জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহিঃ) -এর জীবন পরিক্রমা

-এস.এম. আব্দুর রঊফ

ভূমিকা :

যে সকল মনীষী ইলমুল হাদীছ চর্চায় স্মরণীয় হয়ে আছেন, আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহিঃ)  তাদের অন্যতম। তিনি ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিছ, মুহাক্কিক্ব, উছূলবিদ, মুফতী ও ঐতিহাসিক। ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানে  পণ্ডিত  এ মুহাদ্দিছ হাদীছ শাস্ত্র ও এ সম্পর্কিত বিষয়সমূহে সে যুগের একজন প্রখ্যাত ইমাম ছিলেন। হাদীছ শাস্ত্রে তার অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে তিনি এ বিষয়ের একজন নির্ভরযোগ্য আলেম হিসাবে গণ্য হন। ইলমুল হাদীছ বিষয়ে তিনি অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো:

জন্ম ও নামকরণ :

আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহিঃ)  ৮৪৯ হিজরী সনের ১লা রজব, ১৪৪৫ খ্রীস্টাব্দের ৩ অক্টোবর মাসে মিসরের আসিয়ূত নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।[1]  তখন মিসরে বুরজিয়্যাহ মামলূকগণের মধ্যকার সুলতান আয-যাহির জাকমাক (৮৪২ হি./১৪৩৮ খৃ.-৮৪৭ হি./১৪৫৩ খৃ.)-এর শাসন আমল ছিল। আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহিঃ)  বলেন, ৮৪৯ হিজরী সনের রজব মাসের ১লা রজনীতে ছালাতুল মাগরিবের পর আমার জন্ম হয়।[2]  তাকে ‘ইবনুল কুতুব’ নামে ডাকা হত।[3]

এর কারণ সম্পর্কে হাসান ইবনে খালিদ আল-মাক্বদিসী রচিত আস-সুয়ূতী (রহিঃ)  জীবনী গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, তিনি স্বীয় পিতার পাঠাগারে ভূমিষ্ঠ হন।

আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহিঃ) -এর পিতা তার মাকে একটি বই আনতে বললে তার মাতা সে মোতাবেক যখন পাঠাগারে প্রবেশ করেন, তখনই তার প্রসব বেদনা শুরু হয় এবং সেখানেই তিনি ভূমিষ্ঠ হন। সে কারণে তাকে ‘ইবনুল কুতুব’ বা ‘বইয়ের সন্তান’ বলে।[4]

তার নাম ও বংশ পরিচয় :

তার মূল নাম হলো আব্দুর রহমান; উপনাম আবুল ফযল; উপাধি জালালুদ্দীন; আার সুয়ূতী হচ্ছে, আসিয়ূত সংশ্লিষ্ট পরিচিতি।[5]

বংশ পরিচয় :

আবুল ফযল জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে কামাল আবীবকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাবেকুদ্দীন ইবনে ফখর ইবনে নাযীরুদ্দীন ইবনে সায়ফুদ্দীন খিদর ইবনে নাজমুদ্দীন আবী ছালাহ আইয়ূব ইবনে নাছিরুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে শায়খ আম্মামুদ্দীনিল হুম্মামিল খুদায়রী[6]   আল-আসিয়ূতী।[7]

পরিচয় :

আল্লামা জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (রহিঃ)-এর জনৈক আত্মীয় তার পরিবারটিকে ‘জা‘ফরী’ বলে দাবী করেন।[8]   ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ)  তার পরিবারের মূল উৎস নিয়ে যে দাবী করেছেন, সে ব্যাপারে ড. মুহাম্মাদ মুছত্বফা যিয়াদ মন্তব্য করেন, সুয়ূতীর সময় উভয় স্থানে (কায়রো এবং আসিয়ূতে) একটি স্থানের নাম ছিল, যা ‘আল-খুদায়রিয়া’ হিসাবে পরিচিত ছিল এবং তার নামকরণ সম্পর্কে একাধিক উক্তি রয়েছে। তবে এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, কায়রো এবং আসিয়ূতে একটি এলাকা রয়েছে, যা ‘খুদায়রিয়া’ নামে পরিচিত।[9] কায়রোতে যে এলাকা রয়েছে, তা যথাযথভাবে ‘আল-খুদায়রিয়া’ মসজিদের নামে পরিচিত। আর এ মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল ইমাম সুয়ূতীর জনৈক ছাত্র কর্তৃক।[10]  সুতরাং এটা যে সুয়ূতী (রহিঃ) -এর পারিবারিক নামকরণের মূল উৎস হতে পারে না, তা অনুমেয়। এমনকি কেউ যদি একথা প্রমাণ করতে সক্ষম হয় যে, সুয়ূতী (রহিঃ) -এর সময় অন্তত একজন খুদায়রীর অস্তিত্ব ছিল, তবুও ঐ নামের ব্যাপারে প্রমাণ বহন করে না।

কারণ এটি ছিল তার পূর্ব পুরুষের বংশীয় নাম এবং তারা আসিয়ূতেই বাস করতেন, কায়রোতে নয়। এতে প্রতীয়মান হয় যে, আসিয়ূত অন্তর্গত ‘আল-খুদায়রিয়া’র নামানুসারেই পারিবারিক পরিচয়ের উৎপত্তি হওয়াটা সঙ্গত ও যুক্তিযুক্ত। [11]

সুয়ূতী (রহিঃ) -এর পরিবারটি উজান মিসরের আসিয়ূত থেকে এসেছিল, বিধায় পরিবারের নামকরণ হয়েছিল ‘আস-সুয়ূতী’। অবশ্য তার পিতার অনুসরণে তিনি সুয়ূতী নিসবতকে অগ্রাধিকার দিতেন।[12]

আব্দুর রহমান নামকরণের তাৎপর্য :

জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (রহিঃ)  বলেন, জন্মের সপ্তম দিবসে আমার পিতা আমার নাম রাখেন আব্দুর রহমান।[13]  তিনি তার এ নামকরণের কতিপয় তাৎপর্য তুলে ধরেন। আব্দুর রহমান একটি গুণবাচক ছিফাতী নাম, যা মহান আল্লাহর  নিকট সবচেয়ে প্রিয়। হাদীছের বিভিন্ন বর্ণনার ধারাবাহিক সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মহানবী (ছাঃ) ইরশাদ করেছেন, ‘মহান আল্লাহর  নিকট সবচেয়ে প্রিয় নাম আব্দুল্লাহ এবং আব্দুর রহমান’।[14]

অতএব এদিক থেকে ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ)  এটাকে তার জন্য বিশেষ সওগাত হিসাবে গণ্য করেছেন। যেহেতু মহান আল্লাহর  নিকট আব্দুর রহমান অতি উত্তম নাম, সেহেতু তার পিতা তার উক্ত নাম রাখেন।[15]

পিতৃ-মাতৃতান্ত্রিক পরিচয় :

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতীর পিতা কামালুদ্দীন (রহিঃ)  ছিলেন একজন যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম ও কালোত্তীর্ণ মহাপণ্ডিত । তার মাতা ছিলেন একজন ধর্মপরায়ণা মহীয়সী নারী।

শৈশবকাল :

আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহিঃ)  পিতার পুস্তকালয়ে ৮৪৯ হি. সালে জন্মগ্রহণ করে শৈশবের প্রথম ৫ বছর পিতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন।[16]  তার বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন তার পিতা কামালুদ্দীন আবুবকর সুয়ূতী ৫ ছফর, ৮৫৫ হি./১৪৫১ খৃ. মোতাবেক ৯ মার্চ ইন্তিকাল করেন।[17]

তবে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের বিষয় ছিল যে, তিনি তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবের পুত্রের লালন-পালনের সু-ব্যবস্থা করে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।[18]  পিতার মৃত্যুর পর তিনি পিতার বন্ধু শেখ কামালুদ্দীন আল-হুমামের তত্ত্বাবধানে কয়েক বছর লালিত-পালিত হন। স্বয়ং সুয়ূতী (রহিঃ)  বলেন, আমার তত্ত্বাবধানের সার্বিক  দায়িত্ব ছিল শেখ কামালুদ্দীন আল-হুমামের উপর। উল্লেখিত অভিভাবক আমার এমন অভিভাবক ছিলেন যে, যার পরামর্শ ব্যতীত সামান্যতম কাজও আমি করতাম না এবং এমন কোনো কাজ নেই যে, যা আমি তাকে না জানিয়ে করেছি। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। সুয়ূতী (রহিঃ)  বলেন, আমার বয়স আট বছর পূর্ণ হয়ে নয় বছরে পদার্পণ করা পর্যন্ত তার তত্ত্বাবধানেই আমার দিন অতিবাহিত হয়।  অবশ্য এর অল্প কিছুদিন পর তিনি ইন্তিকাল করেন।[19]

আল্লামা সুয়ূতী (রহিঃ) -এর উক্ত অভিভাবকের নাম মুহীবুদ্দীন ইবনে মুসাইফা (রহিঃ) , যিনি সুয়ূতী (রহিঃ) -এর পিতা কামালুদ্দীনের ছাত্র ছিলেন।  সুয়ূতী (রহিঃ)  তাকে অধিক ভালোবাসতেন এবং সম্মান করতেন। আদ-দাঊদীর (রহিঃ)  বর্ণনানুসারে যখন মুসাইফা ইন্তিকাল করেন, তখন সুয়ূতী (রহিঃ) -এর বয়স ছিল ১৩ বছর। মৃত্যুর সময় তিনি সুয়ূতী (রহিঃ) -এর অভিভাবকত্বের দায়িত্ব জালালুদ্দীন মুহাম্মাদ আহমাদ আল-মাহাল্লী (রহিঃ) -এর নিকট অর্পণ করে যান। তৎকালীন মিসরে তিনিও একজন বিখ্যাত পণ্ডিত  ছিলেন।[20]

প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন :

ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ)  পিতার সান্নিধ্যে প্রাথমিক শিক্ষালাভ করেন। তিনি শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে ছিলেন একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি।[21]  গর্বিত পিতা-মাতার অনুকূল পরিবেশেই তিনি শিক্ষা অর্জনের সুযোগ লাভ করেন। তার পিতা ছিলেন শিক্ষা বিভাগের একজন উচ্চপদস্থ অফিসার।

যার ফলে তৎকালীন সময়ের অনেক পণ্ডিত  ও বিজ্ঞজনের সাথে তার পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল।  পিতা কামালুদ্দীন খুব অল্প বয়সেই তাকে শায়খুনিয়াতে (বিদ্যাচর্চার প্রসিদ্ধ কেন্দ্রে) মাঝে মাঝে নিয়ে যেতেন। তার পিতা কামালুদ্দীনও উক্ত স্থানে শিক্ষা লাভ করেন। ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ)  তার পিতার সঙ্গে ‘যায়নুদ্দীন রিদওয়ান’-এর নিকট ক্লাসে যোগদান করেন এবং সিরাজুদ্দীন ওমর ইবনে ঈসা আল ওয়ারী (রহিঃ) -এর বক্তৃতা শ্রবণ করেন।[22]  বক্তৃতার বিষয়বস্তু ছিল ফিক্বহ বিষয়ক, যা ছিল সাফীত ‘স্কুল অব ল’-এর কারিকুলাম অনুযায়ী। সুয়ূতী উল্লেখ করেন, তিন বছর বয়সে তিনি তার পিতার সাথে একটি  মজলিসে যান। সেখানে তিনি একজন বৃদ্ধ লোকের বক্তৃতা শোনেন। তার নাম তিনি পরবর্তীতে সঠিকভাবে স্মরণ করতে না পারলেও তার অনুমান ছিল ঐ বৃদ্ধ লোকটি তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের বিখ্যাত জ্ঞানী ও পণ্ডিত  ব্যক্তিত্ব ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহিঃ)  ছিলেন।[23]   পবিত্র কুরআন পাঠের মাধ্যমেই ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ) -এর শিক্ষা জীবন শুরু হয়।

তৎকালীন সময়ে পবিত্র কুরআন পাঠের মাধ্যমেই একটি শিশুর শিক্ষা জীবনের সূচনা হত। তাই আট বছর পূর্ণ হবার পূর্বে পবিত্র কুরআন কারীম হিফয করেন।[24]  এছাড়া তিনি ইমাম নববীর রচিত ‘মিনহাজুত তালিবীন’ এবং ইমাম বায়যাভীর লিখা ‘মিনহাজুল উছূল’ এবং আরবী ব্যাকরণ বিষয়ে ইবনে মালিকের লেখা ‘আলফিয়্যাহ’ অধ্যয়ন করেন। ৯৬৪ হিজরীর সফর মাসে তৎকালীন প্রখ্যাত অধ্যাপকবৃন্দের নিকট থেকে তিনি ‘ইজাযা’ বা সনদপত্র লাভ করেন।

তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, আলমুদ্দীন ছালেহ, আল-বুলকীনী, শারফুদ্দীন ইয়াহইয়া আল-মুনাবী। ইযযুদ্দীন আহমাদ আল-কিনানী আল-হাম্বলী, আমীনুদ্দীন ইয়াহইয়া আল-আকসারী (মৃত্যু: ৮৮০ হি.) প্রমুখ মনীষীবৃন্দ।[25]  এটা অবশ্য সঠিকভাবে জানা যায়নি যে, সুয়ূতী তার শিক্ষা লাভ কোথায় শুরু করেছিলেন। তবে এতটুকু অনুমান করা যায় যে, এটা তার বাড়ীতে অথবা কোনো মাদরাসাতে হতে পারে, কিংবা শায়খুনিয়াতেও হতে পারে। যেখানে তার পিতার অনেক বন্ধু তাকে শিক্ষার সহযোগিতার জন্য সদাপ্রস্তুত ছিলেন। এ পর্যায়ে তিনি অবশ্য তার শিক্ষক হিসাবে তার পিতার একজন ছাত্র আক্বীলের কথা উল্লেখ করেন।[26]

উচ্চ শিক্ষা অর্জন ও প্রসিদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ :

প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর সুয়ূতী (রহিঃ)  উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য সমকালীন জ্ঞানী-গুণীদের নিকট গমন করে স্বীয় জ্ঞানভাণ্ডার পূর্ণ করতে সচেষ্ট হন। বিদ্যার্জনের এতই চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেন যে, তিনি সাতটি বিষয়ে পণ্ডিত  হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন।[27]   তাফসীর, হাদীছ, ইতিহাস, অলংকার শাস্ত্র, ভাষাতত্ত্ব, দর্শন ও ইলমুল কালাম সহ আরও অন্যান্য বিষয়ে পাণ্ডিত্য লাভ করেন।[28]  এ প্রসঙ্গে তিনি নিজেই বলেন,

رزقت التبحر في سبعة علوم: التفسير و الحديث و الفقه و النحو و المعاني و البيان و البديع علي طريقة العرب البلغاء لا علي طريقة العجم و أهل الفلسفة.

‘আমাকে উৎকৃষ্ট আরবগণের নিয়মানুসারে তাফসীর, হাদীছ, ফিক্বহ, নাহু, মা‘আনী, বয়ান, বাদী‘- এ সাতটি জ্ঞানের ক্ষেত্রে গভীরতা প্রদান করা হয়েছে; দার্শনিক বা অনারবের পন্থানুযায়ী নয়’। [29]

অধিক জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে তিনি বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। এ ব্যাপারে সুয়ূতী (রহিঃ)  নিজেই বলেন, মহান আল্লাহর  অনুগ্রহে আমি সিরিয়া, হিজায, ইয়ামানসহ বহু দেশ ভ্রমণ করেছি।[30]  তিনি আরও বলেন, আমি যখন হজ্জ করি, তখন যমযমের পানি ঐ উদ্দেশ্যে পান করি যে, যেন ফিক্বহ বিষয়ে শায়খ সিরাজুদ্দীন বুলকীনী (রহিঃ)  এবং হাদীছ শাস্ত্রে ইবনু হাজার (রহিঃ) -এর মর্যাদায় উন্নীত হতে পারি।[31]

তিনি ১৪ বছর বয়সে শিহাবুদ্দনী আহমাদ আল-সারিম শাহী (রহিঃ) -এর নিকট ইলমে ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন ও বণ্টন নীতিবিদ্যা) শিক্ষা লাভ করেন। তখন তার বয়স ছিল ১৪ বছর। অবশ্য সুয়ূতী (রহিঃ)  উক্ত শিক্ষকের নিকট শেষ পর্যন্ত তার এ পাঠ্যক্রম শেষ করতে পারেননি। কারণ এ বৃদ্ধ পণ্ডিত  মহোদয় বেশিদিন বেঁচে ছিলেন না। একই সময়ে শায়খুনিয়ার ইমাম শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে মূসা আল-হানাফীর নিকট আরবী ব্যাকরণ এবং হাদীছের উপর জ্ঞান অধ্যয়ন করেন।[32]

সুয়ূতী (রহিঃ) তার শিক্ষকবৃন্দের নিকট ‘কাদলীয়াত আস-সিফা ফী তা‘রীফি হাককুল মুছত্বফা’, ইবনে মালিকের ‘আলফিয়্যাহ’-এর শেষার্ধ এবং ‘ছহীহ মুসলিম’ সম্পূর্ণটা অধ্যয়ন করেন। এক্ষেত্রে তার নিয়ম ছিল যে, প্রথমে তিনি স্বাভাবিকভাবে মুখস্থ করতেন, পরে উক্ত গ্রন্থসমূহের সারবস্তু ও মর্মার্থ উদঘাটন করতেন। এ নিয়ে তিনি সফলও হয়েছেন।  আল-হানাফী সুয়ূতী (রহিঃ) -এর উপর ‘ইজাযা’ নামক একটি পুস্তক লিখেন, যার মধ্যে তিনি বর্ণনা করেন যে, সুয়ূতী তার সাথে ইবনে মালিকের ‘আলফিয়্যাহ’ এবং অন্যান্য মাধ্যমিক পর্যায়ের আরবী ব্যাকরণ ও ছোট ছোট সাহিত্য বই শিক্ষা করেন।

এ শিক্ষক তার মেধা ও প্রতিভা দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে শিক্ষা প্রদান করেন। তিনি ইবনুল হাজিবের মন্তব্যসহ তার রচিত কাফিয়্যাহ, আয-যারাবরাদী রচিত ‘আল-মাফিয়া’-এর কিছু অংশ এবং এছাড়াও আরবী ব্যাকরণের উপর বেশ কয়েকখানা গ্রন্থ অধ্যয়ন করেন। তিনি শায়খুনিয়ার লাইব্রেরীয়ান শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ খোল মরকুরানী আল-হানাফীর নিকটও শিক্ষা লাভ করেন। এতদভিন্ন তিনি ইরাকীর ‘আলফিয়্যাহ’ এবং ‘কিতাব ইজাগুজী’র পটভূমি ‘আল-কাতীর’ মন্তব্য সহকারে আরবী ভাষায় অনুদিত ভবিষ্যৎবাণী সম্পর্কীয় যুক্তিবিদ্যা অধ্যয়ন করেন।[33]

সুয়ূতী (রহিঃ)  স্বয়ং বলেন যে, এ সময়ে তিনি আরবী ভাষা অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেন এবং এ বিষয়ের উপর বহু সংখ্যক বই অধ্যয়ন করেন। ৮৬৫ হি./১৪৬২ খৃ. সালে সুয়ূতী (রহিঃ)  প্রধান বিচারপতি আদ-দীন ছালেহ আল-বুলকীনীর নিকট শাফেঈ মাযহাবের ফিক্বহ সম্পর্কে পাঠ গ্রহণ করেন। আলমুদ্দীনের পিতা সিরাজুদ্দীন ওমর আল-বুলকীনীর নিকট ‘আল-তাদরীব ফীল ফিক্বহ’, আল-কাজেনীর নিকট ‘আল-তানবীহ রাওদাত আত-তালেবীন’ ও আল-জারাকশীর নিকট ‘আত-তাকমীলাহ’ অধ্যয়ন করেন।  পরবর্তী বছর তথা ৮৬৫ হি./১৪৬২ খৃ. সালে আল-বুলকীনী (রহিঃ)  সুয়ূতী (রহিঃ) -কে ‘ইজাযা’ নামক একখানা গ্রন্থ প্রদান করেন, যার মধ্যে তিনি তার পঠিত গ্রন্থাদির তালিকা প্রণয়ন করেন এবং তাকে শাফেঈ মাযহাবের অনুসরণে ফিক্বহ শাস্ত্র এবং ফৎওয়া দানের অনুমতিও প্রদান করেন।[34]

সুয়ূতী বুলকীনী যতদিন জীবিত (৮৬৮ হি./১৪৬৪ খৃ.) ছিলেন, ততদিন তার নিকট যথারীতি শিক্ষা গ্রহণ করেন। যদিও ইমাম বুলকীনী (রহিঃ)  তাকে পূর্বেই সনদ প্রদান করেছিলেন।  সুয়ূতী (রহিঃ)  ক্বাযী শারফুদ্দীন ইয়াহইয়া আল-মুনাবী (রহিঃ) -এর নিকটও শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি তাদের নিকট আন-নাবাবীর ‘মিনহাযুত তালিবীনের’ অংশ বিশেষসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিভিন্ন গ্রন্থাবলির পাঠ গ্রহণ করেন। যার অধিকাংশই ছিল ইবনুল ওয়াদীর ‘আল-বাহজায়ের’ উপর আল-মুনাবীর উচ্চ স্তরের ভাষ্যকার আবু যুর‘আ আল-ইরাকীর মন্তব্য এবং তাফসীরে বায়যাবীর অংশ বিশেষ।

সায়ফুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনু কুতলূবোগা আল-হানাফী নামে সুয়ূতী (রহিঃ) -এর আর একজন শিক্ষক ছিলেন, যার জ্ঞানের পরিধি ও প্রশস্ততার ব্যাপারে ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ)  প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সুয়ূতী (রহিঃ)  তার নিকট বহুসংখ্যক গ্রন্থের পাঠ গ্রহণ করেন। যেমন আল্লামা যামাখশারী (রহিঃ) -এর ‘কাশশাফ’ নামক কুরআনের তাফসীর, ইবনু হিশামের ‘তাওযীহ’ (ইবনু মালিকের আলফিয়্যাহ-এর উপর একটি ভাষ্য) ইবনু কূতলূবোগার ভাবমূর্তিসহ আরবী ব্যাকরণের উপর ইবনু হিশামের ‘শারহুছ ছুদূর’, ‘আল মিফতা’, আস-সাখাভীর ‘মিফতাহুল উলূম’-এর অংশ বিশেষ এবং আল-ইয়াযীর মতবাদের উপর ‘আল-আকাঈদ আল-আযূযীরা’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ অধ্যয়ন করেন।

এমনিভাবে সুয়ূতী (রহিঃ)  মুহিউদ্দীন মুহাম্মাদ আলী কাফিয়াজিরও প্রশংসা করেন। তিনি তাফসীর, হাদীছ, আরবী ভাষাসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর পাঠ সম্পন্ন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘আল-কাফী’ তার ব্যাখ্যায় এত বিস্তৃত আলোচনা করতেন যে, শুধুমাত্র কয়েকটা লাইন ব্যাখ্যা করতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগাতেন। এ জন্যই তিনি যে বই পাঠদান করতেন, তা সমাপ্ত করতে সক্ষম হতেন না।[35]  ৮৬৮ হি./১৪৬৪ খৃ. সালে আল-কাফীজী আল্লামা সুয়ূতী (রহিঃ) -কে একখানা ‘ইজাযা’ (পাঠদানের অনুমতিপত্র) দিয়ে তা শিক্ষাদান ও রূপান্তরের অনুমতিসহ তার সমস্ত শিক্ষাকর্মের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রদান করেন। ৮৬৮ হি./১৪৬৩ খৃ. সালের প্রথম দিকে সুয়ূতী (রহিঃ)  তাক্বীউদ্দীন আহমাদ আস-সুমুন্নীর নিকট হাদীছ, আরবী ভাষা এবং অলংকার শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তার মৃত্যু পর্যন্ত তিনি একটানা তার নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন।[36]  আল্লামা সুয়ূতী (রহিঃ)  তার এ শিক্ষাকালের যে সময়সূচী বর্ণনা করেন তা নিম্বরুপ:

ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ)  বলেন, আমি প্রতিনিয়ত দ্বি-প্রহরের সময় বুলকীনীর পাঠ তার ক্লাসে গিয়ে গ্রহণ করতাম।[37] অতঃপর সুমুন্নীর নিকট ফিরে যেতাম এবং তার ক্লাসে যোগদান করতাম। প্রতি শনিবার, সোমবার, বৃহস্পতিবার এ তিন দিন এমনিভাবে ক্লাস করাতেন। রবিবার ও মঙ্গলবার ভোর বেলায় আমি শেখ সায়ফুদ্দীন (ইবনু কূতলূবোগা)-এর নিকট পাঠ গ্রহণ করতাম এবং এ দু’দিন দ্বিপ্রহরে মুহিউদ্দীন আল-কাফীজীর নিকট পাঠ গ্রহণ করতাম।  এ সময় পণ্ডিত  মহোদয় ছিলেন সুয়ূতী (রহিঃ) -এর সবচেয়ে সম্মানিত অধ্যাপক যদিও তিনি আরও কয়েকজনের কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন তাক্বীউদ্দীন আবুবকর শাদী আল-হাছকাফী (মৃ. ৮৮১ হি./১৪৭৬ খৃ.) যাদের ক্লাসে তিনি দশ দিনের মতো উপস্থিত হতেন। ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ)  তার অধিকাংশ শিক্ষাই শায়খুনিয়া থেকে লাভ করেন। কারণ সেখানে তার অসংখ্য শিক্ষক ছিলেন। সুয়ূতী (রহিঃ) -এর প্রধান অভিভাবক কাফীজী ইবনু আল-হুমাম (রহিঃ) -এর উত্তরাধিকারী সূত্রে শায়খুনিয়ার শায়খ (প্রধান) নিযুক্ত হন। এক পর্যায়ে ইবনু কুতলূবোগা ইবনু হুমামের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং আল-কাফীজীর পর তিনি নিজেই শায়খুনিয়ার প্রধান তথা শায়খ হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। মুহাম্মাদ ইবনু মূসা আল-হানাফী ছিলেন শায়খুনিয়ার ইমাম এবং শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ আল-মারজুবানী ছিলেন সেখানকার লাইব্রেরিয়ান।[38]   শায়খুন মসজিদের বিপরীত দিকে অবস্থিত কলেজটির সাথে সুয়ূতী (রহিঃ)  -এর পিতার ঘনিষ্ঠতার কারণে সকলেই তার প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন। সুতরাং এ দ্বারা বুঝা যায় যে, আস-সুয়ূতী (রহিঃ)  শায়খুনিয়ার তালিকাভুক্ত একজন নিয়মিত ছাত্র ছিলেন, সেখানে তিনি প্রতিদিনের আহারাদি, রেশনের মাধ্যমে তৈল, সাবান, চিনি এমনকি আবাসিকের সুবিধাও লাভ করেন।[39]  আর এ সুবাদে অন্য পণ্ডিত গণের কাছ থেকেও পাঠ গ্রহণের সুযোগ লাভ করেন। এ সময় থেকে তিনি হাদীছ সংগ্রহে নিবেদিত হয়ে যান এবং দূর-দূরান্ত থেকে হাদীছ সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তৎকালে ছাত্ররা নিজ শায়খ বা শিক্ষকদের থেকে হাদীছ শ্রবণ করত, মুখস্থের মাধ্যমে অন্যের নিকট স্থানান্তর করতেন। আর এ পদ্ধতিই ছিল সে সময়ের সাধারণ পদ্ধতি। তখন একটি মাত্র গ্রন্থে হাদীছের পাঠ গ্রহণ করা যথেষ্ট ছিল না। হাদীছের সনদ লাভের জন্য মৌখিক পদ্ধতিই ছিল সবচেয়ে অধিক কার্যকর এবং গ্রহণযোগ্য পন্থা। এতে প্রতীয়মান হয় যে, হাদীছের বিজ্ঞান শাখাকে বলা হত ‘আল-রিওয়ায়াহ’ বা স্থানান্তর।[40]  আদ-দিরায়াহ ছিল এমন একটি শাস্ত্র, যার আওতায় ছিল সর্বপ্রকার পাঠ, যা প্রণয়ন করা হয়েছিল হাদীছের যথার্থতা নিরূপণ ও স্থানান্তরকারীদের বিশ্বস্ততা প্রমাণের জন্য।

আর সে সময় এ পদ্ধতিতেই মাদরাসাগুলোতে শিক্ষা দেওয়া হত। আল-রিওয়ায়াহ সম্পর্কে সুয়ূতী (রহিঃ) -এর ব্যাখ্যায় তার ভাবধারায় যে প্রভেদ লক্ষ্য করা যায় তা হলো- সুয়ূতী (রহিঃ)  ৮৬৮ হি./১৪৬৩-৬৪ খৃ. সালে হাদীছ সংগ্রহ শুরু করেন। কিন্তু তিনি এ পদ্ধতিতে হাদীছ সংগ্রহ দীর্ঘায়িত করেননি। তিনি তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেন যে, আমি বিভিন্ন কারণে হাদীছ শ্রবণের উপর গভীরভাবে মনোনিবেশ করতে পারিনি।[41]  কারণ হচ্ছে আদ-দিরায়াহর উপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করেছিলাম। এ ব্যাপারে আমি অভিজ্ঞজনদের সাহচর্য লাভ এবং তাদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করতাম। এমনকি তাদের মৃত্যুর পূর্ব  মুহূর্ত পর্যন্ত আমি প্রায় এ সুযোগ গ্রহণ করতাম। আমার মতে, ‘আদ-দিরায়াহ’, ‘আর-রিওয়ায়াহ’-এর চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাদীছের স্থানান্তরকারী সবাই ছিল সাধারণ লোক, নিম্বমানের লোক, মহিলা এবং বৃদ্ধ বয়সী। এরপরও আমি (سماع) বা শ্রবণকে একেবারে বর্জন করিনি। সুয়ূতী (রহিঃ)  মৌখিকভাবে কিছু সংখ্যক হাদীছ সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছিলেন, যার কিছু অংশ  তিনি তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছিলেন। বিশেষ করে এগুলোর জন্য গর্বিত ছিলেন। কারণ তা ছিল আওয়ালী অর্থাৎ তার হাদীছ সংগ্রহের সূত্রের সাথে সর্বশেষ বর্ণনাকারী যাদের সনদ নবী করীম (ছাঃ) পর্যন্ত পৌঁছেছে তাদের সংখ্যা খুব কম। এ ধরনের হাদীছ অধিক গ্রহণযোগ্য, কারণ বর্ণনাকারীর সংখ্যা কম বলে এগুলো ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভযোগ্য। [42]

সুয়ূতী (রহিঃ)  বিষয়ভিত্তিক যাদের নিকট থেকে জ্ঞানার্জন করেছেন তাদের অন্যতম হচ্ছেন,

(১) বুলকীনী (রহিঃ) , যার নিকট থেকে শাফেঈ মাযহাবের ‘ইলমুল ফিক্বহ’-এর জ্ঞান লাভ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত উক্ত মাযহাব প্রাধান্য দিয়েছেন।

(২) শায়খ শারফুদ্দীন সান‘আভী (রহিঃ) -এর নিকট ‘ইলমুদ দ্বীন ও আরবী ভাষাতত্ত্বের জ্ঞান লাভ করেন।

(৩) মুহিউদ্দীন আল-কাফীর (মৃ. ৮৭৯ হি.) নিকট দীর্ঘ দিন ইলমুদ দ্বীনে জ্ঞানের পূর্ণতা লাভ করেন, তখন বয়স ছিল ১৪ বছর। ১৭ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত তার নিকট ইলমুল ফিক্বহের জ্ঞান লাভ করেন।

(৪) শায়খ শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনু মূসা সিরামী (রহিঃ) -এর নিকট ছহীহ মুসলিমের উপর জ্ঞানার্জন করেন। তবে তা অল্প সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

(৫) তাক্বীউদ্দীন শুমুন্নী আল-হানাফী (মৃ. ৮৭২ হি.) (রহিঃ) -এর নিকট ইলমুল হাদীছ ও হাদীছের পরিভাষা ও আরবী ব্যাকরণের জ্ঞান লাভ করেন।

অবশ্য ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ)  স্বীয় গ্রন্থ ‘হুসনুল মুহাযারায়’ তার ১৫০ জন শায়খের কথা উল্লেখ করেছেন।[43]

জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহিঃ) -এর কর্মজীবন :

আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহিঃ)  ছিলেন জ্ঞানপিপাসু এক অনাবিল কৃতিত্বের অধিকারী ব্যক্তি। তিনি তার পাণ্ডিত্যপূর্ণ শায়খ বা শিক্ষকগণের নিকট থেকে শিক্ষা-দীক্ষায় বিশেষ স্বীকৃতি প্রাপ্তির পর শিক্ষাদান ও গ্রন্থ প্রণয়নকে নিজের কর্ম হিসাবে নির্বাচন করেন। ৬৬৮ হি./১৪৬৪ খৃ. সালে তার সুপ্রসিদ্ধ শিক্ষক আল-কাফীজী তাকে জ্ঞানার্জনের পূর্ণতা প্রদান পূর্বক একখানা সনদ (ইজাযা) দিয়ে তাকে শিক্ষাদান ও রূপান্তরের অনুমতি প্রদান করেন।

শায়খুন মসজিদের বিপরীত দিকে অবস্থিত প্রসিদ্ধ বিদ্যাপীঠ (কলেজ) শায়খুনিয়ার সাথে সুয়ূতী (রহিঃ) -এর পিতার বিশেষ ঘনিষ্ঠতার কারণে আস-সুয়ূতী (রহিঃ)  শায়খুনিয়ার নিয়মিত ছাত্র ছিলেন। আর এ সুবাদে শিক্ষাজীবন শেষ করার পর তিনি নিজেই সেখানে শিক্ষাদানে ব্রত হন। এরপর তিনি মিসরের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।[44]  এ সময় তিনি বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ প্রণয়নে আত্মনিয়োগ করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গবেষণা ও গ্রন্থ প্রণয়নের জন্য বিভিন্ন দেশে ভ্রমন করেন। ৮৭০ হি. সালে দীর্ঘদিন মক্কা-মদীনা, দিমিয়াত ও ইস্কান্দারিয়ায় সফর শেষে স্বদেশে ফিরে পুনরায় পাঠদানে নিয়োজিত হন। যারা তাকে লিখিত পাণ্ডুলিপি ও অন্যান্য গ্রন্থ পড়ে শুনিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন শায়খ বদরুদ্দীন হাসান ইবনু আলী ইলমে মীক্বাত, ফিক্বহ ও আরবী ভাষা বিশারদগণের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তিনি একটানা ১০ বছর তার সংস্পর্শে থেকে তার (সুয়ূতী) রচিত বহু কিতাব অধ্যয়ন করেন। এছাড়া আল্লামা নববী (রহিঃ) -এর ‘মিনহাজ’ নামক কিতাব, ইবনু আক্বীলের ‘শরহে আলফিয়্যাহ’ ইত্যাদিও তার নিকট অধ্যয়ন করেন।

তাদের মধ্যে আরেকজন হলেন শায়খ সিরাজুদ্দীন ওমর ইবনু কাশেম আল-আনছারী (রহিঃ)  যিনি ‘শায়খুল ক্বিরাআত’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি একটানা ২০ বছর তার (সুয়ূতী) সংস্পর্শে ছিলেন। তিনি তার স্বহস্তে লেখা পাণ্ডুলিপিগুলো সংক্ষিপ্তাকারে লিখে পুনরায় তাকে পড়ে শুনিয়েছেন।[45]

ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ)  সর্বপ্রথম ‘জামে‘ তুলূনী’ নামক স্থানে হাদীছের উপর গবেষণা ও সভা-সেমিনার শুরু করেন।    তার এ যাত্রা ইবনে হাজার (রহিঃ) -এর মৃত্যুর পর থেকে ২০ বছর যাবৎ অব্যাহত ছিল। সর্বপ্রথম জামে‘ তুলূনীতে গবেষণা ও সমাবেশের সূচনা করেন রুবাঈ ইবনু সুলায়মান (রহিঃ)  যিনি শাফেঈ মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। [46]

ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ)  বলেন, আমি গবেষণা ও সেমিনারের সময় নির্ধারণ করেছি শুক্রবার বাদ ফজর, যা এ শতাব্দীর তিনজন নামকরা হাফেযে হাদীছ আল-ইরাকী, তার ছেলে এবং ইবনু হাজার (রহিঃ) -এর নিয়ম বহির্ভূত ছিল।   কেননা তারা এ সমাবেশ করতেন মঙ্গলবার প্রত্যুষে। আর পূর্ববর্তীগণের সময়সূচী ছিল সাধারণত শুক্রবার বাদ ফজর। তিনি (সুয়ূতী) এ ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী হাফেযে হাদীছগণের অনুসরণ করেন।[47]   যেমন: খত্বীব আল-বাগদাদী, সাম‘আনী এবং ইবনু আসাকির (রহিঃ)  প্রমুখ। তারা সকলেই শুক্রবার ফজরের ছালাতের পর গবেষণা ও সেমিনার করতেন। তিনি ১৪টি সাধারণ সভা করেন। এরপর সূরা আল-ফাতিহা ও সূরা আল-বাক্বারার অর্ধাংশের উপর ৬৬টি সমাবেশ করেন।

মিসরে প্রচণ্ড মহামারি দেখা দিলে অধিকাংশ লোক মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এ সময়েও তিনি ছোট বড় ৮০টি সমাবেশ করেন। কিন্তু এ ধারা বেশিদিন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি। তাই ৭৭৩ হিজরীর শা‘বান মাসে এটা বন্ধ করে দেন। ৮৭৪ হিজরীতে পুনরায় গাযালী (রহিঃ) -এর লেখা ‘আদ-দুররাতুল ফাখিরা ফী কাশফি উলূমিল আখিরাহ’ নামক গ্রন্থের হাদীছের উপর ৪৫টি সমাবেশ করেন।[48]  এরপর দীর্ঘদিন যাবৎ তার গবেষণা কর্ম বন্ধ ছিল। তার জনৈক ছাত্র মুহাদ্দিছ শিহাবুদ্দীন আবুল ফযল আহমাদ ইবনু আমীর হাদীছের প্রতি আবেগ-অনুরাগ প্রকাশ করলে তিনি ৮৮৮ হিজরীতে ৩০টি সাধারণ সভা করেন এবং আবার তা বন্ধ করে দেন।[49]

তিনি ৮৭১ হিজরী থেকে ফৎওয়া লেখার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তার লিখিত ফৎওয়ার সংখ্যা ধারণাতীত, যা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তিনি স্বীয় বিক্ষিপ্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফৎওয়াগুলো একটি পাণ্ডুলিপিতে একত্রিত করেন।   এছাড়া তিনি আরও কিছু ফৎওয়াও একত্রিত করেন, যেগুলোর ব্যাপারে তার সমসাময়িক ব্যক্তিগণ কোনো মতবিরোধ করেননি।[50]

তিনি শায়খুনিয়ার পরিচালক নিযুক্ত হন।[51]

দেশভ্রমণ ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে ব্যুৎপত্তি লাভ :

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহিঃ)  প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের পর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় নিজেকে আরও যোগ্য করে তুলতে তৎকালীন বিভিন্ন মুসলিম দেশ ভ্রমণ করেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মক্কা, মদীনা, হেজায, ইয়ামান, হিন্দুস্তান, দিমিয়াত, ইস্কান্দারিয়া সহ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশসমূহ।[52]  তিনি ৮৬৯ হিজরীতে হজ্জ পালন করেন। উক্ত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, সফরকালীন ঘটনাবলী এবং সেখানে তার হাদীছের শিক্ষকম-লীর পরিচয়সহ ‘আন-নাখলাতুয যাকিয়্যাতু ফির রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ’ নামে একটি কিতাবও রচনা করেন।  সে সময় তিনি তূর পর্বত ঘেষে কুলযুম (قلزم) সমুদ্র ভ্রমণ করেন।  এ ভ্রমণে তিনি আলফিয়্যাহ (الفية) নামক একখানা গ্রন্থ কাব্যাকারে রচনা করেন, যা তারান (تاران) নামক শহরে সমাপ্ত হয়। তার এ কাব্যের মর্ম সম্পর্কে তিনি বলেন,

نظمتها فى نحو ثلثى اصلها- ولن ترى مختصرا كمثلها

ختمتها بزهر مر القلزم- مسافرا لبلد المحرم-

وفى ربيع الاخير زهر نظمها- وفى جمادى فاح مسك ختمها

من عام تسعة وستين التى بعد ثمان مائة للهجرة–

অর্থ- ‘আমি আলফিয়্যাকে মূল পাণ্ডুলিপির দুই-তৃতীয়াংশের মধ্যে সমাপ্ত করেছি। (হে পাঠক!) আপনি এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত আর কোনোটি দেখতে পাবেন না। আমি পবিত্র শহরের উদ্দেশ্যে ‘কুলযুম’ সমুদ্র পাড়ি দেওয়া অবস্থায় এটি সমাপ্ত করেছি। রবীউল আখের মাসে আমার কাব্যের পুষ্প প্রস্ফুটিত হতে থাকে এবং জুমাদাল আউয়াল মাসে গিয়ে তার সৌরভ ছড়াতে থাকে। আমার এ যাত্রা শুরু হয়েছে ৮৬৯ হিজরী থেকে। [53]

মক্কায় পৌঁছার পর তিনি ব্যাকরণ, ভাষার সাবলীলতা, বাক্যের বিন্যাস ও ইতিহাস সম্বলিত একটি পা-ুলিপি রচনা করেন। যার নাম হচ্ছে النفحة المسكية والتحفة المكية সেখানে থাকাকালীন তার সাথে প্রসিদ্ধ নাহুবিদ মহিউদ্দীন আব্দুল ক্বাদের[54]  ইবনু আবুল কাশেম ইবনে আল্লামা আবুল আব্বাস আর-আনছারী আল-খাযরাজী (মৃ. ৮৮০ হি./১৪৭৫ খৃ.) এবং ওস্তাদকুল শিরোমণি হাফেয নাযীমুদ্দীন (রহিঃ) -এর সাথে সাক্ষাৎ হয়। এ ছাড়া মদীনার ক্বাযী যায়নুদ্দীন আবুবকর ইবনু হুসাইন আল-মুগাবী, আয়েশা বিনতে আব্দুল হাদী সহ আরও অনেকের সাথে সাক্ষাৎ হয়।

মক্কা সফরকালে ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ) -এর সাথে তার পিতার ছাত্র ক্বাযী বোরহান উদ্দীন ইবরাহীম ইবনু নূরুদ্দীন আলী ইবনে ক্বাযী কামাল উদ্দীন আবুল বারাকাত মুহাম্মাদ ইবনে যুহায়রা আল-মাখযূমী (রহিঃ)  (মৃ. ৮৩৭ হি./১৪৮৫ খৃ.) এর সাথেও সাক্ষাৎ হয়।[55]

ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ)  ৮৭০ হিজরীর রজব মাসে ‘দিমিয়াত’ এবং ‘ইস্কান্দারিয়া’ সফর করেন।[56]  সেখানকার অভিজ্ঞতা সম্বলিত একখানা পাণ্ডুলিপিও তিনি রচনা করেন।

উক্ত পাণ্ডুলিপিটির নাম দিয়েছেন ‘কাতফুয যাহরি ফী রিহলাতি শাহরিন’ (এক মাসব্যাপী সফরে ফুল আহরণ)। সেখানে তিনি স্বরচিত ‘ইম্পারিয়া’ ও অন্যান্য কাব্য আবৃতি করেন।

(আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)

[1]. মুহাম্মাদ ইবনু হাসান আক্বীল মূসা আশ-শারীফ, ই‘জাযুল কুরআনিল কারীম বায়নাল ইমাম আস-সুয়ূতী (রহিঃ)  ওয়াল উলামা, (এটা একটি পিএইচডি অভিসর্ন্দভ, প্রকাশনা : দারুল আন্দুলিস আল-খাযরা, ১৯৯৭ খৃ.), পৃ. ২১৯।

[2]. সুয়ূতী, আত-তাহাদ্দুছ বিনি‘মাতিল্লাহি, পৃ: ৩২; ইসলামী বিশ^কোষ, সম্পাদনা পরিষদ, (ঢাকা:  ই.ফা.বা., ১৯৯৯ খৃ.), ২/৫১৪।

[3]. ই‘জাযুল কুরআনিল কারীম, পৃ. ২১৯।

[4]. ইসলামী বিশ^কোষ, ১/১৬৪-১৬৫।

[5]. ইমাম সুয়ূতী (রহিঃ) বলেন, তার জন্মের ৭ম দিনে তার পিতা তার নাম রাখেন আব্দুর রহমান। তার এ নামকরণে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, আত-তাহাদ্দুছ বিনি‘মাতিল্লাহি, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩২।

[6]. সুয়ূতী (রহিঃ), নাদওয়াতুল মাজালিসিল আ‘লা, (প্রকাশনা:  আল-হাইয়্যাতুল মিছরিয়্যাহ আল-আম্মাতু লিল কিতাব, ১৯৭৮ খৃ.), পৃ. ১০৪, ১৬০; সুয়ূতী (রহিঃ) হুসনুল মুহাযারাহ ফী তারীখে মিসর ওয়াল কাহিরা, (সম্পাদনা: মুহাম্মাদ আবুল ফযল ইবরাহীম, দারু ইয়াহইয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ, মিসর, ১৯৬৭ খৃ.), ১/৩৩২।

[7]. নদওয়াতুল মাজালিসিল আ‘লা, পৃ. ৩০৩; ইয়াকূত হামাবী, মু‘জামুল বুলদান, ৩/৩০১; ইসলামী বিশ্বকোষ, ১/১০৪, ১৬০।

[8].  জা‘ফরী দ্বারা জনৈক আত্মীয় সম্ভবত রাসূল (ছাঃ)-এর চাচাত ভাই আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) -এর ভ্রাতা জা‘ফরের বংশধর বলে বুঝাতে চেয়েছেন, কিন্তু যথাযথ তথ্য না পাওয়ায় নীরবতা অবলম্বন করেছেন। Jalal al-Suyuti: biography and background; Cambridge; NewYork: Cambridge University Press ১৯৭৫, পৃ. ১৯।|

 

[9]. Ziyadah, Al-Muarrikhin Fi- Misr Fil Quran Al-Khamis Ashar al- Miladi, P. 56.

[10]. Ali-Mubark, Al-Khita : awfiqiyyah al Jadidah, Vol. 2, P. 120.

[11]. Ahmad bin aymur, Qaba’r al Imam al-suyuti watahqiq mawdihi, P. 23.

[12].  সুয়ূতী, লুবাবুল-লুবাব (বৈরূত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪১১ হি./১৯৫১ খৃ.), ১/৬১।

[13]. আত-তাহাদ্দুছ বিনি‘মাতিল্লাহি, পৃ. ৩২।

[14]. আবুদাঊদ, হা/৪৯৫০, ‘সালাম’ অধ্যায়, শায়খ আলবানী (রহিঃ) ছহীহ বলেছেন।

[15]. হাজী খলীফা (সম্পাদনা: মুহাম্মাদ শারফুদ্দীন ইয়ালতাকাইয়া, দারু ইহইয়াউত তুরাছিল আরাবী, বৈরুত: ১৯৪১ খৃ.), কাশফুয যুনূন আন আসামিল কুতুব ওয়াল ফুনূন, পৃ. ৩২৫; আব্দুর রহীম, হাদীছ সংকলনের ইতিহাস (ঢাকা: ই.ফা.বা., ১৯৯২, ৫ম সংস্করণ), পৃ. ৫৭২।

[16]. সুয়ূতী (রহিঃ), আল-মানহাজুস সাভী ওয়াল মানাহিলুর রাবী ফী তিব্বিন নাবাবী, (বৈরূত: ১৪০৩ হি.), পৃ. ৪০।

[17]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪১-৪২।

[18]. নাদওয়াতুল মাজালিসিল আ‘লা, পৃ. ৩০৪, ৩৬২।

[19]. আল-মানহাযুস সাভী, পৃ. ৪০।

[20]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪০।

[21]. প্রাগুক্ত, ৩/২২৬-২৯।

[22]. পূর্ব নাম: যায়নুদ্দীন রিযওয়ান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-উক্ববী (রহঃি) (মৃত্যু: ৮৭৩ হি.), আয-যাওউল লামি‘, ১/২৯।

[23]. আয-যাওউল লামি‘, ৩/৩৫-৪০।

[24]. আত-তাহাদ্দুছ বিনি‘মাতিল্লাহি, পৃ. ২৩৬।

[25]. আয-যাওউল লামি‘, ১০/২৪০-২৪৩।

[26]. আক্বীল, তিনি ছিলেন আল্লামা সুয়ূতী (রহিঃ)-এর পিতার অন্যতম একজন ছাত্র, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৪৭।

[27]. হুসনুল মুহাযারাহ, ১/১৮৮।

[28]. সুয়ূতী (রহিঃ), নুযুল ইকইয়ান, (তা. বি), পৃ. ১।

[29]. আন-নুকাতুল বাদী‘আত, পৃ. ১১; আদ-দুরারুল মানছূরাহ, ১/৪; আল-মাজাল্লাতুল আরাবিয়্যাহ, পৃ. ২৩৩।

[30]. সুয়ূতী (রহিঃ), নুযুল ইকইয়ান, পৃ. ১।

[31]. আন-নুকাতুল বাদী‘আত, পৃ. ১১-১২।

[32]. আয-যাওউল লামি‘, ১/৬৩-৪।

[33]. Al-tahadduth Binimatillah (in Arabic) Vol.2, p. 33.

[34]. Al-Makrizi, khitta:, vol.1, P.401-2.

[35]. Al-tahadduth Binimatillah Vol.2, p. 33.

[36]. পূর্ণনাম : তাক্বীউদ্দীন আহমাদ ইবনু কামাল মুহাম্মাদ ইবনু  মুহাম্মাদ ইবনু হুসাইন আস-সুমুন্নী আল-হানাফী।

[37]. আত-তাহাদ্দুছ বিনি‘মাতিল্লাহি, পৃ. ২৪০-২৪১।

[38]. আয-যাওউল লামি‘, ৭/২৬০, ৯/১৭৪-৭৫, ১০/৬৩।

[39]. Al-Makrizi, taki uddin Ahamd A, vol. 2, p. 314.

[40]. Suyuti, Ibid, p. 30

[41]. আত-তাহাদ্দুছ বিনি‘মাতিল্লাহি, পৃ. ২৪৭-২৪৮।

[42]. Suyuti, Ibid, p. 12.

[43]. সুয়ূতী (রহিঃ), মুকাদ্দিমাতু তাদরীবির রাবী, পৃ. ১১; নাদওয়াতুল মাজালিসিল আ‘লা, পৃ. ১০৫, ৩০৫-৩০৬; হুসনুল মুহাযারাহ, ১/৩২৭।

[44]. Suyuti, Ibid, P. 29-30.

[45]. সুয়ূতী (রহিঃ), মাকতাবাতুস সুয়ূতী, পৃ. ১০২।

[46]. সুয়ূতী (রহিঃ), সাযারাতুয-যাহাব, ৮/৫৩।

[47]. মুকাদ্দামাতু তাদরীবির রাবী, পৃ. ১৩-১৪। ঈঋ. ঝধশয, উ. ঠ.৬, চ, ১১৩-১১৯.

[48]. আত-তাহাদ্দুছ বিনি‘মাতিল্লাহ, পৃ. ৮৮-৮৯।

[49]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৮।

[50]. সুয়ূতী (রহিঃ), মাকতাবাতুস সুয়ূতী,

(https://archive.org/details/IslamSpirit-Saiuty PDF), পৃ. ১০৮।

[51]. আত-তাহাদ্দুছ বিনি‘মাতিল্লাহ, পৃ. ৯১।

[52]. আল মানাহিজুস সাভী, পৃ. ৪৩।

[53]. আত-তাহাদ্দুছ বিনি‘মাতিল্লাহ, পৃ. ৭৯।

[54]. তিনি কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছেন, তন্মেধ্যে শরহে তাহছীল ও হাশিয়াতুত-তাওজীহ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ছিলেন মালেকী মাযহাবের একজন বিচারক।

[55]. মাকতাবাতুস সুয়ূতী, পৃ. ১০২।

[56]. Skhabi, D., Voll-7, P.1517.