পাপ ও তওবার মাঝে বান্দার অবস্থান কেমন হওয়া উচিত


 [১৯ রবীউছ ছানী, ১৪৪২ হি. মোতাবেক ৪ ডিসেম্বর, ২০২০। পবিত্র মদীনা মুনাওয়ারার (মসজিদে নববী) জুমআর খুৎবা প্রদান করেন শায়খ আব্দুল বারী আছ-ছুবায়তী (হাফি.) উক্ত খুৎবা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, রাজশাহীর সম্মানিত মুহাদ্দিছ ও ‘আল-ইতিছাম গবেষণা পর্ষদ’-এর গবেষণা সহকারী শায়খ আখতারুজ্জামান বিন মতিউর রহমান। খুৎবাটি ‘মাসিক আল-ইতিছাম’-এর সুধী পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো।]

প্রথম খুতবা

সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি অন্তরসমূহকে করেছেন প্রশস্ত এবং হৃদয়সমূহকে করেছেন প্রশান্ত। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি সেই পূত-পবিত্র সত্তার যিনি অপরাধীকে তওবা করে তার কাছে ফিরে আসা পর্যন্ত অবকাশ দেন। আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক তার কোনো শরীক নেই। যিনি বান্দার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। আমি আরো সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আমাদের নেতা, আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তিনি আমাদেরকে সঠিক পথের উপর পরিচালিত করেছেন।  চিরশান্তি বর্ষিত হোক তার প্রতি এবং তার সম্মানিত পরিবার ও ছাহাবীদের প্রতি।

আম্মা বা‘দ : আমি আপনাদের সকলকে সেইসাথে নিজেকে তাক্বওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি। যেই তাক্বওয়ার কথা মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা প্রকৃত মুসলিম না হয়ে মৃত্যু বরণ করো না’ (আলে-ইমরান, ৩/১০২)। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথ কল্যাণের ঝরনাধারা, আলোর বারিধারা ও জীবন প্রদীপের ন্যায়। যা ভুল-পদস্খলনের সময়ও আপনাকে সঙ্গ দেয়।

পাপীর সাথে আল্লাহর আচরণের দৃষ্টান্ত :

ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘বান্দা পাপ করে অতঃপর বলে, হে আমার প্রতিপালক! আমি পাপ করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন প্রতিপালক বললেন, আমার বান্দা কি একথা জানে যে তার একজন প্রতিপালক রয়েছে, যিনি পাপ ক্ষমা করে দেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন? (ঠিক আছে) আমার বান্দাকে আমি মাফ করে দিলাম। অতঃপর আল্লাহ যতদিন চান বান্দা পাপ থেকে বিরত থাকে। তারপর আবার পাপে জড়িয়ে যায়। তখন আবার সে বলে, হে আমার প্রতিপালক! আমি আরেক পাপ করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন প্রতিপালক বললেন, আমার বান্দা কি একথা জানে যে তার একজন প্রতিপালক রয়েছে, যিনি পাপ ক্ষমা করে দেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন? (ঠিক আছে) আমার বান্দাকে আমি মাফ করে দিলাম। অতঃপর আল্লাহ যতদিন চান বান্দা পাপ থেকে বিরত থাকে। তারপর আবার পাপে জড়িয়ে যায়। তখন আবার সে বলে, হে আমার প্রতিপালক! আমি আরেক পাপ করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন প্রতিপালক বললেন, আমার বান্দা কি একথা জানে যে তার একজন প্রতিপালক রয়েছে, যিনি পাপ ক্ষমা করে দেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন? (ঠিক আছে) আমার বান্দাকে আমি মাফ করে দিলাম। এরকম তিনবার বললেন। সে যা ইচ্ছা করুক না কেন’।[1]

উল্লিখিত হাদীছটি পাপের সাথে ও বান্দার অবস্থান কী এবং পাপীদের ক্ষেত্রে ইসলাম নীতির সম্পর্কে সুস্পষ্ট আলোকপাত করেছে। আমরা প্রত্যেকেই পাপী। কিন্তু উক্ত হাদীছটি আমাদের আশার দ্বারকে উন্মুক্ত করে। অনুরূপভাবে প্রত্যেক পাপীর জন্য আল্লাহর সর্বব্যাপী রহমত, বন্ধুদের জন্য তাঁর প্রতিদান এবং বান্দার প্রতি তাঁর অনুগ্রহের একটি চিত্র তুলে ধরেছে।

উক্ত হাদীছটি আরম্ভ হয়েছে যে, ‘নিশ্চয় বান্দা পাপ করে’ বাক্য দ্বারা। মানুষের স্বভাব হলো, সে জেনে না জেনে কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় ও শয়তানের ধোঁকায় পড়ে পাপ করবে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘ইবলীস তার রবকে বলেছে, আপনার ইজ্জত ও বড়ত্বের কসম! আমি আদম সন্তানকে পথভ্রষ্ট করতেই থাকব যতক্ষণ তাদের মধ্যে রূহ থাকে। প্রত্যুত্তরে আল্লাহ বলেন, আমার ইজ্জত ও বড়ত্বের কসম! আমি তাদের ক্ষমা করতে থাকব যতক্ষণ তারা আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে’।[2]

বান্দা বলে, ‘আমি পাপ করে ফেলেছি’ পাপের স্বীকৃতি বান্দার বীরত্বের পরিচায়ক এবং ভুলের স্বীকারোক্তি তার বিনয় ও নতির নির্দেশক। আর আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এটাই পদক্ষেপ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর কতক লোক রয়েছে যারা নিজেদের অপরাধসমূহ স্বীকার করে। তারা সৎকর্মের সাথে অসৎকর্ম মিশ্রিত করেছে। আশা রয়েছে যে, আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (আত-তওবা, ৯/১০২)

মুসলিম ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য :

মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো, সে দুনিয়াতে তার পাপ স্বীকার করে নেওয়া এবং আখেরাতে তার স্বীকৃতি দেওয়া। বান্দা এটা করতে পারলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘(ক্বিয়ামতের দিন) আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দাকে নিজের কাছে নিয়ে আসবেন এবং তার উপর স্বীয় আবরণ দ্বারা তাকে ঢেকে নিবেন। তারপর বলবেন, অমুক পাপের কথা কি তুমি স্বীকার করছ? অমুক পাপের কথা কি তুমি স্বীকার করছ? তখন সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক! এভাবে যখন তিনি তার কাছ হতে তার পাপগুলো স্বীকার করিয়ে নিবেন আর বান্দা মনে মনে ভাবতে থাকবে তার ধ্বংস অনিবার্য। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমি পৃথিবীতে তোমার পাপ গোপন করে রেখেছিলাম। আর আজ আমি তা মাফ করে দিব। তারপর তার নেকীর আমলনামা তাকে দেওয়া হবে’।[3] অর্থাৎ যথাসময়ে পাপ স্বীকার নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যখন সেই সময় পার হয়ে যায়, তখন অপরাধীর উপর পাপের শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়। শাস্তির পাওয়ার আগে যারা পাপের কথা স্বীকার করে না, সেই সকল জাহান্নামীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘…অতঃপর তারা তাদের পাপ স্বীকার করবে। কিন্তু জাহান্নামীরা (আল্লাহর রহমত হতে) দূর হোক! (আল-মুলক, ৬৭/১১)

পাপ মোচনে ইসলামে নির্দেশনা :

ইসলাম মুসলিমদেরকে অপরাধ স্বীকার করার আদেশ দিয়েছে। পাশাপাশি মহান আল্লাহ যে পাপ গোপন রেখে দিয়েছেন তা প্রকাশ করা থেকে সতর্ক করেছে। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আমার সকল উম্মতকে ক্ষমা করা হবে, প্রকাশকারী ব্যতীত। প্রকাশ করার অর্থ হলো, রাতের বেলা কেউ অপরাধ করল; আর আল্লাহ তা গোপন রেখে দিয়েছেন। কিন্তু সে সকাল হলে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক! আমি আজ রাতে এই এই অপকর্ম করে ফেলেছি। রাতে আল্লাহ কিন্তু তার পাপ লুকিয়ে রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার উপর আল্লাহর দেওয়া আবরণ খুলে ফেলল’।[4]

বান্দা যখন বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি পাপ করে ফেলেছি’, আর আল্লাহ অগণিত নেয়ামতের বদলে সে ঘৃণ্য অবাধ্যতার কারণে তার মন-প্রাণ লজ্জায় হেট হয়ে যায়,  তখন এই লজ্জাবোধ তার ঈমানকে আরও শক্তিশালী করে এবং আল্লাহর রহমতের হকদার করে দেয়। পাপের পরে তওবা আল্লাহর অতি বড় করুণা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় যারা তাক্বওয়াবান, তাদেরকে শয়তান যখন কুমন্ত্রনা দেয়, তখন তারা আত্মসচেতন হয় এবং তৎক্ষণাৎ তাদের চক্ষু খুলে যায়’ (আল-আ‘রাফ, ৭/২০১)

তওবা অপরাধীর জন্য সম্মান বৃদ্ধির কারণ :

কতক পাপ পাপীকে অবনত অন্তর উপহার দেয়। কতক অপরাধ অপরাধীকে তওবা করার সুযোগ করে দেয়, যা তার মর্যাদাকে আরও বাড়িয়ে দেয়, তার আখলাক-চরিত্রকে সুন্দর থেকে সুন্দরতম করে দেয়। ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, একজন বিশিষ্ট ছাহাবী মহাপাপ করে বসে। অতঃপর সে এমন তওবা করে, যার বিবরণ গিয়ে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘সে এমন তওবা করেছে, যদি সকল উম্মতের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়, তাহলে তা যথেষ্ট হবে’।[5] হাদীছে আরো বর্ণিত হয়েছে, (বান্দা যখন বলে) ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি অপরাধ করেছি আমাকে ক্ষমা করো’ আর আল্লাহ ব্যতীত ক্ষমাকারী কে আছে? তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দাকে জানিয়ে দাও নিশ্চয়ই আমি পরম ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু’ (আল-হিজর, ১৫/৪৯)। মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি পাপ করে অথবা নিজের প্রতি অবিচার করে; অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা চায়, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, দয়ালু হিসাবে পাবে’ (আন-নিসা, ৪/১১০)। হাদীছে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে, (আল্লাহ বলেন) ‘হে আমার বান্দাগণ! তোমরা দিন-রাত অপরাধ করে থাক, আর আমি তোমাদের সকল অপরাধ ক্ষমা করে থাকি। সুতরাং আমার নিকট ক্ষমা চাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিব’।[6]

হে আল্লাহর বান্দাগণ! ক্ষমা প্রার্থনা করাটা নবী ও সৎ ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য। তওবা সকল ওষুধের মহা ওষুধ। অন্তরকে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করে দেয়। তওবা হল সেই আলোর জ্যোতি, যা সকল পাপকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলে এবং অসুস্থ মনকে সুস্থ করে তোলে। পাপের ভারে ন্যুব্জ অন্তরকে শক্তিশালী করে তোলে। তাই তওবার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। অতঃপর তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করো। তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করবেন এবং প্রত্যেক মর্যাদাবান ব্যক্তিকে তার যথাযথ মর্যাদা দান করবেন’ (হূদ, ১১/৩)। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে সত্তরবারেরও অধিক ইস্তিগফার ও তওবা করে থাকি’।

যে ব্যক্তি তার রবকে চিনে এবং তাঁর সামনে নিজেকে উপস্থিত করে; তার রবকে ভয় করে, তাঁর দিকে ছুটে আসে এবং তাঁর ভয়ে অশ্রু ঝরায় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা কেন আল্লাহর কাছে তওবা করে না ও প্রার্থনা করে না? বস্তুত আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু’ (আল-মায়েদা, ৫/৭৪)

মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেন, ‘বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (আয-যুমার, ৩৯/৫৩)। মহিমান্বিত কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে ও আপনাদেরকে বরকত দান করুন এবং এর মূল্যবান উপদেশ ও আয়াতের মাধ্যমে উপকার দান করুন! এই কথা বলে আমি আল্লাহর কাছে আমার ও আপনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আপনারাও তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চান। কেননা তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

ছানী খুতবা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। যিনি আমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায় করার তাওফীক্ব দান করেছেন। আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক ও অদ্বিতীয়। তাঁর আদেশ-নিষেধে তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দান করছি যে, আমাদের নেতা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি আন্তরিক ও বাহিক্যভাবে আল্লাহর একজন প্রকৃত বান্দা। তার, তার পরিবার ও ছাহাবীদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক!

আল্লাহর সহনশীলতার পরিচয় হলো তিনি অপরাধীকে তওবা করার অবকাশ দেন। যদি পুনরায় পাপে জড়িয়ে পড়ে অতঃপর তওবা করে, তাহলে আল্লাহও তার প্রতি অনুগ্রহ করেন। আল্লাহ ক্ষমা করে বিরক্ত হন না, যতক্ষণ না বান্দা বিরক্ত হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রতিপালক আর তুমি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছ এবং আমরা তোমার নগণ্য বান্দা। আমাদের সাধ্য অনুযায়ী আমরা তোমার ওয়াদার উপর রয়েছি। আমরা আমাদের কৃতকর্মের অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমরা আপনার কাছে আমাদের গুনাহের কথা স্বীকার করছি। আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। বস্তুত আপনি ব্যতীত পাপ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই।

হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট জান্নাত চাচ্ছি এবং যে সকল কথা ও কর্ম জান্নাতের নিকটবর্তী করে দেয় তা চাচ্ছি। আমরা আপনার নিকট জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ চাচ্ছি এবং যে সকল কথা ও কর্ম জাহান্নামের নিকটবর্তী করে দেয় তা থেকে পরিত্রাণ চাচ্ছি।

‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ক্ষমা করে দিন এবং ক্ষমা করে দিন সেই সকল ভাইদের, যারা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আমাদের চেয়ে অগ্রগ্রামী ছিলেন। আর মুমিনদের সম্পর্কে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ রাখিয়েন না’ (আল-হাশর, ৫৯/১০)। হে আমাদের রব! দুনিয়া ও আখেরাতে আমাদের কল্যাণ দান করুন এবং আগুনের শাস্তি হতে আমাদেরকে বাঁচান!

‘হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর এবং মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশধরদের উপর তেমনি বরকত দান করুন, যেমনি বরকত দান করেছেন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এবং ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মর্যাদার অধিকারী।


[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৭৫০৭; মিশকাত, হা/২৩৩৩।

[2]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১১২৫৫; সিলসিলা ছহীহা, হা/১০৪।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪১।

  [4]. ছহীহ বুখারী, হা/৬০৬৯।

  [5]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৯৫; মিশকাত, হা/৩৫৬২।

  [6]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৭৭; মিশকাত, হা/২৩২৬।