দাজ্জাল সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা
-আহমাদুল্লাহ সৈয়দপুরী*
(পর্ব-৪) 


হাদীছ-১২ : আবূ উমামা আল-বাহেলী c থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ a আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। আমাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া তাঁর দীর্ঘ ভাষণের অধিকাংশ ছিল দাজ্জাল প্রসঙ্গে। তিনি আমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেন। তার সম্পর্কে তিনি তাঁর ভাষণে বলেন, আল্লাহ আদমের বংশধর সৃষ্টি করার পর থেকে দাজ্জালের ফেতনার চেয়ে মারাত্মক কোনো ফেতনা পৃথিবীর বুকে সংঘটিত হবে না। আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি, যিনি তাঁর উম্মতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেননি। আর আমি সর্বশেষ নবী এবং তোমরা সর্বশেষ উম্মত। সে অবশ্যই তোমাদের মাঝে আত্মপ্রকাশ করবে। আমি তোমাদের মধ্যে বর্তমান থাকতে যদি সে আবির্ভূত হয়, তবে আমিই প্রত্যেক মুসলিমের পক্ষ থেকে প্রতিরোধকারী হব। আর যদি সে আমার পরে আবির্ভূত হয়, তবে প্রত্যেক মুসলিমকে নিজের পক্ষ থেকে প্রতিরোধকারী হতে হবে। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আমার প্রতিনিধি। নিশ্চয় সে সিরিয়া ও ইরাকের ‘খাল্লা’ নামক স্থান থেকে বের হবে। অতঃপর সে তার ডানে ও বামে সর্বত্র বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা (দ্বীনের উপর) অবিচল থাকবে। কেননা আমি এখনই তোমাদের নিকট এমন সব নিকৃষ্ট অবস্থা বর্ণনা করব যা আমার পূর্বে, বিশেষভাবে কোনো নবীই তাঁর উম্মতের নিকট বলেননি। সে তার দাবির সূচনায় বলবে, আমি নবী। অথচ আমার পরে কোনো নবী নেই। অতঃপর সে দাবি করবে, আমি তোমাদের রব। অথচ মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তোমাদের প্রভুকে দেখতে পাবে না। সে হবে অন্ধ। অথচ তোমাদের রব মোটেই অন্ধ নন। তার দুই চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে ‘কাফের’। শিক্ষিত ও অশিক্ষিত প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তিই এ লেখাটি পড়তে সক্ষম হবে। দাজ্জালের অনাসৃষ্টির মধ্যে একটি এই যে, তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। তবে তার জাহান্নাম হবে ‘জান্নাত’ এবং তার জান্নাত হবে ‘জাহান্নাম’। যে ব্যক্তি তার জাহান্নামের বিপদে পতিত হবে, সে যেন আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং সূরা কাহফ-এর প্রথমাংশ তেলাওয়াত করে। তাহলে সেই জাহান্নাম হবে তার জন্য শীতল আরামদায়ক, ইবরাহীম e-এর বেলায় আগুন যেরূপ হয়েছিল।

দাজ্জালের আরেকটি অনাসৃষ্টি এই যে, সে এক বেদুঈনকে বলবে, আমি যদি তোমার পিতা-মাতাকে তোমার সামনে জীবিত করে তুলতে পারি, তবে তুমি কি এই সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় আমি তোমার রব? সে বলবে, হ্যাঁ। তখন (দাজ্জালের নির্দেশে) দুটি শয়তান তার পিতা-মাতার অবয়ব ধারণ করে হাযির হবে এবং বলবে, হে বৎস! তার অনুগত্য করো। সে-ই তোমার রব।

দাজ্জালের আরেকটি অনাসৃষ্টি এই যে, সে জনৈক ব্যক্তিকে পরাভূত করে হত্যা করবে। অতঃপর করাত দ্বারা তাকে ফেড়ে দুই টুকরা করে ছুঁড়ে মারবে। অতঃপর সে বলবে, তোমরা আমার এ বান্দার দিকে লক্ষ্য করো। আমি একে এখনই জীবিত করব। তারপরও কেউ বলবে কি যে, আমি ব্যতীত তার অন্য কেউ রব আছে? এরপর আল্লাহ তাআলা সে লোকটিকে জীবিত করবেন। তখন খবীস (দাজ্জাল) তাকে বলবে, তোমার রব কে? সে বলবে, আমার রব আল্লাহ। আর তুই তো আল্লাহর দুশমন। তুই তো দাজ্জাল। আল্লাহর শপথ! আজ আমি তোর সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে বুঝতে পারছি (যে, তুই-ই দাজ্জাল)।

আবুল হাসান আত-তানাফুসী c বলেন, আবূ সাঈদ c বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে জান্নাতে সে ব্যক্তির সর্বাধিক মর্যাদা হবে। রাবী বলেন, আবূ সাঈদ c বলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা ধারণা করতাম যে, এ ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্ত্বাব। এমনকি তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন।

মুহারিবী p বলেন, এরপর আমরা আবূ রাফে p-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীছে ফিরে যাচ্ছি। তিনি বলেন, দাজ্জালের আরেকটি অনাচার এই যে, সে আসমানকে বৃষ্টি বর্ষাতে নির্দেশ দিলে বৃষ্টি হবে এবং যমীনকে ফসল উৎপাদনের নির্দেশ দিলে ফসল উৎপাদিত হবে।

দাজ্জালের আরেকটি অনাচার এই যে, সে একটি জনপদ অতিক্রমকালে তারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবে। ফলে তাদের গবাদি পশু সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবে।

দাজ্জালের আরেকটি অনাচার এই যে, সে আরেকটি জনপদ অতিক্রমকালে তারা তাকে সত্য বলে মেনে নিবে। সে আসমানকে বৃষ্টি বর্ষণের নির্দেশ দিলে বৃষ্টি বর্ষিত হবে। অতঃপর সে যমীনকে শস্য উৎপাদনের নির্দেশ দিলে যমীন শস্য উৎপাদন করবে। যমীন পর্যাপ্ত ফসলাদি, ঘাসপাতা ও তৃণলতা উদগত করবে। এমনকি তাদের গবাদি পশু সেদিন সন্ধ্যায় মোটাতাজা এবং উদর পূর্তি করে দুধে স্তন ফুলিয়ে বাড়িতে ফিরে আসবে।

অবস্থা এই হবে যে, সে গোটা দুনিয়া চষে বেড়াবে এবং তা তার পদানত হবে, মক্কা ও মদীনা ব্যতীত। এই দুই শহরের প্রবেশদ্বারে উন্মুক্ত তরবারিসহ সশস্ত্র অবস্থায় ফেরেশতা মোতায়েন থাকবে। শেষে সে একটি ক্ষুদ্র লাল পাহাড়ের পাদদেশে অবতরণ করবে। যা হবে তৃণলতা শূন্য স্থানের শেষভাগ।

এরপর মদীনা তার অধিবাসীসহ তিন বার প্রকম্পিত হবে। ফলে মুনাফেক্ব নারী-পুরুষ মদীনা থেকে বের হয়ে দাজ্জালের সাথে যোগ দিবে। এভাবে মদীনা তার ভেতরকার নিকৃষ্ট ময়লা বিদূরিত করবে। যেমনভাবে হাপর লোহার মরিচা দূর করে। সে দিনের নাম হবে ‘নাজাত দিবস’।

আবুল আকার-কন্যা উম্মু শুরাইক g বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আরবের লোকেরা তৎকালে কোথায় থাকবে? তিনি বলেন, তৎকালে তাদের সংখ্যা হবে খুবই নগণ্য। তাদের অধিকাংশ (ঈমানদার) বান্দা তখন বায়তুল মুক্বাদ্দাসে অবস্থান করবে। তাদের ইমাম হবেন একজন নিষ্ঠাবান সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তি।

এমতাবস্থায় একদিন তাদের ইমাম তাদের নিয়ে ফজরের ছালাত পড়বেন। ঈসা ইবনু মারইয়াম e সেই সকালবেলা অবতরণ করবেন। তখন ইমাম পেছন দিকে সরে আসবেন, যেন ঈসা ইবনু মারইয়াম e সামনে অগ্রসর হয়ে লোকদের ছালাতে ইমামতি করতে পারেন। ঈসা e তাঁর হাত ইমামের দুই কাঁধের উপর রেখে বলবেন, আপনি অগ্রবর্তী হয়ে ছালাতে ইমামতি করুন। কেননা এই ছালাত আপনার জন্যই ক্বায়েম হয়েছে। অতএব তাদের ইমাম তাদেরকে নিয়ে ছালাত পড়বেন।

তিনি ছালাত থেকে অবসর হলে ঈসা e বলবেন, দরজা খুলে দাও। তখন দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং দরজার পেছনে দাজ্জাল অবস্থানরত থাকবে। তার সাথে থাকবে ৭০ হাজার ইয়াহূদী কারুকার্যখচিত ও খাপবদ্ধ তরবারিসহ। দাজ্জাল ঈসা e-কে দেখামাত্র পানিতে লবণ বিগলিত হওয়ার ন্যায় বিগলিত হতে থাকবে এবং ভয়ে পলায়ন করতে থাকবে। তখন ঈসা e বলবেন, তোর উপর আমার একটা আঘাত আছে, যা থেকে তোর বাঁচার কোনো উপায় নেই। তিনি লুদ্দ-এর পূর্ব ফটকে তার নাগাল পেয়ে যাবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা ইয়াহূদীদের পরাজিত করবেন। আল্লাহর সৃষ্টি যে কোনো বস্তু-পাথর, গাছপালা, দেয়াল অথবা প্রাণী, যার আড়ালেই কোনো ইহূদী লুকিয়ে থাকবে, আল্লাহ তাকে বাকশক্তি দান করবেন এবং সে ডেকে বলবে, হে আল্লাহর মুসলিম বান্দা! এই যে এক ইয়াহূদী, এদিকে এসো এবং তাকে হত্যা করো। তবে গারক্বাদ নামক গাছ কথা বলবে না। কারণ সেটা ইয়াহূদীদের গাছ।

রাসূলুল্লাহ a বলেন, দাজ্জাল ৪০ বছর বিপর্যয় ছড়াবে। তার এক বছর হবে অর্ধ বছরের সমান, এক বছর হবে এক মাসের সমান, এক মাস এক সপ্তাহের সমান এবং অবশিষ্টকাল অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বায়ুমণ্ডলে উড়ে যাওয়ার মতো দ্রুত অতিক্রান্ত হবে। তোমাদের কেউ সকালবেলা মদীনার এক ফটকে থাকলে তার অপর ফটকে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! এত ক্ষুদ্র দিনে আমরা কীভাবে ছালাত পড়ব? তিনি বলেন, তোমরা অনুমান করে ছালাতের সময় নির্ধারণ করবে, যেমন তোমরা লম্বা দিনে অনুমান করে ছালাতের সময় নির্ধারণ করে থাক এবং এভাবে ছালাত আদায় করবে।

রাসূলুল্লাহ a বলেন, ঈসা ইবনু মারইয়াম e আমার উম্মতের একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক ও ইনছাফকারী ইমাম হবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন। এমনভাবে শূকর হত্যা করবেন যে, তার একটিও অবশিষ্ট থাকবে না। সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে তিনি জিযইয়া মওকূফ করবেন। যাকাত আদায় বন্ধ করবেন এবং না বকরির উপর যাকাত ধার্য করা হবে, আর না উটের উপর। লোকদের মাঝে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতার অবসান হবে। প্রত্যেক বিষাক্ত প্রাণী বিষশূন্য হয়ে যাবে। এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশু তার হাত সাপের মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দিবে। কিন্তু তা তার কোনো ক্ষতি করবে না। এক ক্ষুদ্র মানবশিশু সিংহকে তাড়া করবে। তা তার কোনো ক্ষতি করবে না। নেকড়ে বাঘ মেষ পালের সাথে এমনভাবে অবস্থান করবে যেন তা তার পাহারায় রত কুকুর। পানিতে পাত্র পরিপূর্ণ হওয়ার মতো পৃথিবী শান্তিতে পূর্ণ হয়ে যাবে। সকলের কালেমা এক হয়ে যাবে।

আল্লাহ ব্যতীত কারো ইবাদত করা হবে না। যুদ্ধ-বিগ্রহ তার সাজ-সরঞ্জাম রেখে দিবে। কুরাইশদের রাজত্বের অবসান হবে। পৃথিবী রূপার পাত্রের ন্যায় স্বচ্ছ হয়ে যাবে। তাতে এমন সব ফলমূল উৎপন্ন হবে, যেমনটি আদম e-এর যুগে উৎপাদিত হতো। এমনকি কয়েকজন লোক একটি আঙুরের থোকার মধ্যে একত্র হতে পারবে এবং তা সকলকে পরিতৃপ্ত করবে। অনেক লোক একটি ডালিমের জন্য একত্র হবে এবং তা সকলকে পরিতৃপ্ত করবে। তাদের বলদ গরু হবে এই এই (উচ্চ) মূল্যের এবং ঘোড়া স্বল্প মূল্যে বিক্রয় হবে। লোকজন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঘোড়া সস্তা হবে কেন? তিনি বলেন, কারণ যুদ্ধের জন্য কখনো কেউ অশ্বারোহী হবে না। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, গরু অতি মূল্যবান হবে কেন? তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে কৃষিকাজ সম্প্রসারিত হবে।

দাজ্জালের আবির্ভাবের তিন বছর পূর্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে। তখন মানুষ চরমভাবে অন্নকষ্ট ভোগ করবে। প্রথম বছর আল্লাহ তাআলা আসমানকে তিন ভাগের এক ভাগ বৃষ্টি আটকে রাখার নির্দেশ দিবেন এবং যমীনকে নির্দেশ দিলে তা এক-তৃতীয়াংশ ফসলের কম উৎপাদন করবে। এরপর তিনি আসমানকে দ্বিতীয় বছর একই নির্দেশ দিলে, তা দুই-তৃতীয়াংশ কম বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং যমীনকে হুকুম দিলে তাও দুই-তৃতীয়াংশ কম ফসল উৎপন্ন করবে। এরপর আল্লাহ তাআলা আকাশকে তৃতীয় বছরে একই নির্দেশ দিলে তা সম্পূর্ণভাবে বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দিবে। ফলে এক ফোঁটা বৃষ্টিও বর্ষিত হবে না। আর তিনি যমীনকে নির্দেশ দিলে তা শস্য উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখবে। ফলে যমীনে কোনো ঘাস জন্মাবে না, কোনো সবজি অবশিষ্ট থাকবে না। বরং তা ধ্বংস হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যা চাইবেন। জিজ্ঞেস করা হলো, এ সময় লোকেরা কীভাবে বেঁচে থাকবে? তিনি বলেন, যারা তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার), তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) ও তাহমীদ (আল-হামদুলিল্লাহ) বলতে থাকবে; তাদের খাদ্যনালীতে এসব যিকির-আযকার প্রবাহিত হবে।[1]

তাহক্বীক্ব : হাদীছটি যঈফ। এতে দুটি সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, এখানে মুহারিবী নামক একজন রাবী তাদলীস করেছেন। দ্বিতীয়ত, অপর রাবী ইসমাঈল ইবনু রাফে‘ যঈফ রাবী।[2]

হাদীছ-১৩ : ‘যখন লোকেরা দাজ্জালের কথা ভুলে যাবে ও খত্বীবগণ মেম্বারে তার কথা বলা বর্জন করবে, তখন দাজ্জাল বের হবে’।[3]

তাহক্বীক্ব : যঈফ হাদীছ। ইমাম ইবনু হাজার আসক্বালানী p বলেছেন, ‘এই বর্ণনায় ইরসাল রয়েছে’।[4]

হাদীছ-১৪ : ‘ইবনু মুলায়কা c একদা রাতে ঘুমাতে পারলেন না। কেননা তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে, দাজ্জাল ইতোমধ্যে আবির্ভাব হয়ে গেছে’।[5]

তাহক্বীক্ব : প্রথমত, ইবনু জুরাইজ তাদলীস করেছেন।[6] দ্বিতীয়ত, এটি একজন ছাহাবীর স্বপ্ন, যা কোনো দলীল নয়। নবীদের স্বপ্ন অহী হয়ে থাকে। কিন্তু উম্মতের স্বপ্ন অহী নয়। উম্মতের স্বপ্ন সত্য-মিথ্যা উভয়ের-ই সম্ভাবনা রাখে।

হাদীছ-১৫ :

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحِ بْنِ هَانِئٍ ثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّعْرَانِيُّ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ ثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِي قَبِيلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ k قَالَ لِلدَّجَّالِ آيَاتٌ مَعْلُومَاتٌ إِذَا غَارَتِ الْعُيُونُ وَنَزَفَتِ الْأَنْهَارُ وَاصْفَرَّ الرَّيْحَانُ وَانْتَقَلَتْ مَذْحِجُ وَهَمْدَانُ مِنَ الْعِرَاقِ فَنَزَلَتْ قِنَّسْرِينَ فَانْتَظِرُوا الدَّجَّالَ غَادِيًا أَوْ رَائِحًا هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ، وَلَمْ يُخْرِجَاهُ.

‘দাজ্জাল আগমনের তিনটি প্রসিদ্ধ নিদর্শন রয়েছে। ১. যখন ঝর্ণাসমূহ ধ্বংস হয়ে যাবে। ২. নদীগুলো শুকিয়ে যাবে। ৩. ফুলগুলো হলুদ হয়ে যাবে। ৪. মাযহিজ ও হামাদান ইরাক হতে স্থানান্তরিত হয়ে কিন্নাসরীনে চলে যাবে। তখন তোমরা দাজ্জালের আবির্ভাবের অপেক্ষায় থাকবে। সে সকাল-সন্ধ্যা যে কোনো সময়ে আত্মপ্রকাশ করবে’।[7]

তাহক্বীক্ব : হাদীছটির সনদ যঈফ। কেননা এর রাবী ফযল ইবনু মুহাম্মাদ শারানী একজন বিতর্কিত রাবী। মুহাদ্দিছগণ তার ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন।[8] তার কট্টরপন্থী শীআ মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে ইবনুল আখরামের একটি মন্তব্য পাওয়া গেলেও তার কোনো সনদ পাওয়া যায় না। সেজন্য সেটি এখানে উদ্ধৃত করা হলো না। যদিও পরবর্তী কিছু ইমাম উদ্ধৃত করেছেন।

হাদীছ-১৬ : ‘তোমরা জর্ডান নদীর পাড়ে দাজ্জালের সাথে লড়াই করবে’।

তাহক্বীক্ব : যঈফ হাদীছ। এর রাবী মুহাম্মাদ ইবনু আবান যঈফ রাবী।[9]

হাদীছ-১৭ : ‘সূরা কাহফের তিনটি আয়াত পাঠ করলে দাজ্জালের ফেতনা হতে মুক্তি পাওয়া যাবে’।

তাহক্বীক্ব : হাদীছটি শায।[10]

হাদীছ-১৮ : ‘দাজ্জাল বের হবে যখন দ্বীনের অবস্থা দুর্বল হবে এবং জ্ঞান হতে লোকেরা দূরে সরে যাবে’।

তাহক্বীক্ব : যঈফ হাদীছ। আবুয যুবায়ের মুদাল্লিস রাবী।[11]

হাদীছ-১৯ : ‘দুজন ব্যক্তি ঈসা ইবনু মারইয়ামকে পাবে এবং তারা দাজ্জালকে হত্যা করার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে’।

তাহক্বীক্ব : যঈফ হাদীছ। এর রাবী ‘আব্বাদ’ দুর্বল।[12]

হাদীছ-২০ : ‘দাজ্জালের যামানায় ফেরেশতাদের খাদ্যই হবে মুমিনদের খাদ্য। অর্থাৎ তাসবীহ, তাকদীস ইত্যাদি। যে একবার তাসবীহ ও তাকদীস পাঠ করবে, সে আর ক্ষুধার্ত হবে না’।

তাহক্বীক্ব : অত্যন্ত যঈফ। এর রাবী ‘সাঈদ’ মিথ্যার দোষে দুষ্ট।[13]                                                                                                                              (চলবে)


* সৈয়দপুর, নীলফামারী।

[1]. ইবনু মাজাহ, হা/৪০৭৭।

[2]. যুবায়ের আলী যাঈ, ইবনু মাজাহ, ৫/৩৭৬।

[3]. আহমাদ, হা/১৬৬৬৭; আল-আহাদ ওয়াল মাসানী, হা/৯০৭; মুসনাদুশ শামিঈন, হা/৯৯২।

[4]. আল-ইসাবাহ, ৩/৩৪৫; আরও দেখুন : তাহযীবুত তাহযীব, রাবী নং ৭৩৬, ৪/৪২১।

[5]. আল-মুসতাদরাক হাকেম, হা/৮৪১৯।

[6]. ইবনু হাজার, তাবাকাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৮৩।

[7]. মুসতাদরাক হাকেম, হা/৮৪২০।

[8]. ইবনু আবী হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তাদীল, রাবী নং ৩৯৩।

[9]. সিলসিলা যঈফা, হা/১২৯৭।

[10]. সিলসিলা যঈফা, হা/১৩৩৬।

[11]. সিলসিলা যঈফা, হা/১৯৬৯।

[12]. সিলসিলা যঈফা, হা/৩৭১৬।

[13]. সিলসিলা যঈফা, হা/৩৮২৫।