প্রচলিত ভুল ও কুসংস্কার

-আব্দুল বারী বিন সোলায়মান

শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, রাজশাহী।

(পর্ব-২)

(৮) ভুল মাসআলা : হাঁটুর উপরে কাপড় উঠে গেলে ওযূ ভেঙ্গে যাবে: একটি ভুল মাসআলা সমাজে প্রচলিত আছে যে, হাঁটুর উপরে কাপড় উঠে গেলে ওযূ নষ্ট হয়ে যাবে। পুরুষের নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত সতর তথা ঢেকে রাখার জায়গা।[1]   তবে হাঁটুর উপরে কাপড় উঠে গেলে ওযূ ভেঙ্গে যাবে, এমন বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই।

(৯) ভুল বিশ্বাস : সন্ধ্যার পরে বাড়ী থেকে টাকা-পয়সা না দেওয়া: কুসংস্কারে আক্রান্ত কিছু মানুষ বিশেষ করে কিছু মহিলা সন্ধ্যা হয়ে গেলে বাড়ী থেকে টাকা-পয়সা বের করতে চায় না। তাদের বিশ্বাস, সন্ধ্যার পরে বাড়ী থেকে টাকা-পয়সা বা ধান-চাল ইত্যাদি কাউকে দিলে বাড়ী থেকে ‘লক্ষ্মী’চলে যাবে। দুই কারণে এই বিশ্বাস সঠিক নয়। (ক) লক্ষ্মীর ধারণাটা হিন্দুদের দেবতা লক্ষ্মী থেকে আসা। তাই এমন আক্বীদা-বিশ্বাস পোষণ করা সম্পূর্ণরূপে  নিষিদ্ধ। (খ) লক্ষ্মীর ব্যাপারটা অনেকটা বরকতের মতো। আর সন্ধ্যার পরে বাড়ী থেকে টাকা-পয়সা বের করলে বরকত চলে যায়, এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কুসংস্কার মাত্র।

(১০) ভুল হাদীছ : তোমাকে সৃষ্টি না করলে পৃথিবী সৃষ্টি করতাম না: প্রচলিত অনেক মুফাসসির না বুঝে খুব জোরে-শোরে একটি হাদীছ বয়ান করে থাকেন, ‘তোমাকে সৃষ্টি না করলে পৃথিবী সৃষ্টি করতাম না। হাদীছটি জাল এবং কুরআন পরিপন্থী। উক্ত হাদীছের মধ্যে আব্দুছ ছামাদ ইবনু আলী নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। উকায়লী বলেন, তার হাদীছ মাহফূয নয় এবং এই হাদীছ ছাড়া তাকে চেনাও যায় না। ছান‘আনী তার ‘আল আহাদীছুল মাউযূ‘আহ’গ্রন্থে হাদীছটিকে জাল বলেছেন।[2] তাছাড়া হাদীছটি কুরআনের আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক। মহান আল্লাহ বলেন,  وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ‘আমি জিন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি, কেবল আমার ইবাদত করার জন্য’(যারিয়াত, ৫৬)। আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হচ্ছে, মানব ও দানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর ইবাদত করা। মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে সৃষ্টি করা নয়।

(১১) নামের ভুল : গোলাম মুছত্বফা/গোলাম নবী/গোলাম রাসূল: আমাদের দেশে অনেকের নাম আছে গোলাম মুছত্বফা, গোলাম নবী, গোলাম রাসূল। অর্থের বিবেচনায়  এসব নাম স্পষ্ট শিরক। কারণ ‘গোলাম’শব্দের অর্থ হলো ‘বান্দা। আর ‘মুছত্বফা শব্দের অর্থ হলো ‘মনোনীত যা রাসূল (ছাঃ)-এর বিশেষণ। তাহলে নামগুলোর অর্থ দাঁড়ায়, ‘মুছত্বফার বান্দা’, ‘নবীর বান্দা’ এবং ‘রাসূলের বান্দা’। অথচ সকল জিন-ইনসান একমাত্র ‘আল্লাহর বান্দা। কোনো মানুষের বান্দা নয়; কোনো নবীরও নয়।[3]

(১২) ভুল বিশ্বাস : কার মুখ দেখে যে বের হয়েছিলাম : কোনো কাজে সফল হতে না পারলে অনেকেই বলে ফেলে, ‘কার মুখ দেখে যে বের হয়েছিলাম, কাজের কাজ কিছুই হলো না। অথবা রাস্তায় বের হয়ে অপসন্দনীয় কারও সাথে দেখা হয়ে গেলে কেউ কেউ বলে ফেলে, ধ্যাৎ! কার মুখ যে দেখলাম, দিনটাই মাটি হয়ে যাবে’। অপসন্দনীয় কোনো কিছু দেখলে কাজে সফল হওয়া যায় না। এ ধরনের অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস শরী‘আত বিবর্জিত বিশ্বাস শরী‘আতে এর কোনো ভিত্তি নেই। বরং এই বিশ্বাস ফেরাঊন ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গর বিশ্বাস ছিল। মহান আল্লাহ বলেন, فَإِذَا جَاءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُوا لَنَا هَذِهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُوا بِمُوسَى وَمَنْ مَعَهُ أَلَا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ‘যখন তাদের কাছে কোনো কল্যাণ আসত, তখন তারা বলত এটা আমাদের প্রাপ্য। আর যদি তাদের কাছে কোনো অকল্যাণকর কিছু হত, তখন এর জন্য তারা মূসা ও তার সঙ্গী-সাথীদেরকে অশুভ লক্ষণ মনে করত। শুনে রাখো! তাদের অকল্যাণ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না’(আ‘রাফ, ১৩১)। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, لاَ عَدْوَى ، وَلاَ طِيَرَةَ ، وَلاَ هَامَةَ ، وَلاَ صَفَرَ ‘ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই (অর্থাৎ ছোঁয়াচে রোগের নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই)। অশুভ লক্ষণও নেই। নেই পেঁচার কোনো অশুভ লক্ষণ। নেই ছফর মাসের কোনো অশুভ লক্ষণ’।[4]

(১৩) দোকান খোলার পর প্রথম বিক্রি বাকিতে না দেওয়া: প্রায় দোকানদারকে দেখা যায়, সকালে কিংবা সন্ধ্যায় দোকান খোলার পর প্রথমে কেউ বাকিতে পণ্য কিনতে আসলে তাকে দিতে চায় না। বিশ্বাস করে, প্রথম বিক্রি বাকিতে দিলে সারাদিন বাকিতে বিক্রি করতে হবে। কিংবা দোকানের লক্ষ্মী চলে যাবে। এমন বিশ্বাস সম্পূর্ণরূপে শরী‘আত পরিপন্থী। শরী‘আতে এসব বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, ‘ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই। অশুভ লক্ষণও নেই। নেই পেঁচার কোনো অশুভ লক্ষণ। নেই ছফর মাসের কোনো অশুভ লক্ষণ।[5]

(১৪) আয়াতুল কুরসী পড়ে বুকে ফুঁ দেওয়া: ফরয ছালাত শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ার অনেক ফযীলত আছে। আবু উমামা আল বাহেলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ قَرَأَ آيَةَ الكُرْسِيِّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ، لَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ دُخُولِ الجَنَّةِ إِلاَّ أَنْ يَمُوتَ ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয ছালাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে বাধা দিবে না।[6] অর্থাৎ জান্নাতে যাওয়ার পথে মৃত্যুই তার বাধা হয়ে আছে। মৃত্যুবরণ করার সাথে সাথে সে জান্নাতে চলে যাবে। কিন্তু এত ফযীলতপূর্ণ আমল করার পর কিছু মানুষ আবার একটি ভিত্তিহীন কাজও করে বসে। তা হলো, আয়াতুল কুরসী পড়া শেষে বুকে ফুঁ দেওয়া। কেউ কেউ আবার বুকে ফুঁ দিয়ে হাত দিয়ে পুরো শরীর মালিশ করে। শরী‘আতে এসবের কোনো ভিত্তি নেই। বিধায় তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

(১৫) একটি জাল হাদীছ : দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ’: আমাদের দেশের স্কুল, মাদরাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবইগুলোতে এবং রাজনৈকিত নেতাদের মুখে দেশপ্রেমের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে একটি মুখরোচক বুলি শোনা যায়- حُبِّ الْوَطَنِ مِنَ الْإِيمَانِ ‘দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ’। আর তা রাসূল (ছাঃ)-এর দিকে সম্বন্ধ করে হাদীছ নামে চালিয়ে দেওয়া হয়। অথচ কথাটি রাসূল (ছাঃ)-এর কথা নয়। মানুষের বানানো জাল কথা।[7]  উল্লেখ্য, দেশপ্রেম মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য।

(১৬) ভুল প্রবাদ : দশ যেদিকে আল্লাহ সেদিকে: বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে যে পক্ষে লোক বেশি তাদের কথাই ঠিক, এটা বুঝাতে অনেককে বলতে শোনা যায়- ‘দশ যেদিকে আল্লাহ সেদিকে। তারা বুঝাতে চায়, অধিকাংশ লোকের মত যেদিকে, আল্লাহও সেদিকে মত দেন। কিন্তু বাস্তবে তা চরম ভুল। দশের দিকে আল্লাহ থাকেন না। তিনি থাকেন হক্বের দিকে। সংখ্যাধিক্য কখনও হক্বের মানদ- নয়। বরং অধিকাংশ লোকই অনেক সময় ভুলের মধ্যে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন,  وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُون  ‘যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের মতের অনুসরণ করো, তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে। কারণ তারা শুধু ধারণার অনুসরণ করে চলে এবং অনুমানে কথা বলে থাকে’(আন‘আম, ১১৬)।

(১৭) জাল হাদীছ :এক ওয়াক্ত ছালাত ছাড়লে এক হুকবা (দুই কোটি আটাশি) বছর জাহান্নামে থাকতে হবে’: তাবলীগ জামা‘আতের ফাযায়েলে আমল গ্রন্থের ১১৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ওয়াক্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত ছালাত আদায় করল না এবং এরপর সে ক্বাযা করল, তাকে জাহান্নামে এক হুকবা জাহান্নামে জ্বলতে হবে। আর এক হুকবা হলো ৮০ বছর। প্রতি বছর হলো ৩৬০ দিন। আর প্রতিটি দিন হলো ১০০০ বছরের সমান। অতএব (৮০×৩৬০×১০০০= ২,৮৮,০০০০ বছর। উক্ত বাণী উল্লেখ করার পর লেখক নিজেই বলেছেন, كذا في مجالس الأبرار قلت لم أجده فيما عندي من كتب الحديث ‘এ কথাটি ‘মাজালিসুল আবরার’ গ্রন্থে এসেছে। আমি বলছি (লেখক), আমার কাছে থাকা কোনো হাদীছের গ্রন্থে আমি এইকথা পাইনি।[8]

উক্ত বর্ণনাটি জাল। লেখক নিজেই তা স্বীকার করেছেন। তাই এর তাহক্বীক্ব নিষ্প্রয়োজন। কিন্তু ফাযায়েলে আমলের বাংলা সংস্করণে এই স্বীকারোক্তিটুকু উল্লেখ করা হয়নি। এটা জঘন্য জাালিয়াতি এবং স্পষ্ট হক্ব গোপন করা। যা কোনো আমানতদার মুমিন-মুসলিমের কাজ হতে পারে না।

(১৮) মরা গাছে কাক ডাকলে মৃত্যু সংবাদ আসে: গ্রামাঞ্চলে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, মরা গাছে, ডালে কাক ডাকলে কারও মৃত্যু সংবাদ আসে। এসব ভুল ধারণা। কাক একটা প্রাণী মাত্র। সে কারও মৃত্যু সংবাদ নিয়ে আসতে পারে না। আগের দিনে যখন যোগাযোগ প্রযুক্তি এত উন্নত ছিল না, তখন মানুষ এসব আজগুবি কথায় সহজে বিশ্বাস করে বসত। এজন্য গ্রাম-গঞ্জে দেখা যেত, কারও বাড়ীতে গাছের ডালে কয়েকটি কাক একসাথে ডাকাডাকি করতে থাকলে বাড়ীওয়ালা কাক তাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ত। শরী‘আত সম্পর্কে অজ্ঞতাই এসবের পিছনে দায়ী। এ ধরনের কাক ডাকার সাথে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, لاَ عَدْوَى ، وَلاَ طِيَرَةَ ، وَلاَ هَامَةَ ، وَلاَ صَفَرَ ‘ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই। অশুভ লক্ষণও নেই। নেই পেঁচার কোনো অশুভ লক্ষণ। নেই ছফর মাসের কোনো অশুভ লক্ষণ’।[9]

(১৯) একটি ভুল পদ্ধতি : সূরা শেষে সিজদার আয়াত থাকলে আয়াতটি না পড়ে রুকূতে যাওয়া: কুরআনে কিছু আয়াতে সিজদার কথা বলা হয়েছে। সেই আয়াত পাঠকারী এবং সরাসরি শ্রবণকারীর কর্তব্য হলো আয়াতগুলো পড়া বা শোনার সময় সিজদাহ দেওয়া। রাসূল (ছাঃ) এ সকল আয়াত পড়ার সময় সিজদাহ দিতেন।[10]  এমনকি ছালাতের মধ্যে তেলাওয়াত করলেও রাসূল (ছাঃ) সিজদাহ দিতেন।[11]  সিজদার আয়াতটি যদি সূরার ভিতরে হয়, তাহলে আমাদের দেশের ইমামগণ সিজদাহ দেন। কিন্তু যদি আয়াতটি সূরার শেষে হয়, যেমন সূরা নাজম ও সূরা আলাক্ব- তাহলে শেষের আয়াতটি না পড়েই রুকূতে চলে যান কেউ কেউ। তারা মনে করে থাকেন, সিজদাহ থেকে উঠার পর আরও কিছু আয়াত পড়া যরূরী। যেহেতু এই সূরার শেষে আর আয়াত নেই, তাই সিজদার আয়াতটি না পড়েই রুকূতে চলে যান। এটা ঠিক নয়। শেষে সিজদার আয়াতবিশিষ্ট কোনো সূরা পড়া হলে সূরার শেষ পর্যন্ত পড়ে তেলাওয়াতে সিজদাহ দিয়ে উঠতে হবে। অতঃপর যদি মন চায়, তাহলে অন্য সূরা থেকে কোনো আয়াত মিলিয়ে নিবে। না হলে আল্লাহু আকবার বলে রুকূতে চলে যাবে। কোনো সমস্যা হবে না।[12] এমনকি সিজদার আয়াত পড়ে যদি সিজদাহ না দেয়, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ তেলাওয়াতে সিজদাহ ফরয নয়। যায়েদ ইবনে ছাবিত (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর সামনে সূরা নাজম পড়েছিলেন। কিন্তু তিনি (রাসূল (ছাঃ)) সিজদাহ দেননি।[13]

(২০) যাত্রার সময় পিছন থেকে ডাকতে নেই: ‘বিশেষ কোনো কাজে দূরে কোথাও যাওয়ার সময় বাড়ী থেকে বের হয়ে চলা শুরু করলে তাকে আর ডাকা যাবে না। ডাকলে সে ব্যক্তির সকল কাজে পিছুটান ঘটবে। এমন বিশ্বাস অনেক মানুষের মধ্যে আছে। এটা কুসংস্কার ছাড়া কিছুই নয়। ইসলামে কুসংস্কারের কোনো স্থান নেই। কুরআন-হাদীছে এমন বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না।

 (২১) ভুল মাসআলা : ছালাতে ডান পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুল নিজ জায়গা থেকে সরানো যাবে না: কোনো কোনো এলাকায় একটি ভুল মাসআলা প্রচলিত আছে যে, ছালাতে ডান পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুল নিজ জায়গা থেকে সরে গেলে ছালাত ভঙ্গ হয়ে যাবে। এ কথা না কুরআনের কোথাও বলা হয়েছে, না হাদীছের কোথাও। কুরআন-হাদীছের সাথে সম্পর্ক না থাকায় এ ধরনের অবান্তর কথাগুলো শরী‘আত হিসাবে সমাজে চলছে। শুধু এক পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুল কেন, যদি পুরো মানুষটি তার জায়গা থেকে সরে যায়, তারপরও ছালাত ভঙ্গ হবে না।

عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَامَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لِيُصَلِّيَ فَجِئْتُ حَتَّى قُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَ بِيَدِيْ فَأَدَارَنِيْ حَتَّى أَقَامَنِيْ عَن يَمِيْنِهِ. ثُمَّ جَاءَ جَبَّارُ بْنُ صَخْرٍ فَقَامَ عَنْ يَسَارِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَأَخَذَ بيدينا جَمِيْعًا فدفعنا حَتَّى أَقَمْنَا خَلفه..

জাবের (রাঃ) বলেন, একদা রাসূল (ছাঃ) ছালাতে দাঁড়ালেন। আমি এসে তার বাম পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমার হাতখানা ধরলেন এবং আমাকে ঘুরিয়ে তার ডানপাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। তারপরে জাব্বার ইবনে ছাখর এসে রাসূল (ছাঃ)-এর বাম দিকে দাঁড়ালেন। তখন তিনি আমাদের উভয়ের হাত ধরে আমাদেরকে তার পিছনে ঠেলে দিলেন। তখন আমরা তার পিছনে দাঁড়িয়ে গেলাম।[14]

আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) নফল ছালাত আদায় করছিলেন। তখন দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। আমি এসে দরজা খোলার জন্য বললাম। তখন তিনি হেঁটে এসে আমার জন্য দরজা খুলে দিলেন। অতঃপর তিনি তার ছালাতের স্থানে ফিরে গেলেন। আমার স্মরণ আছে, দরজা ছিল ক্বিবলার দিকে।[15]

(চলবে)

[1]. আবুদাঊদ, হা/৪৯৬; মিশকাত, হা/৩১১১।

[2].  সিলসিলাহ যঈফাহ, ১/৪৫০, হা/২৮২।

[3]. ছহীহ মুসলিম, হা/২২৪৯।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৫৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২২২২।

[5]. প্রাগুক্ত।

[6]. নাসাঈ, সুনানে কুবরা, হা/৯৯২৮; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৯৭২; ছহীহুল জামে‘, হা/৬৪৬৪, সনদ ছহীহ।

[7]. সিলসিলা যঈফাহ, হা/৩৬।

[8]. ফাযায়েলে আমল (উর্দূ), পৃঃ ৩৯; ফাযায়েলে আমল (বাংলা), পৃঃ ১১৬।

[9]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৫৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২২২২।

[10]. ছহীহ বুখারী, হা/১০৬৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৫৭৬।

[11].  ছহীহ মুসলিম, হা/৫৭৮।

[12]. আল-মুগনী, ১/৬৮৯; আল-মাজমূ, ৪/৬৩।

[13]. তিরমিযী, হা/৫৭৬; ইবনে হিব্বান, হা/২৭৬৯; ইবনে খুযায়মা, হা/৫৬৬, হাদীছ ছহীহ।

[14]. ছহীহ মুসলিম, হা/৩০১০; মিশকাত, হা/১১০৭।

[15]. আবুদাঊদ, হা/৯২২; তিরমিযী, হা/৬০১; নাসাঈ, হা/১২০৬; আহমাদ, হা/২৪০২৭; মিশকাত, হা/১০০৫।