নৈতিক অবক্ষয় এবং বর্তমান সমাজ ও সভ্যতা

-নাজনীন আরা সম্পা*

মুহাম্মাদপুর, ঢাকা।

 

মহাবিশ্বের মধ্যে পৃথিবীই একমাত্র জায়গা, যেখানে মানুষের বসবাস রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা সুপরিকল্পিতভাবেই পৃথিবী নামক গ্রহটি সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষ হচ্ছে এই গ্রহের শ্রেষ্ঠতম সম্পদ। পৃথিবীর তাবৎ সৃষ্টিকে আল্লাহ মানব কল্যাণের জন্যই নিয়োজিত করেছেন। পৃথিবীতে বসবাস করার জন্য আল্লাহর এই অসংখ্য নে‘মতরাজি আমাদের তৈরি করতে হয়নি। এসব নে‘মত ব্যবহার করেই মানুষ তৈরি করেছে সমাজ এবং সভ্যতা। আল্লাহর দেয়া জ্ঞান-বুদ্ধি এবং সম্পদকে কাজে লাগিয়ে মানুষ এই সমাজকে সভ্যতার উন্নতির চরম শিখরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই সমাজ আভ্যন্তরীণ কিছু মৌলিক ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত, যা ছাড়া তার ধ্বংস অনিবার্য। নৈতিকতা, মূল্যবোধ, বিবেক এবং ভালোবাসা একটি সমাজের প্রধানতম উপাদান। এগুলো মানবিক গুণ এবং ধর্মীয় অনুশাসন। এই মৌলিক উপাদানগুলোর উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতিই বলে দেয় সমাজে মানুষের অবস্থান এবং সেই সমাজের স্থায়িত্ব।

আধুনিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি সমগ্র পৃথিবীকে একটি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করেছে। ভালো-মন্দ যাই ঘটুক না কেন পৃথিবীর সর্বত্রই কম-বেশী একই সাথে এর প্রভাব পড়ে। এই বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির নিত্য নতুন আবিষ্কার অর্থনৈতিক ভোগ-বিলাস এবং আরাম-আয়েশকে মানুষের কাছে সহজলভ্য করেছে। জীবনের নতুন নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। আর আমরা কেবল মুনাফা এবং জৌলুস নির্ভর সমাজের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। এই মুনাফা এবং জৌলুসের চোরাবালিতে আটকা পড়ে আমাদের মধ্যে থেকে নৈতিকতা, মূল্যবোধ, বিবেক এবং ভালোবাসা হারিয়ে যাচ্ছে। নীতি-নৈতিকতা, মূল্যবোধ বিবর্জিত এই সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতি বিশ্বমানবতার জন্য এখন হুমকিস্বরূপ। বিশ্বের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়তই তা টের পাচ্ছে মানুষ। কেবল প্রযুক্তিগত উন্নতি মানুষের মনুষ্যত্বকে শাণিত করতে পারে না। ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভোগ-বিলাসের লোভের কারণে বিবেক এবং ভালোবাসা আজ নির্বাসিত। বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে দেয়া একদল অজ্ঞ মানুষ প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছে না। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এর অপপ্রয়োগ সমাজের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। সমাজের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাই তো নির্বিচারে চলছে মানুষ হত্যা। না জেনে, অপরাধ না প্রমাণিত করে, যাচাই না করে কেবল শোনা কথার উপর ভিত্তি করে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অপপ্রয়োগের কারণে নির্দয়ভাবে নিরপরাধ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করছে। সভ্যতার এ উৎকর্ষের যুগে মানবতা চরমভাবে লঙ্ঘিত। সমাজে দয়া-মায়া, ভালোবাসা এবং বিবেকবোধের বড়ই অভাব। তাই তো মানুষ চোখের সামনে অপরাধ সঙ্ঘটিত হতে দেখে, কিন্তু অন্যায় কাজের নিষেধ করতে কেউ এগিয়ে আসে না।

অনুমান বা সন্দেহ ভয়ঙ্কর অপরাধের জন্ম দেয়। আল্লাহ তা‘আলা এ থেকে আমাদের নিষ্ক্রীয় থাকতে বলেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! যদি কোন সত্যত্যাগী তোমাদের নিকট বার্তা নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা পরীক্ষা করবে, যাতে অজ্ঞতা হেতু কোন ক্বওমকে আঘাত না করে, পরে তোমাদের কৃতকর্মে অনুতপ্ত না হও’ (হুজুরাত, ৬)। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ আরো বলেছেন, ‘তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দাও আর অসৎ কাজ থেকে নিষেধ কর’ (আলে ইমরান, ১১০)। কুরআনের এজাতীয় আয়াতসমূহের বাস্তবায়ন হলে মানুষ হত্যার মত জঘন্য পাপে অন্যায়ভাবে লিপ্ত হতে পারত না।

নৈতিকতা, বিশ্বাস এবং বৈধ ভালোবাসার অনুপস্থিতিতে মানুষ ব্যভিচারের মত ঘৃণিত পাপে লিপ্ত হচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে অনেকে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটস এ্যাপের অপপ্রয়োগ করে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। সারা পৃথিবীতেই এই বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক বিস্তার লাভ করছে। ব্যভিচারের ফলে পরিবারে ভাঙ্গন এবং নিষ্ঠুর শিকার তাদের নিষ্পাপ সন্তানরা। ব্যভিচারী স্বামী/স্ত্রী তাদের ব্যভিচারের পথকে কলঙ্কমুক্ত করতে নিজেদের নিরপরাধ সন্তানদের পর্যন্ত হত্যা করছে। নিরপরাধ সন্তানরা ব্যভিচারী পিতা-মাতার কাছে আজ অরক্ষিত। ব্যভিচার সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সূরা বানী ইসরাঈলে আল্লাহ বলেছেন, ‘অবৈধ যৌন সংযোগের নিকটবর্তী হয়ো না, এটি অশস্নীল ও নিকৃষ্ট আচরণ। আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা কর না’ (বানী ইসরাঈল, ৩২-৩৩)। ব্যভিচারের শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তা‘আলা রজম করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যভিচারের মত নিকৃষ্ট পাপের কারণে হত্যার মত আরেকটি জঘন্য পাপ সংঘটিত হচ্ছে। এই জঘন্য ও নিকৃষ্ট পাপ সমাজে যে বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে, তা রোধ করতে না পারলে পূর্ববর্তী জাতিসমূহরে মত আমরাও আল্লাহর ভয়ঙ্কর গযবে পতিত হতে পারি। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন!

পৃথিবীতে অতীতে যেমন বিভিন্ন সভ্যতার উত্থান হয়েছিল সেসব জাতির বিশেষ বিশেষ গুণাবলীর জন্য, তেমনি নৈতিকতা ও সামাজিক চরম অবক্ষয়ের কারণে সেসব সভ্যতা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। যেমন: পারস্য সভ্যতা, গ্রীক সভ্যতা, ব্যবিলনীয় সভ্যতা, মিশরীয় সভ্যতা, মহোঞ্জোদারো ও হরপ্পা সভ্যতা ইত্যাদি। এগুলো ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। পবিত্র কুরআনে আমরা পূর্ববর্তী বিভিন্ন জাতির ধ্বংসের কাহিনী জানতে পারি। যেমন: নূহ (আঃ)-এর ক্বওম, হূদ (আঃ)-এর ক্বওম, ছালেহ (আঃ)-এর ক্বওম, লূত্ব (আঃ)-এর ক্বওম এবং ফেরাঊনের জাতিকে আল্লাহ প্লাবন, ভূমিকম্প, ঝঞ্ঝাবায়ু, খরা, মহামারি ইত্যাদি দুর্যোগের মাধ্যমে নির্মমভাবে ধ্বংস করেছিলেন। ওযনে কম দেয়ার জন্য এবং অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ লুট করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা শু‘আইব (আঃ)-এর ক্বওমকে ধ্বংস করেছিলেন। মাপে কম দেওয়ার বিষয়ে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে কী বলেছেন তা জেনে নিই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘মাপ দেওয়ার সময় পূর্ণ মাপে দিবে এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওযন করবে। এটিই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট’ (বানী ইসরাঈল, ৩৫)।

মাপে কম দাতাদের জন্য আল্লাহ কঠোর হুঁশিয়ারি পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘মাপে কম দাতাদের জন্য বড় আক্ষেপ! যারা লোকের নিকট হতে ওযনকালে পূর্ণমাত্রায় নেয়। কিন্ত যখন তাদের জন্য ওযন করে তখন মাপে কম দেয়। ওরা কি চিন্তা করে না যে, ওরা পুনরুত্থিত হবে?’ (মুত্বাফফিফীন, ১-৪)। মাপে কম দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। এর ফলে মানুষ দুনিয়াতে ক্ষতিগ্রস্ত তো হয়ই, পরকালেও সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিবেক, বিবেচনা আজ আমাদের সমাজ থেকে লুপ্ত প্রায়। সেজন্য মন্দকাজ করতে এবং সঙ্ঘটিত হতে দেখে আমরা বিবেক দ্বারা তাড়িত হই না। লাভ, লোভ এবং প্রতিহিংসা পরায়ণতায় মানুষ এখন উন্মত্ত। প্রযুক্তি ঘটিত চাকচিক্যময় দুনিয়া লাভের বাসনায় মানুষ অবলীলায় অপরের সম্পদ গ্রাস করছে। অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ দখল করতে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা পরস্পরের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কর না এবং মানুষের ধন-সম্পদের কিয়দংশ জেনে শুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে হাকীমগণকে উৎকোচ দিও না’ (বাক্বারাহ, ১৮৮)। এই আয়াতের মধ্যে ঘুষ হারাম হওয়ার প্রতি নির্দেশনা এসেছে। মুমিনদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কর না’ (নিসা, ২৯)।

বর্তমানে তথাকথিত সভ্য বিশ্বে সম্পদ গ্রাসের প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত গন্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষমতাধর (?) রাষ্ট্রের প্রধানরা হীন ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বংশ পরম্পরায় বসবাসকারী জাতি, গোষ্ঠীকে (বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে মুসলিমরাই এর শিকার) শুধু রাষ্ট্র থেকেই বিদায় করছে না। বরং এই সমস্ত জাতি গোষ্ঠীর জনগণকে তাদের নাগরিক বলেই স্বীকার করছে না। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী। সাম্প্রতিক ভারত সরকারের হীন ভূ-রাজনৈতিক লালসার শিকার জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ।

বর্তমানে ভারতের সরকার কর্তৃক ‘জাতীয় নাগরিক পঞ্জি’ নামের নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য বাঙ্গালী নিধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার বিষবাষ্প ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও বিগত ৬-৭ দশক ধরে ইয়াহূদীদের অন্যায়ভাবে ফিলিস্তীনের ভূমি দখলের ঘৃণ্য রাজনীতি এসবের সাক্ষ্য বহন করে।

সভ্যতার অগ্রগতির সাথে পাল্লা দিয়ে মানুষের অপরাধ প্রবণতাও বেড়েছে। মানবিক গুণাবলি হারিয়ে মানুষ অস্থিরতায় নিমজ্জিত হয়েছে। সভ্যতা, সমাজ মানুষকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। কিন্তু সেই মানুষরাই যদি বিবেক, বিবেচনা, নৈতিকতা হারায়, তাহলে সেই সমাজ-সভ্যতা অনির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকেই কেবল এগিয়ে যাবে। বাহ্যত যেটাকে আমরা উন্নতি ও অগ্রগতি বলে মনে করছি, প্রকৃতপক্ষে সেটাই আমাদের সমাজে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করছে। আমাদের লাগামহীন জীবনযাত্রা আমাদের অস্তিত্বের সংকট তৈরি করছে। বিংশ শতকের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ষ্টিফেন হকিং তার জীবদ্দশাতে বলে গেছেন, ‘পৃথিবী নামক এ গ্রহকে ধ্বংস করার মারণাস্ত্র আমরা ইতিমধ্যেই আবিষ্কার করে ফেলেছি’। সভ্যতার অগ্রগতিই এর কারণ।

আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষকে একই সূত্রে গেঁথে ফেলেছে। এখন বিশ্বব্যাপী সবাই একই সাথে সভ্যতার অগ্রগতির ফল ভোগ করছে। বিশ্বব্যাপী ‘খোলা বাজার অর্থনীতি’ ভোগ বিলাসের উপকরণকে মানুষের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করেছে। বলতে গেলে এ সভ্যতা এখন বাজার সভ্যতায় রূপ নিয়েছে। চাকচিক্যময়, জৌলুসপূর্ণ পৃথিবী আসলে বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ব্যাধিতে ভিতরে ভিতরে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। সূদ, ঘুষ, মদ, যিনা ইত্যাদি যেন উন্নতির স্বাভাবিক সোপানে পরিণত হয়েছে। সভ্যতার উন্নতি, অগ্রগতির ছোঁয়া এখন যেমন বিশ্বব্যাপী একই সাথে অনুভূত হচ্ছে, তেমনি এর পতনও হবে বিশ্বব্যাপী। হতে পারে, ইতোমধ্যেই শাস্তির নমুনা হিসাবে পৃথিবীব্যাপী, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, জলোচ্ছ্বাস, খরা, দাবানল এবং মহামারী আকারে এইডস, ইবোলা, চিকনগুনিয়া, ডেঙ্গু, জিকা, সার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

ক্ষয়িষ্ণু এ সমাজ এবং সভ্যতাকে বাঁচাতে হলে আমাদের চিন্তা, চেতনা এবং দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন করতে হবে। নৈতিকতা এবং মানবিকতার আলোয় আমাদের পথ চলতে হবে। সর্বোপরি আমাদের ‘তাক্বওয়া’ বৃদ্ধি করতে হবে। তাক্বওয়ার অভাবেই আমরা আল্লাহর বিধান এবং নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর সুন্নাহ পরিপন্থী কাজে লিপ্ত আছি। তাক্বওয়ার ব্যাপারে কুরআনে অসংখ্য আয়াত আছে। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখ, আল্লাহ মুত্তাক্বীদের সাথে আছে’ (বাক্বারাহ, ১৯৪)। ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাক্বওয়াশীল মানুষদের (মুত্তাক্বীদের) ভালবাসেন’ (আলে ইমরান, ৭৬)। সেই সাথে বিশ্ব মানবতার পথ প্রদর্শক মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর রেখে যাওয়া সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবে এবং তার ছাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পদ্ধতি মোতাবেক জীবনের সকল কাজ পরিচালনা করতে হবে। নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাঁর সুন্নাহকে মযবূতভাবে আঁকড়ে ধরার জন্য উম্মতকে বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন বিদায় হজ্জের ভাষণে। তিনি বলেন, ‘আজ তোমাদের কাছে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে তোমরা কখনো পথ হারাবে না। আর তা হল, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ’।[1] আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন। নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর সুন্নাহর বাস্তবায়ন ও তাঁর ছাহাবায়ে কেরামের জীবন পদ্ধতির উপর আমাদের অটল থাকার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন।

[1]. মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/৩১৮।

1 মন্তব্য