পার্বত্যাঞ্চলে খ্রিষ্টানকরণ বেড়েই চলেছে


৩০ বছরে অর্থাৎ ১৯৯১ সাল হতে ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারি আদমশুমারি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিষ্টান ধর্মান্তকরণের হার সর্বাধিক। খ্রিষ্টান মিশনারি, খ্রিষ্টান চ্যারিটি, এনজিও’র সংখ্যা ও তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি পার্বত্য-উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যেই নয় বাংলাদেশের অন্যত্র বসবাসকারী সমতল-উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যেও খ্রিষ্টানকরণ দ্রুতগতিতে চলছে। সম্প্রতি পরিচালিত কিছু গবেষণা ও প্রতিবেদনে পার্বত্যাঞ্চলে ধর্মীয় রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র পরিস্ফুট হয়েছে। সাধারণভাবে একটি ঢালাও প্রোপাগান্ডা চালানো হয় যে, পাহাড়ে ইসলামীকরণ করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব তথ্যে এই অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা, উদ্দেশ্যমূলক ও অবাস্তব বলে প্রতীয়মান হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পার্বত্যাঞ্চলে শান্তিচুক্তির আগে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে মুসলিমদের মসজিদ ছিল ৭৫৬টি। হিন্দুদের মন্দির ছিল ২৭০টি। বৌদ্ধদের কিয়াং ছিল ১১১৯টি এবং খ্রিষ্টানদের গির্জা ছিল ২৭৪টি। কিন্তু শান্তিচুক্তির পর এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের তথ্য-পরিসংখ্যানগত বিরাট পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। যেমন মসজিদ নির্মিত হয়েছে ৬৭৫টি, মন্দির ১৭৬টি, কিয়াং ৫৪১টি এবং গির্জা ৪৪০টি। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বর্তমানে পার্বত্যাঞ্চলে সর্বমোট মসজিদের সংখ্যা ১৪৩৪টি, মন্দির ৪৪৬টি, কিয়াং ১৬৬০টি এবং গির্জা রয়েছে ৭১৪টি। অর্থাৎ শান্তিচুক্তির পর মসজিদ, মন্দির, কিয়াং মোটামুটিভাবে সংখ্যাগত দিক থেকে দ্বিগুণ হলেও গির্জার বৃদ্ধি হয়েছে চারগুণ। স্পষ্টভাবে গির্জার সংখ্যা বৃদ্ধির হার পার্বত্যাঞ্চলে খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির তথ্যকে প্রমাণ করে, যা সেখানে ‘ইসলামীকরণ’ এর প্রচারণাকে মিথ্যা এবং ‘খ্রিষ্টানকরণ’ এর তথ্যকে সত্য বলে প্রতিপন্ন করে। গবেষণাকালে আরও জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি বৌদ্ধ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের চাকমা, মারমা, বম, খুমি, চাক এবং হিন্দু ত্রিপুরাদের অনেকেই স্বধর্ম ছেড়ে ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে। একটি তথ্যানুযায়ী, শান্তিচুক্তির পর ১৯৯৮ সাল হতে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৪৩৪৪ জন খ্রিষ্টান হয়েছে বৌদ্ধ এবং হিন্দু ধর্ম হতে। অপর দিকে মাত্র ৪৫০ জন হয়েছে মুসলিম। হিন্দু হয়েছে ৭৬ জন।