পার্থিব আযাবের কারণ ও তা থেকে বাঁচার উপায়
     -মো. দেলোয়ার হোসেন*

আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরনের আযাব বা বালা-মুছীবত মানুষের উপর চেপে বসে। যা মূলত মানুষের পাপের ফসল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ

‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে সমুদ্রে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদেরকে কোনো কোনো কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে’ (রূম, ৪১)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন,

وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ

‘তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে, তা তো তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন’ (শূরা, ৩০)। তবে বিশেষ কিছু পাপ আছে, যার কারণে আল্লাহ দুনিয়াতে আযাব নাযিল করেন আর আখিরাতে তো আযাব আছেই। এই প্রবন্ধে এসব আযাবের কারণ ও তা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ আলোচনা তুলে ধরা হলো।

(ক) পার্থিব আযাবের কারণ :

(১) আল্লাহ ও তার রাসূল (ছা.)-এর বিরুদ্ধাচরণ করা : এ মর্মে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

‘কাজেই যারা তার (রাসূলের) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা সতর্ক হোক যে, তাদের উপর বিপর্যয় নেমে আসবে কিংবা তাদের উপর নেমে আসবে ভয়াবহ শাস্তি’ (নূর, ৬৩)।

(২) আল্লাহর নে‘মতের প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া : আল্লাহর নে‘মতের প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া পার্থিব আযাবের অন্যতম কারণ। আল্লাহ বলেন,

وَضَرَبَ اللهُ مَثَلًا قَرْيَةً كَانَتْ آمِنَةً مُطْمَئِنَّةً يَأْتِيهَا رِزْقُهَا رَغَدًا مِنْ كُلِّ مَكَانٍ فَكَفَرَتْ بِأَنْعُمِ اللَّهِ فَأَذَاقَهَا اللهُ لِبَاسَ الْجُوعِ وَالْخَوْفِ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ

‘আল্লাহ এক জনপদের দৃষ্টান্ত পেশ করছেন, যা ছিল নিরাপদ, চিন্তা-ভাবনাহীন। সবখান থেকে সেখানে জীবন ধারণের পর্যাপ্ত উপকরণ আসত। অতঃপর সে জনপদ আল্লাহর নে‘মতরাজির কুফুরী করল, অতঃপর আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের কারণে ক্ষুধা ও ভয়-ভীতির মুছীবত তাদেরকে আস্বাদন করালেন’ (নাহল, ১১২)।

(৩) অহংকার করা : আল্লাহ পূর্ববর্তী জাতিকে অহংকারের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,

وَاسْتَكْبَرَ هُوَ وَجُنُودُهُ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ إِلَيْنَا لَا يُرْجَعُونَ – فَأَخَذْنَاهُ وَجُنُودَهُ فَنَبَذْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظَّالِمِينَ

‘আর ফেরাঊন ও তার সেনাবাহিনী অন্যায়ভাবে যমীনে অহংকার করেছিল এবং তারা মনে করেছিল যে, তাদেরকে আমার নিকট ফিরিয়ে আনা হবে না। অতএব আমি তাকে ও তার বাহিনীকে পাকড়াও করে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। সুতরাং দেখো, সীমালঙ্ঘনকারীদের পরিণাম কী ছিল!’ (ক্বাছাছ, ৩৯-৪০)।

(৪) আল্লাহর বিধানের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা : আল্লাহর বিধানের সাথে  ঠাট্টা-বিদ্রূপ করার  কারণে মূসা (আ.)-এর জাতি আল্লাহর আযাবের সম্মুখীন হয়েছিল। আল্লাহ বলেন,

فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَنْزَلْنَا عَلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا رِجْزًا مِنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ

‘কিন্তু যারা অন্যায় করেছিল, তাদেরকে যা বলা হয়েছিল, তারা তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল। সুতরাং অনাচারীদের প্রতি আমি আকাশ হতে শাস্তি প্রেরণ করলাম, কারণ তারা পাপাচার করত’ (বাক্বারাহ, ৫৯)। অর্থাৎ মূসা (আ.)-এর জাতিরা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হওয়া আসমানী খাবার মান্না-সালওয়ার পরিবর্তে অন্য খাবার চাইলে আল্লাহ তাদের পবিত্র নগরীতে প্রবেশ ও হিত্তাহ (حطة) বা ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা আল্লাহর বিধানের সাথে ঠাট্টা-তামাসা করে হিত্তাহর পরিবর্তে حنطة হিনতাহ বা গম বলল, ফলে আল্লাহ তাদের উপর আযাব নাযিল করেন।

(৫) যুলুম : যুলুম পার্থিব আযাবের একটি কারণ। আল্লাহ বলেন,

فَكَأَيِّنْ مِنْ قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا وَهِيَ ظَالِمَةٌ فَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا وَبِئْرٍ مُعَطَّلَةٍ وَقَصْرٍ مَشِيدٍ

‘আমি ধ্বংস করেছি কত জনপদ, যেগুলোর বাসিন্দা ছিল যালেম, এসব জনপদ তাদের ঘরের ছাদসহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল এবং কত কূপ পরিত্যক্ত হয়েছিল ও কত সুদৃঢ় প্রাসাদও’ (হজ্জ, ৪৫)।

(৬) ঈমানদারদের পরীক্ষার উদ্দেশ্যে : ঈমানদারদের পরীক্ষার উদ্দেশ্যে কখনো কখনো আল্লাহ আযাব দেন। বান্দা যদি ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাকে প্রতিদান দেবেন এবং এর মাধ্যমে তার পাপ মোচন করবেন। আল্লাহ বলেন,

وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ

‘আর আমরা তোমাদেরকে অবশ্যই পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদেরকে’ (বাক্বারাহ, ১৫৫)।

(৭) দুনিয়া নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হওয়া : হাদীছে এসেছে,

عَنْ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ  قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يَقُولُ‏ مَنْ كَانَتِ الدُّنْيَا هَمَّهُ فَرَّقَ اللَّهُ عَلَيْهِ أَمْرَهُ وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ

যায়েদ ইবনে ছাবিত (রা.) বলেন, আমি রাসূল (ছা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘পার্থিব চিন্তা যাকে মোহগ্রস্ত করবে, আল্লাহ তার কাজকর্মে অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন, দরিদ্রতা তার নিত্যসঙ্গী হবে’।[1]

(৮) সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ না করা : এ মর্মে হাদীছে এসেছে,

عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُونَهُ فَلاَ يُسْتَجَابُ لَكُمْ

হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (ছা.) বলেন, ‘সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজে নিষেধ করবে। তা না হলে আল্লাহ তা‘আলা শীঘ্রই তোমাদের উপর তার শাস্তি অবতীর্ণ করবেন। তোমরা তখন তার নিকট দু‘আ করলেও তিনি তোমাদের সেই দু‘আ গ্রহণ করবেন না’।[2]

(৯) সূদ ও যেনা : দুনিয়াতে আল্লাহর আযাবের অন্য একটি কারণ হচ্ছে সূদ ও যেনা-ব্যভিচার। হাদীছে এসেছে,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ  رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ  إِذَا ظَهَرَ الزِّنَا وَالرِّبَا فِي قَرْيَةٍ فَقَدْ أَحَلُّوا بِأَنْفُسِهِمْ عَذَابَ اللهِ

ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, নবী (ছা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো জনপদে যেনা এবং সূদ প্রকাশ পায়, তাদের উপর আল্লাহর আযাব নেমে আসে’।[3]

(১০) নেশাদারদ্রব্য পান ও গান-বাজনা বাদ্য যন্ত্রে মত্ত থাকা : হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَنَسٍ  رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ “لَيَكُوْنَنَّ فِـيْ هذِهِ الأُمَّةِ خَسْفٌ وَقَذْفٌ وَمَسْخٌ وَذلِكَ إِذَا شَرِبُوا الْـخُمُوْرَ وَاتَّـخَذُوا الْقَيْنَاتِ وَضَرَبُوا بِالْمَعَازِفِ.

আনাস (রা.) বলেন, নবী (ছা.) বলেছেন, ‘অবশ্যই আমার উম্মতের মাঝে (কিছু লোককে) মাটি ধসিয়ে, পাথর বর্ষণ করে এবং আকার বিকৃত করে (ধ্বংস করা) হবে। আর এ শাস্তি তখন আসবে, যখন তারা মদ পান করবে, নর্তকী রাখবে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজাবে’।[4]

(১১) পিতা-মাতার অবাধ্যতা : হাদীছে এসেছে,

وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ بَابَانِ مُعَجَّلَانِ عُقُوبَتُهُمَا فِي الدُّنْيَا الْبَغْيُ وَالْعُقُوق.

আনাস (রা.) বলেন, নবী (ছা.)বলেছেন, ‘দু’টি পাপ আছে, যার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দিয়ে দেন: বিদ্রোহীর পাপ ও পিতা-মাতার অবাধ্যতার পাপ’।[5]

(১২) আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা : এ সম্পর্কে হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ‏‏ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مِنْ ذَنْبٍ أَحْرَى أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا، مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ، مِنْ قَطِيعَةِ الرَّحِمِ وَالْبَغْيِ‏.

আবু বাকরা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ যেসব পাপীকে পার্থিব জগতেই তার পাপের ত্বরিত শাস্তি দেন, তা হলো আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ও বিদ্রোহীর পাপ এবং আখিরাতেও তার জন্য শাস্তি জমা রাখেন’।[6]

(১৩) বিশেষ পাঁচটি পাপ : এ মর্মে হাদীছে এসেছে, ইবনু ওমর (রা.) বলেন, একদা আমরা নবী (ছা.)-এর কাছে বসা ছিলাম, তখন তিনি বললেন, তোমাদের কী হবে, যখন পাঁচটি পাপ প্রকাশ পাবে? আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, আল্লাহ তা থেকে তোমাদের রক্ষা করুক!  সে পাপ ও তার কুফল হলো: ১. কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্য অশ্লীলতা প্রকাশ পাওয়া, এর ফলে এমন এমন রোগ সৃষ্টি হবে যা পূর্বে ছিল না। ২. যখন কোনো জাতি যাকাত দেওয়া থেকে বিরত থাকবে, আল্লাহ তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন না, শুধুমাত্র পশু-পাখির কারণে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ৩. যখন কোনো জাতি ওযনে কম দিবে, তখন তাদের উপর দুর্ভিক্ষ, অভাব ও শাসকের যুলুম চেপে বসবে। ৪. যখন শাসকেরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাসন করবে না, তখন তাদের উপর শত্রুরা জয়ী হবে, ফলে তাদের সম্পদ অন্যরা কেড়ে নিবে। ৫. যখন কোনো জাতি কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ ছেড়ে দিবে, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে আযাব সৃষ্টি করে দিবেন।[7]

(খ) পার্থিব আযাব থেকে বাঁচার উপায় :

(১) শিরকমুক্ত জীবনযাপন করা : শিরকমুক্ত জীবনযাপনের মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপদ থাকে। আল্লাহ বলেন,

الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ

‘যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম (শিরক) দ্বারা কলুষিত করেনি, তাদের জন্য রয়েছে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) নিরাপত্তা, আর তারাই সুপথপ্রাপ্ত’ (আন‘আম, ৮২)।

(২) তওবা করা : বান্দা যদি আল্লাহর নিকট একনিষ্ঠভাবে তওবা করে, আল্লাহ তাকে আযাব থেকে বাঁচাবেন। আল্লাহ বলেন,

وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ

‘আর আল্লাহ এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন’ (আনফাল, ৩৩)।

(৩) আল্লাহভীতি : আল্লাহভীতি মানুষকে পার্থিব আযাব থেকে রক্ষা করে। আল্লাহ বলেন,

وَمَنْ يَتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا

‘আর যে কেউ আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন’ (ত্বলাক, ২)। আল্লাহ আরও বলেন,

وَمَنْ يَتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا

‘আল্লাহকে যে ভয় করবে, তিনি তার সমস্যার সমাধান সহজ করে দেবেন’ (ত্বলাক, ৪)।

(৪) আল্লাহর উপর ভরসা করা : বিপদের সময় আল্লাহর উপর ভরসা করলে আল্লাহ তাকে আযাব থেকে রক্ষা করবেন। আল্লাহ বলেন, وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করবে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট হবেন’ (ত্বলাক, ৩)।

(৫) পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত পড়া : যারা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত পড়ে, তারা আল্লাহর যিম্মায় থাকে। ফলে তারা আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা পায়। যেমন হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ  رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ “‏ مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللهِ.

আবুবকর ছিদ্দীক্ব (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত পড়ল, সে আল্লাহর যিম্মায় থাকল’।[8]

(৬) দু‘আ করা : পার্থিব আযাব থেকে বাঁচতে হলে বেশি বেশি দু‘আ করা উচিত। রাসূল (ছা.) আল্লাহর আযাব থেকে আশ্রয় চাইতেন। হাদীছে এসেছে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেছেন, ‘যখন এই আয়াত

قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلٰى أَنْ يَّبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِّنْ فَوْقِكُمْ

(অর্থ: আপনি বলুন! তিনি সক্ষম তোমাদের উপর দিক থেকে আযাব প্রেরণ করতে) অবতীর্ণ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, ‘আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, আবার যখন وْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ (অর্থ: আর তিনি সক্ষম তোমাদের নিচের দিক থেকে আযাব প্রেরণ করতে) অবতীর্ণ হলো, তখনো বললেন, আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি’।[9]

পরিশেষে, আল্লাহ আমাদেরকে যেসব খারাপ কাজের কারণে পার্থিব আযাব নাযিল হয়, তা থেকে বিরত থাকার ও যেসব সৎআমলের মাধ্যমে পার্থিব আযাব থেকে বাঁচা যায়, তা আমল করার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!  

* আলিম ২য় বর্ষ, চরবাটা ইসমাঈলিয়া আলিম মাদরাসা, সুবর্ণচর, নোয়াখালী।

[1]. তিরমিযী, হা/২৪৬৫; ইবনু মাজাহ, হা/৪১০৫; ছহীহ তারগীব, হা/৩১৬৮।

[2]. তিরমিযী, হা/২১৬৯; মিশকাত, হা/৫১৪০।

[3]. হাকেম, হা/২২৬১; ছহীহ তারগীব, হা/১৮৫৯।

[4]. সিলসিলা ছহীহা, হা/২২০৩; ছহীহুল জামে‘, হা/৫৪৬৭।

[5]. হাকেম, হা/৭৩৫০; ছহীহুল জামে‘, হা/২৮১০।

[6]. আদাবুল মুফরাদ, হা/৬৭; ইবনু মাজাহ, হা/৪২১১; আবুদাঊদ, হা/৪৯০২; তিরমিযী, হা/২৫১১।

[7].  ছহীহ তারগীব, হা/২১৮৭।

[8]. ইবনু মাজাহ, হা/৩৯৪৫; তিরমিযী, হা/২১৬৪; মিশকাত, হা/৬২৭।

[9].  ছহীহ বুখারী, হা/৪৬২৮,৭৩১৩,৭৪০৬; তিরমিযী, হা/৩০৬৫।