اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ وَحْدَهُ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى مَنْ لَّا نَبِيَّ بَعْدَهُ

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং…!?


বাংলার প্রাকৃতিক ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের প্রতি বিদেশীদের প্রবল আকর্ষণ ছিল। এ ভূখণ্ডে গচ্ছিত প্রাকৃতিক ধন-সম্পদ ও ভৌগোলিক সুবিধার প্রতি তাদের লোলুপ দৃষ্টি সর্বদা বদ্ধমূল ছিল। এর প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ ও ভৌগোলিক ক্ষমতা ব্যবহারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। অর্থ সহায়তার নামে ঋণের বোঝা চাপিয়ে পরমুখাপেক্ষী করে রাখার চেষ্টাও চলছে। একান্ত অনুগত ব্যক্তিকে ক্ষমতার মসনদে বসিয়ে অর্থ-সম্পদ আহরণ কিংবা ভৌগোলিক সুবিধা অর্জন প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর প্রকাশিত গোপন উদ্দেশ্য। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নিশ্চিতই মানুষ ধন-সম্পদের ভালোবাসায় মত্ত’ (আল-আদিয়াত, ১০০/৮)

প্রভাবশালী দেশগুলো অর্থনৈতিক সুবিধা ও কৌশলগত ভৌগোলিক ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে এমনটি করে থাকে। এইভাবে দক্ষিণ এশিয়ার উপর একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রয়োগের চেষ্টা অব্যাহত আছে। পূর্বে শাসকগোষ্ঠী যখন কোনো দেশের ওপর ক্ষমতা অথবা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার করার চিন্তাভাবনা করত তখন তার প্রতিনিধিকে সংশ্লিষ্ট দেশের ক্ষমতায় বসিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সুবিধা লাভ করত। তারা কর্তৃত্ব ধরে রাখার জন্য সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখত। বর্তমানে অবৈধ প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্যে নিজস্ব প্রতিনিধি না পাঠিয়ে অনুগত ব্যক্তিকে ক্ষমতার মসনদে বসানো হয়।

অমুসলিম শাসকদের মাথায় একটাই উদ্দেশ্য থাকে যে, মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রগুলোকে তাদের পদানত করে রাখা। আর্থিকভাবে দুর্বল করে আজ্ঞাবহ ব্যক্তিকে ক্ষমতার মসনদে বসানো। যাতে তারা ভৌগোলিকসহ আর্থিকভাবে কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের হামলা কিংবা হুমকির শিকার না হয়। আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ এইরকম বৈরী আচরণের শিকার বারবার হয়ে আসছে। ইসলাম ফোবিয়া তথা অহেতুক জঙ্গি হামলার ধোঁয়া তুলে ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর উপর সামরিক হামলা চালিয়ে রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করে দেওয়া। আর্থিকভাবে পরনির্ভরশীল করে নিজ উদ্দেশ্য হাছিলের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা। তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিণগণ! তোমরা ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ যালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না’ (আল-মায়েদা, ৫/৫১)

ইসলামের আধিপত্য ও ক্ষমতা সম্পর্কে তাদের প্রচণ্ড ভয়। তারা যেকোনো সময় ইসলাম কর্তৃক আক্রান্ত অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত থাকে। বিভিন্ন অমুসলিম দেশ ইসলামিক স্কলারদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। তাদের ওয়ায, নছীহত, বক্তব্য ও বিবৃতির প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক টিভি চ্যানেল ও প্রচার মাধ্যমকে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। যাতে করে ইসলামের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কোনো অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ না করে। ইসলামের প্রচার ও প্রসারকে বাধাগ্রস্ত করার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বস্তুত যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে, তাদেরকে আপনি দেখবেন, দৌড়ে গিয়ে তাদেরই মধ্যে প্রবেশ করে। তারা বলে, আমরা আশঙ্কা করি, পাছে না আমরা কোনো দুর্ঘটনায় পতিত হই। অতএব, সেদিন দূরে নয়, যেদিন আল্লাহ তাআলা বিজয় প্রকাশ করবেন অথবা নিজের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ দেবেন- ফলে তারা স্বীয় গোপন মনোভাবের জন্যে অনুতপ্ত হবে’ (আল-মায়েদা, ৫/৫২)

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্ষমতাধর দেশগুলো বাংলাদেশে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে। দীর্ঘমেয়াদী ঋণের শর্তে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তারা চট্টগ্রামসহ পাহাড়ি অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট তথা কেএনএফ বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির অন্তত ছয়টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে। তারা বিশেষ উদ্দেশ্যে এই ফ্রন্ট গঠন করেছে। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল, জোড়াছড়ি ও বিলাইছড়ি এবং বান্দরবানের রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা ও অলীকদম এলাকাগুলোর সমন্বয়ে পৃথক রাজ্যের দাবিতে তাদের উত্থান। জনসংহতি সমিতির প্রচার বিভাগের সদস্য দ্বীপায়ন খীসা বলেছেন, পাহাড়ের বিশেষ প্রভাবশালী মহল কেএনএফ-কে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রভাবশালী মহলটির পেছনে থেকে কলকাঠি নড়ানো হচ্ছে। উক্ত দেশগুলোকে উল্লেখিত প্রভাবশালী মহলের মদদদাতা বলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের অমঙ্গল সাধনে কোনো ক্রটি করে না- তোমরা কষ্টে থাক, তাতেই তাদের আনন্দ। শত্রুতাপ্রসূত বিদ্বেষ তাদের মুখেই ফুটে বেরোয়। আর যা কিছু তাদের মনে লুকিয়ে রয়েছে, তা আরো অনেকগুণ বেশি জঘন্য। তোমাদের জন্য নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করে দেওয়া হলো, যদি তোমরা তা অনুধাবন করতে সমর্থ হও’ (আলে ইমরান, ৩/১১৮)

দেশের সার্বভৌমত্ব স্বাধীনতা যেন বিপন্ন না হয় সেদিকে প্রত্যেকের সজাগ থাকতে হবে। দেশের ভূখণ্ড যেন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হস্তগত না হয় তার প্রতি নজর রাখতে হবে। দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও হৃদয়ের টান থকতে হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একযোগে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আল্লাহ আমাদের ইবনু আব্বাস c বর্ণিত হাদীছ আল্লাহর রাসূল a বলেছেন, ‘দু’ধরনের চক্ষুকে আগুন কখনোই স্পর্শ করবে না। একটি চক্ষু যে আল্লাহ তাআলার ভয়ে ক্রন্দন করে। আরেকটি ঐ চক্ষু যে দেশের সীমান্তে প্রহরারত অবস্থায় রাত যাপন করে’ (তিরমিযী, হা/১৬৩৯) অনুযায়ী আমল করার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!