দাড়ি সম্পর্কে ইসলামের বিধান


 সাজ্জাদ সালাদীন*


দাড়ি আল্লাহর একটি বড় নেয়ামত এবং ইসলামের চিহ্ন বলে বিবেচিত। দাড়ি মানেই পুরুষত্ব। এটি পুরুষত্বের পরিচয় ও সৌন্দর্যস্বরূপ মহান আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ চাইলে পুরুষদের সৃষ্টি করতে পারতেন দাড়িবিহীন। কিন্তু তিনি দাড়ি দিয়ে পুরুষকে নারী থেকে স্বতন্ত্র করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলাই বেশি জানেন যে, পুরুষের জন্য কোনটি বেশি উপযোগী? তিনি পুরুষের জন্য দাড়ি পছন্দ করেছেন, তাই এর দ্বারা তাকে সজ্জিত করেছেন। আল্লাহ যা পছন্দ করেছেন, কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি কি সেটাকে অপছন্দ করতে পারে? আল্লাহ বেশি জানেন, না-কি বান্দা বেশি জানে? কারণ, মানুষের জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ﴿أَأَنْتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ﴾ ‘তোমরা কি বেশি জানো, না আল্লাহ?’ (আল-বাক্বারা, ২/১৪০)। মহান আল্লাহ আরও বলেন, ﴿أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ﴾ ‘যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি সূদক্ষদর্শী, সম্যক অবগত’ (আল-মুলক, ৬৭/১৪)

দাড়ি মহান আল্লাহর প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহের অন্যতম। এর দ্বারা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ﴿ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ﴾ ‘এটাই আল্লাহর বিধান। আর কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করলে এটা তো তার হৃদয়ের তাক্বওয়ারই বহিঃপ্রকাশ’ (আল-হজ্জ, ২২/৩২)

দাড়ির পরিচয় :

আরবী ভাষায় দাড়িকে বলা হয় (لِحْيَةٌ) লিহইয়াতুন। বহুবচন (لِحَى، لُحَى) এর আভিধানিক অর্থ হলো থুতনিসহ মুখের দুই পাশের ওই হাড়, যার ওপর দাঁতগুলো অবস্থিত। প্রাপ্তবয়সে ওই হাড়ের ওপর যে লোম বা কেশ গজায়, ওই লোম বা কেশগুলোকেই হাড়ের নামকরণে লিহইয়া বলা হয়।

ছহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ উমদাতুল ক্বারীতে দাড়ির সংজ্ঞায় বলা হয়েছে,  هي اسم لما نبت على الخدين والذقن ‘দুই গাল এবং থুতনিতে গজানো কেশকে দাড়ি বলে’।[1] ছহীহ মুসলিম গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল মুলহিমেও এমনটি বলা হয়েছে।[2]

দাড়ি রাখার গুরুত্ব :

আমাদের দেশে দাড়ি রাখা সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে, সেটা হলো দাড়ি রাখা সুন্নাত। অতএব দাড়ি রাখলে ভালো আর না রাখলে তেমন কোনো সমস্যা নেই; একটি সুন্নাত পালন করা হলো না— এই আর কী। জেনে রাখুন, এটি সম্পূর্ণ একটা ভুল ধারণা। দাড়ি রাখা কোন অর্থে সুন্নাত আর কোন অর্থে ফরয বা ওয়াজিব আগে সেটা বুঝার চেষ্টা করুন। ইসলামী শরীআতের প্রধান উৎস হচ্ছে কুরআন ও রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর ছহীহ সুন্নাহ বা ছহীহ হাদীছ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যে সকল বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন ও নিষেধ করেছেন, তা পালন করা আমাদের জন্য ফরয। আল্লাহ তাআলা যেমন মুসলিমদের জন্য কোনোকিছু ফরয করেন, নবী (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)ও তেমনি ফরয বা ওয়াজিব করেন। তার কারণ হচ্ছে রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) কখনো নিজের কল্পনাপ্রসূত কোনো কথা বলতেন না; আল্লাহ তাঁর নিকট যা অহী করতেন তিনি তাই বলতেন (আন-নজম, ৫৩/৩-৪)। তাছাড়া আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য করতে আমাদের আদেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا﴾

‘যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যারা মুখ ফিরিয়ে নেয় আমরা আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক নিযুক্ত করিনি’ (আন-নিসা, ৪/৮০)

নবী-রাসূলগণের দাড়ি ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ﴿قَالَ يَا ابْنَ أُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي وَلَا بِرَأْسِي﴾ ‘(হারূন (আলাইহিস সালাম) বলল,) হে আমার জননী-তনয় (মূসা), আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরে টানিয়ো না’ (ত্ব-হা, ২০/৯৪)। আমাদের নবী (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) দাড়ি রেখেছেন বলেই দাড়ি নবীজীর সুন্নাত বলে তার গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেননা রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) শুধু নিজেই দাড়ি রাখেননি, বরং তা রাখার জন্যে সবাইকে নির্দেশও দিয়েছেন। তাছাড়া রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) দাড়ির বিষয়ে যে সকল আদেশসূচক শব্দ ব্যবহার করেছেন তার বিপরীতে এমন কোনো হাদীছ খুঁজে পাওয়া যাবে না যা দ্বারা দাড়িকে সুন্নাত বা মুস্তাহাব সাব্যস্ত করা যাবে। এছাড়াও ইজমা-ক্বিয়াস দ্বারাও কোনোভাবেই দাড়ি রাখা ফরয নয়- এই কথা বলার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। বরং অধিকাংশ আলেমের দাড়ি রাখা ওয়াজিব।

ইবনু উমার (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, خَالِفُوا المُشْرِكِينَ وَفِّرُوا اللِّحَى وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ ‘মুশরিকদের বিরোধিতা করত মোচ খাটো করো এবং দাড়ি লম্বা করো’।[3] আবূ হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, جُزُّوا الشَّوَارِبَ وَأَرْخُوا اللِّحَى خَالِفُوا الْمَجُوسَ ‘তোমরা মোচ খাটো করো ও দাড়ি বাড়াও এবং অগ্নিপূজারিদের বিরোধিতা করো’।[4] রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, انْهَكُوا الشَّوَارِبَ، وَأَعْفُوا اللِّحَى ‘মোচ কাটো এবং দাড়ি লম্বা করো’।[5] রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এমন পুরুষদের উপর অভিশাপ করেন, যারা মহিলাদের বেশ ধারণ করে।[6] আর দাড়িমুণ্ডন করা মহিলাদের বেশ ধারণ করার অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হওয়ার কারণ।

দাড়ির ব্যাপারে বিশ্ববরেণ্য আলেমগণের ফাতাওয়া :

উলামায়ে কেরাম হালাল-হারামের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তাই আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন,﴿فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ﴾ ‘অতএব তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো’ (আন-নাহল, ১৬/৪৩)। আলেমদের ফাতাওয়া হলো, দাড়ি রাখা ফরয আর মুণ্ডন বা শেভ করা হারাম। ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত: ৪৫৬ হি.) বলেন,

اتفق العلماء على أن قص الشارب وإعفاء اللحية فرض

‘সমস্ত আলেম একমত যে, মোচ কাটা এবং দাড়ি রাখা ফরয’।[7] ইমাম ইবনু আবদিল বার (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত: ৪৬৩ হি.) তাঁর তামহীদ কিতাবে বলেন,

يَحرُم حَلق اللِّحية ولا يَفعله إلا المُخنَّثون منَ الرجال يعني بذلك المتشبِّهين بالنِّساء

‘দাড়িমুণ্ডানো হারাম। আর এ কাজটি পুরুষের মধ্যে মুখান্নাছ বা নারীর বেশ ধারণকারীরাই করে থাকে’।[8]

সুধী পাঠক! উপরে উল্লেখিত দলীল-প্রমাণাদির মাধ্যমে জানতে পারা যায় যে, দাড়ি লম্বা করা ওয়াজিব এবং মুণ্ডানো বা শেভ করা হারাম। দাড়ি মুণ্ডানো বা শেভ করলে আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করা হয়, যা করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআলাকে মানবের সেরা শত্রু দুষ্ট ইবলীস শয়তান বলল, ﴿وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ﴾ ‘আর অবশ্যই আমি তাদেরকে নির্দেশ দিব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে’ (আন-নিসা, ৪/১১৯)

রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়ির আকৃতি কেমন ছিল :

রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়ি লম্বা ছিল; ছাহাবীগণের দাড়িও লম্বা ছিল। আলী (রাযিআল্লাহু আনহুমা রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর বর্ণনা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেন যে, ‘তিনি অনেক বড় দাড়ির অধিকারী ছিলেন’।[9] জাবের ইবনু সামুরা (রাযিআল্লাহু আনহুমা বলেন যে, রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়ি ছিল বেশি ঘন।[10]

দাড়ির প্রতি অবজ্ঞাকারীদের ঈমান নবায়ন করতে হবে, ইসলামের কোনো নিদর্শন নিয়ে ঠাট্টা-মজাক করা বা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সুন্নাতকে অবজ্ঞা বা উপহাস করা কুফরী কাজ, যা দ্বারা মানুষ ঈমান হতে খারিজ হয়ে যায় (আত-তওবা, ৯/৬৫)। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‘যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে’।[11] হাদীছটিকে শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) ছহীহ বলেছেন।[12]

যারা অমুসলিমদের বেশভূষা বা চালচলন, চুল বা দাড়ির কাটছাঁট পছন্দ করে, তারা এটা বিজাতীদের ভালোবেসেই করে। যদি এমনটি হয়, তাহলে তারা নিশ্চয় তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনে সুস্পষ্টভাবে ঈমানদারদেরকে সাবধান করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ﴿وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ﴾ ‘তোমাদের কেউ তাদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করলে সে নিশ্চয় তাদেরই একজন’ (আল-মায়েদা, ৫/৫১)। সঊদী আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ এ ব্যাপারে বলেন, দাড়িমুণ্ডন বা দাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হতে কিছু কেটে নেওয়া বৈধ নয়। এটা রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাত বিরোধী কাজ।[13]

চুলে ও দাড়িতে রং করার বিধান :

চুল বা দাড়িতে কালো রং লাগানো একটি হারাম কাজ ও কবীরা গোনাহ। কিন্তু সাদা চুল-দাড়ি মেহদি বা অন্য রং দিয়ে পরিবর্তন করা নবী (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নাত। তিনি সাদা চুলকে কালো রং বাদ দিয়ে অন্য রং দিয়ে পরিবর্তন করতে আদেশ দিয়েছেন। আবূ হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন,إِنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى لاَ يَصْبُغُونَ فَخَالِفُوهُمْ ‘ইয়াহূদী ও নাসারারা চুল ও দাড়িতে খেযাব লাগায় না। সুতরাং তোমরা খেযাব লাগিয়ে তাদের বিপরীত করো’।[14] কিন্তু কিয়ামতের পূর্বে লোকেরা এ আদেশ অমান্য করে কালো রং দিয়ে খেযাব (কলপ) লাগাবে। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল্লাহ (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন,

يَكُونُ قَوْمٌ يَخْضِبُونَ فِى آخِرِ الزَّمَانِ بِالسَّوَادِ كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ لاَ يَرِيحُونَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ

‘শেষ যুগে এমন সম্প্রদায়ের আর্বিভাব হবে, যারা কবুতরের গলায় থলের ন্যায় কালো রঙের খেযাব লাগাবে। তারা জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না’।[15] কারোর মাথার চুল বা দাড়ি সাদা হয়ে গেলে তাতে কালো ছাড়া যে কোনো রং লাগানো সুন্নাত। এ প্রসঙ্গে জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,

أُتِىَ بِأَبِى قُحَافَةَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ وَرَأْسُهُ وَلِحْيَتُهُ كَالثَّغَامَةِ بَيَاضًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ غَيِّرُوا هَذَا بِشَىْءٍ وَاجْتَنِبُوا السَّوَادَ

‘মক্কা বিজয়ের দিন (আবূ বকর (রাযিআল্লাহু আনহুমা-এর পিতা) আবূ কুহাফাহকে (রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে) উপস্থিত করা হলো। তখন তার মাথায় চুল ও দাড়ি সাদা ফল ও ফুলবিশিষ্ট গাছের ন্যায় দেখাচ্ছিল। তা দেখে রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) ছাহাবীগণকে বললেন, তোমরা কোনোকিছু দিয়ে এই রং পরিবর্তন করে দাও। তবে কালো রং কিন্তু লাগাবে না’।[16]

রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) সাধারণত মেহেদি, যাফরান ও ওয়ারস দিয়ে কালার করতেন। ইবনু উমার (রাযিআল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত,

أَنَّ النَّبِىَّ كَانَ يَلْبَسُ النِّعَالَ السِّبْتِيَّةَ وَيُصَفِّرُ لِحْيَتَهُ بِالْوَرْسِ وَالزَّعْفَرَانِ

‘নবী (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) পাকা চামড়ার তৈরি জুতা পরতেন এবং তাঁর দাড়িতে ওয়ারসের রস ও যাফরান লাগাতেন’।[17] রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আরও বলেন, إِنَّ أَحْسَنَ مَا غُيِّرَ بِهِ هَذَا الشَّيْبُ الْحِنَّاءُ وَالْكَتَمُ ‘নিশ্চয় সর্বশ্রেষ্ঠ বস্তু যা দিয়ে বার্ধক্যের সাদা বর্ণকে পরিবর্তন করা যায়, তা হচ্ছে মেহেদি ও কাতাম, যার ফল মরিচের ন্যায়’।[18] রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, كُلُّ أُمَّتِي مُعَافًى إِلَّا المُجَاهِرِينَ ‘আমার উম্মতের সবাইকে আল্লাহর রহমতে মাফ করা হবে, তবে তারা ব্যতীত যারা গোনাহ ও নাফরমানীকে সকলের কাছে প্রকাশ করে বেড়ায়’।[19]

পরিশেষে সর্বদা মনে রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য করার প্রতিজ্ঞা করেই আমরা ইসলামে প্রবেশ করেছি। অতএব, মহান আল্লাহ ও তাঁর নবী (ছাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) যেন দুনিয়ার সবচেয়ে প্রিয় হয় এই চেষ্টাই করা উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!


* এম. এ., ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর।

[1]. উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী, ৩২/৬৬।

[2]. ফাতহুল মুলহিম শরহে মুসলিম, ১/৪২১।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯; মিশকাত, হা/৪৪২১।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৬০।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯৩।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৬।

[7]. মাজমূআ ফাতাওয়া ইবনু বায, ‘দাড়ি রাখার বিধান’ পরিচ্ছদ, ৩/৩৬২।

[8]. ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ‘দাড়িমুণ্ডানোর বিধান’ পরিচ্ছদ, ৫/১৩৫।

[9]. ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৬৩১১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৪৬।

[10]. ছহীহ মুসলিম, হা/৬২৩০; মুসনাদে আবী ইয়া‘লা, হা/৭৪৫৬।

[11]. আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১, হাদীছটি হাসান ছহীহ; সিলসিলা ছহীহা, ১/৩৯০।

[12]. হিযাবুল মারআ আল-মুসলিমা, পৃ. ১০৪।

[13]. ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ৫/১৩৭।

[14]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৬২।

[15]. আবূ দাঊদ, হা/৪২১২, হাদীছ ছহীহ।

[16]. আবূ দাঊদ, হা/৪২০৪, হাদীছ ছহীহ; নাসাঈ, হা/৫০৭৬।

[17]. আবূ দাঊদ, হা/৪২১০, হাদীছ ছহীহ।

[18]. আবূ দাঊদ, হা/৪২০৫, হাদীছ ছহীহ।

[19]. ছহীহ বুখারী, হা/৬০৬৯।