কুরবানীর বিধি-বিধান

আব্দুল বারী বিন সোলায়মান
শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, 
ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।

ভূমিকা :

আল্লাহর  নৈকট্য লাভের আশায় উৎসর্গকৃত পশু কিংবা অন্য যে কোনো কিছুকে আরবীতে ‘কুরবান’ বলা হয়। সীমাহীন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আল্লাহর  নৈকট্য লাভের জন্য তার বিধান মোতাবেক তার উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করার নাম কুরবানী। ইবরাহীম (আ.) আল্লাহর  আদেশ পালনার্থে নিজের আদরের সন্তান ইসমাঈল (আ.)-কে কুরবানী দিতে উদ্যত হওয়ার মাধ্যমে মহান রবের আনুগত্যের যে অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছিলেন, ইতিহাসে তা নযীরবিহীন ঘটনা। কিন্তু আল্লাহর উদ্দেশ্য ভিন্ন। তিনি চাননি মানুষ জবাই হোক। তিনি পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন একজন মানুষ আনুগত্যে কতটা নিষ্ঠার পরিচয় দিতে পারে। তাই চূড়ান্ত মুহূর্তে ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে দুম্বা কুরবানী করার আদেশ দেন। তাদের সীমাহীন আত্মত্যাগের এই ঘটনাকে পরবর্তীদের মাঝে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য বিশ্ববাসীর জন্য কুরবানীর বিধান প্রচলন করেন (ছফফাত, ১০৮)। সেই থেকে এখন পর্যন্ত আমরা প্রতি বছর কুরবানী করে আসছি। আল্লাহ আমাদের সকলের কুরবানীকে কবুল করুন!

কুরবানীর উদ্দেশ্য :

কুরবানী হতে হবে একমাত্র আল্লাহর  উদ্দেশ্যে। কে কত বড় কুরবানী দিল, কার কুরবানী দেখতে কত সুন্দর, কতটা মোটাতাজা, এটা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দেখেন না। বরং তিনি দেখেন মানুষের অন্তর ও তাক্বওয়া। কারও অন্তর যদি খালেছ হয় এবং একমাত্র আল্লাহর  সন্তুষ্টির জন্য কুরবানী করে, তাহলে সে কুরবানীর পূর্ণ ছওয়াব পাবে। পক্ষান্তরে অনেক বড় পশু কুরবানী দিয়ে যদি কারও অন্তরে লোক দেখানোর মানসিকতা থাকে, তাহলে তার কুরবানীর কোনো ছওয়াবই সে পাবে না। মহান আল্লাহ বলেন, لَنْ يَنَالَ اللهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنْكُمْ ‘এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর  কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তার কাছে পৌঁছে  তোমাদের তাক্বওয়া’ (হজ্জ, ৩৭)। আবু  হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, إِنَّ اللَّهَ لاَ يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ ‏ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক গঠন ও বিত্ত-বৈভবের দিকে দেখেন না; বরং তিনি দেখেন তোমাদের অন্তর ও আমল’।[1]

তাই কুরবানীর পশুর দামের তুলনায় গোশতের পরিমাণ কম হলে আফসোস করা উচিত নয়। আবার দামের তুলনায় গোশতের পরিমাণ বেশি হলে বিজয়ের হাসি হেসে আনন্দ জাহির করাও উচিত নয়। বরং গোশতের পরিমাণ কম কিংবা বেশি যেটাই হোক, আল্লাহর  শুকরিয়া আদায় করে তাতে সন্তুষ্ট থাকা উচিত।

কুরবানীর হুকুম ও সামর্থ্য থাকার পরও কেউ কুরবানী না দেওয়ার বিধান :

কুরবানী দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। তবে সামর্থ্য থাকার পরও কেউ যদি কুরবানী না দেয়, তাহলে সে ব্যক্তি পাপী হবে না। অধিকাংশ বিদ্বানের অভিমত এটাই। আবু সারীহা আল-গিফারী বলেন,

 أَدْرَكْتُ أَبَا بَكْرٍ أَوْ رَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُمَا لاَ يُضَحِّيَانِ كَرَاهِيَةَ أَنْ يُقْتَدَى بِهِمَا

‘আমি আবুবকর এবং  ওমর (রা.)-কে দেখেছি, তারা কুরবানী দিতেন না; লোকেরা তাদের অনুসরণ করে কুরবানী দেওয়া যরূরী মনে করবে তাই’।[2]  আবু মাসঊদ আল-আনছারী (রা.) বলেছেন, إِنِّى لأَدَعُ الأَضْحَى وَإِنِّى لَمُوسِرٌ مَخَافَةَ أَنْ يَرَى جِيرَانِى أَنَّهُ حَتْمٌ عَلَىَّ ‘সামর্থ্য থাকার পরও আমি কুরবানী দেই না এই আশঙ্কায় যে, আমার প্রতিবেশীগণ হয়ত মনে করবে কুরবানী দেওয়া আমার জন্য যরূরী’।[3]

উল্লেখ্য, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী না দিলে সে ব্যক্তি যেন ঈদের মাঠে উপস্থিত না হয়’ মর্মে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তার বিশুদ্ধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আলবানী (রহিঃ) ‘মুশকিলাতুল ফাক্র’ কিতাবের ১০২ নং পৃষ্ঠায় হাদীছটিকে হাসান বলেছেন। অপরদিকে শায়খ শু‘আইব আল-আরনাউত্ব মুসনাদে আহমাদ, হা/৮২৫৬-এর তাহক্বীক্বে হাদীছটিকে দুর্বল বলেছেন। তিনি এটাও বলেছেন যে, আলবানী ‘মুশকিলাতুল ফাক্র’ কিতাবের ১০২ নং পৃষ্ঠায় হাদীছটিকে হাসান বলে ভুল করেছেন।[4]  আবার হাদীছটি  মারফূ‘ (রাসূল (ছা.)-এর বাণী) না মাওকূফ (ছাহাবীর বাণী) তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। হাফেয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রহিঃ) মাওকূফ হওয়াকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।[5]তাহলে দেখা যাচ্ছে, এই মাসআলায় ছাহাবীদের মধ্যে মতের ভিন্নতা রয়েছে। আর এ কথা স্বতঃসিদ্ধ যে, ‘সাব্যস্তকরণ নাকচকরণের উপর প্রাধান্য পাবে’।[6]  তাহলে আবুবকর (রা.), ওমর (রা.)আবু মাসঊদ আনছারী (রা.) সহ আরও অনেক ছাহাবী যেখানে ইচ্ছা করেই কুরবানী দিতেন না, তাহলে কি তারা ঈদের মাঠে যেতেন না? অবশ্যই যেতেন। তাই সামর্থ্যবান ব্যক্তি বিনা ওযরে কুরবানী না দিলেও ঈদের মাঠে ছালাত আদায়ের জন্য যাবে। (আল্লাহই ভালো জানেন)।

এক প্রাণীতে কুরবানী ও আক্বীক্বা দেওয়ার বিধান : 

এক প্রাণীতে কুরবানী ও আক্বীক্বা দেওয়া যাবে না। কারণ কুরবানী ও আক্বীক্বা স্বতন্ত্র ও ভিন্ন ভিন্ন দু’টি ইবাদত। উভয় ইবাদতের ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। কুরবানী করা হয় আল্লাহর  নৈকট্য অর্জনের জন্য। আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে ছালাত আদায় করো ও কুরবানী করো’ (কাওছার, ২)। আর আক্বীক্বা দেওয়া হয় শিশুকে বন্ধক (যিম্মা) থেকে মুক্ত করার জন্য। সামুরাহ (রা.)  বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, كُلُّ غُلاَمٍ مُرْتَهَنٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ السَّابِعِ وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ وَيُسَمَّى ‘প্রতিটি শিশু তার আক্বীক্বা দ্বারা আবদ্ধ থাকে, যা তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে জবাই করা হয় এবং তার মাথা ন্যাড়া করা হয় ও নাম রাখা হয়’।[7]  তাই উভয়ের উদ্দেশ্য যেহেতু ভিন্ন ভিন্ন, সেহেতু একই পশুতে ভিন্ন ভিন্ন দু’টি নিয়্যত করা যাবে না। (আল্লাহই ভালো জানেন)।

ক্রয়ের পর কুরবানীর পশু ত্রুটিযুক্ত হয়ে গেলে করণীয় :

কুরবানীর পশু সুস্থ-সবল ও নিখুঁত হতে হয়।[8]  কুরবানীর উদ্দেশ্যে সুস্থ পশু ক্রয়ের পর যদি তা রোগ-ব্যাধি আক্রান্ত হয়ে কিংবা কোনো দুর্ঘটনায় পড়ে ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়ে এবং উক্ত ত্রুটি যদি মালিকের কোনো অবহেলার কারণে না হয়, তাহলে সেই পশু কুরবানী দেওয়াতে শারঈ কোনো বাধা নেই। আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রা.) থেকে বর্ণিত, তার কাছে হজ্জের হাদই তথা কুরবানীর পশুসমূহের মধ্যে একটি কানা বকরী নিয়ে আসা হলো। তখন তিনি বললেন, ,  إِنْ كَانَ أَصَابَهَا بَعْدَ مَا اشْتَرَيْتُمُوهَا فَأَمْضُوهَا وَإِنْ كَانَ أَصَابَهَا قَبْلَ أَنْ تَشْتَرُوهَا فَأَبْدِلُوهَا ‘যদি পশুটি তোমাদের কেনার পরে কানা হয়ে থাকে, তাহলে তোমরা তা কুরবানী করো। আর যদি তোমাদের কেনার আগে থেকেই কানা হয়ে থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে অন্য একটি কুরবানী দাও’।[9]  ইমাম নববী (রহি.) বলেছেন, হাদীছটির সনদ ছহীহ।[10]

যুলহিজ্জার চাঁদ ওঠার পর নখ, চুল, গোঁফ না কাটার বিধান কি পরিবারের সকল সদস্যের উপর প্রযোজ্য? :

উম্মু সালামা (রা.)  থেকে বর্ণিত, নবী (ছা.) বলেন, إِذَا رَأَيْتُمْ هِلاَلَ ذِى الْحِجَّةِ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّىَ فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِه ‘যখন যুলহিজ্জা মাসের চাঁদ দেখবে, আর তোমাদের কেউ যদি কুরবানী দেওয়ার মনস্থ করে থাকে, তাহলে সে যেন চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে’।[11]  হাদীছে উল্লেখিত বিষয়টি শুধুমাত্র কুরবানীর মালিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পরিবারের সকলের জন্য নয়। কারণ রাসূল (ছা.) বলেছেন, , مَنْ كَانَ لَهُ ذِبْحٌ يَذْبَحُهُ فَإِذَا أُهِلَّ هِلاَلُ ذِى الْحِجَّةِ فَلاَ يَأْخُذَنَّ مِنْ شَعْرِهِ وَلاَ مِنْ أَظْفَارِهِ شَيْئًا حَتَّى يُضَحِّىَ ‘যার কুরবানী দেওয়ার পশু আছে, সে যুলহিজ্জার চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী না করা পর্যন্ত যেন চুল ও নখের কিছইু না কাটে’।[12]  হাদীছে উল্লেখিত শব্দ (যার কুরবানী দেওয়ার পশু আছে) থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, এখানে পশুর মালিকের কথাই বলা হচ্ছে। কাজেই পরিবারের অন্য সদস্যগণ এসব থেকে বিরত থাকলেও কোনো ছওয়াবের অধিকারী হবে না।

ঈদের তাকবীর পাঠ করা ও তার সময়সীমা :

দুই ঈদে তাকবীর পাঠ করা অতি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। মহান আল্লাহ বলেন, وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ‘আল্লাহ তোমাদেরকে যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন তার আলোকেই যেন তার বড়ত্ব বর্ণনা করতে পারো’ (বাক্বারাহ, ১৮৫)। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর ও আবু হুরায়রা (রা.)  যুলহিজ্জার প্রথম ১০ দিনে বাজারে গিয়ে তাকবীর পড়তেন। তাদের দেখে লোকজনও তাকবীর পড়ত।[13]

ঈদুল ফিতরে শাওয়ালের চাঁদ দেখার সময় থেকে তাকবীর পড়া আরম্ভ হবে এবং ঈদের ছালাতে ইমাম আসা পর্যন্ত চলতে থাকবে। ছালেহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যায়েদা বলেন, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, উরওয়া ইবনে যুবায়ের, আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ও আবুবকর ইবনে আব্দুর রহমানকে ঈদুল ফিতরের রাতে জোরে জোরে মসজিদে তাকবীর পাঠ করতে শুনেছেন।[14]

عَنِ ابْنِ عُمَرَ أنَّهُ كَانَ يَغْدُو إلَى الْمُصَلَّى يوْمَ الْفِطْرِ إذَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ، فَيُكَبِّرُ حتَّى يَأْتِيَ الْمُصَلَّى يَوْمَ الْعِيْدِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ بِالْمُصَلَّى، حَتَّى إذَا جَلَسَ الإمَامُ تَرَكَ التَّكْبِيْرَ.

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি ঈদুল ফিতরের দিন সূর্য উঠার সাথে সাথে ঈদগাহে যেতেন। ঈদগাহে যাওয়ার পথে তিনি তাকবীর পাঠ করতেন। ঈদগাহে পৌঁছার পরও তাকবীর পাঠ করতেন। অতঃপর যখন ইমাম এসে বসতেন, তখন তিনি তাকবীর পড়া বন্ধ করে দিতেন।[15]

ঈদুল আযহার তাকবীর দুই ধরনের: ১. মুত্বলাক্ব বা সাধারণ তাকবীর, ২. মুকায়্যাদ বা নির্দিষ্ট সময়ে পঠিতব্য তাকবীর। তাকবীরে মুত্বলাক্ব যুলহিজ্জার চাঁদ দেখার পর থেকে তাশরীক (যুলহিজ্জার ১১, ১২ ও ১৩) এর শেষ দিন পর্যন্ত পাঠ করতে হবে। যেমনটি ইবনে ওমর ও আবু হুরায়রা (রা.) পাঠ করতেন।[16] আর তাকবীরে মুকায়্যাদ আরাফার দিনের ফজর থেকে শুরু করে তাশরীকের শেষ দিনের আছর পর্যন্ত প্রতি ফরয ছালাতের পরে পরে পাঠ করবে।

عَنْ عَلِيٍّ أَنَّهُ كَانَ يُكَبِّرُ مِنْ صَلاَةِ الْفَجْرِ يَوْمَ عَرَفَةَ إِلَى صَلاَةِ الْعَصْرِ مِنْ آخِرِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি আরাফার দিন ফজরের ছালাত থেকে তাশরীকের শেষের দিনের আছর ছালাত পর্যন্ত তাকবীর দিতেন।[17]

عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يُكَبِّرُ مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ يَوْمَ عَرَفَةَ إِلَى صَلاَةِ الظُّهْرِ مِنْ آخِرِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ

ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি আরাফার দিন ফজরের ছালাত থেকে তাশরীকের শেষের দিনের যোহর ছালাত পর্যন্ত তাকবীর দিতেন।[18]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ يُكَبِّرُ مِنْ صَلاَةِ الْفَجْرِ يَوْمَ عَرَفَةَ إِلَى آخِرِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ، لاَ يُكَبِّرُ فِي الْمَغْرِبِ : اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، اللَّهُ أَكْبَرُ وَأَجَلُّ، اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ.

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি আরাফার দিন ফজরের ছালাত থেকে তাশরীকের শেষ দিন পর্যন্ত তাকবীর দিতেন। মাগরিবের ছালাতের পর আর তাকবীর দিতেন না। তার তাকবীরের শব্দগুলো ছিল ‘আল্লাহু আকবার কাবীরা, আল্লাহু আকবার কাবীরা, আল্লাহু আকবার ওয়া আজাল্লু, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’।[19]

ঈদুল ফিতরের তাকবীর এবং ঈদুল আযহার মুত্বলাক্ব তাকবীর পড়ার নির্ধারিত কোনো সময় নেই, নির্ধারিত কোনো স্থান নেই। বরং যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে- হাটে-বাজারে, রাস্তা-ঘাটে, দোকান-পাটে, মসজিদ-মাদরাসায়, গাড়ি-ঘোড়ায় সর্বত্র জোরে জোরে এই তাকবীর পাঠ করতে থাকবে।

পশুকে কষ্ট না দিয়ে জবাই করা :

কুরবানীসহ যে কোনো  পশু জবাই করার সময় লক্ষ রাখতে হবে, পশু যেন কষ্ট না পায়। এর জন্য জবাইয়ের ছুরিকে উত্তমরূপে ধার দিয়ে নিতে হবে। শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন,

, إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَ وَلْيُحِدَّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ فَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ

‘আল্লাহ সবকিছুর উপর দয়া করা অপরিহার্য করে দিয়েছেন। সুতরাং যখন হত্যা করবে, তখন উত্তমভাবে হত্যা করো। যখন (পশু-প্রাণী) জবাই করবে, তখন উত্তমভাবে জবাই করো। আর প্রত্যেকে যেন ছুরিতে ধার দিয়ে নেয় এবং জবাইয়ের পশুকে শান্তি দেয়’।[20]

তাই ভোঁতা ছুরি দিয়ে প্রাণী জবাই না করে ছুরিতে শান দিয়ে নেওয়া এবং পশু জবাই করার পর জান বের না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত পায়ের শিরা-উপশিরা কেটে দেওয়া, চামড়া ছোলা শুরু করার মতো অমানবিক কর্ম থেকে বিরত থাকা একান্ত যরূরী।

ঈদুল আযহার দিন কখন, কী দ্বারা খাওয়া শুরু করা সুন্নাত? :

আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, ‘রাসূল (ছা.) ঈদুল ফিতরের দিন না খেয়ে বের হতেন না। আর ঈদুল আযহার দিন ছালাত আদায় করে ফিরে না আসা পর্যন্ত খেতেন না’।[21]অন্য বর্ণনায় আছে, ‘…আর তিনি ঈদুল আযহার দিন (পশু) যবেহ না করা পর্যন্ত খেতেন না’।[22]  বিদায় হজ্জে রাসূল (ছা.) ১০০টি উটের প্রতিটি থেকে একটু করে অংশ নিয়ে এক পাত্রে রান্না করে সেখান থেকে গোশত খেয়েছিলেন ও ঝোল পান করেছিলেন।[23]  তবে কুরবানীর কলিজা দিয়ে খাওয়া শুরু করতে হবে মর্মে বায়হাক্বীতে বর্ণিত হাদীছটি দুর্বল।[24]  এ সব বর্ণনাকে একত্রিত করলে বুঝা যায়, ঈদুল আযহার দিন ঈদের মাঠ থেকে ফিরে এসে খেতে হবে। আবার কুরবানী জবাই করার পরও খাওয়া যায়। শেষোক্ত ক্ষেত্রে কুরবানীর পশুর গোশত (সাথে কলিজা থাকতেও পারে) দিয়ে খাওয়া শুরু করা যেতে পারে। তবে কুরবানীর কলিজা দিয়েই খাওয়া শুরু করতে হবে এ মতটি দুর্বল। (আল্লাহই ভালো জানেন)।

উল্লেখ্য, ঈদুল আযহার দিনে ছালাতের আগে না খাওয়ার এই বিধান একটি সুন্নাতী বিধান। তাই একে ‘ঈদুল আযহার সুন্নাত’ বলেই নামকরণ করা উচিত। একে ‘ছিয়াম বা অর্ধ দিন ছিয়াম কিংবা সোয়া প্রহর ছিয়াম’ ইত্যাদি বলে নামকরণ করা অনুচিত। এতে করে মানুষ ঈদের দিনে ছিয়াম রাখার দলীল খোঁজার চেষ্টা করবে। অথচ ঈদের দিনে ছিয়াম রাখা হারাম।[25]

জবাইকৃত কুরবানীর পেটে বাচ্চা পাওয়া গেলে তার বিধান :

কুরবানীর পশু যদি উটনী, গাভী কিংবা ছাগী হয়, আর জবাই করার পর যদি তার পেটে বাচ্চা পাওয়া যায়, তাহলে সেই গর্ভবতী প্রাণী দ্বারা কুরবানী বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ গর্ভবতী প্রাণী কুরবানী দেওয়াতে শারঈ কোনো বাধা-নিষেধ নেই। জবাই করার পর তার পেটের বাচ্চাটি যদি জীবিত পাওয়া যায়, তাহলে রুচি হলে সেটাও জবাই করে খাওয়া যেতে পারে। এমনকি মৃত অবস্থায় পাওয়া গেলে তার মায়ের জবাই বাচ্চার জবাই বলে গণ্য হবে। আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম প্রাণীর পেটের বাচ্চা সম্পর্কে। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় আছে, আমরা বললাম, হে আল্লাহর  রাসূল! আমরা উটনী, গাভী কিংবা বকরী জবাই করতে গিয়ে তার পেটে বাচ্চা পাই। সেটা কি আমরা ফেলে দিবো না খাবো? তিনি বললেন, كُلُوهُ إِنْ شِئْتُمْ فَإِنَّ ذَكَاتَهُ ذَكَاةُ أُمِّهِ ‘মনে চাইলে খাও। কারণ তার মায়ের জবাইটাই তার জবাই বলে গণ্য’।[26]

কুরবানীর গোশত বণ্টনের নিয়ম :

কুরআন-হাদীছে কুরবানীর গোশত নিজে খাওয়া, অভাবীদের খাওয়ানো, দান করা ও জমা রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু বণ্টন করার সুনির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায় না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘…তোমরা তা থেকে খাও এবং যারা মানুষের দ্বারে দ্বারে চাইতে আসে না ও যারা আসে সবাইকে খাওয়াও’ (হজ্জ, ৩৬)। রাসূল (ছা.) প্রথমদিকে তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত জমা রাখতে নিষেধ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ছাহাবীদের কথার প্রেক্ষিতে বলেছিলেন, إِنَّمَا نَهَيْتُكُمْ مِنْ أَجْلِ الدَّافَّةِ الَّتِى دَفَّتْ فَكُلُوا وَادَّخِرُوا وَتَصَدَّقُوا ‘আমি তোমাদের নিষেধ করেছিলাম সেই বছরে গ্রাম থেকে অনেক অভাবী লোক তোমাদের কাছে আসার কারণে। (এখন যেহেতু সেই পরিস্থিতি নেই) অতএব তোমরা খাও, জমা রাখো এবং দান করো’।[27]আয়াতে নিজে খেতে বলা হয়েছে এবং দুই শ্রেণির লোককে দিতে বলা হয়েছে। আর হাদীছে পরিস্থিতি অনুযায়ী দান করতে বলা হয়েছে। অতএব যদি এলাকায় অভাবীদের সংখ্যা বেশি থাকে, তাহলে নিজে খাওয়ার তুলনায় দানের হার বেশি থাকতে হবে। আর যদি এলাকায় অভাবীদের সংখ্যা কম থাকে, তাহলে নিজের ইচ্ছামত খাওয়া বা দান করা যেতে পারে। তবে কুরবানীর গোশত তিন ভাগে ভাগ করার ব্যাপারে ছাহাবী-তাবেঈদের থেকে কিছু আছার পাওয়া যায়।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি কুরবানীর পশু প্রেরণ করে বলতেন, ‘তুমি সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে এক-তৃতীয়াংশ খাও, এক-তৃতীয়াংশ ছাদাক্বাহ করো এবং উতবার পরিবারের নিকট এক-তৃতীয়াংশ পাঠিয়ে দাও’।[28]এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, ‘কুরবানী ও হাদই (হজ্জে কুরবানী করার পশু)-এর এক-তৃতীয়াংশ তোমার পরিবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ তোমার জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ মিসকীনদের জন্য’।[29]  এই হাদীছের সনদে ‘ইবনে আবী রওয়াদ’ নামে একজন বিতর্কিত রাবী আছেন। তবে তার হাদীছ সুস্পষ্ট দলীলের বিপরীতে না গেলে গ্রহণযোগ্য।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত আছে,

, وَيُطْعِمُ أهْلَ بَيْتِهِ الثُّلُثَ وَيُطْعِمُ فُقَرَاءَ جِيْرَانِهِ الثُّلُثَ وَيَتَصَدَّقُ عَلَى السُّؤَّالِ بِالثُّلُثِ

‘তিনি তার পরিবারকে এক-তৃতীয়াংশ খাওয়াতেন, অভাবী প্রতিবেশীদের এক-তৃতীয়াংশ খাওয়াতেন এবং ভিক্ষুকদের এক-তৃতীয়াংশ ছাদাক্বাহ করে দিতেন’।[30]  ইমাম ইবনে কুদামা বলেন, হাদীছটি হাফেয আবু মূসা আল-ইস্পাহানী তার ‘আল-ওয়াযায়িফ’ গ্রন্থে বর্ণনা করে বলেছেন, হাদীছটি হাসান। শায়খ আলবানী বলেছেন, আমি হাদীছটির কোনো সনদ খুঁজে পাইনি। হাফেয আবু মূসা হাদীছটিকে হাসান বলেছেন, কিন্তু আমি জানি না ‘হাসান’ বলতে অর্থের দিক থেকে হাসান বুঝাতে চেয়েছেন নাকি সনদের দিক থেকে। আমার কাছে মনে হয় প্রথম মতটিই সঠিক।[31]  (আল্লাহই ভালো জানেন)।

তাবেঈ মুজাহিদ ও আত্বা থেকে বর্ণিত আছে, আক্বীক্বার গোশত বণ্টন সম্পর্কে তারা বলতেন, ‘এক-তৃতীয়াংশ প্রতিবেশীদের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ মিসকীনদের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ পরিবারের লোকদের জন্য’।[32]  যদিও এখানে আক্বীক্বার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কুরবানী তার অন্তর্ভুক্ত।

সারকথা : কুরবানীর গোশত তিন ভাগে ভাগ করার ব্যাপারে সরাসরি কুরআন কিংবা রাসূল (ছা.) থেকে স্পষ্ট কোনো দলীল নেই। বরং পরিস্থিতির আলোকে বিতরণে বেশি-কম করতে পারে। তবে ছাহাবী-তাবেঈদের থেকে কিছু আছার পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সেগুলো সমালোচনা থেকে মুক্ত নয়। তাই এ সকল আছারের উপর ভিত্তি করে কেউ তিন ভাগে ভাগ করতে চাইলে করতে পারে। (আল্লাহই ভালো জানেন)।

জবাইকারী কিংবা কসাইকে কুরবানীর গোশত দেওয়া :

কুরবানীর পশু জবাই করে দেওয়ার পারিশ্রমিকস্বরূপ জবাইকারী কিংবা কসাইকে কুরবানীর গোশত থেকে দেওয়া জায়েয নয়। কসাই যদি পারিশ্রমিক ব্যতীত কাজ করে দিতে রাযী না হয়, তাহলে তাকে টাকা কিংবা অন্য কিছু দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে হবে। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছা.) আমাকে তার কুরবানীর পশুগুলো দেখাশোনা করার এবং সেগুলোর গোশত, চামড়া ও পরিধেয় চট বা ঝুলগুলো ছাদাক্বাহ করে দেওয়া এবং তা থেকে কোনো কিছুই কসাইকে না দেওয়ার আদেশ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা কসাইকে নিজের পক্ষ থেকে কোনো কিছু দিতাম’।[33]

বহুল প্রচলিত একটি হাদীছ :কুরবানীর পশু তার প্রতিটি লোম, শিং ও খুর নিয়ে ক্বিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে :

এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি দুর্বল। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন,

 مَا عَمِلَ آدَمِىٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبَّ إِلَى اللهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ إِنَّهَا لَتَأْتِى يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَظْلاَفِهَا وَإِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللَّهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ مِنَ الأَرْضِ فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًا

‘ঈদুল আযহার দিনে মানুষ যত আমল করে, তারমধ্যে (কুরবানীর পশুর) রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে আল্লাহর  কাছে অধিক প্রিয় কোনো আমল নেই। কেননা প্রাণীটি তার শিং, পশম ও খুর নিয়ে ক্বিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে। আর তার রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই আল্লাহর  নিকট এক (বিশেষ) মর্যাদায় পৌঁছে যায়। কাজেই তোমরা এতে আনন্দিত হও’। হাদীছটি দুর্বল।[34]

একটি ভুল ধারণার অপনোদন :

অনেকেই মনে করে থাকে, বাজার থেকে পশু ক্রয় করে এনে কুরবানী দেওয়ার চেয়ে নিজ বাড়ীতে লালন-পালন করে কুরবানী দেওয়া উত্তম। অথচ কুরআন-সুন্নাহতে এমন কোনো ফযীলতের কথা পাওয়া যায় না। কুরবানীর ফযীলত নির্ভর করে অন্তরের তাক্বওয়া এবং পশু নিখুঁত ও হালাল উপার্জন থেকে হওয়ার উপর।[35]  তাই যার যেটা সামর্থ্য আছে, সে সেটা দিয়েই কুরবানী দিবে। হাবীলের নিজের পালন করা মেষ ছিল, তিনি সেটা দিয়ে কুরবানী দিয়েছিলেন।[36]  আবার রাসূল (ছা.)-এর পালন করা কোনো পশু না থাকায় তিনি বাজার থেকে ক্রয় করা পশু দিয়ে কুরবানী দিয়েছিলেন।[37]  বিদায় হজ্জের বছরে রাসূলুল্লাহ (ছা.) আলী (রা.)-কে ইয়ামান থেকে কুরবানীর পশু ক্রয় করে আনার জন্য পাঠিয়েছিলেন।[38]

শেষকথা :

আল্লাহর  কাছে প্রতিদান পাওয়ার আশা নিয়ে প্রতি বছর আমরা কুরবানী করে থাকি। কিন্তু কুরবানীর মাধ্যমে আমরা কাক্সিক্ষত ছওয়াব তখনই পেতে পারি, যখন তা হবে একমাত্র আল্লাহর  উদ্দেশ্যে, তাকে সন্তুষ্ট করার জন্য এবং আল্লাহ ও রাসূল (ছা.)-এর নির্দেশিত পন্থায়। তাই মহান আল্লাহর  দরবারে দু‘আ করি, তিনি যেন সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে তার বিধান মেনে একমাত্র তারই উদ্দেশ্যে কুরবানী করার তাওফীক্ব দান করেন। আল্লাহুম্মা আমীন!

[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৬৪; মিশকাত, হা/৫৩১৪।

[2]. বায়হাক্বী, হা/১৯৫০৭; ইরওয়াউল গালীল, ৪/৩৫৫, আলবানী হাদীছটিকে ‘ছহীহ’ বলেছেন।

[3]. বায়হাক্বী, হা/১৯৫১১; ইরওয়াউল গালীল, ৪/৩৫৫, আলবানী হাদীছটিকে ‘ছহীহ’ বলেছেন।

[4]. মুসনাদে আহমাদ, ২/৩২১, হা/৮২৫৬।

[5]. ফাতহুলবারী, ১০/৩।

[6]. উছূলুল ফিক্বহ ‘আল-মানহাজি আহলিল হাদীছ, ১/৪১; আল-ইজতিহাদ ওয়াত তাক্বলীদ ওতাক্বলীদু গয়রিল আয়িম্মা, ২/৩১।।

[7]. ইবনে মাজাহ, হা/৩১৬৫; তিরমিযী, হা/১৫২২; মিশকাত, হা/৪১৫৩।

[8]. আবুদাঊদ, হা/২৮০২; ইবনে মাজাহ, হা/৩১৪৪।

[9]. বায়হাক্বী, সুনানে ছুগরা, হা/১৭৭৪।

[10]. আল-মাজমূ‘৮/৩৬৩।

[11]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭৭; নাসাঈ, হা/৪৩৬৪।

[12]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭৭; আবুদাঊদ, হা/২৭৯১।

[13]. ছহীহ বুখারী, তরজমাতুল বাব‘ তাশরীকের দিনগুলোর ফযীলত’।

[14]. মা‘রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার লিল বায়হাক্বী, হা/১৮৯১।

[15]. মা‘রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার লিল বায়হাক্বী, হা/১৮৮৯।

[16]. ছহীহ বুখারী, তরজমাতুল বাব‘ তাশরীকে রদিনগুলোর ফযীলত’।

[17]. মুছান্নাফ ইবনে আবীশায়বা, হা/৫৬৭৮, সনদ ছহীহ।

[18]. মুছান্নাফ ইবনে আবীশায়বা, হা/৫৬৮১।

[19]. মুছান্নাফ ইবনে আবীশায়বা, হা/৫৬৯২, সনদ ছহীহ।

[20]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৫৫; মিশকাত, হা/৪০৭৩।

[21]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৫৫; মিশকাত, হা/৪০৭৩।

[22]. ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৪২৬; বায়হাক্বী, হা/৫৯৫৪; ছহীহুল জামে‘, হা/৪৮৪৫, সনদ ছহীহ।

[23]. ছহীহ মুসলিম, হা/৩০০৯; ইবনে মাজাহ, হা/৩০৭৪; মিশকাত, হা/২৫৫৫।

[24]. বায়হাক্বী, হা/৫৯৫৬; সুবুলুস সালাম, ১/৪২৮।

[25]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৩৮, ১১৪১।

[26]. আবুদাঊদ, হা/২৮২৭, আলবানী ছহীহ বলেছেন।

[27]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭১।

[28]. ত্বাবারানী ফিল কাবীর, ৯/৩৪২/৯৭০২; সুনান কুবরা বায়হাক্বী, ৫/২৪০; আল মুহাল্লা লি-ইবনে হাযম, ৭/২৭০।

[29]. আল-মুহাল্লালি-ইবনে হাযম, ৭/২৭১।

[30]. ইমাম ইবনে কুদামা, আল-মুগনী, ৮/৬৩২।

[31]. ইরওয়াউল গালীল, ৮/৩৭৪।

[32]. আল-মাশীখাতুল বাগদাদিয়্যাহ, পৃ. ৮।

[33]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৩১৭।

[34]. তিরমিযী হা/১৪৯৩; ইবনে মাজাহ, হা/৩১২৬; মিশকাত, হা/১৪৭০; সিলসিলাহ যঈফাহ, ২/১৪, হা/৫২৬; যঈফ তারগীব, ১/১৭০, হা/৬৭১।

[35]. হজ্জ ৩৭; নাসাঈ, হা/৪৩৬৯; ইবনে মাজাহ, হা/৩১৪৪; মিশকাত, হা/১৪৬৫।

[36]. ইবনে কাছীর, সূরা মায়িদাহ ২৭নং আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য।

[37]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৬৪২; আবুদাঊদ, হা/৩৩৮৪; মিশকাত, হা/২৯৩২।

[38]. ছহীহ মুসলিম, হা/৩০০৯; মিশকাত, হা/২৫৫৫।