অতএব তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করো। সা‘দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) চলে গিয়ে তার পক্ষ থেকে তা (ঋণ) পরিশোধ করলেন। অতঃপর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তার পক্ষ থেকে সব (ঋণ) পরিশোধ করেছি, কিন্তু এক মহিলার দাবিকৃত দু’টি দীনার বাকী রয়েছে। কিন্তু তার নিকট কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, তা তাকে দিয়ে দাও, কারণ সে ন্যায়পন্থী। অন্য বর্ণনা রয়েছে, সে সত্যবাদিনী’।[6]

৫ম দলীল : সামুরা ইবনু জুনদুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

أن النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ صلى على جنازة و في رواية صلَّى الصبح فلما انصرف قال أههنا من آل فلان أحد فسكت القوم وكان إذا ابتدأهم بشيء سكتوا فقال ذاك مرارا ثلاثاً لا يجيبه أحدٌ فقال رجل هوذا قال فقام رجل يجر إزاره من مؤخر الناس فقال له النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مامنعك في المرتين الأولين أن تكون أجبتني أما أني لم أنوه باسمك إلا لخير إن فلانا لرجل منهم مأسور بدينه عن الجنة فإن شئتم فافدوه وإن شئتم فأسلموه إلى عذاب الله فلو رأيت أهله ومن يتحرون أمره قاموا فقضوا عنه حتى ما أحدٌ يطلبه بشيء

‘নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাযার ছালাত আদায় করলেন (অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ফজরের ছালাত আদায় করলেন)। অতঃপর ছালাত শেষে বললেন, এখানে অমুক গোত্রের কেউ আছে কি? তখন গোত্রের লোকেরা নিশ্চুপ রইল (সাধারণত যখন তিনি তাদের নিয়ে কোনো কিছু শুরু করতেন, তখন তারা সবাই চুপ থাকতেন)। তিনি বার বার বললেন, এখানে অমুক গোত্রের কেউ আছে কি? (তিনি তিন বার বললেন, কিন্তু কেউ উত্তর দিল না)। (তখনই এক ব্যক্তি বলে বসল যে, তিনিই অমুক গোত্রের)। বর্ণনাকারী বলেন, তখনই মানুষের পিছন থেকে লুঙ্গি ঝুলানো অবস্থায় এক ব্যক্তি দাঁড়াল। (তখন নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, প্রথম দু’ডাকে সাড়া দিতে তোমাকে কীসে বাধা দিয়েছে?) আমি ভালোর জন্যই বিশেষভাবে তোমার নাম উল্লেখ করেছি। তোমাদের মাঝে অমুক ব্যক্তি ঋণের কারণে জান্নাত যেতে পারছে না। যদি তোমরা চাও, তাহলে তোমরা তার ঋণ পরিশোধ করতে পার। আর যদি চাও, তাহলে তোমরা তাকে আল্লাহর আযাবে সোপর্দ করতে পার। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তার পরিবারকে এবং যারা তার বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছিল তাদেরকে দেখলাম; তারা প্রয়াস চালিয়ে তার ঋণ পরিশোধ করে দিল। শেষ পর্যন্ত কোনো কিছু দাবি করার কেউ বাকী রইল না’।[7]+[8]

৬ষ্ঠ দলীল : জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মারা গেলে আমরা তাকে গোসল করালাম, কাফন পরালাম এবং মমি করে জানাযা রাখার স্থানে মাক্বামে জিবরীল-এর কাছে রাখলাম। জানাযার ছালাতের জন্য রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমরা বললাম। তিনি আমাদের সাথে হেঁটে হেঁটে এসে বললেন, তোমাদের সাথীর উপর সম্ভবত ঋণ রয়েছে। তারা বলল, হ্যাঁ, দু’দীনার ঋণ রয়েছে। অতঃপর তিনি পিছনে হেঁটে বললেন, তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযার ছালাত পড়ো। তখন আমাদের মাঝে আবু ক্বাতাদা নামক এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! দু’দীনার প্ররিশোধ করার দায়িত্ব আমার। তখন রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুরু করলেন, দু’দীনার ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব তোমার, আর মৃত ব্যক্তি দু’দীনার ঋণ থেকে মুক্ত? সে বলল, হ্যাঁ, তাই। তারপর তিনি জানাযার ছালাত পড়লেন। আবূ ক্বাতাদার সাথে যখন রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাক্ষাৎ হতো, তখন তিনি বলতেন, (অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, দুপুরে তার সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি বলেন, দু’দীনার কি হয়েছে? [পরিশোধ করেছ?] উত্তরে সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! সে তো গতকাল মারা গেল, এখনো পরিশোধ করা হয়নি)। অন্য আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে যে, দুপুরে তার সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি বলেন, দু’দীনার কি হয়েছে? উত্তরে সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তা পরিশোধ করে ফেলেছি। তখন তিনি বললেন, এখন সে শান্তি পেল’।[9]+[10]

(চলবে)


* নারায়ণপুর, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

[1]. তিরমিযী, ‘ইলম’ অধ্যায়, ‘জ্ঞানের মর্যাদা ইবাদতের চেয়েও বেশি’ অনুচ্ছেদ, ৫/৫০, হা/২৬৮৫, আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) ছহীহ সুনানে তিরমিযী (২/৩৪৩)-তে হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন; মিশকাত, ১/৭৪, হা/২১৩ ।

[2]. ইবনু মাজাহ, ‘মুকাদ্দামা’ ‘মানুষকে উত্তম বিষয় শিক্ষাদাতার ছওয়াব’ অনুচ্ছেদ, হা/২৩৯, আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) ছহীহ সুনানে ইবনু মাজাহ (১/৯৭)-তে হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন।

[3]. ছহীহ বুখারী, ‘ছিয়াম’ অধ্যায়, ছিয়ামের ক্বাযা রেখে যিনি মারা যান’ অনুচ্ছেদ, হা/১৯৫২; ছহীহ মুসলিম, ‘ছিয়াম’ অধ্যায়, ‘মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ছিয়াম পালন করার বর্ণনা’ অনুচ্ছেদ, হা/১১৪৭; আবূ দাঊদ ‘ছিয়াম’ অধ্যায়, কোনো ব্যক্তি ক্বাযা ছিয়াম রেখে মারা গেলে’ অনুচ্ছেদ, হা/২৪০০; অনুরূপ বায়হাক্বী, ৬/২৭৯; ত্বহাবী, ‘মুশকিলুল আছার’, ৩/১৪০, ১৪১; মুসনাদে আহমাদ, ৬/৬৯।

[4]. আবূ দাঊদ, ‘শপথ ও মানত’ অধ্যায়, ‘মৃতের পক্ষ থেকে মানত পূর্ণ করা’ অনুচ্ছেদ, হা/৩৩০৮; নাসাঈ, ‘মানত’ অধ্যায়, ‘মানত করে যে ব্যক্তি মারা গেল’ অনুচ্ছেদ, হা/৩৮৫০; ত্বহাবী, ৩/১৪০; বায়হাক্বী, ৪/২৫৫, ২৫৬, ১০/৮৫; ত্বায়ালিসী, হা/২৬৩০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৬১, ১৯৭০, ৩১৩৭, ৩২২৪, ৩৪২০, এ বর্ণনা পরস্পরটি ইমাম আহমাদের হাদীছের দ্বিতীয় অংশে বৃদ্ধির সাথে রয়েছে। দু’শায়খ (ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম)-এর শর্তানুপাতে হাদীছের সনদ ছহীহ। আর প্রথম অতিরিক্ত অংশটুকু ইমাম আবূ দাঊদ ও বায়হাক্বীর ছিল। ইমাম বুখারী হাদীছটি ‘ছিয়াম’ অধ্যায়, ছিয়ামের ক্বাযা রেখে যিনি মারা যান’ অনুচ্ছেদ, হা/১৯৫৩-এ বর্ণনা করেছেন; ইমাম মুসলিম হাদীছটি ‘ছিয়াম’ অধ্যায়, ‘মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ছিয়াম পালন করার বর্ণনা’ অনুচ্ছেদ, হা/১১৪৭; তিরমিযী, ‘ছিয়াম’ অধ্যায়, ‘মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ছিয়াম আদায় করা’ অনুচ্ছেদ, হা/৭১৬; ইবনু মাজাহ, ‘ছিয়াম’ অধ্যায়, ‘যে ব্যক্তি মানতের ছিয়াম যিম্মায় রেখে মারা গেল’ অনুচ্ছেদ, হা/১৭৫৮, ১৭৫৯, অনুরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন। তাদের সকলের নিকট এ হাদীছে দ্বিতীয় অতিরিক্ত অংশটুকু রয়েছে। আর ইমাম মুসলিমের নিকটে শেষ অংশটুকু রয়েছে।

[5]. ছহীহ বুখারী, ‘অছিয়ত’ অধ্যায়, ‘আকস্মাৎ কেউ মারা গেলে তার জন্য দান-খয়রাত আর মৃতের পক্ষ থেকে তার মানত আদায় করা’ অনুচ্ছেদ, হা/২৭৬১ (৬৬৯৮, ৬৯৫৯); ছহীহ মুসলিম, ‘মানত পূর্ণ করার নির্দেশ’ অনুচ্ছেদ, হা/১৬৩৮; আবূ দাঊদ, ‘শপথ ও মানত’ অধ্যায়, ‘মৃত্যের পক্ষ থেকে মানত পূর্ণ করা’ অনুচ্ছেদ, হা/৩৩০৭; তিরমিযী, ‘মানত’ অধ্যায়, ‘মৃত্যের পক্ষ থেকে মানত পূর্ণ করা’ অনুচ্ছেদ, হা/১৫৪৬; নাসাঈ, ‘মানত ও শপথ’ অধ্যায়, ‘যে ব্যক্তি মানত আদায় না করে মারা যায়’ অনুচ্ছেদ, হা/৩৮৪৮; ইবনু মাজাহ, ‘কাফফারাসমূহ’ অধ্যায়, ‘যে ব্যক্তি মানত আদায় না করে মারা যায়’ অনুচ্ছেদ, হা/২১৩২; বায়হাক্বী, (৪/২৫৬, ৬/২৭৮, ১০/৮৫)-তে হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন; ত্বায়ালিসী, হা/২৭১৭; আহমাদ, হা/১৮৯৩, ৩০৪৯, ৬/৪৭।

[6]. ইবনু মাজাহ, ‘বিচার ও বিধান’ অধ্যায়, ‘মৃতের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করা’ অনুচ্ছেদ, হা/২৪৩৩; মুসনাদে আহমাদ, ৪/১৩৬, ৫/৭; বায়হাক্বী ১০/১৪২, হাদীছটির দু’টি সনদের প্রথমটি ছহীহ, আর দ্বিতীয়টি হলো ইবনু মাজাহর সনদের ন্যায়। বুছায়রী এ সনদটিকে ‘আল-জাওয়াইদ’ গ্রন্থে ছহীহ বলেছেন। হাদীছের বর্ণনা ও দ্বিতীয় রেওয়াতটি হলো ইমাম বায়হাক্বীর। এ বর্ণনাটি এবং ইমাম আহমাদের অতিরিক্ত বর্ণনাগুলো একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়।

[7]. আবূ দাঊদ, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য’ অধ্যায়, ‘ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধে কড়াকড়ি করা’ অনুচ্ছেদ, হা/৩৩৪১; নাসাঈ, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য’ অধ্যায়, ‘ঋণ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী’ অনুচ্ছেদ, হা/৪৬৮৯; হাকেম, ২/২৫, ২৬; বায়হাক্বী ৬/৪, ৬৭; ত্বায়ালিসী, স্বীয় মুসনাদ, হা/৮৯১, ৮৯২; অনুরূপ আহমাদ, ৫/১১, ১৩, ২০; আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তাদের কতিপয় (রাবী) বর্ণনাকারী ‘শা‘বী হতে, শা‘বী সামূরা হতে বর্ণনা করেছেন। আবার তাদের কতিপয় (রাবী) বর্ণনাকারী শা‘বী এবং সামূরা এর মাঝে সামআন ইবনু মাশনাজকে অন্তর্ভুক্ত করে। হাদীছটি প্রথম দিক থেকে দু’শায়খ (ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম)-এর শর্তানুসারে সনদ ছহীহ; যেমনটি হাকেম বলেছেন আর ইমাম যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর দ্বিতীয় দিক থেকে শুধু ছহীহ। অন্য বর্ণনাটি দু’মুসনাদ গ্রন্থে রয়েছে। প্রথম বৃদ্ধি, দ্বিতীয় বৃদ্ধি হলো হাকেমের অনুরূপভাবে তৃতীয় ও পঞ্চম বৃদ্ধি অংশটুকুও হলো তার। বায়হাক্বীর দ্বিতীয় বৃদ্ধি, ইমাম আহমাদের হলো তৃতীয় এবং চতুর্থ বৃদ্ধি, ত্বায়ালিসীর হলো পঞ্চম বৃদ্ধি, আহমাদ ও আবূ দাঊদের হলো ষষ্ট বৃদ্ধি অংশটুকু।

[8]. আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এই হাদীছটির শাহেদ হাদীছ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত হাদীছ; ত্বাবারানী, মু‘জামুল কাবীর, (১৫৬/২), সনদ যঈফ।

[9]. হাকেম, ২/৫৮; বায়হাক্বী, ৬/৭৪, ৭৫, অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; ত্বায়ালিসী, হা/১৬৭৩; মুসনাদে আহমাদ, ৩/৩৩০, আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সনদ হাসান, যেমনটি হায়ছামী (৩/৩৯) বলেছেন। হাকেম বর্ণনা করার পর বলেন, হাদীছটির সনদ ছহীহ আর যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছে।

অতিরিক্ত অংশগুলোসহ অন্য বর্ণনাটি হাকেম ব্যতীত তাদের সকলের নিকট রয়েছে। তবে, দ্বিতীয় অতিরিক্ত অংশটি শুধু ত্বায়ালিসীর একক।

[10]. অর্থাৎ, তার ঋণ পরিশোধের পরে তার থেকে শাস্তি দূর হওয়ার কারণে।