গ্রন্থ পরিচিতি-৭ : আল-মু‘জামুল কাবীর

-আল-ইতিছাম ডেস্ক

 ভূমিকা :

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত ও বড় ইমামদের কাছে বরণীয়, ক্বিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল ধর্মপ্রাণ মুসলিমের নয়নমণি ইমাম ত্ববারানী (রাহি.) রচিত ‘আল-মু‘জামুল কাবীর’ একটি অনবদ্য ও অবিস্মরণীয় গ্রন্থ। হাদীছের জগতে এর অবস্থান অতি উচ্চে। এমন কোনো আলেম খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি আল-মু‘জামুল কাবীর গ্রন্থটির নাম শুনেননি কিংবা এখান হতে হাদীছসমূহ অধ্যয়ন করেননি। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো-

নাম :
গ্রন্থটির নাম ‘আল-মু‘জামুল কাবীর’। এর অপর নাম ‘মু‘জামুত্ব ত্বাবারানী আল-কাবীর’। এটি ২৫টি বৃহদায়তন খণ্ডে তাহক্বীক্বসহ মুদ্রিত হয়েছে। তাহক্বীক্ব করেছেন শায়খ হামদী আব্দুল মাজীদ সালাফী। যা মিসরের কায়রস্থ ‘মাকতাবা ইবনু তায়মিয়া’ হতে প্রকাশিত। তবে গ্রন্থটি অদ্যাবধি পূর্ণাঙ্গভাবে মুদ্রিত হয়নি। কিছু খণ্ড বাকি থেকে গেছে।

বৈশিষ্ট্য :
এর উল্লেখযোগ্য অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন-

(১) এটি ‘মু‘জাম’ পদ্ধতিতে রচিত হয়েছে। ‘মু‘জাম’ বলা হয়, অভিধান আকারে সাজিয়ে লেখা। অর্থাৎ প্রথমে ‘আলিফ’ তারপর ‘বা’ অতঃপর ‘তা’ দিয়ে শুরু করা। এভাবে ‘ইয়া’ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়।

(২) গ্রন্থকার খুলাফায়ে রাশেদীনের বর্ণিত হাদীছ দিয়ে শুরু করেছেন। অতঃপর ১০ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ছাহাবীর মধ্যে ৬ জনের বর্ণিত হাদীছ এনেছেন।

(৩) ছাহাবীদের নামগুলোকে তিনি অভিধান আকারে সাজিয়েছেন।

(৪) এই গ্রন্থে তিনি প্রায় ১৬০০ ছাহাবীর বর্ণিত হাদীছ এনেছেন।

(৫) মুদ্রিত খণ্ডের ক্রমিক অনুসারে এতে ২২০২১টি হাদীছ উল্লেখ রয়েছে।

(৬) এতে পুরুষ ও নারী উভয় ছাহাবীর হাদীছ সন্নিবেশিত হয়েছে ইত্যাদি।

গ্রন্থকার :

এ গ্রন্থটির সম্মানিত লেখকের নাম হলো, ‘সুলায়মান ইবনে আহমাদ ইবনে আইয়ূব ইবনে মুত্বাইয়ির আল-লাখমী আশ-শামী আবুল ক্বাসেম আত্ব-ত্ববারানী’। তিনি ২৬০ হিজরীতে ফিলিস্তীনের আক্কা নগরীতে ছফর মাসে জন্মগ্রহণ করেন।[1]   তিনি ৩৬০ হিজরীতে ইস্পাহানে মৃত্যুবরণ করেন।

তার সম্পর্কে ইমামদের বক্তব্য :

সমস্ত ইমাম তাকে গ্রহণযোগ্য হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন। তন্মধ্যে দু’জনের উক্তি পেশ করা হলো-

(১) ইমাম যাহাবী (রাহি.) (মৃ. ৭৪৮ হি.) বলেছেন,  الإِمَامُ الحَافِظُ الثِّقَةُ الرحَّال الجوَّال محدِّث الإِسلاَمِ ‘তিনি একজন ইমাম, হাদীছের হাফেয, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, ইলম সংগ্রহের লক্ষ্যে অত্যধিক সফরকারী, ইসলামের মুহাদ্দিছ’।[2]

(২) ইমাম সুয়ূতী (রাহি.) (মৃ. ৯১১ হি.) বলেছেন,الإِمَام الْعَلامَة الْحجَّة ‘তিনি ইমাম, আল্লামা, হুজ্জাত’ (বড় জ্ঞানী)।[3]

উপসংহার :

উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা প্রতীয়মান হলো যে, ইমাম ত্ববারানী (রাহি.) রচিত এই হাদীছের গ্রন্থটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ। যা ইলমে হাদীছের অমূল্য সম্পদ হিসাবে ক্বিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবে ইনশাআল্লাহ। এ গ্রন্থটি অধ্যয়ন করলে ছাহাবীদের সম্পর্কে গভীরভাবে ইলম হাছিল করা সম্ভব। কেননা তিনি এখানে ছাহাবীদের পরিচয়ও তুলে ধরেছেন। আল্লাহ এই মহান ইমামকে জান্নাত নছীব করুন। তার ক্ববরকে আলোকিত করুন- আমীন।

[1]. যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা, রাবী নং ৩২৮৫।

[2]. যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা, রাবী নং ৩২৮৫। 

[3]. ত্বাবাকাতুল হুফ্ফায, রাবী নং ৮৪৪।