পদ্মা সেতুর উদ্বোধন : খুলল স্বপ্নের দুয়ার


অবশেষে দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করা হলো গত ২৫শে জুন। সেতুটির নাম রাখা হয়েছে ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার, প্রস্থ ৫৯.৪ ফুট। দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক ১৪ কিলোমিটার। এর পিলার সংখ্যা ৪২টি, স্প্যান ৪১টি। অবস্থান তিনটি জেলা মুন্সিগঞ্জ (মাওয়া), শরীয়তপুর (জাজিরা) ও মাদারীপুর (শিবচর)-এর সংযোগস্থলে। সেতুটির ভূমিকম্প সহনীয় মাত্রা রিখটার স্কেলে ৯। এ সেতুতে সড়ক ও রেলপথ ছাড়াও থাকবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার লাইন যুক্ত করার সুবিধা। বিশ্বের বৃহত্তম সড়কসেতুর তালিকায় এর অবস্থান ২৫তম এবং এশিয়ায় দ্বিতীয়। এ সেতুর প্রকল্প ব্যয় ৩০ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অর্থ বিভাগের সাথে সেতু বিভাগের চুক্তি অনুযায়ী, অর্থবিভাগ ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর। প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, মূল সেতু নির্মাণের কাজটি করেছে চীনের ঠিকাদার কোম্পানি চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (MBEC) এবং নদীশাসন করেছে চীনের সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর নির্মাণকাজে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান বসানোর মাধ্যমে পদ্মা সেতুর অংশ দৃশ্যমান হয়। পরে একের পর এক ৪২টি পিলারের ওপর বসানো হয় ৪১টি স্প্যান। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর শেষ ৪১তম স্প্যান স্থাপনের মাধ্যমে বহুমুখী ৬.১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতুর সম্পূর্ণ কাঠামো দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সক্ষমতার মাইলফলক। এই সেতু চালুর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সাথে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত হবে। নদীর ওপারে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিকাশ ঘটবে। জিডিপি বৃদ্ধি পাবে ১.২৩ শতাংশ। বাড়বে ২৯ শতাংশ নির্মাণ কাজ, ৯.৫ শতাংশ কৃষি প্রবৃদ্ধি, ৮ শতাংশ উৎপাদন ও পরিবহণ খাতের কাজ। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এই সেতুর বহুমুখী অবদান দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বৃদ্ধি তো বটেই, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই সেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সেতুতে থাকছে বহুমুখী সুবিধা যেমন— অফিস, ল্যাবরেটরি, মসজিদ, মোটেল, মেস, রিসোর্ট, ৩০টি ডুপ্লেক্স বাড়ি, ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নিরাপত্তা রক্ষীদের আবাসস্থল, বিদ্যুতের সাব-ডিভিশন, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ইত্যাদি।

একনজরে পদ্মা সেতু :

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য : ৬.১৫ কিলোমিটার

পদ্মা সেতুতে পিলার সংখ্যা : ৪২টি

পদ্মা সেতুতে পাইল সংখ্যা : ২৯৪টি

ল্যাম্পপোস্ট : মূল সেতুতে ৩২৮টি, ভায়াডাক্টে ৮৭টি।

পদ্মা সেতুতে সড়ক পথ : চার লেইন, চাওড়া ২১ মিটার।

পদ্মা সেতুতে রেলপথ : সিংগেল ট্র্যাক ডুয়াল গেজ। 

সেতুর পাইলিংয়ের সর্বোচ্চ গভীরতা : ৪১১.৫০ ফুট।

পদ্মা সেতুর ধরন : দ্বিতলবিশিষ্ট (ওপরে যানবাহন চলাচলের পথ এবং নিচে রেলপথ)।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজ করেছে : একসঙ্গে ৫০০০ মানুষ।

পদ্মা সেতুতে মোট ব্যয় হয়েছে : ৩০,১৯৩ কোটি টাকা।