পরশ পাথর
                                    -মো.আবুল কালাম আজাদ
                               প্রভাষক, আটিপাড়া মুঈনুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা,
                                 আটিপাড়া, উজিরপুর, বরিশাল।


যখনই মানব হারিয়েছে পথ প্রভুর পথটি ছাড়ি,

পঙ্কিলতার তিমিরে ডুবেছে তাগূতের পথ ধরি।

নিজ হাতে গড়া মূর্তি পূজায় মজেছে তারা যবে,

সত্য তখনই চাপা পড়ে গেছে বাতিলের সয়লাবে।

ছেয়ে গেছে যবে ধরণি মোদের ধর্ষণ ব্যভিচারে,

মযলূম যবে কেঁদেছে অঝোরে যুলুম আর অবিচারে।

তখনি রহমান পথহারা সেই মানবের কল্যাণে,

নবী ও রাসূল পাঠালেন ভবে সুপথের আহ্বানে।

মরু আরবের জীর্ণ কুটিরে পূর্ণিমা চাঁদ হয়ে,

নবীজি আমার এলেন ধরাতে শান্তির বাণী লয়ে।

ক্ষিপ্ত হলো নাদান, মূর্খ, বর্বর আরব জাতি,

নিপীড়নে আর যুলুমে তারা তাই তো উঠিল মাতি।

নবীর দেহের রক্ত ঝরাল তায়েফের দুরাচার,

উহুদের মাঠে শত্রুর আঘাতে দাঁত ভেঙে গেল তাঁর।

এত নিপিড়ন, নির্যাতন আর যুলুম সহিয়া সবি,

ইসলামেরই ঝাণ্ডা উড়ায়ে আগায়ে চলিল নবী।

সত্য-ন্যায়ের বিজয় কেতন উড়িল আকাশ পানে,

শান্তি সুখের ফোয়ারা ছুটিল মানুষের প্রাণে প্রাণে।

পৌত্তলিকতার অবসান হলো ধর্ষণ গেল মুছে,

দারিদ্র গেল বিমোচিত হয়ে হাহাকার গেল ঘুচে।

নারী পেল তার যথার্থ মান, ফিরে পেল অধিকার,

উচ্ছেদ হয়ে গেল মদ জুয়া করুণায় আল্লাহর।

হানাহানি আর ভেদাভেদ ভুলে সাম্যের জয়গানে,

জাগিল মানুষ, চলিল আগায়ে নতুন বিশ্বায়নে।

ইসলাম সে তো পরশ পাথর যে জন পেয়েছে তারে,

সোনার মানুষ হয়েছে সে জন এ জগৎ সংসারে।

ইসলাম সে তো আল্লাহর দান মোদের এ ধরণি তলে,

মানব জাতির মুক্তি সনদ ইহকাল ও পরকালে।