দাড়িবিহীন মুসলিম!
-মুরতযা বিন আযহার*


দুনিয়াজুড়ে দাড়িবিহীন মুসলিমের অভাব নেই। তাদেরই সংখ্যাধিক্য। যারা ছালাত পড়ে না, তাদের তো দাড়ি নেইই, দাড়ি থাকার কথাও নয়। কেননা তারা তো ইসলামের মূল রুকনই মানে না! কিন্তু যারা ছালাত পড়ে, তাদেরও অনেকেরই দাড়ি নেই। এর কারণ হিসেবে যেটা মনে হয়েছে— ছোটবেলায় জালসা এবং খুৎবাতে শুনতাম দাড়ি রাখা সুন্নত। সেই প্রভাব এখনো কাটেনি। গ্রামে-গঞ্জে এখনো অনেকে মনে করেন মুসলিমদের দাড়ি রাখার বিষয়টি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটা যে এক শ্রেণির আলেমের গাফিলতি, তাতে সন্দেহ নেই। দাড়ি রাখা যে ওয়াজিব— এ বিষয়টি তারা কেন এখনো গোপন রাখছেন, বিষয়টি বড়ই বিস্ময়কর! 

গ্রামে-গঞ্জে শয়ে শয়ে খত্বীবের পেছনের কাতারে হাজার হাজার মুছল্লী ৩০/৩৫ বছর ধরে ছালাত আদায় করছে। যুবক থেকে বুড়ো হতে চলল, তবু তারা দাড়ি চেঁছেই যাচ্ছে। এরাই মোড়ল, গ্রামের সরদার, গ্রামের মাথা! ইমাম সাহেব না এদের ব্যক্তিগতভাবে বললেন, না আমভাবে খুৎবাতে এ বিষয়ে জোরালো বক্তব্য দিলেন!

এই ধরনের মুসলিমরা কেন দাড়ি রাখে না, এ বিষয়ে আরও কিছুটা অনুসন্ধান করা যেতে পারে। এক ডজনেরও বেশি মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে তাদের দাড়ি না রাখার বিষয়টি  জিজ্ঞেস করেছি। শুধু একজন ছাড়া অন্যরা এ বিষয়ে নিরুত্তর থেকেছে। দু-একজন দাড়ি রাখলে গাল চুলকায় একথা বলেছে। এর উত্তরে বলি, প্রথম প্রথম এমনটা হয়, তারপর ঠিক হয়ে যায়। একজনের কথায় পরে আসছি। অন্যরা দাড়ি না রাখার বিষয়টি দুঃখজনকভাবে নিয়েছে। দাড়ি রাখা উচিত বলে মত পোষণ করেছে। একজন, দাড়ি রাখার বিষয়টি কুরআনে উল্লেখ নেই, বলেছে। কথাটিতে ভীষণ অজ্ঞতা জড়িয়ে আছে সন্দেহ নেই। দ্বীনের সব কথা কুরআনে থাকবে কী করে? কুরআন ও হাদীছ মিলিয়েই তো শরীআত। কুরআন ও হাদীছ দুটোই অহী এবং এই উভয় প্রকার অহী মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে মানুষদের। 

দাড়ি রাখার শারীরিক উপকারিতার শেষ নেই। এখানে মাত্র তিনটি বৈজ্ঞানিক উপকারের কথা বলব।

(১) লন্ডন ইউনিভার্সিটির এক গবেষক (রবার্টস) রাস্তা থেকে ১০০ জনের দাড়ির স্যাম্পল সংগ্রহ করেন। গবেষণাগারে কিছু ব্যাকটেরিয়া এই দাড়িগুলোতে ছেড়ে দিয়ে দেখেন, দাড়ির সংস্পর্শে ব্যাকটেরিয়াগুলো বেঁচে থাকতে পারছে না। 

(২) আরেক গবেষণা থেকে জানা যায়, যারা দাড়ি ছেড়ে দেয়, তাদের দাড়ি 25-40% UV Ultra violet ray থেকে ত্বককে রক্ষা করে স্কিন ক্যান্সার হতে বাধা দেয়। ডার্মাটোলজিস্ট ড. অ্যাডাম ফ্রাইডম্যান বলেন, মুখের ত্বক দাড়ি দিয়ে ঢাকা থাকার ফলে সূর্যের আলোর মারাত্মক ক্ষতির প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হয়। এতে ত্বকের ক্ষতি কম হয, রিংকেল পড়ে অনেক দেরিতে। সুতরাং ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেরি হয়।

(৩) যারা দাড়ি কাটে তাদের ত্বক শক্ত হয়। ব্যাকটেরিয়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। যে রেজার দিয়ে দাড়ি কাটা হয়, তাতে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া থাকে এবং উন্মুক্ত খোলা ত্বকে ব্যাক্টেরিয়ার গ্রোথ হয়। ফলে যারা দাড়ি কাটেন তাদের মুখে ইনফেকশন হয়। 

যাহোক, গ্রাম-শহরের অধিকাংশ ছালাত আদায়কারী মানুষ প্রায় বুড়ো হতে চলল, অনেকেই এখনও দাড়ি রাখেন না কেন?

এর জন্য যে কারণগুলো দায়ী মনে হয়েছে—

(১) অধিকাংশ মসজিদে জুমআর খুৎবায় এ বিষয়ে জোরালো বক্তব্য দেওয়া হয় না। অধিকাংশ আলেম বিষয়টির ওপর তেমন গুরুত্ব দেন না।

(২) অধিকাংশ  মুসলিম এখনো মনে করে, দাড়ি রাখা সুন্নাত! তারা মনে করে, সুন্নাত পালন করলে নেকী, আর না পালন করলে কোনো গুনাহ নেই।

(৩) দাড়ি রাখলে মুখের চেহারাটাই পাল্টে যাবে! চেহারার ইয়ং ভাবটা  আর থাকবে না! স্মার্টনেস চলে যাবে।

(৪) অনেকের দাড়ি, মোচ অল্প বয়সেই সাদা হয়ে গেছে, তাই দাড়ি একটুও বড় হতে দেন না। তাদের ধারণা, দাড়ি রাখলেই তিনি সমাজে দাদু বনে যাবেন।

(৫) অনেকের স্ত্রী এ বিষয়ে ভীষণ বাধ সাধেন। স্ত্রীকে সন্তুষ্ট রাখতে অনেকে দাড়ি চাঁছেন। এমন বহু প্রমাণ আছে।

(৬) অনেকে ভাবেন, এই বয়সে আবার দাড়ি কীসের? দাড়ি বুড়ো বয়সেই ছাড়তে হয়।

(৭) কারো কারো ভাবনা, দাড়ি রাখলে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষেরা বিরূপ চোখে দেখে, চাকরিবাকরি বা ব্যবসাসূত্রে বিভিন্নজনের সঙ্গে মিশতে হয়, তাই দাড়ি রাখলে সমাজে চলতে অসুবিধা হয়।

(৮) অনেক যুবক দাড়ি রাখতে দ্বিধা করেন, দাড়ি রাখলে অনেক মেয়ে তাকে পছন্দ করবে না। 

মোটামুটি এই কারণগুলোই অধিকাংশ ছালাত আদায়কারী মুসলিমের দাড়ি না রাখার কারণ বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। এই কারণগুলো সবই দুনিয়াবী। এর জন্য দায়ী তাদের ঈমানী দুর্বলতা। 

‘দাড়ি রাখলে স্মার্টনেস থাকবে না’— আপনি যদি ত্বাগূতের অনুসারী না হন, শয়তান যদি আপনাকে রিমোর্ট না করে, তাহলে দাড়িতেই আপনি প্রকৃত স্মার্ট। স্রষ্টা প্রদত্ত প্রকৃতিগত নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের বিকৃতি না ঘটিয়েই আপনি সুন্দর, স্বাস্থ্যবান, সৃষ্টির সেরা! দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিন দেখবেন, আপনিই প্রকৃত স্মার্ট। একমাত্র বিকৃতমনা এবং দোদুল্যমানরাই  দাড়িতে নিজেকে আনস্মার্ট ভাবে।

আর যে মেয়ে আপনাকে দাড়িওয়ালা ভেবে অপছন্দ করবে, সে তো আপনার যোগ্যই নয়। দাড়ির জন্য আপনি তো এক  মহা ফিতনার বিপদ থেকেই বেঁচে গেলেন। সমস্ত শয়তান নারী আপনা থেকে দূরে চলে যাবে! এ তো আপনার সৌভাগ্য! এতে আপনার ইহকালীন ও পরকালীন মহাকল্যাণ নিশ্চিত হলো।

আর দাড়ি সাদার জন্য চিন্তা কীসের? কিয়ামতের দিন সেগুলো তো সব আপনার জন্য জ্যোতিস্বরূপ। তাছাড়া আপনাকে এগুলো তো কালো রং ব্যতীত অন্য রঙে রঞ্জিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে! দেখুন না একবার রং করে, কীভাবে চকচক করে আপনার চেহারা! 

আর স্ত্রীকে নয়; আল্লাহকে সন্তুষ্ট করুন। হিকমতের সঙ্গে স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। স্ত্রীর হেদায়াতের জন্য আল্লাহর সাহায্য চান। ইনশাআল্লাহ সে বুঝবে।

কে কোন বয়সে মারা যাবে, কেউ জানে না। আপনি বুড়ো বয়স পাবেন তার গ্যারান্টি কোথায়? তাই আর অপেক্ষা নয়। ‘আজ কা কাম কাল পার না ডাল,’ ‘ডু ইট নাও’— এখনই! এখনই দাড়ি রাখুন।

বিশ্বের লাখ লাখ দাড়িওয়ালা মানুষ কীভাবে সমাজে চলছে, তাদের দেখে শিখুন। পাঞ্জাবের শিখদের দেখে শিখুন, তাদের সবারই দাড়ি আছে। তারা সমস্ত সম্প্রদায়ের সঙ্গে চলে। তাদের তো অসুবিধা হয় না! ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়,  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দাড়িওয়ালা ব্যক্তি বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞার অধিকারী হয়। শুধু মুসলিমরাই নয়; যুগে যুগে  বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানীগুণীদের বেশিরভাগেরই দাড়ি ছিল। অ্যারিস্টোটল, প্লেটো, সক্রেটিস, পিথাগোরাস, টলেমি, জর্জ বার্নাড শ, চার্লস ডিকেন্স, আর্নেস্ট মিলার, টমাস হার্ডি, রবার্ট ব্রাউনিং, গ্যা লিলিও, চার্লস ডারউইন, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, আবরাহাম লিংকন, লেলিন, গুরু নানক, ওমর খৈয়াম, কবি হাফিজ, রুমি, শেখ সাদী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আরও কত উল্লেখ করা যায়। এদের প্রত্যেকেরই দাড়ি ছিল। 

আল্লাহ তাআলা মানুষকে সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। মুখমণ্ডলের সৌন্দর্যের জন্য দাড়ির প্রয়োজনীয়তা আছে বলেই তিনি উপযুক্ত জায়গায় তা দিয়েছেন। সৃষ্টির সৌন্দর্যকে পরিবর্তন করার অধিকার কে আপনাকে দিল? তিনি তো আপনাকে তা পরিবর্তন করতে নিষেধ করছেন? আর আপনি তা অমান্য করছেন? এরপরও আপনি নিজেকে ধার্মিক মনে করেন? কখনোই নয়।

শরীরের যেখানে যা দরকার, সেখানে তাই তিনি দিয়েছেন। কর্ণকুহর, নাসিকা গহ্বর, চোখের পাতার লোম, জীবাণুরোধ করার জন্য কত যে দরকারি তা আল্লাহই মা‘লূম। বগলের নিচে, নাভির নিচের লোমগুলো কাটা সর্বোচ্চ সীমা হলো ৪০ দিন। প্রতি সপ্তাহে যদি আপনি পরিষ্কার করেন, তবে সবচেয়ে ভালো। অথচ মাসের পর মাস,  বছর পার হয়ে যায়, তবুও পরিষ্কার করেন না। অথচ আপনি সপ্তাহে তিন দিন দাড়ি কাটেন! আপনি যেমন আল্লাহর বিধান অস্বীকারকারী, তেমনি আপনি বড় নোংরাও বটে?

দাড়ির বিষয়ে মুসলিমরা মুসলিমদের শত্রু। অমুসলিম দেশে মুসলিমরা দাড়ি রাখতে ভয় পায়। কেননা, দাড়িওয়ালা ব্যক্তিদের কখনো কখনো নানাভাবে অত্যাচার করা হয়। কিন্তু প্রত্যেক মুসলিমের যদি দাড়ি থাকে, তাহলে শুধু দাড়ি রাখার জন্য আপনার উপর অত্যাচার হবে না। শুধু দাড়ি রাখার জন্য যদি কাউকে যদি ঘৃণা করা হয়, অত্যাচার করা হয়— এর জন্য দাড়িবিহীন সমস্ত মুসলিমগণ দায়ী। এটা স্বীকার করতেই হবে।  

আর আপনি দাড়িকে ঘৃণা করছেন,  অপছন্দ করছেন! রাসূল a দাড়িবিহীন ব্যক্তির দিকে তাকাতেন না। মুখ ঘুরিয়ে কথা বলতেন।[1] দাড়িবিহীন মানুষকে তিনি কতটা অপছন্দ করতেন এটা তার প্রমাণ। 

আপনি কীসের ঈমানদার? ঈমানের অর্থ শুধু বিশ্বাস নয়; ঈমানের অর্থ  স্বীকৃতিও। আপনাকে কাজেও বাস্তবায়ন করতে হবে! আপনার চেহারাটাও মুসলিমদের মতো হওয়াটাও ঈমানের বাহ্যিক রূপ। আপনি দাড়ি চেঁছে অমুসলিম, মুশরিকদের মতো অবয়বে সমাজে নিজেকে ভাসাবেন? আর বলবেন,  আমি মুসলিম? এতে আপনি কি বোঝাতে চাইছেন? আপনি দাড়িবিহীন থাকেন কী করে? আপনি কেমন মুসলিম, যে আপনার চেহারা দেখে বোঝা যায় না,  আপনি মুসলিম কিনা! রাসূল a বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত হিসাবে গণ্য হবে’।[2]

নিজেদের আত্মসম্মান নিজেরা তৈরি করুন। আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্মের অনুসারী হয়েও, বিশ্বের একমাত্র সমুন্নত জীবন ব্যবস্থায় অঙ্গীভূত  হয়েও আপনি ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে’ ভুগছেন? এ বড় লজ্জার কথা! তার মানে আপনি শিরদাঁড়াহীন মুসলিম? আপনি মূর্খ মুসলিম?

আপনি তো জানলেন, দাড়ি রাখা ওয়াজিব! কিন্তু আপনি কি জানেন ‘ফরয’ ও ‘ওয়াজিব’ এর অর্থ একই। এর অর্থ হলো— অপরিহার্য, অতি আবশ্যক এবং জরুরী। কখনো কখনো রাসূল a ফরয বুঝাতে ওয়াজিব শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এই মর্মে অনেক হাদীছও আছে।  তবে একদল ফক্বীহ এই শব্দ দুটির মধ্যে  কিছু  পার্থক্য করেছেন। তারা বলেছেন, ফরয অস্বীকার করলে কাফের হয়ে যাবে এবং ওয়াজিব অস্বীকার করলে কাফের হবে না; ফাসিক্ব হবে। তবে প্রথমোক্ত মতটিই  সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। 

‘ফাসেক্ব’-এর অর্থ হলো, ‘বের হয়ে যাওয়া’, ‘অবাধ্যতা’। পারিভাষিক অর্থ হলো, ‘আল্লাহর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে যাওয়া’। একমাত্র ‘পাপাচারী’ই আল্লাহর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে যায়। তাহলে ফাসেক্বের সরাসরি অর্থ হলো, ‘পাপাচারী’ অথবা ‘পাপিষ্ঠ’। দাড়ি কর্তনকারী যদি মিনিমাম ফাসেক্বই হন, তাহলেও তিনি দিন-রাত প্রকাশ্যে কাবীরা গুনাহে লিপ্ত, পাপাচারী! আর এমন ব্যক্তি  তওবা না করে মারা গেলে জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করতে হবে। আপনি একজন ছালাত আদায়কারী মানুষ, কেন দিন-রাত এভাবে ফাসেক্ব অবস্থায় থাকবেন? কেন জাহান্নামকে ভয় নেই আপনার? কোন বুদ্ধি, কোন সাহসে আপনি নিজেকে ধ্বংস করার এই সর্বনাশা কাজে লিপ্ত আছেন? আল্লাহর দেওয়া বিধান মানতে আপনার এত দ্বিধা কেন? কে আপনাকে বাধা দিচ্ছে? নিশ্চয় আপনার অন্তর বক্র-রোগাক্রান্ত হয়ে গেছে! আপনার হৃদয়ে শয়তান বাসা বেধেছে! শয়তানকে বিতাড়িত করুন, আর ফিরে আসুন আসল ইসলামে!

মক্কার মুশরিকরাও তো আপনার মতো ছিল না। তারাও তো দাড়ি রাখত। আবূ জাহলের দাড়ি ধরেই তো তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

প্রত্যেক নবী-রাসূলের দাড়ি ছিল। রাসূল  a নিজে দাড়ি রেখেছেন, প্রত্যেক ছাহাবী, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন এবং তার পরবর্তী সমস্ত সালাফে ছালেহীনের দাড়ি ছিল। চার মাযহাবে বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য থাকলেও দাড়ি রাখার বিষয়ে কোনো মতানৈক্য নেই। দাড়ি রাখার বিষয়ে একাধিক হাদীছে রাসূল a দাড়ি রাখতে আদেশ বা নির্দেশ করছেন। সুতরাং আপনাকে দাড়ি রাখতেই হবে। কোনো ফাঁকফোকর, ওযর-আপত্তির কোনো সুযোগ নেই। নিম্নে দাড়ি বিষয়ক কয়েকটি হাদীছ উল্লেখ করা হলো :

১. ইবনু উমার h থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ  a বলেছেন, ‘তোমরা গোঁফ বেশি ছোট করবে এবং দাঁড়ি বড় রাখবে’।[3] ‏২. আবূ হুরায়রা c থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ  a  বলেন, ‘তোমরা মোচ কেটে ফেলো এবং দাড়ি লম্বা করে অগ্নিপূজকদের বিরুদ্ধাচরণ করো’।[4] ‏৩. আয়েশা g থেকে বর্ণিত, নবী a বলেছেন, ‘দশ প্রকার কাজ ফিতরাতের (স্বভাব ধর্মের) অন্তর্গত : (১) গোঁফ কাটা, (২) দাড়ি লম্বা করা, (৩) মিসওয়াক করা, (৪) নাকে পানি দেওয়া, (৫) নখ কাটা, (৬) আঙুলের গ্রন্থিগুলো ধোয়া, (৭) বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা, (৮) নাভির নিম্নাংশের চুল কামানো এবং (৯) পানি দ্বারা শৌচ করা’। যাকারিয়া p বলেন, মুসআব p বলেছেন, আমি দশম কাজটি ভুলে গেছি। তবে সম্ভবত সেটা হবে কুলি করা।[5]

সুতরাং আসুন! আমরা নারীর বেশ না ধরে দাড়ি রেখে ইসলামের এ বিধানটি গুরুত্বের সাথে পালন করি।


* মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

[1]. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪/৪৬৭।

[2]. আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১, হাসান ছহীহ।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯; মিশকাত, হা/৪৪২১।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৬০।

[5]. ইবনু মাজাহ, হা/২৯৩; তিরমিযী, হা/২৭৫৭, হাদীছ ছহীহ।